পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Saturday, April 13, 2019

নির্জন দ্বীপ-- শেষ পর্ব


বৃদ্ধের কথা শেষ না হতেই পাশের ঘর থেকে এক ভয়ংকর চিৎকার শোনা গেল।সবাই তাড়াতাড়ি এবার সেই ঘরে প্রবেশ করল। ভেতরে দেখল সোহেল অঙ্গান হয়ে পড়ে আছে।
আলভি ভাবল সোহেল ঘরে কখন এল। সেও তো তাদের সাথে বৃদ্ধের কথা শুনছিল। এবার সবাই মিলে সোহেলকে ধরে পাশের বিছানায় শোয়াল। চোখে মুখে পানি দিয়ে সোহেলের ঙ্গান ফিরিয়ে আনল।



আলভি : সোহেল তুমি ঘরে কখন এলে?
সোহেল: যখন সবাই কথা শুনছিলাম। তখন আমি ঘর থেকে কিছু একটার আওয়াজ শুনি। আমি সেটা কিসের আওয়াজ দেখতেই ঘরে এসেছিলাম।
জয়া : কিছু দেখেছিলে কি? আর তুমি ঙ্গান হারালে কেন?

সোহেল বলতে লাগল ঘরে যখন ঘুমলাম তখন এঘরে কিছুই ছিল না। আমি টেবিলের উপর পুতুল টাকে দেখলাম আর ওটা ধরে দেখতেই সারা ঘরটা অন্ধকার হয়ে গেল। একটা আলোর ঝলক এল ঘরে আর সেই সেথে রাজকুমারীর আত্মা। কি ভয়ংকর চেহারা। তার নখ গুলা ছিল বড় বড়। 

আলভি বলল এতে অবাক হওয়ার কি আছে। সোহেল উত্তর দিল ওর নখ গুলো নীল রঙের ছিল। চুল গুলা ছিল খুব সাদা। আর চোখ দিয়ে যেন আগুন বেরোচ্ছিল।আমি ওর দিকে তাকাতেই আমাকে আক্রমন করে আর প্রচন্ড ভাবে চিৎকার করে ওঠে। আলভি দেখল আক্রমন করলেও সোহেল তো অক্ষত আছে। রাজকুমারীর আত্মা তো সোহেলের কোন ক্ষতি করে নি। তবে কেন এমন করল। আলভি এবার পুতুলটির দিকে দেখল।পুতুলটি মাটিতে পড়ে আছে। কাছে গিয়ে পুতুল টিকে তুলে নিল আলভি। অনেক আগেকার হলেও পুতুলটি দেখতে খুব সুন্দর। বৃদ্ধটি বলল এটাই সেই পুতুল।

আলভি : রাজকুমারী সোহেলের কোন ক্ষতি করল না কেন?
আলভির প্রশ্নে একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল বৃদ্ধ সে বিষয়টি এড়াবার চেষ্টা করলে আলভি আবার একই প্রশ্ন তাকে করল।

বৃদ্ধ: এর আগে তোমরা যে লাশ গুলো দেখেছ তারা এসেছিল সেই মণি মুক্তার খোজে। তাই রাজকুমারী তাদেরকে মেরে ফেলেছে।
বৃদ্ধের কথা শেষ না হতেই আলভি ঘর থেকে বেরিয়ে এক দৌড় দিল। কেউ আলভির এই আচরনের হদিস পেল না। তাই অন্যরাও আলভির পেছনে দৌড়াতে থাকে। আলভি এক দৌড়ে কুয়ার কাছে এসে কুয়ার ভেতরে বন্দি থাকা মালীর ছেলে আরো একবার খুব ভাল করে দেখল।সবাই দুরে দাড়িয়ে আছে। আলভী ফিরে গেল তাদের কাছে। আলভীর চোখের ভাষা অন্যদের বুঝতে কষ্ট হলেও সোহেলের বুঝতে কষ্ট হল না। আলভী বুঝল সোহেল ঠিক অনুমান করেছে। তাই বলল হ্যা সোহেল তুমি ঠিকই ধরেছ। এবার। আমাদের কাজ কি সেটা তো বুঝতেই পেরেছ।অন্যরা কিছুই বুঝল না।

সবাইকে আলভী বলল রাজেন কে খুজে বের করতে সে এই প্রাসাদেই আছে। দুইটা দলে ভাগ হয়ে তারা রাজেনকে খুজতে লাগল।রাজেনকে খুজতে গিয়ে আলভি পেল একটা নতুন দরজা যেটা খুলতেই সে দেখল রাস্তটা মাটির ভেতর প্রবেশ করছে। সে রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করতেই পৌছে গেল এক কক্ষে। কক্ষে প্রবেশ করতেই সে অবাক হয়ে চেয়ে রইল এত সোনা, মণি,মুক্তাও কোন রাজ্যে থাকতে পারে। 

সবকিছু দেখতে দেখতে আরো ভেতরে গিয়ে একটা সুন্দর বিছানায় সে দেখল রাজেনের অঙ্গান দেহ। সে গিয়েই রাজেনের দেহটাকে কোলে তুলে নিল। রাজেনকে ঙ্গান ফিরিয়ে সাথে নিয়ে বাইরে এল রাজেন। সবাইকে এক জায়গাতে নিয়ে আবার বসল রাজেন।
জয়া : আলভি তুমি কি করে বুঝলে যে রাজেন বেচে আছে।

আলভি: লোকটা যখন বলল যে রাজকুমারী তাদেরকে হত্যা করেছে যারা কেবল মুক্তার খোজে এসেছিল। আর আমরা তো এমন চিন্তাও করি নি। তবে রাজেনকে কেন রাজকুমারী নিয়ে গেল।এই প্রশ্নের উত্তর খুজতেই কুয়ার কাছে গেছিলাম।

সোহেল: কুয়াতে যে মালীর ছেলেকে বেধে রাখা আছে তাকে দেখতে রাজেনের মত।কি ঠিক বললাম তো আলভী।
আলভী : হ্যা ঠিক এমনটাই। তাই তো আমি বলেছিলাম রাজেন বেচে আছে।
রাজেন: তবে আর কি এখন এখান থেকে বেরোনো যাক। আলভি বলল না এখনও তো অনেক কাজ বাকি।

0 Comments:

Post a Comment