পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Sunday, March 3, 2019

যেকোন একটা কাজেই সফলতা আসে

মরূভুমির কোন এক প্রান্তে বাস করত দুই বন্ধু রাম এবং সাম। তারা দুজনেই হাতের কাজে সারা গ্রাম জুড়ে সমাদ্রিত ছিল।কাঠ কেটে কেটে সুন্দর সুন্দর আকৃতি দেওয়াই ছিল তাদের কাজ। তারা বিভিন্ন ধরনের কাঠের পুতুল,খেলনা ইত্যাদি তৈরি করত। ।রাম ছিল খুবই কর্মঠ এবং সে তার ক্রতাদের সাথে সবসময় হাসি মুখে কথা বলত।

 তার পাশাপাশি সে তার ক্রেতাদের পণ্য যথসময়ে তাদের বাড়িতে পৌছে দিত।কিন্তু সাম ছিল তার বিপরীত। রাম সবসময় সামকে বলত কাজে মনোযগী হতে।আর যেকোন একটা কাজ করতে এবং ক্রেতাদের কাছে তা পৌছে দিতে। কিন্তু সাম ছিল একটু অন্য রকম। সে যদি পুতুল বানাতে শুরু করত সেটা সম্পন্ন না করেই অন্য কাজে আবার হাত দিত। যার করণে সে তার ক্রেতাদের পন্য সঠিক সময়ে পৌছাতে পারত না।

একদিন রামের দোকানে শহর থেকে এক সুন্দরি মেয়ে এলো । মেয়েটি রামের দোকানে  এসেই তার হাতের বানানো কাঠের হাতিটিকে পছন্দ করে এবং সে সেটা কিনতে চাই এবং রামকে হাতিটির দাম বলতে বলে। রাম বলল এর দাম ২টা সিলভার কয়েন।এর চেয়ে কমে সে দিতে পারবে না।। মেয়েটি হেসে উঠল। আসলে মেয়েটি তার কাজের জন্য আরো  বেশি মূল্য ভেবেছিল। মেয়েটি বলল এই কম মূল্য তোমার কাজের জন্য যথেষ্ঠ নয়। তোমার হাতের কাজের মূল্য এর চেয়ে বেশি। মরুভূমির অপর প্রান্তে  শহরে গিয়ে তুমি তোমার পণ্য গুলো বিক্রি করতে পারো এর চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে।

 রাম এতে রাজি হলো এবং সামকে তার পরিকল্পনার কথা জানালো। সাম রাজি হয়ে গেল এবং কিছু লোক নিয়ে পরের দিন তারা যাত্রা করল । শহরে পৌছাতে অনেক দিন লেগে যাবে তাই তারা তাদের সাথে সকল খাবার , ও পানি নিয়ে নিল। কিন্তু দূভাগ্য বশত সূর্যের তাপ আশানুরুপের চেয়েও বেশি হয়ে গেল।  কিছুদিনের মধ্যে তাদের কাছে থাকা সমস্ত পানি ফুরিয়ে গেল।তারা এক দুপুরে বসে পরিকল্পনা করতে থাকল যে তারা যদি পানির ব্যাবস্থা না করতে পারে তাহলে তারা সবাই এই মরুভূমিতে মারা যাাবে। তারা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল যে মরুভূমির কোন এক জায়গা বেছে নিয়ে সেখানে খনন করবে এবং পানির সন্ধান করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা খনন করতে থাকল। দীর্ঘক্ষণ খনন করার পরও পানি না পাওয়ার জন্য তারা একে একে সবাই তাদের আশা ছেড়ে দিতে থাকল। কিন্তু সাম হাল না ছেড়ে খনন করতে লাগল। কিছু পর তাদের একজন সাথী এসে তাকে বলল এখানে পানি পাওয়া যাবে না ।তুমি অন্য জায়গায় খনন করো।
                                               


 তার কথা মতো সাম অন্য জায়গায় খনন করতে লাগল। তার কিছুপর আর একজন্ এসে তাকে বলল অন্য জায়গায় খনন করতে  এভাবেই সে মরুভুমির অনেকটা জায়গা আলাদা আলাদা করে খনন করে নিল।। রাম তাকে বলল এ তুমি কি করছ। যদি এই ভাবে বিভিন্ন জায়গায় খনন না করে কোন এক জায়গাতেই মন খনন করতে তবে এতক্ষণে অবশ্যই পানির দেখা পেয়ে যেতে।

তাই সবাই মিলে আর একবার খনন করা শুরু করল শুধু মাত্র একই জায়গাই। এবার তারা পানির দেখা পেল আর সবাই তা পান করে খুশি মনে আবার তাদের যাত্রা পথ শুরু করল।

আমরাও আমাদের যাত্রা পথে কোন একটি কাজের অপর আমাদের সকল মনোযোগ দিতে পারি না। কোন একটা কাজ শুরু করলে তার কিছু সমস্যার কারণে আমরা আবার নতুন কাজে হাত দিই। এবং সেখানেও আমাদের সাথে একই রকম ঘটে। আমরা ভুলেই যাই যে এভাবে নিজের লক্ষ্যকে বার বার পরিবর্তন না করে একটা কাজে আমাদের সমস্ত মনোযোগ দিলে একদিন না একদিন আমরা আমাদের কাজে নিশ্চয় সফল হবো।

সর্বশেষে আমার পক্ষ থেকে একটা বাক্য:
১. আমরা সবাই সফল হতে চাই । কিন্তু কোন ধরনের কষ্ট ছাড়াই তা অর্জন করার মতো বোকামি বার বারই করে থাকি। মনে রেখ যতটা কষ্টে তুমি তোমার লক্ষ্যে পৌছাবে তার স্থায়ীত্বও ততটাই বেশি হবে।

0 Comments:

Post a Comment