পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Thursday, May 16, 2019

আফ্রিকা মাহদেশ


তৃতীয় পিউনিক যুদ্ধে রোমানরা কার্থেজ জয় করে নেয়। বর্তমান উত্তর আফ্রিকার অন্তর্গত তিউনেশিয়া সেই সময় কার্থেজ নামে পরিচিত ছিল। কার্থেজ জয় করার পর রোমানরা তাদের এই নতুন প্রদেশটির নাম দেন আফ্রিকা। তখন সেখানে বসবাস করতো আফ্রি নামক একটি গোত্র। ধারণা করা হয়, সেই গোত্রের নামানুসারে রোমানরা নতুন আবিস্কৃত এই ভূখণ্ডের নাম দেন আফ্রিকা। যার অর্থ আফ্রিদের ভূমি বা দ্য ল্যান্ড অব আফ্রি।


অন্য একটি দল মনে করেন, আফ্রিকা শব্দটি এসেছে ফিনিশীয় শব্দ ‘erebu’ থেকে। যার অর্থ ধূলা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ল্যাটিন প্রত্যয় ‘ereb’, যার অর্থ ভূমি। অর্থাৎ এখানে আফ্রিকা শব্দটির অর্থ দাঁড়ায়ধূলারভূমিবাদ্যা ল্যান্ড অব ডাস্ট রোমানরা জয় করেছিল আফ্রিকার উত্তর দিকের অঞ্চল। মনে করা হয়, উত্তরের মরুভূমি এবং রুক্ষ-শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য তারা এই অঞ্চলের এমন নামকরণ করে।


১৫০৭ সালে একজন জার্মান মানচিত্রকর মার্টিন ওয়াল্ডসিম্যুলার নতুন আবিষ্কৃত ভূখণ্ড যোগে নতুন করে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তখন ভেসপুচির ভ্রমণ কাহিনী সম্পর্কে অবগত থাকলেও কলম্বাসের আবিষ্কার সম্পর্কে জানতেন না। তাই মানচিত্র তৈরির সময় তিনি নতুন আবিষ্কৃত সেই ভূখণ্ডটির নাম অ্যামেরিগো ভেসপুচির নামানুসারে করেন।


আফ্রিকা আয়তন জনসংখ্যা উভয় বিচারে বিশ্বের ২য় বৃহত্তম মহাদেশ পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোকে গণনায় ধরে মহাদেশটির আয়তন ৩০,২২১,৫৩২ বর্গ কিলোমিটার এটি বিশ্বের মোট ভূপৃষ্ঠতলের % মোট স্থলপৃষ্ঠের ২০.% জুড়ে অবস্থিত। নাইজেরিয়া আফ্রিকার সর্বাধিক জনবহুল দেশ। আফ্রিকার প্রায় মাঝখান দিয়ে নিরক্ষরেখা চলে গেছে। মহাদেশটির উত্তরে ভূমধ্যসাগর, উত্তর-পূর্বে সুয়েজ খাল লোহিত সাগর, পূর্বে ভারত মহাসাগর, এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর। উত্তর-পূর্ব কোনায় আফ্রিকা সিনাই উপদ্বীপের মাধ্যমে এশিয়া মহাদেশের সাথে সংযুক্ত।


আফ্রিকা একটি বিচিত্র মহাদেশ এখানে রয়েছে নিবিড় সবুজ অরণ্য, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, জনমানবহীন মরুভূমি, সুউচ্চ পর্বত এবং খরস্রোতা নদী।
আফ্রিকায় ৩৯০০ এর বেশি ভাষা আছে। এতে আছে আরবী,রুস, ইংরাজি। এগুলো অন্যতম। আফ্রিকা মানবজাতির আতুড়ঘর। বিজ্ঞানীরা মনে করেন আজ থেকে ৮০ থেকে ৫০ লক্ষ বছর আগে এখানেই আদি মানবেরা এপ-জাতীয় প্রাণী থেকে বিবর্তিত হয়।
বিশ্বের অন্যতম অনেক দেশের অবস্থান রয়েছে এই আফ্রিকাতে। তার মধ্যে অন্যতম কিছু হলো:

মিশর,সুদান,লিবিয়া,তিউনিশিয়া,আলজেরিয়া,দিক্ষণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, জিবুতি, সোমালিয়া, কেনিয়া, অনজানিয়া,মোজাম্বিক,মালাগাছি,জিম্বাবুয়ে,মরোক্ক,গিনি,সেনেগাল,গিনি,লাইবেরিয়া,মালিঘানাবেনিনটোগোচাদক্যামেরুননাইজার,জায়ারেকঙ্গোদক্ষিণআফ্রিকা ,নাইজার, নাইজেরিয়া, নামিবিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা , পূর্ব আফ্রিকা ,বুরুন্ডি, বুর্কিনাফাসো, বেনিন, বোৎসোয়ানা, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ছাড়াও আরো অনেক।

আফ্রিকাতে ৫৩টি রাষ্ট্র আছে। এদের মধ্যে ৪৭টি আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডে এবং ৬টি আশেপাশের দ্বীপগুলিতে অবস্থিত।

এবার কথা বলা যাক আফ্রিকার বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে:

আফ্রিকায় ৫০০ টির বেশী ধর্ম আছে এর মধ্যে ইসলাম ধর্মের অনুসারী বেশী। যারা মোট জনসংখ্যায় ৪৭%।আরো আছে আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী ধর্ম।যারা জনসংখ্যায় %।এ ছাড়া খ্রিষ্টানরা জনসংখ্যায় ৩৯%


আফ্রিকায় অঞ্চলভেদে খাবারের ধরণ আলাদা। উত্তরাঞ্চলের খাবারে আরব রন্ধনশৈলীর প্রভাব এবং দক্ষিণ আফ্রিকা নামিবিয়ায় ইউরোপীয় রন্ধনশৈলীর প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। উপনিবেশিক শাসনের অনেক পূর্বে স্থানীয় খাবারের উদ্ভব হয়েছে। আফ্রিকার প্রতিটি শহরে এমনকি প্রতিটি দেশে পাঁচ তারকা হোটেল পাওয়া নাও যেতে পারে।

আফ্রিকান প্রাণী: 

আফ্রিকান গণ্ডার: 

১.  আফ্রিকান গণ্ডার খুব একটা বদ মেজাজি তা কিন্তু না! তবে কেউ একে উৎপাত করলে তার জন্য নেমে আসতে পারে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ করুণ মৃত্যু। গণ্ডার দল বেধে অবস্থান করলেও এরা কিন্তু নিজেদের শাবক নিয়ে নিজেদের সুরক্ষা করে থাকে। এদের মাঝে পুরুষে পুরুষে ক্ষমতার জন্য এবং নারী সঙ্গী পাওয়ার জন্য যুদ্ধ হয়। কখনো কখনো সে সব যুদ্ধ মৃত্যুতে শেষ হয়।





২. আফ্রিকান বন মহিষ:

  এরা এক এক জন কয়কটন পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের শক্তি এদের শরীরের ওজন এবং বদ মেজাজ। এদের কেউ উত্যক্ত করলেই তার আর রক্ষে নেই! বন বিশ্লেষকরা বলেন এদের স্মৃতি শক্তিও প্রখর। একবার এক দল শিকারি একটি বন মহিষকে গুলি করলে সেই গুলি গিয়ে লাগে মহিষের পাঁজরে। সে মহিষ তাৎক্ষণিক পালিয়ে গেলেও পরে ওই শিকারি দলের উপর চোরা গুপ্তা হামলা করে যে গুলি করে তাঁকে হত্যা করে।



আফ্রিকান সিংহ:


৩.  আফ্রিকান লায়ন বা সিংহ বনের রাজা! এরা গত্র ভাগে নির্দিষ্ট এলাকায় ভাগ হয়ে অবস্থা করে। এক এলাকার সিংহ অন্য এলাকায় যেতে বা সেখানে গিয়ে শিকার ধরতে পারেনা। আফ্রিকান সিংহ বীর্য এবং দাম্ভিকতার প্রতীক। শক্তি, ক্ষমতা সক্ষমতা কি নেই এদের? দল গত ভাবে শিকারকে আক্রমন করে এরা হত্যা করে। সিংহের মূলত দুটি প্রজাতি বর্তমানে টিকে আছে। একটি হল আফ্রিকান সিংহ অপরটি হল এশীয় সিংহ। তবে পশ্চিম আফ্রিকায় আশঙ্কাজনকহারে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বনের রাজা আফ্রিকান সিংহ। ওই অঞ্চলে মাত্র ৪শটির মতো সিংহ আছে এখন। এদের হুঙ্কার গর্জন কয়েক মাইল দূর থেকে শিকারের মনে ভয় ধরিয়ে দেয়।

 আফ্রিকান  হায়না:

৪. হায়নাকে কে না চেনেন? দুই প্রকারের হায়েনা আফ্রিকাতে রয়েছে এক প্রজাতি হচ্ছে ব্রাউন হায়েনা অন্য প্রজাতি হচ্ছে স্পটেড হেয়েনা। ব্রাউন হায়না সাধারণত যাযাবর সভাবের হয়ে থাকে এরা একা একাই চলাফেরা করে। অপর দিকে আফ্রিকার ত্রাসের চেয়েও বড় ত্রাস হচ্ছে স্পটেড হায়েনা, এরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সামাজিক ঐক্যবদ্ধ প্রাণী। এদের এক এক দলে প্রায় ৮০ থেকে ২০০টিরও বেশি হায়েনা থাকে। এরা নিজের থেকে অনেক বড় প্রাণী শিকার করতে সক্ষম। এদের চোয়াল এদেরকে দিয়েছে আলাদা মর্যাদা। এরা শক্তিশালী চোয়াল দিয়ে সিংহ থেকেও অনেক জোরে কামড় বসাতে সক্ষম। কি নেই এদের শিকারের তালিকায়? সিংহ থেকে শুরু করে এরা উচ্ছিষ্ট সব কিছুই খায় এবং প্রয়োজনে ভয়ংকর কায়দায় হত্যা করে। এরা শিকার ধরে জীবিত অবস্থায় খাওয়া শুরু করে দেয়, শিকারের কোন অংশই এরা অবশিষ্ট রাখেনা।


আফ্রিকান জিরাফ

৫.  পৃথিবীর সবচাইতে লম্বা প্রাণী হিসেবে জিরাফের অবস্থান। দৈর্ঘ্য একটি জিরাফ প্রায় ১৯ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এছাড়া জিরাফের লম্বা উঁচু বলে উচ্চতম প্রাণীদের কাতারেও জিরাফের অবস্থান প্রথম সারিতে। এদের দৃষ্টিশক্তি খুব প্রখর। ফলে বহুদূরের শত্রুকেও জিরাফ সহজেই দেখতে পারে।

 এছাড়া জিরাফ খুব জোরে দৌড়াতে পারে। আক্রমণের শিকার হলে জিরাফকে ঘণ্টায় প্রায় ৫৬ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে দেখা গেছে। জন্মের সময় একটি জিরাফ প্রায় ৬ ফুট লম্বা হয় এবং এর ওজন থাকে গড়ে ৬৮ কেজি। অনেক জিরাফের মাথায় দুইটি বা চারটি ভোঁতা শিং থাকে। জিরাফের জিভ খুব লম্বা। নিজের কান পরিষ্কারের জন্য জিরাফ তার প্রায় ২১ ইঞ্চি লম্বা জিভ ব্যবহার করে।

এছাড়াও আফ্রিকাতে রয়েছে হাজারো প্রাণী ।


                              এই ছিল আফ্রিকা নিয়ে অল্প কিছু  আলোচনা।(তথ্যসূত্র:ইন্টারনেট)

0 Comments:

Post a Comment