পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Saturday, May 11, 2019

পানামা(ছোট্ট সুন্দর দেশ)


মূল পানামা সিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৫১৯ সালে। পানামা উত্তর আমেরিকা মহাদেশের দক্ষিণাংশের একটি রাষ্ট্র। উত্তর দক্ষিণ আমেরিকার সংযোগস্থলে অবস্থিত এই দেশটি পূর্বে কলম্বিয়ার অধীন ছিল। পানামার রাজধানীর নাম পানামা সিটি। পানামাতে আটলান্টিক মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর এর সংযোগকারী পানামা খাল অবস্থিত।

।পানামা সিটি মধ্য আমেরিকার ক্ষুদ্র রাষ্ট্র পানামার রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর। পানামার কেন্দ্রীয় উপকূলভাগে পানামা খালের যে প্রান্ত প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত সেখানেই পানামা সিটির অবস্থান। আমেরিকা মহাদেশের সবচাইতে সরু অংশে অবস্থিত হওয়ায় এই শহরের নিকট দিয়েই আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে যাতায়াত মালামাল পরিবহনের কাজ চলে। ষোড়শ শতাব্দীতে এই শহরের পত্তনের পর থেকেই এই প্রক্রিয়া চলে আসছে। পানামার রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য এবং শিল্পোৎপাদনের কেন্দ্রও এই শহর। এর আবহাওয়া সামুদ্রিক ক্রান্তীয় ধরনের। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শুষ্ককাল এবং মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল থাকে।



পানামার ইস্থমাস উত্তর দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে যুক্ত করে এবং আটলান্টিক প্রশান্ত মহাসাগরকে আলাদা করে রাখে। পানামা খালটি  তাই এক অর্থে মহাদেশ দুটিকে আলাদা করে মহাসাগর দুটিকে যুক্ত করেছে। খালটির মালিক পরিচালক হচ্ছে পানামা প্রজাতন্ত্র।

পানামা খাল খনন হয় ১৯০৪ সালে শেষ হয় ১৯১৪ সালে কিন্তু এর ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ। স্প্যানিশ অভিযাত্রী ভাস্কো নুয়েঞ্জ ডি বালবোয়াই প্রথম ইউরোপীয়, যিনি আটলান্টিক প্রশান্ত মহাসাগরের সম্মিলনের কথা বলেছিলেন। সে সময়ের স্প্যানিশ রাজা বালবোয়াইয়ের ধারণাকে উড়িয়ে দেন। তবে ১৫৩৪ সালে অপর রাজা চার্লস পঞ্চম প্রস্তাবটি যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটি তদন্ত করে জানায় একটি জাহাজ প্রবেশ করতে পারে এমন খাল ওই স্থানে খনন করা অসম্ভব।

 এরপর সময় কেটে যায় শতাব্দির পর শতাব্দি। পানামা খাল আর খনন করা যায়নি। আঠারো শতকের শেষের দিকে পথটিতে ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের চোখ পড়ে।
প্রথমে দুই সাগরকে এভাবে এক করাটা একেবারেই অসম্ভব ছিল। এর মূল কারণ পানির উচ্চতার তারতম্য। খালটি দুই সমুদ্র সমতল হতে ৮৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। ঠিক কারণেই পনেরো শতকে পানামা খাল তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ১৮৮১ সালে খালটি খনন শুরু করে ফ্রান্স।


                               পানামা-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৯০৪ সালে খালটি পুনরায় খনন শুরু করে। শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা ব্যর্থ হয়। ভারি বর্ষণ, আর্দ্রতা স্থানীয় বিভিন্ন রোগ ছিল খাল খননের অন্যতম প্রতিবন্ধক। এর আগেও স্পেন খাল খনন শুরু করলে নানা কারণে বিশ হাজার শ্রমিক দুর্ঘটনা মশার কামড়ে হলুদ জ্বর হয়ে মারা গেলে খনন বন্ধ রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্র তার কারিগরি সক্ষমতা দিয়ে শ্রমিক মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনে। তারপরও পাঁচ হাজার ছয়শ শ্রমিক মারা যায়।

১৭০০ শতাব্দীতে স্পেনীয়রা বাণিজ্যের জন্য অন্যান্য পথ ব্যবহার করতে থাকায় পানামা সিটির বিশেষ অবনতি ঘটে। কিন্তু ১৮৫০-এর দশকে ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ড রাশ এবং পানামা রেলপথ নির্মাণের পর পানামা সিটির মধ্য দিয়ে যাতায়ত বৃদ্ধি পায় এবং শহরটি পুনরায় উন্নত এবং উৎকৃষ্ট হিসেবে গড়ে উঠে। এসময় পানামা কলম্বিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং পানামা সিটি পানামা অঞ্চলের রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হতো।
পানামা খাল যেহেতু সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৫ ফুট উঁচু তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে এত উপরে কিভাবে পানি ধরে রাখা হয়? আবার কিভাবেই এর উপর দিয়ে জাহাজ চলাচল করে? এখানকার পানি ধরে রাখা থেকে শুরু করে জাহাজ চলাচল পর্যন্ত সকল প্রক্রিয়াই কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পানামা খালে মোট তিন জোড়া জল কপাট রয়েছে যে গুলো পানামা খালকে সমুদ্রপৃষ্ঠ ধাপে ধাপে ৮৫ ফুট পর্যন্ত উপরে তুলে দিয়েছে।


জলকপাটগুলো দুইটি ধাতব কব্জার দ্বারা তৈরি। প্রতিটি কব্জা ফুট মোটা এবং অবস্থান অনুযায়ী ৪৭ ফুট থেকে ৮২ ফুট পর্যন্ত উঁচু। জাহাজ চলাচলের সময় এসব কব্জা খুলে/বন্ধ করে পানির স্তর জাহাজ চলাচল উপযোগী করা হয়। পানামা খালে গাট্টন লেক গাইলার্ডকাট নামক দুইটি চ্যানেলে রয়েছে এই চ্যানেলেই মূলত এই জলকপাট সমূহ কাজ করে।


 প্রাণী বৈচিত্রর সমারহ রয়েছে এখানে।


পানামা খালে ঢুকার পূর্বেই জাহাজ সমুহকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হয়। কারণ এই খাল দিয়ে বর্তমানে একই সময়ে মাত্র দুইটি জাহাজ চলাচল করতে পারে যদিও ২০১৪ সালের আগে পর্যন্ত এই খাল দিয়ে মাত্র একটি জাহাজ চলতে পারত। চ্যানেল দিয়ে জাহাজ পারাপারের জন্য চ্যানেলের উভয় পাশে অত্যন্ত শক্তিশালী ক্রেন কাজ করে।

                          পানি অপসারণ যোগান দিয়ে উঁচু স্থানে পানির স্তর সমান করার জন্য কাজ করে অত্যন্ত শক্তিশালী কয়েকটি পাম্প। চ্যানেলের প্রস্থ ১১০ ফুট হওয়ার করনে ১১০ ফুটের কম প্রশস্ত জাহাজ কেবল মাত্র প্রবেশ করতে পারে।তবে ১১০ ফুটের বেশী চওড়া জাহাজের পরিমাণ খুব কম।
                         

0 Comments:

Post a Comment