পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Friday, May 3, 2019

মায়ানমার

















১৩,০০০ বছর পূর্বে এই ভূখন্ডে প্রথম মানব বসতি স্থাপনের পর থেকে আধুনিক মিয়ানমারের সময়কাল পর্যন্ত ব্যাপ্ত। মায়ানমারের সবচেয়ে প্রাচীন অধিবাসি ছিল তিব্বতীয়-বার্মান ভাষাভাষি জনগোষ্ঠি। বৌদ্ধ ধর্মালম্বি এই জনগোষ্ঠি পাইয়ু নগর-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল।
।১৯৮৯ সালে দেশটির নাম ইউনিয়ন অব বার্মা থেকে ইউনিয়ন অব মিয়ানমারে পরিবর্তন করা হয়। 

বার্মা নামটি এসেছে দেশটির সর্ববৃহৎ সম্প্রদায়বামারথেকে। নাম থেকেই বোঝা যায় যে সাম্প্রদায়িকতা দেশটির রন্ধ্রে রন্ধে মিশে আছে।
১৯৮৯ সালে সেখানকার সামরিক সরকার বার্মার নতুন নামকরণ কচিনরে "মায়ানমার" এবং প্রধান শহর তৎকালীন রাজধানী রেঙ্গুনের নতুন নাম হয় " ইয়াঙ্গুন" তবেগণতান্ত্রিক দলগুলোর অনেক অনুসারীই এইনামকরণের বিপক্ষে। ২১ অক্টোবর ২০১০থেকে দেশটির জাতীয় সঙ্গীত নতুনজাতীয় পতাকা প্রবর্তন করা হয়।ইতিহাসপ্রায় ১৩ হাজার বছর আগে বর্তমান মায়ানমারেজনবসতির অবস্থান সর্ম্পকে জানা যায়। পিউ নামেরউপজাতিরা ১ম শতকে বার্মা এলাকাতে দক্ষিণদিকের ইরবতী ভ্যালী দিয়ে প্রবেশ করে।অপর দিকে উত্তর দিক দিয়ে মুন জাতি প্রবেশকরে। ৯ম শতকে মিরানমা জাতি ইরাবতী উপত্যকারউপরে বসবাস শুরু করে।


মিয়ানমারের বেশ কয়েকিট ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব আছে। তাদের সবাই সুদূর অতীতে বার্মার বাইরে থেকে এসেছে। রোহিঙ্গারা তেমনি একটি ক্ষুদ্র জাতি যারা মুসলিম ধর্মালম্বী।


আনুমানিক ৬০০ বছর আগে রোহিঙ্গারা পূর্ব বাংলা থেকে আরাকান রাজ্যে গিয়ে বসতি স্থাপন করে। নরমেখলা নামের এক আরকান রাজা রাজ্য হারিয়ে বাংলার সুলতান জালালুদ্দিন শাহের আশ্রয় নেন। ১৪৩০ সালে বাংলার সুলতান তাকে তার রাজ্য পুনরোদ্ধারে সাহায্য করেন। বাংলাদেশ থেকে তার এই অভিযানে সাহায্য করার জন্য যাদেরকে তিনি নিয়ে যান তারাই পরবর্তীতে রহিঙ্গা নামে পরিচতি হন।

মায়ানমার একটি বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। মায়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘুরা ভারত থেকে আগত (যা এখন বাংলাদেশ হয়েছে) মুসলমানদের বংশধর এবং চীন (মায়ানমারে চীনের মুসলমানদের পূর্বপুরুষ ইউন্নান প্রদেশ থেকে এসেছে) এবং পূর্ববর্তী আরব বাসিন্দাদের উত্তরপুরুষ এবং স্বীকৃত কমেইন সংখ্যালঘুদের বংশধর এবং রোহিঙ্গা জাতি, পাশাপাশি মায়ানমারের স্থানীয় জাতিসমূহের সাথে আন্তঃবিবাহিতরা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, বার্মার সরকার রোহিঙ্গা নাগরিকদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করেছে যারা ১৮২৩ সালের আগে, ব্রিটিশ দখলদারিত্বের শুরুতে এখনকার রাখাইন রাজ্যে (যা আরাকান নামেও পরিচিত) দেশটিতে তাদের পূর্বপুরুষদের বসতি স্থাপনের প্রমাণ করতে পারে না।
রোহিঙ্গা মুসলমানরা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, ১৯৭৮ সাল থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানরা বার্মিজ জান্তার অধীনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে আসছে এবং ফলশ্রুতিতে অনেকেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। যাইহোক, বাস্তবতা হচ্ছে যে ১৯৭৮ সালের আগেও রোহিঙ্গাদের অনেকেই অত্যাচারিত হয়েছে, যদিও তর্কসাপেক্ষে ততটা উল্লেখযোগ্য নয়। তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মায়ানমারে বসবাস করে আসলেও মায়ানমারের বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠের সাথে উদ্বিগ্নের কারণে তাদের বৈষম্য হয়রানিতে পরিণত করেছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন, অবাধ গ্রেফতার এবং সহিংসতা অতি সাধারণ ঘটনা, এমনকি সহিংসতার অনেক ঘটনাই আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের একচোখা দৃষ্টির কারণে রিপোর্ট করা হয়নি।

১৯৪৬ সালে যখন ভারত পাকিস্তান ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল তখন আরকানের রোহিঙ্গা মুসলিম নেতারা পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হবার জন্য চেষ্টা করে। পাকিস্তানে মুসলিম লীগ নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ আরাকানের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা পাকিস্তানের সাথে একিভূত করতে আগ্রহ দেখাননি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, জাপানিরা রোহিঙ্গাদের অধীনস্থ এলাকার মধ্য দিয়ে সহজেই অগ্রসর হয়।পরাজিত, ৪০,০০০ রোহিঙ্গা অবশেষে বার্মা জাপানী বাহিনীর দ্বারা গণহত্যার স্বীকার হয়ে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়।


মায়ানমার, একসময়ে বার্মা নামে পরিচিত ছিল, যে ৪৮টি দেশের মধ্যে একটি, যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৯৪৮ সালে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র (ইউডিএইচআর) গ্রহণের পক্ষে ভোট দেয়।ইউডিএইচআর-এর অণুচ্ছেদ -এর মতে, "প্রত্যেকেই জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, ধর্ম, রাজনৈতিক বা অন্য মতামত, জাতীয় বা সামাজিক উত্স, সম্পত্তি, জন্ম বা অন্যান্য অবস্থা কোন প্রকারের পার্থক্য ছাড়াই এই ঘোষণাপত্রে বর্ণিত সমস্ত অধিকার এবং স্বাধীনতার অধিকারী।"

এছাড়াও ইউডিএইচআর- ৫নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, "কাউকে নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অপমানজনক আচরণ বা শাস্তি দেওয়া যাবে না।"তবে, নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কনভেনশন যার লক্ষ্য হচ্ছে নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক, বা অপমানজনক আচরণ বা শাস্তি বিশ্বজুড়ে রোধ করা, যাতে ২০১৬ সালেও মায়ানমার কর্তৃক স্বাক্ষর বা অনুমোদন করেনি।

চীনের সাথে সম্পর্ক:

১৯৪৯ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চীনের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক ছিল মায়ানমারের[] মায়ানমারের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী কমিউনিস্ট পার্টি অব বার্মা (সিপিবি)-এর মূল পৃষ্ঠপোষক ছিল চীন। ১৯৭৮ সালে চীনা নেতা দেং জিয়াও পেং মায়ানমার সফরে আসেন। ১৯৮৬ তে সিপিবির ওপর থেকে সম্পূর্ণ সমর্থন তুলে নেয় চীন। বৈরী সম্পর্ক দারুণভাবে সহযোগিতার দিকে নতুন মোড় নেয়। 

তারা তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগসহ বাণিজ্যিক সুবিধা পায়। সময় চীন সামরিকভাবে মায়ানমারকে সহায়তা করতে থাকে। ১৯৮৯ সালে মায়ানমার চীন হতে . বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করে।[] ভারতের ওপর ভূরাজনৈতিক কৌশলগত সুবিধা বাড়াতে মায়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয় চীনের

মায়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিগত বিদ্রোহ, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমনে মায়ানমারকে বহুমুখী সাহায্যের হাত খুলে দেয় চীন চীনের সমর্থন মায়ানমারের সামরিক জান্তাকে অধিকতর শক্তিশালী করে। তারা এই সুযোগকে ব্যবহার করে দেশের মধ্যে যেমন তাদের ক্ষমতা বাড়ায়, তেমনি একটি শক্তিশালী সমরশক্তির দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে চীনের সর্বোচ্চ সহায়তা পেতে থাকে।


0 Comments:

Post a Comment