পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Tuesday, March 5, 2019

জিবনের প্রকৃত আনন্দ কিভাবে পাবো?



একবার এক সুন্দর চেহারার এক সুন্দর মেয়ে খুবই পরিছন্ন পোশাকে এক খুবই সৎ সাধু ব্যাক্তির কাছে গেল। আর সে তার জীবনের বিভিন্ন দুঃখ কষ্টের কথা বলে কান্না করতে থাকল।সে বলল তার বেচেঁ থাকার সব আশা শেষ হয়ে গেছে।সে আর বেচেঁ থাকতে চাই না।

সাধক ব্যাক্তিটি তার কথা খুবই মনোযোগ দিয়ে শুনল আর একটু পরেই তার তার ঠোটের  কোণায় হাসির রেখা দেখা দিল।মেয়েটি সাধক ব্যাক্তিটিকে প্রশ্ন করল বাবা 
আমি আমার কষ্টের কথা বলছি আর আপনি হাসছেন।
তখন সাধকটি তাকে বলল ভেতরে এসো আমি তোমার সাথে কাউকে পরিচয় করাতে 
চাই। সাধকটি  মেয়েটিকে তার আশ্রমের কাজের মহিলাটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিল আর কাজের মেয়েটিকে বলল তুমি তোমার গল্প এই মেয়েটিকে বলো।
সে বলতে শুরু করল
—আমার জীবন গত বছর পযর্ন্ত খুব ভালোই চলছিল।। স্বামী,  আর চার বছরের একমাত্র ছেলেকে নিয়ে আমার সুখের সংসার ছিল। কিন্তু গত বছর হটাৎ করেই 
আমার স্বামী মারা যাই। আমি দিশেহারা হয়ে পড়ি।আমি আমার একমাত্র ছেলের  মধ্যে আমার বেচেঁ থাকার কারণ খুজে নিই।আর ছোট একটা চাকরি করতে থাকি।।কিন্তু এই সুখও আমার জীবনে বেশি দিন রইল না।আমার ছেলেটা একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে সড়ক র্দূঘটনায় মারা গেল। আমার শেষ আশার বাতিটিও নিভে গেল।আমি আমার বেচেঁ থাকার সব আশা হারিয়ে ফেললাম।নিজেকেই শেষ করে দেবার কথাও ভেবেছিলাম। 


আমি বুঝতে পারছিলাম না কি করব।বেশ কিছু দিন যাবার পর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমার চাকরি টা ছেড়ে দিব।আর বাকি জিবনটা আমার স্বামী আর সন্তানের স্মূতিকে
আকড়ে ধরে বেচেঁ থাকব।আর  আমি আমার অফিস থেকে ছুটি নিলাম।সেই দিন অফিস থেকে্ বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার মধ্যে বৃষ্টি শুরু হলো আমি দেখলাম একটা 
বেড়াল বৃষ্টিতে ভিজে শীতের জন্য কাপছে। বেড়ালটাকে দেখে আমার খুব মায়া হলো আমি আমি সেটাকে নিয়ে আমার বাড়িতে গেলাম। সেখানে আমি বেড়ালটির সারা শরীর মুছিয়ে দিলাম । তার শরীরে গরম কাপড় দিয়ে দিলাম। আর দুধ গরম  করে খাইয়ে দিলাম।বেড়ালটি সুস্থ হয়ে গেল আর আমার দৌড়ে  এসে আমার কোলের মাঝে শুয়ে পড়ল। এটা দেখে সেইদিন আমি র্দীঘদিন পর আমি আমার ঠোটের মাঝে হাসি খুজে পেলাম।

আমি চিন্তা করলাম যদি একটা বেড়ালকে সাহায্য করেই আমার মাঝে আমি এতটা খুশি খুজে পাই। তাহলে কতটা খুশি হব যদি আমি সেই সকল মানুষদেরকে সাহায্য 
করি যাদের প্রকৃতই সাহায্যের প্রয়োজন। যারা তাদের জীবন ধারনের জন্য এক মুঠো খাবারের জন্য যুদ্ধ করে চলেছে। যারা কিছু টাকার  অভাবে  অসুস্থ শরীরেই ধুকে ধুকে 
মরছে।আর আমি আমার সব কিছু দিয়ে গরিব দুঃখী মানুষদের সাহায্য করতে শুরু করলাম। আর বিশ্বাস করুন আমি আমার সবকিছু হারিয়েও আবার আমার মধ্যে বেচেঁ থাকার কারণ খুজে পেলাম। আর আজ আমি আপনার সামনে দাড়িয়ে আছি। আমার জীবনের সকল দুঃখ কষ্টকে ভুলতে পেরেছি শুধু মাত্র অন্যের দুঃখ কষ্টকে তার জীবন থেকে অপসারণের মাধ্যমে।

সেই মহিলাটি এতক্ষন গল্পটি খুবই মনোযোগ দিয়ে শুনছিল।আর ভাবল যে এই 
কাজের মহিলাটির দুঃখের কাছে তো তার দুঃখ গুলো কিছুই না। আর গল্পটি শোনার 
পর সে নিজের মধ্যে আরো একবার তার বেচেঁ থাকার কারণটি খুজে পেল। আর সাধক 
ব্যাক্তিটিকে মন থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে খুশি মনে বিদায় নিল। কারণ সে এখন জানি তাকে কি করতে হবে। সে আজ প্রকৃত খুশির ঠিকানা পেয়েছে।
আমরাও আমাদের জীবনের চলতি পথে নিজেদের দুঃখ কষ্ট গুলোকে এত বড় করে দেখি যে আমাদেরই  এমন মনে হতে শুরু করে যে পৃথীবিতে বুঝি আমি একাই এতটা দুঃখ কষ্টের মাঝে আছি।। কিন্তু আসলেই কি তা সত্য। একটু অন্যের দুঃখ গুলোকে অনুভব করলেই আমরা বুঝব  আমরা কত বড় ভুলের মধ্যে আছি।

(আপনার মতামতই আমাদের অনুপ্রেরণা)


0 Comments:

Post a Comment