পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Wednesday, February 27, 2019

সবচেয়ে জুরুরী হলো -- নিজের প্রতি বিশ্বাস


এই কাহীনিটা দুই বন্ধুকে কেন্দ্র করে যারা এক গ্রামে বাস করত। একজনের বয়সবছর  আরেকজনের ১০ বছর তাদের বয়সের মাঝে কিছু ব্যবধান  থাকলেও তারা একে অন্যের খুব ভালো বন্ধু ছিল  

তারা প্রতিদিন  এক সাথে  খেলাধুলা করত। একদিন খেলতে খেলতে তারা গ্রাম থেকে কিছু  দূরে জঙ্গলের ভেতর  চলে যায়।জঙ্গলের ভেতরে ছিল একটা গভীর পানি ভর্তি কুয়া। খেলতে খেলতে ১০ বছরের বাচ্চাটি হঠাৎ কুয়ায় পড়ে যায়। সে সাতার পারতো না।
চিৎকার করছিলো, বড়জোর দুই তিন মিনিট বাচবে। ৬ বছরের বাচ্চাটি তার চারপাশে দেখতে লাগল যে কাউকে পাওয়া যাই কিনা যার কাছ থেকে সে সাহায্য  পেতে পারে। কিন্তু সে কাউকেই দেখতে পারল না। এমন সময়বছরের বাচ্চাটির নজরে আসে রশি দিয়ে বাঁধা একটি বালতি। বন্ধুকে বাচাতে সে বিলম্ব না করে, রশি সহ বালতিটি ফেলে দেয় কুয়ায়।বছরের বাচ্চাটির চেয়ে ১০ বছরের বাচ্চাটির গায়ে ওজন বেশি ছিলো। 

 বছরের বাচ্চাটি তার বন্ধুকে বলল যে বালতির রশিটি ধরে থাকতে। আর সে উপর থেকে তার সমস্থ শক্তি দিয়ে বন্ধুকে টানতে থাকল। টানতে থাকল ,টানতে থাকল, টানতে থাকল ততক্ষন টানল যতক্ষন না তার বন্ধু উপরে উঠে এলো।যখন বন্ধুটি উপরে উঠে এলো।দুই বন্ধু একে অন্যকে জড়িয়ে কাদঁকে লাগল।একদিক থেকে খুব  খুশি হলো আবার তাদের খুব ভয় হতে থাকল যে এই সব কথা যদি বাড়ির লোকজন শোনে তবে তো তাদের পিটাই হবে।

 এরপর বাড়ি ফিরে আসে। দুই বন্ধুরই হাত পায়ে জখম। তাদের মা বাবা জিজ্ঞেস করে কাহিনী কি, তারা সত্য কথাটি বলে, কিন্তু সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো তাদের কথা তাদের বাড়ির কেউই বিশ্বাসই করল না।বাচ্চাদের মা বাবা বললেন, “৬ বছরের বাচ্চা যে কি না নিজের জন্যে এক গ্লাস পানি ঢালে না, সে কিভাবে ১০ বছরের ছেলেকে টেনে তুলবে?”

সেই গ্রামের সবচেয়ে প্রবীণ লোক যাকে সবাই রহিম চাচা বলে ডাকত।। এই প্রবীণ লোকটি তাদের কথা বিশ্বাস করল।।আর তাদের আদর করতে লাগল।।গ্রামের লোকজনের কাছে এবার বিষয়টি অন্য রকম লাগতে শুরু করল।।সবাই এক জায়গাই হলো আর বলতে লাগল যে যখন রহিম চাচা ঘটনাটি বিশ্বাস করেছে তার মানে কিছু না কিছু কারণ তো রয়েছেই।সবাই মিলে রহিম চাচার কাছে গেল আর বলতে লাগল , চাচা আমাদের মাথায় তো কিছু আসছে না। এখন আপনিই বলেন যে ৬ বছরের বাচ্চা ছেলে কি করে ১০ বছরের ছেলেকে পানি থেকে রশি দিয়ে তুলে নিতে পারল।

রহিম চাচা তখন বলল, আমি আর কি বলব বাচ্চারা তো বলছেই 
তারা কিভাবে এই কাজটি করেছে।গ্রামের লোকজন বলল কিভাবে করেছে  এটা তো প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হলো এই ছোট বাচ্চা ছেলে এটা কেন করতে পেরেছে।

তখন রহিম চাচা  মুসকি হেসে উত্তর দিল,”এর শুধু মাত্র একটাই কারণ রয়েছে যে যখন ১০ বছরের বাচ্চাটি কুয়োতে পড়ে গিয়েছিল তখন ৬ বছরের  বাচ্চাটির আশে পাশে দূর দূর  পযর্ন্ত কেউ ছিল না যে তাকে এটা বলবে –তুমি এটা করতে পারবে না। তার নিজের প্রতি বিশ্বাসই তাকে্ এই অসাধ্য সাধন করতে সাহায্য করেছে।

0 Comments:

Post a Comment