পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Monday, February 18, 2019

ওয়ারেন এডওয়ার্ড বাফেট


ওয়ারেন বাফেটের জন্ম আমেরিকার নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের ওমাহাতে ৩০ আগস্ট ১৯৩০ সালে। তার বাবার নাম হাওয়ার্ড বাফেট মায়ের নাম লিলা বাফেট। তার পুরো নাম ওয়ারেন এডওয়ার্ড বাফেট। তিনি তার তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়।
 তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় রোজ হিল এলিমেন্টারি স্কুলে। ১৯৪২ সালে বাফেটের বাবা কংগ্রেসে নির্বাচিত হন এবং তারা সপরিবারে ওয়াশিংটন ডিসিতে চলে আসেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে বাফেট অ্যালিস ডিল জুনিয়র হাইস্কুলে ভর্তি হন এবং উড্রো উইলসন হাইস্কুল থেকে পাস করেন। 



অর্থ-উপার্জন এবং সংগ্রহের প্রতি বাফেটের দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষার পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল শৈশবেই।ছোট থেকেই টাকা-পয়সা রোজগারের চেষ্টা চালাতেন তিনি। ছোটবেলায় অল্প কিছুদিন বাফেট তার দাদার মুদি দোকানে কাজ করেছিলেন। শুধু তাই নয়স্কুলে থাকাকালে বাফেট পত্রিকা, কোকাকোলা ইত্যাদি বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন। শৈশবেই শেয়ার বাজার বিনিয়োগে আগ্রহ জন্মায় বাফেটের।

দশ বছর বয়সে বাফেট নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ দেখার জন্য নিউইয়র্ক শহরে আসেন। তার জীবনের প্রথম তিনটি শেয়ার কেনেন ১১ বছর বয়সে। হাইস্কুলে থাকাকালে তিনি তার বাবার কিছু সম্পত্তি বিনিয়োগ করেন এবং একটি খামার কেনেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে তিনি আয়কর রিটার্ন জমা দেন। সেখানে তিনি নিজেকে সংবাদপত্র বিলিকারী হিসেবে পরিচয় দেন।


১৯৪৫ সালের কথা। বাফেটের বয়স তখন মাত্র ১৫ হাইস্কুলের ছাত্র। ওই সময়ই তার এক বন্ধুর সঙ্গে ব্যবহার করা একটি পিনবল মেশিন কেনেন মাত্র ২৫ ডলারে। মেশিনটি বসানোর মতো জায়গা ছিল না তাদের। তারা এক নাপিতের দোকানের ভিতরে তা বসিয়ে দিলেন। এর মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তারা একই রকম তিনটি মেশিন বসান বিভিন্ন স্থানে। এভাবেই কৈশোর বয়স থেকেই ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়েন বাফেট।ব্যবসায় প্রশাসন অর্থনীতি শিক্ষা ১৯৪৭ সালে বাফেট ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি প্রায় দুই বছর পড়াশোনা করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা-লিঙ্কন থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। 

এরপর তিনি কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুলে ভর্তি হন। এখানে ভর্তি হওয়ার পেছনে বিশেষ একটি কারণ ছিল।কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুলে শিক্ষকতা করতেন বেঞ্জামিন গ্রাহামযিনি তৎকালীন সময়ে আমেরিকান ইনভেস্টমেন্ট গুরু হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন। বেঞ্জামিন গ্রাহামের লেখাদি ইনট্যালিজেন্ট ইনভেস্টরবইটির প্রচণ্ড ভক্ত ছিলেন বাফেট। শুধু তার সান্নিধ্য পাওয়ার জন্যই স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বাফেট ছুটে এসেছিলেন কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলে। শুধু কি তাই? গ্রাহামকে আকৃষ্ট করার জন্য তার দি ইনট্যালিজেন্ট ইনভেস্টর বইটি সম্পূর্ণ মুখস্থ করে ফেলেছিলেন বাফেট।

 ১৯৫১ সালে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন বাফেট।   সেলসম্যান পদে চাকরি ১৯৫১ থেকে ’৫৪ পর্যন্ত বাফেট-ফক অ্যান্ড কোম্পানিতে ইনভেস্টম্যান সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করেন। নিউইয়র্কে গ্রাহাম-নিউম্যান করপোরেশনে সিকিউরিটি এনালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৫৪ থেকে ’৫৬ পর্যন্ত। ছাড়া তিনি বাফেট পার্টনারশিপ লি., বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ইনস্যুরেন্সসহ বিভিন্ন সংস্থায় চাকরি করেছেন।এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই এখন তার নিজের মালিকানাধীন।   মিলিয়নিয়ার বাফেট নিজের চেষ্টা আর অধ্যবসায়ের ফলস্বরূপ ১৯৬২ সালে বাফেট মিলিয়নিয়ারে পরিণত হন। বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে নামের একটি টেক্সটাইল কারখানার প্রতিটি শেয়ার তিনি ৭.৬০ ডলারে জনগণের মাঝে ছেড়ে দেন। একপর্যায়ে ১৯৬৫ সালে প্রতি শেয়ারের বিপরীতে কোম্পানি ১৪.৮৬ ডলার দেয়।

এর মধ্যে ফ্যাক্টরি এবং সরঞ্জাম দেখানো হয়নি। এরপর তিনি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কেন চেসের নাম ঘোষণা করেন। ১৯৭০ সালে তিনি শেয়ারহোল্ডারদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত চিঠি লেখা শুরু করেন। শেয়ারহোল্ডারদের কাছে চিঠি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। সময় বেতন হিসেবে তিনি বছরে ৫০ হাজার ডলার পেতেন। ১৯৭৯ সালে তার বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে প্রতি শেয়ারের জন্য ৭৭৫ ডলার দিয়ে ব্যবসা করতে থাকে। 



এই শেয়ারের দাম ১৩১০ ডলার পর্যন্ত ওঠে। সময়ে তার নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬২ কোটি ডলার। এর ফলে ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রথমবারের জন্য তিনি ফোর্বস ৪০০-তে স্থান পান।   রাজনৈতিক কার্যক্রম আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারণা ওবামার নির্বাচনী অর্থ সংগ্রহের কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন ওয়ারেন বাফেট। 

২০০৮ সালে আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে ওবামা তার প্রতিপক্ষ জন ম্যাককেইন উভয়ই বাফেটকে ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য ট্রেজারি সেক্রেটারি বলে আখ্যায়িত করেন। তবে তৃতীয় শেষ ডিবেটে ওবামা তাকে একজন সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। তাছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার রিপাবলিকান গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের ২০০৩ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় বাফেট অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।   ব্যক্তিগত জীবন ওয়ারেন বাফেট ১৯৫২ সালে সুসান থম্পসনকে বিয়ে করেন। তাদের তিন সন্তান রয়েছেসুসান বাফেট, হাওয়ার্ড গ্রাহাম বাফেট এবং পিটার বাফেট। 

২০০৪ সালের জুলাই মাসে বাফেটের স্ত্রী সুসান মারা যান।
এর আগে ১৯৭৭ সাল থেকে তাদের বিচ্ছেদ না ঘটলেও তারা আলাদা বসবাস করতেন। তাদের মেয়ে সুসান ওমাহাতে বসবাস করেন। তিনি সুসান বাফেট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেবামূলক কাজ করেন। ওয়ারেন বাফেট ২০০৬ সালে ৭৬তম জন্মদিনে বিয়ে করেন তার দীর্ঘ দিনের সঙ্গী অ্যাস্ট্রিড মেনঙকে। ২০০৬ সালে ওয়ারেন বাফেটের বার্ষিক বেতন ছিললাখ ডলার।২০০৭ ২০০৮ সালে তার বেতন বেড়ে হয়লাখ ৭৫ হাজার ডলার। বাফেট খুব ভালো তাস খেলতে জানেন। তাস খেলেন শ্যারন ওসবার্গ বিল গেটসের সঙ্গে। সপ্তাহে ১২ ঘণ্টা কাটে তার তাস খেলে। ২০০৬ সালে খবর প্রকাশিত হয় যে, বাফেট কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। 

তাছাড়া তার ডেস্কে নেই কোনো কম্পিউটার। তার কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এখন ৬৩টি কোম্পানির মালিক। এসব কোম্পানির প্রধান নির্বাহী অফিসারকে তিনি বছরে মাত্র একটি চিঠি লেখেন। তাতে সারা বছরের কর্মকৌশল বলে দেওয়া থাকে। নিয়মিত তাদের নিয়ে তিনি মিটিং করেন না। এজন্য তার ভাষ্য হলোঠিক জায়গায় ঠিক ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হলে তাকে কাজের কথা বলে দিতে হয় না। ওয়ারেন বাফেট তার নির্বাহীদের দুটি মাত্র নিয়ম বলে দিয়েছেন। তার প্রথমটি হলো—  শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ নষ্ট কর না। দ্বিতীয় নিয়মটি হলোপ্রথম নিয়মকে ভুলে যাবে না। লক্ষ্য স্থির কর এবং সেদিকে লোকের দৃষ্টি কাড়তে চেষ্টা কর।  



আপনি যদি এমন কিছু কেনেন যা আপনার দরকার নেই, তাহলে শিগগিরই (দৈনন্দিন খরচ মেটাতে) আপনার দরকারি জিনিসপত্র বিক্রি করে দিতে হবে। তাই হিসাব করে ব্যয় করতে হবে।   সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে খরচ করে যেটুকু বাকি থাকে তা থেকে সঞ্চয় না করে বরং সঞ্চয় করে যা থেকে যায় সেখান থেকেই খরচ করুন।   ঝুঁকি নেওয়ার সময় কখনোই উভয় পা পানিতে রেখে নদীর গভীরতা পরিমাপ করতে যাবেন না। অর্থাৎ, সব সময় কিছু সম্বল রেখে দেবেন। পুরোটাই ঝুঁকি নেওয়ার জন্য ব্যবহার করবেন না।   বিনিয়োগের জন্য সবগুলো ডিম একই ঝুড়ির মধ্যে নেবেন না। অর্থাৎ, একটি মাত্র ক্ষেত্রে বিনিয়োগ না করে ভিন্ন ভিন্ন অনেকগুলো খাতে ইনভেস্ট করুন, যাতে মূলধন হারানোর ঝুঁকি কম থাকে। 

  প্রত্যাশা সততা হচ্ছে একটি অত্যন্ত ব্যববহুল উপহার; যেনতেন লোকদের নিকট এটি আশা করবেন না যেন!   যুবকদের জন্য পরামর্শ যুব সম্প্রদায়ের জন্য বাফেটের পরামর্শ হলোক্রেডিট কার্ড ব্যাংক লোন থেকে দূরে থাকুন। নিজের যা আছে তাই বিনিয়োগ করুন। 

মনে রাখবেন
) টাকা মানুষ সৃষ্টি করে না। কিন্তু মানুষ টাকা সৃষ্টি করে।
) যতটা সম্ভব জীবনধারাকে সহজ-সরল করার চেষ্টা করুন।
) অন্যরা যা বলে তাই করবেন না। তাদের কথা শুনুন। তারপর আপনার যা ভালো মনে হয় তাই করুন।
) অপ্রয়োজনীয় কোনো বিষয়ে অর্থ খরচ করবেন না। 
) জীবন আপনার। সেজন্য আপনার জীবনকে চালাতে অন্যদের কেন সুযোগ দেবেন?  

 ৫০ বছর আগে বিয়ের পরবেডরুমের যে বাড়িটি কিনেছিলেন এখনো সেখানেই বাস করেন।   সাদাসিধে জীবন ওয়ারেন বাফেট বর্তমানে ৬৩টি কোম্পানির মালিক। পর্যন্তহাজার ১০০ কোটি ডলার দান করেছেন বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায়। তারপরও তিনিহাজার কোটি ডলারের মালিক। এখন তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনেক বিশেষণ। অনেকে তাকেমিরাকল অব ওমাহানামে ডাকেন। এত বিত্তবৈভবের মালিক হয়েও তার মধ্যে নেই কোনো বিলাসিতা। 

তার জীবনধারাকে স্পর্শ করেনি সমাজের উচ্চশ্রেণির সামাজিকতা। তিনি নিজেই নিজের খাবার তৈরি করেন। কছু পপকর্ন নিজেই প্রস্তুত করে খান এবং বাসায় বসে টেলিভিশন দেখেন। তার সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বিল গেটসের পরিচয় হয় মাত্রবছর আগে। তখনো বিল গেটস জানতেন না যে, ওয়ারেনের সঙ্গে তার অনেকটাই মিল আছে। ফলে মাত্র আধা ঘণ্টা পর তিনি ওয়ারেনের সঙ্গে দেখা করেন। যখন ওয়ারেনের সঙ্গে তার দেখা হয় তা স্থায়ী হয়েছিল দশ ঘণ্টা। এরপর থেকেই তার ভক্ত হয়ে যান বিল গেটস।

সত্যিকার অর্থেই বাফেট অত্যন্ত সাধারণ মানের জীবনযাপন করেন। ৫০ বছর আগে বিয়ের পরবেডরুমের যে বাড়িটি কিনেছিলেন এখনো সেখানেই বাস করেন। এমনকি বাড়িটির চারপাশে নেই কোনো আলাদা প্রাচীর। তিনি বলেন, আমার যা কিছু দরকার তার সবই আছে এখানে। বিশ্বের এত বড় ধনী, তার বাসার চারদিকে নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। বিষয়ে তার পরামর্শ হলোপ্রকৃতপক্ষে আপনার যতটুকু দরকার তার বেশি কিছু কিনবেন না। আপনার সন্তানদেরও এমনটা ভাবতে করতে শেখান। নিজের গাড়ি তিনি নিজেই চালান। তার আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেট কোম্পানি। কিন্তু ভ্রমণ করেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইকোনমিক ক্লাসে। 

অনেকেই ভাবতে পারেন, এটা অসম্ভব। কিন্তু তিনি তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। বেশ কিছুদিন আগে তিনি সিএনবিসিকে এক ঘণ্টার একটি সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তুলে ধরেছেন জীবনের উত্থান কাহিনী। তার মতে, জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য নিজেকে আগে স্থির করতে হয় তার লক্ষ্য। তিনি এমনই এক লক্ষ্য নিয়ে মাত্র ১১ বছর বয়সে প্রথম শেয়ার কিনেছিলেন। তারপরও তিনি মনে করেন ব্যবসায় আসতে তার অনেক দেরি হয়ে গেছে। আরও আগে ব্যবসা শুরু করা উচিত ছিল। তাই তার পরামর্শ আপনার সন্তানকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করুন। সংবাদপত্র বিক্রি করা অর্থ দিয়ে তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সে ছোট্ট একটি ফার্ম কেনেন। তার মতে, অল্প অল্প করে জমানো অর্থ দিয়ে যে কেউ কিনতে পারেন অনেক কিছু। সে জন্য সন্তানদের তিনি কোনো না কোনো ব্যবসায় নিয়োজিত করার পরামর্শ দেন।

0 Comments:

Post a Comment