পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Saturday, April 27, 2019

জেনে নিই জাপানের খুটিনাটি


ইংরেজি শব্দ জাপান শব্দটি  এসেছে জাপানি নাম নিহন-এর আদি মান্ডারিন চীনা উচ্চারণ থেকে। জাপানি ভাষায় এই শব্দটির উচ্চারণ নিপ্পন জাপানি জাতি নিজেদের বলে নিহনজিন এবং নিজেদের ভাষাকে বলে নিহঙ্গ
মেইজি পুনঃপ্রতিষ্ঠা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত জাপানের পোষাকি নাম ছিল দাই নিপ্পন  বা মহান জাপান সাম্রাজ্য। বর্তমানে নিপ্পন-কোকু বা নিহন-কোকুনামদুটি রাষ্ট্রের পোষাকি নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

একটি চীনা দৃষ্টিকোণ থেকে, সূর্য জাপান থেকে ওঠে। এখান থেকেই জাপানের জনপ্রিয় পাশ্চাত্য বর্ণনা "সূর্যোদয়ের দেশ" ধারণাটি এসেছে।"নিহন" শব্দটির আনুষ্ঠানিক ব্যবহার শুরু হওয়ার আগে জাপান ওয়া বা ওয়াকোকু  নামে পরিচিত ছিল।
জাপানের ইংরেজি নামটি প্রাচীন বাণিজ্যপথ ধরে পাশ্চাত্যে পৌঁছেছিল। প্রাচীন মান্ডারিন বা সম্ভবত আদি ওয়ু চীনা ভাষায় জাপান শব্দের যে উচ্চারণটি মার্কো পোলো নথিভুক্ত করেছিলেন, সেটি হল সিপ্যাঙ্গু (Cipangu)

১৬শ শতাব্দীতে মালাক্কায় মালয় শব্দটির সঙ্গে প্রথমে পর্তুগিজ বণিকরা পরিচিত হন। ইংরেজি ভাষায় এই শব্দটির একটি পুরনো উল্লেখ পাওয়া যায় ১৫৬৫ সালে লেখা একটি চিঠিতে। সেই চিঠিতে এই শব্দটির বানান ছিল জিয়াপান (Giapan)

 বৈদেশিক সম্পর্ক সামরিক বাহিনী:

নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারক জেডিএস কঙ্গো (ডিডিজি-১৭৩) একটি স্যান্ডার্ড মিশাইল অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে, ২০০৭।২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়াএবং ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে ভারতের সঙ্গে জাপান নিরাপত্তা চুক্তি সাক্ষর করেছে। জাপান অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্সের পঞ্চম বৃহত্তম দাতা। ২০১৪ সালে জাপান এতে . বিলিয়ন মার্কিন ডলার দান করেছিল।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-জাপান নিরাপত্তা জোট দেশের বিদেশনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।১৯৫৬ সাল থেকে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য হিসেবে জাপান মোট ২০ বছরের মেয়াদে রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে বিশেষ বিশেষ অঞ্চলের অধিকার নিয়ে জাপানের বিবাদ রয়েছে। দক্ষিণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দখল নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে, লিয়ানকোর্ট রকসের দখল নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে, সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের দখল নিয়ে চীন তাইওয়ানের সঙ্গে এবং ওকিনোতোরিশিমার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দখল নিয়ে চীনের সঙ্গে জাপানের বিবাদ রয়েছে।

জাপানের সামরিক বাজেট বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম। ইরাক যুদ্ধের সময় জাপান -প্রতিদ্বন্দ্বী বাহিনী পাঠিয়েছিল। কিন্তু পরে তা প্রত্যাহারও করে নেয়।জাপানের সামুদ্রিক আত্মরক্ষী বাহিনী (জেএমএসডিএফ) হল আরআইএমপিএসি মেরিটাইম এক্সারসাইজে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী একটি বাহিনী।
জাপানের সংবিধানের নং ধারা জাপানের সামরিক বাহিনীকে (জাপান আত্মরক্ষী বাহিনী) যুদ্ধ ঘোষণা বা আন্তর্জাতিক বিবাদে সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। জাপান আত্মরক্ষী বাহিনী এমন একটি বাহিনী যা জাপানের বাইরে কখনও গুলি চালায়নি।প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই বাহিনী পরিচালনা করে।
২০১৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শিনযো আবে বলেছেন, জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে চলতে থাকা নেতিবাচক মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে চায় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আরও দায়িত্ব গ্রহণ করতে চায়। তিনি বলেছেন যে, জাপান প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করতে চায়। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলির দিকে জাপানের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। দেশটির সঙ্গে অন্যান্য দেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই দেশের পাসপোর্টে ১২২টি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়, যা পাসপোর্ট শক্তি সূচকে ৪র্থ স্থানে রয়েছে।

আত্মহত্যা প্রবণ দেশ জাপান:


জাপানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ীগত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিশু আত্মহত্যা করেছে গত বছরে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রাথমিক থেকে হাইস্কুলের ২৫০ জন শিশু আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। আত্মহত্যার আগে ঐসব শিশুরা যেসব সমস্যার কথা জানিয়েছিল তার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সমস্যাভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং বন্ধুদের কাছ থেকে অবজ্ঞা বা তাচ্ছিল্য পূর্ণ ব্যবহার।
তবে স্কুলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এসব ঘটনার ১৪০টিরই সঠিক কারণ তারা জানে না কারণ সেসব ক্ষেত্রে শিশুরা আত্মহত্যার আগে কোনো নোট রেখে যায়নি। আত্মহত্যা করা অধিকাংশ শিশুই হাই স্কুলের শিক্ষার্থী। ১৮ বছরের কম বয়সী জাপানি শিক্ষার্থীরা সাধারণত এসব স্কুলে পড়ে। ২০০৩ সালে জাপানে মোট আত্মহত্যার ঘটনা ছিল ৩৪ হাজার ৫০০টিযা কমে ২১ হাজারে নেমে আসে ২০১৭ সালে।

২০১৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জাপানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ জন মানুষ আত্মহত্যা করে।😔


বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে তুলনা করলে দক্ষিণ কোরিয়া বাদে অন্য কোনো দেশে আত্মহত্যার হার এত ব্যাপক নয়। টোকিও' টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ওয়াতুরু নিশিদা বলেন, "বিষণ্ণতা এবং আত্মহত্যার অন্যতম প্রধান কারণ বিচ্ছিন্নতা বা একা থাকার প্রবণতা।""জাপানে একসময় বৃদ্ধ অভিভাবকদের দেখাশোনা করতো তাদের সন্তানরাতবে বর্তমানে সেরকমটা হয় না বললেই চলে। বৃদ্ধাশ্রম বা হাসপাতালে একাকী মৃত্যুবরণের ঘটনা দিন দিন বাড়ছেই।" জাপানে যে শুধু নি:সঙ্গ বৃদ্ধরাই আত্মহত্যার পথ বেছে নেনতা নয়। আত্মহত্যা করা মানুষের বয়স যাচাই করলে দেখা যায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আত্মহত্যাকারী ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী পুরুষ।

এসব আত্মহত্যার ঘটনা যাচাই করলে দেখা যায় যে তারা জীবন নিয়ে হতাশ ছিলেন এবং কারো কাছে সাহায্য চাইতে অপারগ ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতেজাপানে 'অনিশ্চিত চাকরি' সংখ্যা বা তরুণদের স্বল্প মেয়াদী চুক্তিতে চাকরি দেয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে।


জলবায়ু

জাপানের জলবায়ু প্রধানত নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণে জলবায়ুর মধ্যে বিরাট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। জাপানের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যগুলি ছয়টি প্রধান জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে বিভাজিত হয়েছে।এখানে ভারি বৃষ্টিপাত দেখা যায় না। তবে শীতকালে দ্বীপগুলি গভীর তুষারের চাদরে আচ্ছাদিত হয়ে যায়।

জৈববৈচিত্র:

জাপানে নয়টি বনাঞ্চলীয় পরিবেশ অঞ্চল রয়েছে। এগুলিতে দ্বীপপুঞ্জের জলবায়ু ভূগোল প্রতিফলিত হয়। র্যু ক্যু বোনিন দ্বীপপুঞ্জে দেখা যায় ক্রান্তীয় আর্দ্র দীর্ঘপত্রী বন। প্রধান দ্বীপপুঞ্জের মনোরম জলবায়ু অঞ্চলে দেখা যায় নাতিশীতোষ্ণ দীর্ঘপত্রী মিশ্র বন। উত্তরের দ্বীপপুঞ্জগুলিতে শীতল অঞ্চলগুলিতে দেখা যায় নাতিশীতোষ্ণ সরলবর্গীয় বন।জাপানে বন্যপ্রাণীর ৯০,০০০ প্রজাতি দেখা যায়। এগুলির মধ্যে বাদামি ভাল্লুক, জাপানি ম্যাকাক,  জাপানি জায়েন্ট স্যালাম্যান্ডার উল্লেখযোগ্য। জাপানের গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ বন্যপ্রাণীগুলিকে রক্ষা করার জন্য জাপানে অনেকগুলি জাতীয় উদ্যান স্থাপিত হয়েছে। সেই সঙ্গে এই দেশে ৩৭টি রামসর জলাভূমিও রয়েছে।


রপ্তানি

টোকিওয় উৎপাদিত একটি প্লাগ-ইন সংকর যান। টোকিও বিশ্বের বৃহত্তম গাড়িবাজারগুলির অন্যতম। জাপান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গাড়ি উৎপাদক রাষ্ট্র।
জাপানের শিল্পক্ষমতা বৃহৎ। এই দেশ বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তিগত দিক থেকে অগ্রণী মোটরগাড়ি, ইলেকট্রনিকস, যন্ত্রাংশ, ইস্পাত অলৌহঘটিত ধাতু, জাহাক, রাসায়নিক দ্রব্য, বস্ত্র, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প কেন্দ্রগুলির অন্যতম। জাপানে কৃষি ব্যবসা দেশের জমির ১৩% ব্যবহার করে। এদেশের মৎস্যচাষ সারা বিশ্বের মৎস্যচাষের প্রায় ১৫শতাংশ, যা চীনের পরে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী।২০১০ সালের হিসেব অনুসারে, জাপানে শ্রমিক সংখ্যা ৬৫. মিলিয়ন।জাপানে বেকারত্বের হার বেশ কমপ্রায় % ২০০৭ সালের হিসেব অনুযায়ী, জাপানে প্রায় ২০ মিলিয়ন লোক (জনসংখ্যার প্রায় ১৭%) দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ২০০৫ সালের হিসেব অনুযায়ী, জাপানের মাথাপিছু রফতানির আয় ,২১০ মার্কিন ডলার।

    যানবাহন

টোকিও স্টেশনে শিনকানসেন, জাপানের দ্রুততম এবং বিশ্বের অন্যতম দ্রুত ট্রেন।
জাপানের পরিবহন ব্যবস্থা অত্যাধুনিক এবং পরিবহন অবকাঠামো ব্যয়বহুল। জাপানে সড়ক নির্মাণে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়।সমগ্র দেশব্যাপী বিস্তৃত . মিলিয়ন কিলোমিটারের পাকারাস্তা জাপানের প্রধান পরিবহন ব্যবস্থা।জাপানে বামহাতি ট্রাফিক পদ্ধতি প্রচলিত। বড় শহরে যাতায়াতের জন্য নির্মিত সড়কসমূহ ব্যবহারের জন্য সাধারণত টোল নেয়া হয়। 

জাপানে ১৭৩টি বিমানবন্দর রয়েছে। সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হল হানেদা বিমানবন্দর, এটি এশিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ততম বিমানবন্দর। জাপানের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলনারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

জনসংখ্যা, জন্ম মৃত্যহার
২০০৮ সালে জাপানের জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৭ লক্ষ, ফলে জাপান বিশ্বের ১০ম জনবহুল দেশ। ১৯শ শতকের শেষ দিকে এবং ২০শ শতকের শুরুর দিকে জাপানে জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। তবে সম্প্রতি জন্মহারের পতন এবং বিদেশ থেকে নীট অভিবাসন মোটামুটি শূন্যের কোঠায় হওয়াতে অতি সম্প্রতি, ২০০৫ সাল থেকে, জাপানের জনসংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করেছে। জাপানের জনগণ জাতিগতভাবে একই রকম, এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি এবং গড় আয়ু ৮১ বছরের কিছু বেশি, যা পৃথিবীর সর্বোচ্চগুলির একটি।

২০২৫ সাল নাগাদ ৬৫ থেকে ৮৫ বছর বয়সবিশিষ্ট নাগরিকের অংশ % থেকে ১৫%- উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপান মূলত একটি নগরভিত্তিক রাষ্ট্র। মোট জনসংখ্যার মাত্র % কৃষিকাজে নিয়োজিত। বহু কৃষক কৃষিকাজের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী শরহগুলিতে অতিরিক্ত কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শহুরে জনসংখ্যার প্রায় কোটি হনশু দ্বীপের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে এবং কিয়ুশু দ্বীপের উত্তরাংশে বসবাস করে।


















0 Comments:

Post a Comment