পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Saturday, April 13, 2019

নির্জন দ্বীপ-- ৬ষ্ঠ পর্ব


রাজকুমারীর সাথে এদিকে মালীর ছেলের বেশ ভাব হল। দুজনাই দুজনকে খুব ভালবেশে ফেলল। মালির ছেলেটি রাজকুমারীর জন্য একটা সসুন্দর মাটির পুতুল এনেছিল। তাকে দিল আর বলল সে যদদি কোন দিন না থাকে তবে যেন রাজকুমারী পুতুলটিকে যন্তে রাখে। রকম কথাতে রাজকুমারীর খুব রাগ হল।

সে বলল তার যদি কিছু হয় তবে সেও বাচবে না। এভাবে রাজকুমারী রোজ বাগানে আসে আর তার সাথে বসে বসে সময় কাটাই। কোন এক দাসী মহারাজ কে এই খবরটা দিল। 

মহারাজ মালীর ছেলেকে তার লোকজন দিয়ে রাতে প্রচুর মার ধর করল। আর রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে বলল। এর পর অসুস্থ থাকার কারননে সে দুই দিন বাগানে যেতে পারল না। রাজকুমারী দুই দিনই তাকে না দেখে খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন। রাজকুমারী এক কর্মচারিকে পাঠালেন তার খবর আনার জন্য। কর্মচারিটি রাজার কাছে এসে সব বলে দিল। রাজকুমারীর বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হল। এদিকে মালীর ছেলেটি রাজকুমারীকে ছেড়ে কিছুতেই যাবে না এমনটি বলে দিল তার বাবাকে। তার বাবা অনেক বোঝালেন যে রাজকুমারী, তার সাথথে তুই কি করে ভালবাসা করতে পারিস।

ছেলেটি কিছুই শুনতে নারাজ। ছেলেটি রাজার লোকেরা এসে তার ঘর আটকে রাখল আর বলে গেলল যেন বাইরে না আসে যদি বাইরে আসে তবে তারা একে মেরে ফেলবে। রাজকুমারীর মন খারাপ। সারা ক্ষন ঘরের মধ্যে থাকে। বাইরে আসে না, আগের মত সবার সাথে কথা বলে না। আঠারো বছর পূর্ণ হতে কিছু দিন বাকি। রাজা রাজকুমারী কে নিয়ে ঘুরতে বেরবেন এমনটা বলে অন্দর মহলে প্রবেশ করলেন। 

সেখানে শুধু সোনা, হিরা, মণি মুক্তার ভান্ডার। রাজা মেয়েকে বললেন নাও যেই হারটি পছন্দ সেটিই তুমি নাও। রাজকুমারী তো হার নিয়ে তার মনের মানুষটি কে দিতে চাইছিল। তাকেই যখন তার বাবা দূরে পাঠিয়ে দিলেন তবে হার নিয়ে সে কি করবে। তবুও আসল কথা বাবাকে বুঝতে না দিয়ে সেখান থেকে একটা হার তুলে নিল রাজকুমারী। তার পর সেখান থেকে বের হলো। রাতে একা একা মনের মানুষটির কথা মনে করে চোখের জল ফেলাটা রাজকুমারীর প্রতিদিনের কাজ হলে পড়েছিল। 

এদিকে তান্ত্রিক তার ঙ্গান দারা জানতে পারল রাজা তার শর্ত ভঙ্গ করেছে। সে রাজকুমারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেছে। তান্ত্রিক ভেবেছিল সে রাজাকে তার শর্তের কথা মনে করিয়ে দিলে হইত রাজা ঠিক হয়ে যাবে। এদিকে মালীর ছেলেটি ঘরের দরজা ভেঙে রাজ প্রাসাদে চলে এল আর রাজকুমারীর নাম ধরে ডাকতে লাগল। রাজকুমারী ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরল আর পালিয়ে যাওয়ার কথথা বলল। তার কথা শুনে ছেলেটি রাজকুমারীকে নিয়ে পালিয়ে যেতে গেলে রাজপ্রাসাদের দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

রাজা তার লোকজন নিয়ে এল আর রাজকুমারী কে ধরে নিয়ে গিয়ে ঘরে বন্ধি করল। আর ছেলেটিকে ফেলে দিল কুয়ার ভেতরে। তার পর কুয়াতে লোক নামিয়ে রাজা ছেলেটিকে কুয়ার ভেতরে শিখল দিয়ে বেধে রাখল। রাজকুমারী এর ফলে অনেক কষ্ট পেল। সে ঘরের ভেতর পুতুলটা নিয়ে তার সাথে সব সময় কথা বলত। পুতুলটা বুকে নিয়ে ঘুমাত পর্যন্ত। 

দুই দিন সে তার খাবার দিতে আসা দাসীর কাছ থেকে জানল যে তার মনের মানুষটি কুয়াতে থেকে মারা গিয়াছে। খবরে রাজকুমারী আরো কষ্ট পেল। সেদিন রাতে পুতুলটির সাথে কথা বলতে যেন তার কথা আরো বেশি করে মনে পড়তে থাকে। তুমিই যখন নেই আমি আর বেচে থেকে কি করব। এমনটি ভেবে রাজকুমারী পুতুলটির সামনে দাড়িয়ে আত্মহত্যা করে। দিন রাতেই রাজকুমারীর আঠারো বছর পূর্ণ হওয়ার রাত ছিল। রাজকুমারী তো নেই তবুও শর্ত অনুযায়ী তান্ত্রিকের সব শক্তি এল রাজকুমারীর ভেতর প্রবেস করতে।

শক্তি এসে দেখল রাজকুমারী আর বেচে নেই। তবুও সেই শক্তি রাজকুমারী মৃত দেহের ভেতর প্রবেশ করে। আর রাজকুমারী হয়ে ওঠে এক শক্তিশালী আত্মা।সে বাইরে বেরিয়েই সে সব রাজকর্মচারী দের মারতে থাকে যারা তাকে তার মনের মানুষষটি থেকে আলাদা করে দিয়েছে। রাজা সকালে তার প্রজাদের কাছ থেকে সব কথা শুনে সেই তান্ত্রিককে ডেকে আনে আর এর সমাধান চাইল। কিন্তু তান্ত্রিকের আর কিছু করার ছিল না কারণ তার সব শক্তিতো রাজকুমারীর ভেতর প্রবেশ করেছে।

রাজা তখন অন্য এক তান্ত্রিকের কাছে গিয়য়ে এর বিধান জানতে চাইল। এদদিকে রাজকুমারীর আত্মা একের পর এক সবাইকে মারতে লাগল।এই তান্ত্রিক রাজার ক্ষতি চাইত।তাই সে কুয়ার চারিদিকে তাবিজ বেধে দিল।আর পবিত্র জল ছিটিয়ে দিল।যাতে করে রাজকুমারীর আত্মা ছেলেটির কাছে পৌছাতে পারে না। দূর থেকে জাদু করার ফলে এখন শুধু তার দেহ থেকে আত্মাকে আলাদা করেছে রাজকুমারীর আত্মা।

0 Comments:

Post a Comment