পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Saturday, February 16, 2019

মাদার তেরেসা : বিশ্ব মানবতার দূত


মাদার তেরেসা ১৯১০ সালের ২৬ আগস্ট অটোম্যান সাম্রাজ্যের ইউস্কুবে জন্মগ্রহণ করেন। তবে ২৬ অগস্ট জন্ম হলেও তিনি ২৭ অগস্ট তারিখটিকে তারপ্রকৃত জন্মদিনমনে করতেন। কারণ ওই তারিখেই তার ব্যাপটিজম সম্পন্ন হয়েছিল। মাদার তেরেসা নিকোলো দ্রানা বয়াজুর কনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন। তাদের আদি নিবাস ছিল আলবেনিয়ার শকড্যর অঞ্চলে।



মাদার তেরেসার পিতা আলবেনিয়ার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯১৯ সালে মাত্রবছর বয়সে তার বাবা যান। আকস্মিক বিপর্যয়ের ফলে তেরেসার মা ভীষণ মুষড়ে পড়েন। জীবনের সংগ্রাম থেকে দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতাকে সাহস উদ্দীপনার সঙ্গে গ্রহণ করার তৎপরতা আবিষ্কার করেন মাদার তেরেসা। পিতার মৃত্যুর পর মা তাকে রোমান ক্যাথলিক আদর্শে লালন-পালন করেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। ১২ বছর বয়সেই মাদার তেরেসা ধর্মীয় জীবন যাপনের সিদ্ধান্ত নেন।


১৯২৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ বছর বয়সে তিনি গৃহত্যাগ করে একজন মিশনারি হিসেবে সিস্টার্স অফ লোরেটো সংস্থায় যোগ দেন। এর পর থেকে তার মা আর তার দিদি দের সাথে আর কখনো দেখা হয় নি।১৯৫০ সালে কলকাতায় তিনি মিশনারিজ অফ চ্যারিটি নামে একটি সেবাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। সুদীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে মাদার তেরেসা দরিদ্র, অসুস্থ, অনাথ মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবা করেন। একই সঙ্গে মিশনারিজ অফ চ্যারিটির বিকাশ উন্নয়নেও অক্লান্ত পরিশ্রম করেন তিনি। মাদার টেরেসার মৃত্যুর সময় বিশ্বের ১২৩টি রাষ্ট্রে এইচআইভি/এইডস, কুষ্ঠ যক্ষার চিকিৎসাকেন্দ্র, ভোজনশালা, শিশু পরিবার পরামর্শ কেন্দ্র, অনাথ আশ্রম বিদ্যালয়সহ মিশনারিজ অফ চ্যারিটির ৬১০টি কেন্দ্র বিদ্যমান ছিল। মানুষের মাঝে যিনি খুঁজে পেয়েছিলেন ঈশ্বরকে, যার কাছে ছিল না কোনো জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ, মানবসেবাকেই ধর্ম হিসেবে নিয়েছিলেন যিনি, তিনিই মাদার তেরেসা।

কেবল সেবা নয়, মানুষকে দাও তোমার হৃদয়। হৃদয়হীন সেবা নয়, তারা চায় তোমার অন্তরের স্পর্শ’—এরকম নিছক একটি বাণীই বলে যাননি, আমৃত্যু আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে সারাবিশ্বের মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন মহীয়সী মাদার তেরেসা। সমাজের যারা বিভিন্ন দিক থেকে অবহেলিত, মাদার তেরেসা তাদেরই বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তৎকালীন সময়ে ভারতে বাংলায় ধর্মীয় কাজ করতেন যুগোস্লাভিয়া ধর্মযাজকরা।

১৯৩৭ সালের ১৪মে সিস্টার তেরেসা তার জীবনের গতি পরিবর্তনের চিন্তা করে সন্ন্যাসিনীর জীবন বেছে নেন। দুস্থ মানুষকে সাহায্য করার কাজটি যেন তার কাছে নেশার মতো হয়ে গেল।
শিক্ষিকা হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত ভালো এবং সফল। আর্তমানবতার সেবা করার জন্যই যেন তার জন্ম হয়েছে। আজীবন এটাই তিনি করতে চান। এরপর সত্যি সত্যি তিনি সম্পূর্ণভাবে মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করার সংকল্পে লরেটো স্কুলের চাকরি ছেড়ে দিলেন।

এরপর মাত্র ১২ জন সদস্য নিয়ে ১৯৫০ সালেরঅক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেনমিশনারিজ অব চ্যারিট যার শাখা বর্তমানে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে আছে। ১৯৫২ সালে এই চ্যারিটির অধীনেই গড়ে উঠেনির্মল হৃদয়’, কুষ্ঠ রোগীদের জন্যশান্তি নগর ১৯৫৫ সালে স্থাপন মাদার তেরেসা স্থাপন করেননির্মল শিশুভবন ১৯৬৩ সালে গড়ে তোলা হয়মিশনারিজ অব চ্যারিটি’-এর ব্রাদার শাখা। মাত্র ১২ জন সদস্য নিয়ে যে চ্যারিটির যাত্রা শুরু হয়েছিল সময়ের ব্যবধানে তা কয়েক হাজারে পৌঁছায়।

তিনি যখন লরেটো স্কুলের চাকরি ছেড়ে দিলেন, তখন তার হাতে ছিল মাত্র পাঁচ টাকা। রকম নিঃস্ব অবস্থাতেই তিনি স্কুলের সাজানো ফুলের বাগান, স্নিগ্ধ পরিবেশ, সুখময় নিশ্চিন্ত জীবন ফেলে এসে আশ্রয় নিলেন শিয়ালদহ রেলস্টেশন-সংলগ্ন এক পুরোনো ভাঙাবাড়িতে। কলকাতার অলিগলি আর বস্তিতে ঘুরে বেড়াতে থাকেন, উদ্দেশ্য অসহায় মানুষেদের সেবা করা।

১৯৩৭ সালের ১৪ মে সিস্টার তেরেসা তার জীবনের গতি পরিবর্তনের চিন্তা করে সন্ন্যাসিনীর জীবন বেছে নিলেন।এদিন থেকেই সিস্টার তেরেসা হয়ে উঠেন মাদার তেরেসা। শুরু হয় অন্যরকম পথচলা। দরিদ্রের মাঝে মিশনারি কাজ শুরু করেন মাদার তেরেসা


পোশাক হিসেবে পরিধান করেন নীল পারের একটি সাধারণ সাদা সুতির বস্ত্র। ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করে বস্তি এলাকায় কাজ শুরু করেন। ১৯৫০ সালে কলকাতায় তিনি মিশনারিজ অব চ্যারিটি নামে একটি সেবাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। আর্তমানবতার প্রতীক মাদার তেরেসা সারাটা জীবন কাজের মধ্যে ডুবে ছিলেন।

তিনি তার জীবনে যত গুলো পুরষ্কার লাভ করেছেন তার কোনটিই তিনি নিজের জন্য খরচ করেন নি।।এ ছাড়াপোপ জন শান্তি পুরস্কারস্বরূপ তিনি যে টাকা পেয়েছিলেন, তা দিয়ে আসানসোলের কাছে প্রতিষ্ঠা করেন কুষ্ঠরোগীদের জন্য শান্তিনগর নামের একটি শহর শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা ভারত নয়, তেরেসার সেবাকর্ম ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ল পৃথিবীর সব মহাদেশে। লরেটো স্কুল ছেড়ে আসার সময় যার হাতে ছিল মাত্র পাঁচ টাকা, সেই তেরেসার মিশনারিজ অব চ্যারিটি প্রতিদিনই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সেবাকাজের জন্য খরচ করে ১২ লাখ টাকা।

তিনি বিভিন্ন লঙ্গরখানা গড়ে তুলেছিলেন সেগুলোতে প্রতিদিন আহার করে ৬০ হাজার নিরন্ন মানুষ। সুদীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে মাদার তেরেসা দরিদ্র, অসুস্থ, অনাথ মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবা করেন। একই সঙ্গে মিশনারিজ অফ চ্যারিটির বিকাশ উন্নয়নেও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছন তিনি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। শরণার্থী শিবিরে ঘুরে ঘুরে দিন-রাত তিনি নিরলসভাবে সেবা করে গেছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে তিনি ঢাকায় আসেন। দেশে ঢাকার ইসলামপুরে শুরু হয় মিশনারিজ অব চ্যারিটির সেবার কাজ। এরপর খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, সিলেট আর কুলাউড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় নির্মল হৃদয় শিশু ভবন


১৯৮৩ সালে তার প্রথম অসুস্থতা ধরা পড়ে। পরে তার হৃদরোগ ধরা পড়লে বুকে পেসমেকার লাগানো হয়। তাতেও আরোগ্য লাভ হয়নি। কারণ অসুস্থতা নিয়েও তিনি কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়াতেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও করা হয়েছিল কিন্তু তার ছুটে চলা থেমে থাকেনি।

ধীরে ধীরে এভাবেই ঘনিয়ে আসে তার অন্তিম মুহূর্ত। অবশেষে ১৯৯৭ সালেরসেপ্টেম্বর কলকাতার মাদার হাউসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহাত্মা নারী। মাদার তেরেসা আজ আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু মানবতার প্রতীক হিসেবে তিনি অমর হয়ে থাকবেন বিশ্ববাসীর কাছে।

0 Comments:

Post a Comment