পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Friday, March 15, 2019

আগে নিজেকে প্রস্তত করতে হবে : সেরেনা উইলিয়ামস


১৯৮১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে জন্ম এই তারকার। রিচার্ড উইলিয়াম ওরেসেনা প্রাইসের পঞ্চ কন্যার ছোটটি হলেন সেরেনা উইলিয়ামস। রিচার্ড ছিলেন লুইজিয়ানার একজন প্রাক্তন ভাগ চাষী। তিনি তার দুই মেয়ে ভেনাস এবং সেরেনাকে টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে তৈরি করার ব্যাপারে ছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং সবসময় চাইতেন, তার এই মেয়ে দুটিকে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দেয়ার জন্য। তাই ছোটবেলাতেই কোলের শিশু সেরেনাকে সাথে নিয়ে গোটা পরিবার সহ রিচার্ড সংসার পাতলেন ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জলেসের শহরতলি কম্পটন অঞ্চলে।



সেরেনার হাতেখড়ি হয়েছে বাবার কাছ থেকেই। বাবা আর মেয়ের ঘাঁটি ছিল বাড়ি থেকে কিছুটা দূরের এক টেনিস কোর্টে। যখন সেরেনা তিন বছরে সবে পা দিয়েছে, তখন তার বাবা টেনিসের বই আর নির্দেশ সংক্রান্ত ভিডিও টেপ কিনে দিন-রাত টেনিস খেলার ধরন এবং নানা নিয়মকানুন সম্পর্কে পড়াশোনা করতেন। শুধু রিচার্ডই নন, সেরেনার মা- সঙ্গী ছিলেন এই কাজে। তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই, তাদের মেয়ে ভেনাস সেরেনাকে নিজস্ব নিজেদের তত্ত্বাবধানে তৈরি করবেন।
চলুন এই তারকার মুখেই কিছু কথা শুনা যাক :
আমার শৈশবটা ছিল দারুণ। বোন ভেনাসের সঙ্গে খেলতে পারাই ছিল আমার ভীষণ আনন্দের। খেলায় আমি থাকতাম রাজকন্যা আর ভেনাস ছিল জাদুকর। আমাদের বেড়ে ওঠা ছিল ক্যালিফোর্নিয়া আর ফ্লোরিডা শহরে। বাবা-মা আর বোনদের নিয়েই ছিল আমার রঙিন ছোটবেলা। সেই সব দিনের কথা ভাবলে আবার ছোট হয়ে যেতে ইচ্ছে করে। টেনিসের সঙ্গে সঙ্গে তখন জিমন্যাস্টিক্স আর ব্যালেতেও আমার আগ্রহ ছিল। আমি সব সময় ভেনাসকে অনুসরণ করতাম। ভেনাস যদি গণিতবিদ হতো তাহলে আমিও সম্ভবত তা- হতাম।
আমি পড়াশোনায়ও বোনকে অনুসরণ করতাম। আমার বাবার জন্যই আজ আমরা এখানে। একজন মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় তার পরিবার। পরিবারের কারণেই মানুষ সামান্য থেকে অসামান্য হয়ে ওঠে। আমার বাবার কথা ভাবলে আমারই হিংসা লাগে। তিনি এমনই এক বাবা, যাঁর দুই মেয়েই যখন উম্বলডনের ফাইনালে খেলে আর তিনি কাউকেই সমর্থন করতে পারেন না। এটা তাঁর জন্য যতটা হতাশার, তারচেয়ে বেশি আনন্দের ঘটনা নিশ্চয়ই।


আমার বয়স যখন ১৭ তখন বাবা-মায়ের পরামর্শ ছিলখুশি থাকো, নিজের মতো চলো এখনো সেই কথা মনে রেখেছি এবং সেভাবেই চলার চেষ্টা করি। নিজের মতো চলা আর নিজেকে খুশি রাখাই মানুষ হিসেবে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জকে জয় করার নামই জীবন! সফল হবেন কি না তার উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ কিন্তু তার আগে মাঠে নামতেই হবে। চ্যালেঞ্জ নিতে হবে নিজেকেই। কাউকে প্রতিপক্ষ ভেবে নয়, নিজের সঙ্গে নিজের চ্যালেঞ্জ নিতে হয়।
কিশোর বয়স থেকে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলাম ফ্রেঞ্চ ওপেন টেনিস প্রতিযোগিতায় আমি আর আমার বোন বিজয়ী হলে ফরাসি ভাষায় কথা বলব। তখন ফরাসি শিখেছিলাম, এখন নিয়মিত ফরাসি বলতে হয় আমাকে। লক্ষ্য ঠিক রাখলে কোনো স্বপ্নই বৃথা যায় না।
আমার বাবার কথা ছিল, ‘তুমি যদি পরাজয়ের কথা ভাব, তাহলে পরাজয় আসন্ন এটা কিন্তু সত্যি। আপনি যা ভাববেন তা- আপনাকে পৃথিবী দেবে। নিজেকে সাধারণের মধ্যে অনন্য করে তুলতে চাইলে আপনার পরিশ্রমের বিকল্প নেই। ঘাম ঝরালেই আপনার নাম পৃথিবী মনে রাখবে।


ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন থাকবেই। জয়ের স্বাদ আসলে মিষ্টি। কিন্তু জয়কে ধরে রাখাই টক! আমি সাফল্য পেলেও খারাপ সময়গুলোর কথা ভুলে যাই না। আমি প্রশংসার জোয়ারে গা ভাসাই না। সেরা হওয়ার জন্য মাঠে নামি আমি। কোনো প্রতিযোগিতায় সেরা হওয়া কিন্তু সহজ কোনো কাজ নয়।
তার ওপর যদি প্রতিপক্ষের কেউ নিজের বোন হয়। কিন্তু তার পরেও আমি লড়তে মাঠে নামি। লড়াই করার মানসিকতা জীবনকে অনেক দূর নিয়ে যায়।
জীবনের লক্ষ্য একবার ঠিক করে ফেললে তাকে অনুসরণ করতেই হবে। কিশোর বয়সে পাহাড় ডিঙানোর স্বপ্ন দেখলে বৃদ্ধ হলেও সেই স্বপ্ন দেখার শক্তি নিজের মধ্যে রাখতে হবে। আর তাতেই জীবন উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

0 Comments:

Post a Comment