পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Wednesday, May 1, 2019

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (কিছু অজানা তথ্য)


ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দোপাধ্যায়। মা ভগবতী সেই কুসংস্কারাচ্ছন্ন যুগেও ছিলেন আধুনিক চিন্তার অধিকারিণী। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন একাধিক গুণের অধীকারি। মনীষী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছেলেবেলা কেটেছে কঠোর দারিদ্র্যর মধ্যে।

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পিতা ঠাকুরদাসকে অল্পবয়সেই বীরসিংহ গ্রাম ছেড়ে অর্থ উপার্জনের জন্য কলকাতায় যেতে হয়। সেখানে নামমাত্র বেতনে এক ব্যবসায়ীর খাতা লেখার কাজে নিযুক্ত হন। কালক্রমে ঠাকুরদাস বন্দোপাধ্যায় তার সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন তার সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, অধ্যবসায় স্বাধীনচেতা মনোভাবের দ্বারা।

    পিতার ঐসব গুণ পরবর্তীকালে পুত্র ঈশ্বরচন্দ্রের মধ্যেও পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হয়েছিল। কঠোর দারিদ্রের মধ্যে মানুষ হলেও ঈশ্বরচন্দ্রের মনোবল ছিল অসীম এবং দৃঢ়। তিনি গ্রামের প্রাথমিক স্কুলে পড়াশুনায় নিয়মানুবর্তিতায় কখনো অমনোযোগী হননি।


তিনি গ্রামের পাঠশালার পড়াশুনা শেষ করে মাত্র আট বছর বয়সে গ্রামের বাড়ি থেকে পিতার সঙ্গে পায়ে হেঁটে কোলকাতায় এসেছিলেন। ঈশ্বরচন্দ্র বাবার সঙ্গে কলকাতার বড়বাজার অঞ্চলে ভাগবত সিংহের বাড়িতে বাস করতে থাকেন এবং শিবচরণ মল্লিকের বাড়ির পাঠশালায় একবছর পড়াশুনা করেন। 

তারপর ১৮২৯ সালের জুন তিনি কলকাতার সরকারি সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন। অপরিসীম অধ্যবসায় নিষ্ঠার সঙ্গে পড়াশুনা করে তিনি স্কুলের পরীক্ষায় কৃতিত্বের পরিচয় দেন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর  কিছু অজানা গুরুত্বর্পূণ তথ্য:

১. শিক্ষা জিবনের প্রথম অংশে তিনি মাসিক পাঁচ টাকা বৃত্তিও লাভ করেন।

২. তেলের অভাবে ঘরে আলো জ্বালাতে পারতেন  না বলে পথের পাশে জ্বালানো গ্যাসের বাতির নিচে দাঁড়িয়ে পড়াশোনা করতেন। তিনি গভীর রাত পর্যন্ত এভাবেই পথের পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন পড়া তৈরি করতেন।

৩. সাহিত্য শ্রেণীতে তিনি কৃতী শিক্ষক জয়গোপাল তর্কালঙ্কারের কাছে শিক্ষালাভ করেন।

৪. ১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিদ্যাসাগর বিয়ে করেন।

৫. ১৮৪৬ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যাসাগর শিক্ষা ব্যবসথার উন্নতি বিধানে একটি মূল্যবান রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেন। বিষয়ে সেক্রেটারী রসময় দত্তের সাথে তাঁর মতবিরোধ দেখা দেয়। এই মতবিরোধের কারণেই তিনি সংস্কৃত কলেজ থেকে পদত্যাগ করে ১৮৪৭ সালের ১৬ জুলাই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে প্রত্যাবর্তন করেন।

৬.     ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে দেশীয় কয়েকজন ধনী শিক্ষিত  লোকের সহায়তায় এবং বেথুন সাহেবের উদ্যোগে কোলকাতায় স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের সূত্রপাত হয়। ছোটলাট ফ্রেডারিক হ্যালিডে সাহেবের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি মেদিনীপুর, বর্ধমান, হুগলি এবং নদীয়া জেলায় নানাস্থানে অনেকগুলো বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করে স্ত্রীশিক্ষা প্রসারে অবদান রাখেন।

৭. বিদ্যাসাগর তাঁর মাকে দেবীর মত শ্রদ্ধা করতেন। তিনি অকাতরে মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতেন। গ্রামের দাতব্য চিকিৎসালয় বিদ্যালয়গুলো মায়ের ইচ্ছানুসারেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিদ্যাসাগরের মাতৃভক্তির গল্প এদেশে অনেকটা কিংবদন্তীর মত প্রচারিত।

     ৮.বিদ্যাসাগর সহজ সরল জীবনযাপন করতেন। সাদাসিদে পোশাকে গায়ে মোটা চাদর এবং চটিজুতা ছিল তাঁর একমাত্র পরিচ্ছদ।

৯. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সম্বন্ধে বলেছেন তিনি হিন্দু ছিলেন না, বাঙ্গালী বা ব্রাহ্মণ ছিলেন না, ছিলেনমানুষ

১০. ডঃ সুকুমার সেন বলেছেন বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্যের চল ছিল, চাল ছিল না।

১১.     ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সম্পর্কে মহাত্মা গান্ধী বলেছেন আমি যে দরিদ্র বাঙ্গালী ব্রাহ্মণকে শ্রদ্ধা করি তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

জানা যায়, ছোট ভাইয়ের বিয়ের চিঠি পেয়ে মাতৃ আদেশ পেয়ে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যক্ষ মার্শাল সাহেবের কাছ থেকে ছুটি চাইলেন বাড়ী যাবার জন্য। ইংরেজ অধ্যক্ষ ছুটি দিতে না চাইলে তিনি চাকুরী ছেড়ে দেবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন মাতৃ আদেশ অমান্য করা অসম্ভব বলে। পরে ছুটি পেলে রাত্রেই বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। পথে প্রমত্তা দামোদর নদী। আবহাওয়া খারাপ থাকায় নদী পারাপারের জন্য কোন নৌকা পাওয়া গেল না। তখন তিনি নদী সাঁতরিয়ে বাড়িতে এসে পৌঁছালেন।



১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিদ্যাসাগর বিয়ে করেন। সে সময় অবশ্য সবার অল্পবয়সেই সবার বিয়ে দেওয়া হত। স্বাবলম্বী বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার প্রশ্ন ছিল না। বিদ্যাসাগরের স্ত্রীর নাম ছিল দিনময়ী দেবী।

   
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দে ২১ ডিসেম্বর একুশ বছর বয়সে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি সময়ে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগে হেড পণ্ডিতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি একই সাথে বিদ্যালয় পরিদর্শকের দায়িত্বও পালন করতেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পক্ষে এত অল্পবয়সে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করা সম্ভব ছিল না।

বিদ্যাসাগর ১৮৩৯ খ্রিঃ হিন্দু কমিটির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাঁরবিদ্যাসাগরউপাধিটি পরীক্ষার শেষে প্রশংসা পত্রে তাঁর নামের আগে ব্যবহার করা হয়।বিদ্যাসাগরউপাধি তাঁর জন্য যথার্থই ছিল। বিদ্যার সাগর, জ্ঞানের সাগর, দয়ার সাগর, করুণার সাগর, মানবতার সাগর, প্রগতিশীলতার সাগর, বিবেকের সাগর, সব বিশেষণই তার ক্ষেত্রে যথাযথ বিদ্যাসাগর যখন সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করেন তখন তাঁর বয়স কঠিন পরিশ্রমজনিত কারণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ে। শেষজীবনে তিনি বিহারের অন্তর্গত কর্মাটারে কাটান। সাঁওতালদের অনাড়ম্বর জীবনযাত্রা তাঁকে মুগ্ধ করে। তিনি তাদের অবহেলিত অবস্থা দেখে তাদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

এই মহামতি বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই ৭১ বছর বয়সে পরলোকগমণ করেন


0 Comments:

Post a Comment