পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Monday, February 25, 2019

কাঠুরিয়া থেকে রাষ্ট্রপতি - আব্রাহাম লিংকন


আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার ১৬ তম রাষ্ট্রপতি ।তিনি দুইবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হল আব্রাহাম লিংকন কোন আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না পেয়েও ছিলেন অসাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন এক মহান ব্যক্তি।
তিনি ১৮০৯ সালের ১২- ফেব্রুয়ারি আমেরিকার কেনটাকি রাজ্যের হার্ডিন কাউন্টিতে অতি সাধারণ একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন  বাবার নাম থমাস লিংকন আর মায়ের নাম ন্যান্সী হ্যাঙ্কস লিংকন  মাত্র বছর বয়সে আব্রাহাম মাকে হারান  

   এর কয়েক মাস পর বাবা সারাহ বুশ জন্সটন নামে একজন  বিধবা মহিলাকে বিয়ে করেন, যার আগের পক্ষেরও তিনটি সন্তান ছিল   সারাহ বুশ জন্সটন সৎ মা হলেও তিনি খুব ভালোবাসতেন আব্রাহামকে

তার পড়াশুনার জন্যও বেশ উৎসাহ দিতেন তিনি ছোটবেলা থেকে বই পড়ার প্রতি ভীষণ রকমের আগ্রহ ছিল আব্রাহাম লিংকনের। জ্ঞান অন্বেষণে লিংকন ছিলেন একজন মনযোগী কিন্তু লিংকন সর্বসাকুল্যে মাত্র দেড় বছর  প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া করেন লিংকন একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি বই পড়ার জন্য তিনি মাইলের পর মাইল পথ হেটে বই সংগ্রহ করেছেন   তিনি গল্প পড়তে খুব ভালবাসতেন।

খুব ছোট বেলা থেকেই লিংকন তার দরিদ্র বাবার পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি নৌকা চালিয়ে পরিবারের জন্য রোজগার করতেন কাঠ কাটার কাজও করেছিলেন    আব্রাহাম লিংকন ১৭ বছর বয়সে তার এক বন্ধুকে নিয়ে তিনি একটি দোকান কিনে ব্যবসা শুরু করেন ব্যবসাটি ভাল চলছিল না বলে তিনি তার নিজের অংশের শেয়ারটুকু বিক্রি করে দেন   কিন্তু হঠাৎ তার বন্ধুর মৃত্যু হলে বন্ধু করা এক হাজার ডলারের ঋণের দায় এসে পড়ে তার উপর । সেই ঋণ পরিশোধ করতে তার লেগে যাই ১৭ বছর।

লিংকন পোস্টমাস্টার হিসেবেও কাজ করেছিলেন কিছুদিন     আব্রাহাম লিংকন ব্লাক হ্যাক যুদ্ধের পর আব্রাহাম লিঙ্কন তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন । ১৮৩৪ সালে ইলিনয়ে Whig Party- রাজ্য আইনসভার একজন সদস্য নির্বাচিত হন তিনি   তিনি নিউ সালেমে ইলিনয়েস জেনারেল এসেম্বলি নির্বাচনে উইগ পার্টির পক্ষে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি পার্টির মনোনয়ন পান এবং আইন সভায় উইগ পার্টির হয়ে নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক সফলতার ক্ষেত্রে তাকে কখনও পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

তিনি ১৮৪৭-১৮৪৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে লিংকন সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দিয়ে স্টিফেন ডগলাসের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। এই সময়লিংকন-ডগলাস বিতর্কএবং ক্রীতদাস প্রথা সংক্রান্ত কানসাস-নেব্রাস্কা আইনের উপর বিতর্ক, অল্প সময়ের মধ্যেই লিংকনকে জাতীয় পর্যায়ে সুখ্যাতি এনে দেয়      

১৮৬০ সালে রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার ১৬ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ১৫ এপ্রিল ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। লিংকন ছিলেন মিষ্টভাষী এবং বিনয়ী। জনতাকে আকৃষ্ট করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর। তিনিই ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির প্রথম রাষ্ট্রপতি ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন   তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দাস প্রথার অবসান ঘটান

১৮৬৩ সালে মুক্তি ঘোষণার মাধ্যমে তিনি দাসদের মুক্ত করে দেন এতে ৩৫ লাখ ক্রীতদাস মুক্ত হয়।এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংগঠিত মার্কিন গৃহযুদ্ধে তিনি ইউনিয়ন বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে দক্ষিণের কনফেডারেট জোটকে পরাজিত করেন গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৮৬৩-এর নভেম্বর মাসে পেনসালভেনিয়া অঙ্গ রাজ্যের গেটিসবার্গে লিংকন একটি ভাষণ দেন

 এই ভাষণই ইতিহাসে বিখ্যাত গেটিসবার্গ ভাষণ হিসেবে পরিচিত এটিই পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম সেরা ভাষণ হিসেবে এখনও বিশ্বব্যাপী পরিচিত গণতন্ত্র সর্ম্পকে তিনি যা বলেন তার বাংলা করলে এমন আসে যে,সরকার হলো জনগণ, জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, যা  কখনোই ধ্বংস হবে না

         

                      


 আব্রাহাম লিংকন যে কতবড় মহান হৃদয়ের মানুষ ছিলেন তার পরিচয় মেলে তার ছেলের শিক্ষকের কাছে লেখা চিঠির মধ্য দিয়ে।
ছেলের শিক্ষকের কাছে আব্রাহাম লিংকনের চিঠিটি এমন ছিল-

মাননীয় মহাশয়,

 আমার পুত্রকে জ্ঞানার্জনের জন্য আপনার কাছে প্রেরণ করলাম। তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন-এটাই আপনার কাছে আমার বিশেষ দাবি। আমার পুত্রকে অবশ্যই শেখাবেন- সব মানুষই ন্যায়পরায়ণ নয়, সব মানুষই সত্যনিষ্ঠ নয়। তাকে - শেখাবেন প্রত্যেক বদমায়েশের মাঝেও একজন বীর থাকতে পারে, প্রত্যেক স্বার্থপর রাজনীতিকের মাঝেও একজন নিঃস্বার্থ নেতা থাকে। 

তাকে শেখাবেন প্রত্যেক শত্রুর মাঝে একজন বন্ধু থাকে।
আমি জানি এটা শিখতে তার সময় লাগবে, তবুও যদি পারেন তাকে শেখাবেন পাঁচটি ডলার কুড়িয়ে পাওয়ার চেয়ে একটি উপার্জিত ডলার অধিক মূল্যবান। - তাকে শেখাবেন, কীভাবে পরাজয়কে মেনে নিতে হয় এবং কীভাবে বিজয়োল্লাস উপভোগ করতে হয়। হিংসা থেকে দূরে থাকার শিক্ষাও তাকে দেবেন।

যদি পারেন নীরব হাসির গোপন সৌন্দর্য তাকে শেখাবেন। সে যেন আগ-ভাগেই কথা বুঝতে শেখে যারা পীড়নকরী তাদেরই সহজে কাবু করা যায়। বইয়ের মাঝে কি রহস্য লুকিয়ে আছে তা- তাকে বুঝতে শেখাবেন। আমার পুত্রকে শেখাবেন, বিদ্যালয়ে নকল করার চেয়ে অকৃতকার্য হওয়া অনেক বেশি সম্মানজনক।নিজের ওপর তার যেন সুমহান আস্থা থাকে। এমনকি সবাই যদি সেটাকে ভুলও মনে করে। তাকে শেখাবেন ভদ্রলোকের প্রতি ভদ্র আচরণ করতে, কঠোরদের প্রতি কঠোর হতে। 

আমার পুত্র যেন শক্তি পায় হুজুগে মাতাল জনতার পদাঙ্ক অনুসরণ না করার। সে যেন সবার কথা শোনে এবং তা সত্যের পর্দায় ছেঁকে যেন ভালোটাই শুধু গ্রহণ করে- শিক্ষাও তাকে দেবেন সে যেন শেখে দুঃখের মাঝে কিভাবে হাসতে হয় আবার কান্নার মাঝে যে লজ্জা নেই- কথা তাকে বুঝতে শেখাবেন।
যারা নির্দয়, নির্মম তাদের সে যেন ঘৃণা করতে শেখে আর অতিরিক্ত আরাম-আয়েশ থেকে সাবধান থাকে।

আমার পুত্রের প্রতি সদয় আচরণ করবেন কিন্তু সোহাগ করবেন না। কেননা আগুনে পুড়েই ইস্পাত খাঁটি হয়। আমার সন্তানের যেন অধৈর্য হওয়ার সাহস না থাকে, থাকে যেন তার সাহসী হওয়ার ধৈর্য। তাকে শিক্ষাও দেবেন নিজের প্রতি তার যেন সুমহান আস্থা থাকে আর তখনই তার সুমহান আস্থা থাকবে মানবজাতির প্রতি।

সশ্রদ্ধ সালাম,
আব্রহাম লিংকন







 লিংকন ১৮৬৪ সালে পুনরায় আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। লিংকন ১৮৬৫ সালের ১৫ এপ্রিল উইলকেস বুথ নামের এক আততায়ীর গুলিতে আহত হয়ে পরের দিন নিহত হন

0 Comments:

Post a Comment