পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Tuesday, February 19, 2019

সন্দীপ মহেশ্বরী --- মটিভেশনাল স্পিকার


সন্দীপ মহেশ্বরীর জন্ম হয় ২৮শে সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সালে, একটি অতি সাধারণ পরিবারে | তাঁর বাবার নাম রূপ কিশোর মহেশ্বরী এবং মায়ের নাম যথাক্রমে শকুন্তলা রানী মহেশ্বরী |  সন্দীপের মায়ের কথা অনুযায়ী, সন্দীপ ছোটবেলায় ভীষণ দুষ্টু প্রকৃতির ছেলে ছিলেন এবং বেশিরভাগ সময়ই তাঁর নামে স্কুল থেকে Complain আসতো |  কিন্তু অন্যদিকে তিনি ছিলেন খুবই মেধাবী ছাত্র আর সর্বদাই তিনি স্কুলজীবনে ভালো ফল করতেন |

Sandeep Maheshwari যিনি কিনা আজ ভারতের একজন বিখ্যাত Motivational Speaker  তাঁর জীবনের শুরুটা কিন্তু আর পাঁচটা বাকি সাধারণ মানুষদের মতনই ছিল | তিনি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন |  কিন্তু আজ সন্দীপ মহেশ্বরী একজন দুর্দান্ত Motivational Speaker  হওয়ার পাশাপাশি Images Bazaar নামে একটি Multi Million ডলার কোম্পানির মালিক এবং CEO, যেটি কিনা এশিয়ার সবচেয়ে বড় ভারতীয় Stock Images কোম্পানি |

  সন্দীপের বাবা রূপ কিশোরের অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবসা ছিলো কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই ব্যবসা সন্দীপের দশম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই বন্ধ হয়ে যায় | যার কারণে তাদের পরিবার আর্থিক সঙ্কটের প্রকোপে পরে |  এরপর পরিবারের আর্থিক সমস্যা দূর করার সমস্ত ভারটাইওই ছোট বয়সে তাঁর কাঁধে এসে পরে।পরিবারে সাহায্য করতে তিনি STD বুথ অন্যান্য ছোট খাটো জায়গায় কাজ করতে থাকেন | 

তিনি দিনের বেশিরভাগ সময়টা ফোন বুথেই কাটাতেন এবং সেখান থেকে পাওয়া সামান্য পয়সার দ্বারা তাঁর পরিবারের পেট চালাতেন |তারপর তিনি এবার লোকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরোয়া জিনিসপত্র বেচতে শুরু করে |  এইসব করে যত পয়সা তার আয় হতো, তিনি সেই পয়সা তাঁর পরিবারের আর্থিক সাহায্যের জন্য দিয়ে দিতেন।

যখন সন্দীপ বোর্ড পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হয়ে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র  সেইসময় তিনি নেহা নামের একটি মেয়েকে ভালোবেসে ফেলেন আর বর্তমানে সেই ভালোবাসার মেয়েটিই হলো আজ তাঁর একমাত্র স্ত্রী নেহা মহেশ্বরী |  যখন সন্দীপ ১২ ক্লাসে ওঠেন, তখন থেকেই তাঁর মনে পয়সা কমানোর অদম্য ইচ্ছা তৈরী হয় |এই সবের পাশাপাশি  তিনি মডেলিং Photography নিয়েও নিয়মিত চর্চা করতে থাকেন | কিন্তু মডেলিং জগতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি ফটোগ্রাফিতেই পুরোপুরি মনোযোগ দেন। পাশাপাশি নিজের খরচ চালানোর জন্য

মার্কেটিং কোম্পানী Japan Life- যোগ দেন কাজ করার জন্য। কিন্তু বেশি দিন এই চাকরি তিনি করতে পারেন নি। ততদিনে সন্দীপের ভিতর একজন Entrepreneur হওয়ার ইচ্ছা অবশেষে জেদে পরিণত হয়ে গিয়েছিল |তখন তিনি এবার ঠিক করেন যে, তিনি এবার একটি মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট সম্বন্ধীয় বই লিখবেন |
 কিন্তু এবারও দুর্ভাগ্যবশত তাঁর লেখা সেই বইটি তেমন ভালোভাবে বিক্রি হলোনা কোথাওআবার তিনি লাগাতার আরেকবার ব্যর্থ হলেন | 

অবশেষে, সন্দীপ এবার ফটোগ্রাফিতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেয় পাকাপাকি ভাবে |  তোমরা হয়তো অনেকেই জানোনা, সন্দীপ মহেশ্বরী মাত্র ৭০০০ টাকার ক্যামেরা কিনে মাত্র দিনের ফোটোগ্রাফি কোর্স করে নিজের Journey শুরু করেন |  ধীরে ধীরে ফটোগ্রাফি থেকে তাঁর ভালো আয় হওয়া শুরু হয়ে যায় এবং ফটোগ্রাফির মার্কেটে তাঁর ধীরে ধীরে সুনামও বাড়তে থাকে | 

 ‍তিনি Photography Industry-তে নিজের নাম বানানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকেন। Limca Books of Records- একটি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বানানোর প্রচেষ্টা করেন এবং সফলও হন |  ২০০৩ সালে তিনি সেই ওয়ার্ল্ড রেকর্ডটি করেন, যেখানে তিনি মাত্র ১০ ঘন্টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ১২২ জন মডেলের ১০০০০টি ফটোশুট করেন যেটা Limca Books of Records- স্থান পায় |  এবার তিনি তাঁর এই Passion-কে বড় একটি ব্যবসায় রুপান্তরিত করার পূর্ণ চেষ্টা করতে থাকেন |

২০০৫ সালে তিনি   Images Bazaar ওয়েবসাইট তৈরীর কাজে লেগে পড়েন |  অবশেষে ২০০৬ সালে ভারতীয় ইন্টারনেট জগতে প্রথমবারের জন্য Lunch করা হয় ImagesBazaar.Com ওয়েবসাইটকে।কিন্তু Slow Speed এর কারণে পেজ লোড হতে প্রচন্ড সময় লাগছিল। যার কারণে তার website ও ভালো চলছিল না। অবশেষে নিজেই বই পত্র পড়ে।। বের করলেন সমস্যা । সমাধান করলেন সমধান। বর্তমানে ImagesBazar.Com এর বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি |    আমাদের প্রিয় সন্দীপ স্যার ভারতবর্ষের একমাত্র বড়মাপের Inspirational Speaker যিনি কিনা একদম Free of Cost নিজের Motivational Seminar করেন।

তাঁর মতে, আমাদের সকলের ততটুকু অর্থই উপার্জন করা উচিত যতটুকু আমাদের নিজেদের, নিজের পরিবারের এবং সমাজের বাকি মানুষদের কল্যানে কাজে আসতে পারে |  টাকার অঙ্ক হলো শুধুমাত্র একটি সংখ্যা, আর সংখ্যার প্রকৃতি সর্বদাই অসীম যা কোনদিন শেষ হওয়ার নয় | যত টাকাই তুমি উপার্জন করোনা কেন সেটা সর্বদা কম বলেই মনে হবে তোমার কাছে |  





0 Comments:

Post a Comment