পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Monday, February 11, 2019

অ্যান্ড্রু কার্নেগী --আজ থেকে দিনে বা রাতে, সকালে বা বিকালে, যে কোনো বয়সের, যে কোনো মানুষ, যে কোনো পোশাকে এই পার্কে প্রবেশ করতে পারবে’।



 তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৩৫ সালে। তিনি স্কট ল্যান্ডের সামান্য দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। জীবনের ১৩টি বছর কাটে তার পরিবারের সাথে। পরবর্তীতে অবশ্য পরিবারসহ জীবন জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান আমেরিকায়।  সেখানে তাদের ঠিকানা হয় একটি বস্তি।
  এই ধনী হওয়ার ইচ্ছাটা তার ছোটবেলার। নিয়ে বহুল আলোচিত ঘটনাটি অনেকেই জানেন হয়তো। তবু আরেকবার বলা যেতে পারে কারণ এই ঘটনাটি মানুষকে যুগের পর যুগ ধরে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। কার্নেগির বয়স তখন মাত্র ১৩ বছর। পোশাক-আশাক একেবারেই ভালো ছিল না। একে তো নোংরা তার ওপর বিভিন্ন জায়গায় ছেঁড়া ছিল। এই অবস্থায়ই একদিন খেলার জন্য একটি পাবলিক পার্কে ঢুকতে যাচ্ছিলেন। পার্ক ধনীদের বিশ্রামের জন্য উন্মুক্ত, এমন নোংরা বস্তিবাসীর জন্য নয়। তাই পার্কের দারোয়ান তাকে পার্কের গেটেই আটকে দিলেন।
                শেষমেষ  ছোট কার্নেগি দারোয়ানকে বলে যে, পার্কে সে ঢুকবে এবং কিনেই পার্কের ভিতরে ঢুকবে। সেই থেকে তার মনে জেদ।  সেই পার্ক কিনতে তার যে প্রচুর পরিমানে টাকা প্রয়োজন আর সেজন্য সুতার কলে মাসে সাড়ে বার টাকা বেতনে তাঁতের মজুর হিসেবে যোগ দেন তিনি। এটাই ছিলো তার জীবনের প্রথম রোজগার।
এর বেশ কিছুদিন তা প্রায় বছর পর রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে অফিসের দরজায় লেখা- ছোকরা পিয়ন চাই লেখা দেখতে চাই।  কাজটা পেতে সেখানে যায় তিনি এবং সেখান থেকেই তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। কেউ কোনো কাজ দিতে চায় না কার্নেগিকে। কিন্তু তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বড় কোনো কাজ না মিললেও ছোট কিছু দিয়েই শুরু করতে হবে তাকে। শুধু তাই নয় তিনি অনেকবার চাকরি লাভের আশায় কার্নেগি অফিসের ভিতরে যান। কিন্তু পোশাক-আশাক ভালো না হওয়ায় তাকে বের করে দেয়া হয়। 

কিন্তু সে হার মেনে নেয় নি।। অফিসের দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকতেন ঘন্টার পর ঘন্টা।
তার মনে মনে ভাবনা জাগতো বড়কর্তা এসবের কিছুই জানতেন না হয়তো। এক সময় তাকে ডাকবেন বড় কর্তা। এই আশায় তিনি বারংবার সেই অফিসে গিয়েছেন।  তৃতীয় দিন কেরানি তাকে তাড়িয়ে না দিয়ে বড় কর্তার কাছে ঘটনাটি খুলে বলেন।
বড় সাহেব সব শুনে বলেন ছোকড়াটাকে পাঠিয়ে দাও দেখি সে কি চায়। ঐদিন থেকে সে চাকরিটা পেয়ে যায়। সেদিনের সেই ছোট ছোকড়াটি টেলি-বিভাগের বড় সাহেবও হয়েছিলেন।  কিন্তু কিভাবে? সেই পিয়নের কাজ করতে করতে টেলিগ্রাফের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন কার্নেগি।  তারপর পিয়নের চাকরি ছেড়ে যোগ দেন স্থানীয় রেলস্টেশনের টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে। এভাবে ধীরে ধীরে টেলি-বিভাগের বড় সাহেবের পদটিও অর্জন করেন কার্নেগি।
এর পর তাকে আর কখনো পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি।। তিনি অনেক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগ করেছেন।
লৌহশিল্পে তিনি অভাবনীয় সাফল্যের দেখা পান। স্টিলের ব্যবসা থেকে স্রোতের মতো টাকা আসতে শুরু করে। ১৯০১ সালে এক ব্যাংকারের কাছে স্টিল মিলটি বিক্রি করেন ৪৮০ মিলিয়ন ডলারে। এরপর এক বিলিয়ন ডলার মূলধন খরচ করে একটি কারখানা স্থাপন করেন। ৩০ বছর পরে এন্ড্রু কার্নেগি তার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেছিলেন। তিনি সেই পার্কটি কিনেছিলেন। সেখানে একটি নতুন সাইনবোর্ড লাগিয়েছিলেন। সে সাইনবোর্ডে লেখা ছিল ‘আজ থেকে দিনে বা রাতে, সকালে বা বিকালে, যে কোনো বয়সের, যে কোনো মানুষ, যে কোনো পোশাকে এই পার্কে প্রবেশ করতে পারবে

আর  এভাবেই তিনি বস্তির ছেলে থেকে হয়ে উঠেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনীদের একজন।


0 Comments:

Post a Comment