পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Friday, March 29, 2019

স্যার আইজ্যাক নিউটন


স্যার আইজ্যাক নিউটন  জন্মের সময়ে আইজাক ছিলেন দুর্বল শীর্ণকায়আর ক্ষুদ্র আকৃতির, দাই তাঁর জীবনের আশা সম্পূর্ণত্যাগ করেছিলেন। হয়তো বিশ্বের প্রয়োজনেইবিশ্ববিধাতা তাঁর প্রাণরক্ষা  করেছিলেন ১৬৪২ সালের বড়দিনে আইজাক নিউটন জন্মগ্রহণকরেন। তার জন্মের কয়েক মাস আগেই পিতার মৃত্যুহয়। 

বিধবা মায়ের সাথেই নিউটনের জীবনের প্রথম তিনবছর কেটে যায়। এই সময় তার মা বারনাবাস নামেভদ্রলোকের প্রেমে পড়ে তাকে বিবাহ করেন। নববিবাহিত দম্পতির জীবন শিশু নেহাতই অবাঞ্ছিতবিবেচনা করে মা শিশু নিউটনকে তার দাদির কাছে রেখে দেন।  জন্ম থেকেই রুগ্নছিলেন নিউটন। তবু তার দুষ্টুমি কিছু কম ছিল না। ১২ বছর বয়সে নিউটনকে গ্রামের স্কুলে ভর্তি করে দেয়া হলো। কিন্তু শিক্ষকরা তার অসাধারণমেধার জন্য সকলেই তাকে ভালোবাসতেন।  স্কুলের অধ্যক্ষ প্রায়ই স্কুলে পৌঁছাতে দেরি করত। একদিন নিউটন বললেন, স্যার,আমি আপনার জন্য একটা ঘড়ি তৈরি করে দিচ্ছি, তাহলে ঘড়ি দেখে ঠিকসময়েই স্কুলে আসতে পারবেন। নিউটন ঘড়ি তৈরি করলেন। ঘড়ির উপরে থাকতএকটা পানির পাত্র। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি সেই পাত্রে ঢেলে দেয়া হতো।তার থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি ঘড়ির কাঁটার ওপর পড়ত এবং ঘড়ির কাঁটা আপনগতিতেই এগিয়ে চলত।  ভাগ্যের পরিহাসে নিউটনের সৎ বাবা মারা গেলেন। মার একার পক্ষে জমিজমাদেখাশোনা করা সম্ভব হলো না। স্কুল ছাড়িয়ে চৌদ্দ বছরের নিউটনকে গ্রামেরবাড়িতে নিয়ে এলেন তার মা।  ভাগ্যক্রমে চাচা উইলিয়াম ভাইপোর জ্ঞানতৃষ্ণায় মুগ্ধ হয়ে নিজের কাছে নিয়েএলেন।

চাচা কেমব্রিজের ট্রিনাটি কলেজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনিই ভাইপোকেআবার স্কুলে ভর্তি করে দিলেন। এক বছর পর নিউটন ট্রিনিটি কলেজে ভর্তিহলেন। শুরু হলো এক নতুন জীবন। যে কোনো জটিল অঙ্কেরসমাধান সহজেই করে ফেলতেন। তবুও অঙ্কের প্রতি তার  কোনো আকর্ষণ ছিলনা ছাত্র হিসেবে নিউটন ছিলেন যেমন অধ্যবসায়ী, পরিশ্রমী তেমনি অসাধারণমেধাসম্পন্ন। প্রকৃতির রহস্য তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করত। নিউটন বিশ্বাস করতেনএকমাত্র বিজ্ঞানের মাধ্যমেই প্রকৃতির এই গোপন রহস্যকে উদ্ঘাটন করা সম্ভব।অবশেষে ১৬৬৫ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করলেন।  

কলেজে ছাত্র থাকাকালীন অবস্থাতেই তিনি অঙ্কশাস্ত্রের কিছু জটিল তথেরআবিষকার করেন- ১৬৬৬ সালএই সময় নিউটন একটি চিঠিতে লিখেছেন আমি...পদ্ধতি উদ্ভাবনের সাথে সাথেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করতেশুরু করেছি। ভাবতে অবাক লাগে তখন নিউটনের বয়স মাত্র চব্বিশ।  নিউটন চাঁদ অন্য গ্রহ-নক্ষত্রের গতি নির্ণয় করতে সচেষ্ট হন। কিন্তু তারউদ্ভাবিত তত্ত্বের মধ্যে কিছু ভুল ত্ররুটি থাকার জন্য তার প্রচেষ্টা অসম্পূর্ণ ভুলথেকে যায়।  এই সব অসাধারণ কাজ মৌলিক তত্ত্বের জন্য সেই তরুণ বয়সেই নিউটনেরখ্যাতি পণ্ডিত মহলে ছড়িয়ে পড়ল। ১৬৬৭ সালে তাঁর কৃতিত্বের জন্য ট্রিনিটিকলেজ তাকে ফেলো হিসেবে নির্বাচন করল। একজন ২৫ বছরের তরুণের পক্ষেএ এক দুর্লভ সমমান।  এবার তিনি আলোর প্রকৃতি তার গতিপথ নিয়ে গবেষণার কাজ শুরু করলেনএবং এই কাজের প্রয়োজনেই তিনি তৈরি করলেন প্রতিফলক টেলিস্কোপ।পরবর্তীকালে মহাকাশসংক্রান্ত গবেষণার প্রয়োজনে যে উন্নত ধরনের টেলিস্কোপআবিষকৃত হয় তিনিই তার অগ্রগামী পথিক।



  নিউটন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রিনিটি কলেজের গণিতের অধ্যাপক হিসেবেনির্বাচিত হলেন। সেই সাথে আলোর বর্ণচ্ছটা নিয়ে গবেষণার কাজ আরম্ভ করেন।ইংল্যান্ডের রয়াল সোসাইটিও নিউটনের বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে মুগ্ধ হয়েতাকে সোসাইটির সদস্য নির্বাচিত করলেন। তখন তার বয়স মাত্র ২৯ বছর। ইংল্যান্ডের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের পাশে তার স্থান হলো। সোসাইটির প্রথম সভায় তারআলোকতত্ত্ব নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করলেন। তার বিষয়বস্তুর সঙ্গে একমত হতে নাপারলেও সোসাইটির সমস্ত বিজ্ঞানীই উচ্চকণ্ঠে তার বৈজ্ঞানিক নিবন্ধের প্রশংসাকরলেন। তিনি যেন এক আত্মমগ্ন সাধক। নিজের স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন।নিজের বেশবাস সাজগোজ কোনো দিকেই ভ্রূক্ষেপ নেই। প্রায়ই দেখা যেত তিনি কলেজে আসছেন, তাঁর জামার বোতাম খোলা, পায়ের মোজা গুটিয়ে আছে,এলোমেলো চুল।

তন্ময় হয়ে চলেছেন কোনো নতুন বৈজ্ঞানিক ভাবনায় বিভোর।  কল্পনাপ্রবণ এই মনের জন্যই বাস্তব জগৎ সম্বন্ধে তার ধারণা ছিল অসপষ্ট।একদিন একজন লোক তার বাড়িতে এসে একটা প্রিজম (তিনকোণা কাচ)দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করল এর কত দাম হতে পারে? প্রিজমের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ববিবেচনা করে নিউটন বললেন, এর মূল্য নির্ণয় করা আমার সাধ্যের বাইরে।  লোকটি নিউটনের কথা শুনে অস্বাভাবিক বেশি দামে প্রিজমটি বিক্রি করতেচাইল। কোনো দরদাম না করেই সেই দামে প্রিজমটি কিনে নিলেন নিউটন।নিউটনের বাড়িওয়ালা সব কথা শুনে বললেন, তুমি নেহাতই বোকা। এটা সাধারণএকটা কাচ, এই কাচের যা ওজন হবে সেই দামেই এটা কেনা উচিত ছিল। 

নিউটন কোনো কথা না বলে শুধু হাসলেন। পরবর্তীকালে এই প্রিজম থেকেইউদ্ভাবন করেন বর্ণতত্ত্ব (Theory of Color)  কলেজের ছুটির অবকাশে মায়ের কাছে গিয়েছেন নিউটন। দিনের বেশির ভাগসময়ই বাগানের মধ্যে বসে থাকেন। প্রাণ ভরে উপভোগ করেন প্রকৃতির রূপ রসগন্ধ। একদিন হঠাৎ সামনে খসে পড়ল একটা আপেল।  মুহূর্তে তার মনের কোণেউঁকি মারে এক জিজ্ঞাসা-কেন আপেলটি আকাশে না উঠে মাটিতে এসে পড়ল?এই জিজ্ঞাসাই মানুষের চিন্তার জগতে এক যুগান্তর নিয়ে এলো। জন্ম নিলমাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বের। যদিও এই চিন্তার সূত্রপাত হয়েছিল বহু পূর্বেই। তার পূর্ণপরিণতি ঘটল ১৬৮৭ সালে। নিউটন প্রকাশ করলেন তার কালজয়ী গ্রন্থ(Mathematical Principles of Natural Philosophy)  মানুষ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কথাসামান্য কিছু জানলেও এই বিশ্বভ্রহ্মাণ্ড জুড়ে রয়েছে যে তার অস্তিত্ব সে কথাকেউ জানতে না। মাধ্যাকর্ষণ শক্তির এই আকর্ষণ গ্রহ নক্ষত্র পৃথিবীকে একসূত্রেবেঁধে রেখেছে। 



একদিন রাতে এক বন্ধুর বাড়িতে তার নিমন্ত্রণ হয়েছে। কাজ করতে করতে রাতহয়ে গেছে। হঠাৎ তার মনে পড়ল বন্ধুর বাড়িতে যেতে হবে। তাড়াতাড়ি ঘরথেকে বের হলেন নিউটন। যখন বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে পৌঁছলেন তখন গভীররাত। চারদিক অন্ধকার। নিউটন বুঝতে পারলেন নিমন্ত্রণ পর্ব আগেই শেষ হয়েগিয়েছে। বাড়ি ফিরে এসে আবার কাজে বসলেন। রাতে খাওয়ার কথা মনেই হলোনা তার।  এত দিন মানুষের জানা ছিল না চন্দ্র-সূর্যের সঠিক আয়তন। 

নিউটন তানির্ণয় করলেন।  প্রতিষ্ঠাহলো মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব-এই তত্ত্বের যাবতীয় বিবরণ তিনি লিখলেন তারপ্রিন্সিপিয়া গ্রন্থটিতে (Principia Mathematica) যখন এই বই প্রকাশিত হলো তখনঅধিকাংশ মানুষের কাছেই মনে হলো এই বই যেমন জটিল তেমনি দুর্বোধ্য।নিউটনের এক দার্শনিক বন্ধু একদিন নিউটনকে জিজ্ঞাসা করলেন, কীভাবেতোমার লেখার অর্থ বোঝা সম্ভব।  নিউটন তাকে একটি বইয়ের তালিকা দিয়ে বললেন, আপনি আগে এই বইগুলোপড়ুন তাহলে আমার তত্ত্ব বোঝার কাজ সহজ হবে। ভদ্রলোক তালিকাটি দেখেবললেন, নিউটনের তত্ত্ব বোঝা আমার সাধ্যের বাইরে। কারণ প্রাথমিক তালিকারএই কটি বই পড়া শেষ করতেই আমার অর্ধেক জীবন কেটে যাবে।  "Philosophia Naturalis Principia Mathematica" প্রকাশিত হয় ১৬৪৭ সালে। 

ল্যাটিন ভাষায় লেখা এই বইটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে নিউটন গতিসূত্রসম্বন্ধে আলোচনা করেছেন। তার তিনটি গতিসূত্র আমাদের সকলেরেই জানা আছে তার পর একবার মানে করে নিয়েুদেখুন  
() প্রত্যেকটি বস্তু চিরকালসরলরেখা অবলম্বন করে সমবেগে চলতে থাকে। 

() বস্তুর ওপর প্রযুক্ত বল বস্তুরভরবেগের পরিবর্তনের হারের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে,ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।

() প্রত্যেকটি ক্রিয়ার সমান বিপরীতপ্রতিক্রিয়া আছে। 

প্রিন্সিপিয়া গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডে তিনি গ্যাস, ফ্লুইড বস্তুর গতির কথা আলোচনাকরেছেন। গ্যাসকে কতকগুলো স্থিতিস্থাপক অণুর সমষ্টি ধরে নিয়ে তিনিবয়েলের সূত্র প্রমাণ করেন। গ্যাসের ওপর চাপের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে গিয়েপরোক্ষভাবে শব্দ তরঙ্গের গতিবেগও নির্ধারণ করেন। তাঁর এই তত্ত্বে কিছু ভুল-ত্রুটি ছিল। উত্তরকালে অন্য বিজ্ঞানীরা এসব ভুল-ত্রুটি সংশোধন করেন।  তৃতীয় খণ্ডে মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব সম্বন্ধে খুঁটিনাটি আলোচনা করেন। তিনি উপলব্ধিকরেছিলেন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবেই সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলো ঘুরছে।তেমনি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে চাঁদ। 



দুটি বস্তুর মধ্যে মহাকর্ষীয় বল তাদেরভরের সমানুপাতিক দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বপৃথিবীর ব্যাসার্ধের ৬০ গুণ। এই দূরত্ব থেকে চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে।নিউটন লক্ষ করেছিলেন সূর্য গ্রহগুলোর মধ্যে প্রত্যেকটি গ্রহ তাদেরউপগ্রহগুলোর মধ্যে পৃথিবীর সমুদ্র চাঁদ এবং সূর্যের মধ্যে এমনকি জোয়ার- ভাটা সাধারণভাবে জগতের যে কোনো দুটি বস্তুর মধ্যে একই মহাকর্ষ তত্ত্বকার্যকর। এছাড়া তিনি আরো একটি সমস্যার সমাধান করেছিলেন। তিনি প্রমাণকরলেন একটি সমরূপ গোলাকার বস্তুর ভেতরের প্রতিটি কণা যদি বাইরেরএকটি কণাকে মাধ্যাকর্ষণ বলের সূত্র অনুসারে আকর্ষণ করে তাহলে বাইরেরকণাটির ওপর যে বল কাজ করবে সেটি এমন হবে যেন গোলাকার বস্তুটির সমস্তভর তার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত।  বিচিত্র মানসিকতার জন্য কোনো মানুষই নিউটনকে সহজভাবে উপলব্ধি করতেপারেনি। হয়তো নিজেই নিজের বিশালতাকে সঠিকভাবে চিনতে পারেননি।অসাধারণ আবিষ্কারের পরও তিনি বাস্তব জীবনে ছিলেন অসুখী মানুষ।

এমনকিভালবাসার মানুষটিকেও আপন করে পান নি জীবনে।  প্রিন্সিপিয়া প্রকাশের পরই নিউটন সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে নামলেন। যখনদ্বিতীয় জেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাইলেন, তিনি তার সক্রিয়বিরোধী হয়ে উঠলেন। রাজপরিবারের উৎখাতের পর ১৬৯৪ সালে নতুনসংবিধান তৈরির জন্য যে কনভেনশন গড়ে উঠল, নিউটন তার সদস্য হলেন।  রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন নিউটন। ১৬৯০সালে কনভেনশনের পরিসমাপ্তি ঘটল, নিউটনের রাজনৈতিক জীবনেরওপরিসমাপ্তি ঘটল।  ১৭০৫ সালে রানী অ্যানি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন। রানীর পক্ষ থেকেনিউটনকে " নাইটহুড" উপাধিতে ভূষিত করা হলো। 

এই সময় ডিফারেন্সিয়ালক্যালকুলাস (Differential Calculus)-এর প্রথম আবিষ্কর্তা হিসেবে জার্মান দার্শনিকলিবনিজের (Leibniz) সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন।  ইংল্যান্ডের রয়্যালএকাডেমি জানতে পারে লিবনিজ Differential Calculus-এর আবিষ্কর্তা হিসেবেদাবি জানাচ্ছে। রয়্যাল একাডেমির সদস্যরা ক্রোধে ফেটে পড়ল। তাদেরসভাপতির কৃতিত্বকে এক বিদেশী চুরি করে নিজের নামে প্রচার করতে চাইছে।কারণ তারা বিশ্বাস করতেন নিউটনই প্রথম Calculus-এর সম্ভাবনা, তার অস্তিত্বসম্বন্ধে লিবনিজের কাছে বলেছিলেন। লিবনিজ একে উন্নত করেছে, সঠিকবিস্তৃতি দিয়েছে কিন্তু আবিষ্কার করেননি। 


১৭২৭সাল, নিউটন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন। চিকিৎসাতে কোনো সুফল পাওয়াগেল না। অবশেষে ২০ মার্চ মহাবিজ্ঞানী নিউটন তার প্রিয় অনন্ত বিশ্বপ্রকৃতিরবুকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেলেন। সাত দিন পর তাকে ওয়েস্ট মিনস্টারঅ্যাবিতে সমাধিস্থ করা হলো।  সমস্ত দেশ অবনত মস্তকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এইজ্ঞানতাপসকে।

যদিও নিজেকে তিনি কখনো পণ্ডিত বা জ্ঞানী ভাবেননি। মৃত্যুরঅল্প কিছুদিন আগে তিনি লিখেছিলেন,  "পৃথিবীর মানুষ আমাকে কী ভাবে জানি না কিন্তু নিজের সম্বন্ধে আমি মনে করিআমি একটা ছোট ছেলের মতো সাগরের তীরে খেলা করছি আর খুঁজে ফিরেছিসাধারণের চেয়ে সামান্য আলাদা পাথরের নুড়ি বা ঝিনুকের খোলা। সামনেআমার পড়ে রয়েছে অনাবিষ্কৃত বিশাল জ্ঞানের সাগর।"

0 Comments:

Post a Comment