পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Thursday, April 11, 2019

নির্জন দ্বীপ-- ৫ম পর্ব


জয়ার এমন চেহারা দেখে আলভি জয়াকে প্রশ্ন করল " তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?" জয়া কান্না জড়ানো কন্ঠে উত্তর দিল " আলভি তুমি রাজেন কে কোথায় রেখে এসেছ। তুমি তো রাজেন কে ছাড়া একটা সময়ও থাকতে পারতে না।

" আলভি ভয় পেল যে তবে কি সোহেল জয়াবে সব বলে দিয়েছে।



জয়ার পেছনে সোহেল দাড়িয়ে ছিল। তাকে ইশারা করতেই সে বলে যে সে কিছু বলেনি। এবার মনের কষ্ট টাকে চাপা দিয়ে আলভি জয়াকে বলল" চল তোমাকে রাজেনের সাথে দেখা করিয়ে নিয়ে আসি।" জয়া এবার বেশ খুসি হল। 
তবুও যন্ত্রপাতি এক জায়াগায় গুছিয়ে বেধে রাখা হল। সবাই আবার চলল সেই গুহার দিকে। জয়াকে নিয়ে একটু ভয় হচ্ছে। আবার জয়াকে ছাড়তেও ইচ্ছে করছে না আলভির। যা হোক এবার থেকেই ভয়ের শুরু হল। আলভি নিজের প্লান টা সবাই কে বলল।কিন্তু জয়া আলভির কথার কিছুই বুঝল না। 
"আলভি এসব কি বলছ আমরা কোথায় যাচ্ছি? আর তুমিই বা কোন গুহার কথা বলছ? " অল্প কথায় জয়াকে বুঝিয়ে আবার হাটা শুরু করল তারা। এবার ভেতরে প্রবেশের পূর্বে সোহেল বৃদ্ধকে উঠিয়ে সাথে নিল।
এটাও আলভির প্লানের একটা অংশ ছিল। যেখানে মানুষের হাড় গুলা রাখা ছিল সেখানটা একবার দেখে নিল আলভি। ভেবেছিল সেখানে রাজেনকে হইত পাবে। ভেতরে প্রবেশ করল সবাই। আলভি সবার থেকে আলাদা হয়ে হাটতে লাগল কুয়ার দিকে। বৃদ্ধটি তখন চিৎকার দিয়ে উঠল কেউ যাবেনা ওখানে। কুয়ার কাছে যাবে না। 
বৃদ্ধের কথা শুনে যেন হুশ ফিরে পেল আলভি। একি সে সবার থেকে আলাদা হয়ে কুয়ার কাছে চলে এসেছে। সবাই তো তার থেকে দূরে। ফিরে এসে আলভি বলল" তার এমন মনে হচ্ছিল যেন ওখান থেকে কেউ তাকে ডাকছে। তাই সে ওদিকে যাচ্ছিল" বৃদ্ধটি বলতে লাগল " সে এসে গেছে, সে কাউকে ছাড়বে না, তোমরা ফিরে যাও, এখনও সময় আছে ফিরে যাও" এই কথা গুলো শোনার পর সোহেল নিজেকে আর সামলাতে পারল না সে রেগে গিয়ে বলল" কে সে? তার এত শক্তি তবে সামনে কেন আসছে না?

আলভি সোহেল কে সামলে নিয়ে বৃদ্ধটি কে সম্মান দিয়ে বলল " চাচা এই গুহাতে আমার এক বন্ধুকে হারিয়েছি। আমি তাকে ফিরিয়ে নিতে এসেছি আপনি বলেন সে কোথায়? আর তাকে কে নিয়ে গেছে" আলভির কথা শুনে পেছন থেকে নিরবে চোখের জল ফেলল জয়া। হইত আলভি সেটা বুঝতে পেরেছিল। " দেখতে চাও তাকে তবে এসো " বৃদ্ধটি বলেই একটা ঘরের ভেতর প্রবেশ করল। ঘরটিতে মাকড়শার জালে ভর্তি ছিল। 
আর দেওয়ালে সাদা ফ্রেমের মধ্যে একটা মেয়ের ছবি। আলভি ছবিটাকে হাতে নিয়ে তার উপর থেকে ময়লা মুছে দিয়ে বলল " বাহ দেখতে তো দারুন মেয়েটা। এই মেয়েটাই কি তবে?" আলভির মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বৃদ্ধ বলল " এই মেয়েটি নয়, এসব তো করছে এর অতৃপ্ত আত্মা" সোহেল প্রশ্ন করল " মেয়েটির আত্মা অতৃপ্ত কেন?" তখন বৃদ্ধটি বলল " সে আজ থেকে ২০০ বছর আগের কথা।

" সোহেল কিছু বলবে এমনটি বুঝে আলভি সোহেলকে চুপ থাকতে বলল। " আমাদের রাজ্যে রাজা, রাণী প্রজা সবাই মিলে খুব সুখেই দিন কাটত। রাজ্যে কোন অন্যায় হত না। সুখের দিন ছিল সবার। কিন্ত আমাদের রাজার একটা কষ্ট ছিল। তার কোন সন্তান ছিল না। এক দিন এক দাসী,রাণী মাকে খবর দিল যে আমাদের রাজ্যে একটা তান্ত্রিক আছে যে সব কিছু করতে পারবে। রাণী মা দাসীর কথা শুনে রাজার সাথে গেলেন তান্ত্রিকের কাছে।
তান্ত্রিকের সব কিছুই ভাল ছিল। এমনকি কোন পাপও ছিল না। তবে এই তান্ত্রিকের একটাই সমস্যা ছিল আর তা হল সে খুব সোনার ভক্ত ছিল। তার ভান্ডারে সোনার.কোন অভাব ছিল না। সে রাজাকে বলল তোমার একটা মেয়ে সন্তান হবে। তবে একটা শর্ত আছে মেয়েটির ১৮ বছর পূর্ণ হতেই তান্ত্রিকের সব শক্তি মেয়েটার মধ্যে প্রবশ করবে। আর মেয়েটাকে তাকে দিয়ে দিতে হবে। আর এই ১৮ বছরে মেয়েটার সব ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। রাজা কিছু মাত্র বিবেচনা না করে তান্ত্রিকের শর্তে রাজি হয়ে গেল।

ফিরে এসে কিছু দিনন পর থেকেই রাণী মা নিজের পরিবর্তন বুঝল। রাজ ডাক্তার বলল রাণী মাতা মা হতে চলেছেন। রাজ্য জুড়ে আনন্দ বয়ে গেল। রাজা রাজ্যের সকলের খাওয়ানোর ব্যাবস্থা করলেন। অবশেষে সেই দিন এল আর রাণী মাতা মা হলেন। রাজা তান্ত্রিকে ধন্যবাদ জানাতে গেল তার কাছে। ফিরে আসার সময় তান্ত্রিক রাজাকে শর্তেের কথা মনে করিয়ে দিল।

রাজা বাড়ি ফিরে এল। ধীরে ধীরে রাজকুমারী বড় হতে থাকে। তার রূপে গুণে সারা রাজ্যের লোক মুগ্ধ ছিল। একটা ছেলে ছিল যে রাজকুমারীর রূপে একটু বেশিই মুগ্ধ ছিল। সে ছিল আমাদের মালীর ছেলে। সেও ফুল বাগানে কাজ করত। রাজকুমারী রোজ বিকেলে বাগানে হাটতে যেত।আর ছেলেটা তাকে সারা বাগান ঘুরিয়ে দেখাত। রাজকুমারীর ১৭ বছর পূর্ণ যখন হল তখন সে বাবার কাছে একটা সোনার হার চাইল।
আর এমন কি কথা ভেবে রাজা বলল ঠিক আছে। কিন্তু মোড়টা একটু অন্য রকম নিল সে বললআমি পছন্দ করে নেব হারটা। রাজা পড়লেন চিন্তাই মেয়েকে নিয়ে যেতে হবে তার সোনার ভান্ডারে যেটা কোথায় আছে শুধু মাত্র সেই জানত। কিন্তু মেয়ের কথাতে না করতে পারলেন না তিনি।

0 Comments:

Post a Comment