পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Thursday, May 2, 2019

মালয়েশিয়া (জেনে নেন নতুন কিছু)



মালয়েশিয়ার স্বাধীনতা দিবস ৩১ আগস্ট। মালয়েশিয়ার ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম গৌরব অহঙ্কারের দিন এটি। ১৯৫৭ সালের ৩১ আগস্ট ব্রিটিশদের কাছ থেকে রক্তপাতহীন প্রক্রিয়ায় স্বাধীনতা অর্জন করে দেশটি।

আজ  থেকে ৪০ হাজার বছর আগেও মালয় অঞ্চলে মানুষ বসবাসের নিদর্শন পাওয়া যায়। সুদূর অতীতে অঞ্চলে হিন্দু-বৌদ্ধ শাসকদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৩ শতকে এই উপদ্বীপে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা প্রবেশ করে। ১৫ শতকে মালাক্কান সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হয়।

        ১৫১১ সালে পর্তুগিজ নাবিক অ্যাফোনসো দ্য আলবুকার্ক এই অঞ্চলে নৌ অভিযান পরিচালনা করেন। এটাই ছিল মালয় উপদ্বীপে প্রথম ইউরোপীয় অভিযান। ১৫৭১ সালে এই অঞ্চলে স্প্যানিশদের আগমন ঘটে। ব্রিটিশরা প্রথম মালয় উপদ্বীপে আসে ১৭ শতকে। ১৮৯৫ সালে ফেডারেটেড মালয় স্টেটস গঠিত হয়।
                                                          
ব্রিটিশরা প্রথম বসতি স্থাপন করে মালয়েশিয়ার পেনাঙে। প্রথম ১৮১৯ সালে মালয় উপদ্বীপে পুরোপুরি ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সময় মালয়ের বিভিন্ন এলাকার শাসক সুলতানদের সঙ্গে ব্রিটিশ শাসকদের সুসম্পর্ক ছিল। ১৮২৪ সালে মালয়ের ওপর ব্রিটিশ শাসন পাকাপোক্তের জন্য অ্যাংলো-ডাচ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুসারে মালয় দ্বীপমালা দুই ভাগে ব্রিটেন নেদারল্যান্ডসের মধ্যে ভাগ করা হয়।
      তারপর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া এখানে সরাসরি শাসন করে। ১৮৭৪ সালে স্বাক্ষরিত পাংকর চুক্তি অনুসারে বিভিন্ন রাজ্যের সুলতানরা ব্রিটিশ এলাকার শাসনের সুযোগ পায়। এসব এলাকায় ব্রিটিশরা টিন স্বর্ণের খনি প্রতিষ্ঠা করে। ছাড়া নানা ধরনের মসলা ফসলের বাগান প্রতিষ্ঠা করে। সময় রাবার চাষও শুরু হয়।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মালয় উপত্যকা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলন শুরু করে। ১৯৪৮ সালের ৩১ জানুয়ারি ফেডারেশন অব মালয় গঠিত হয়। স্বাধিকার আন্দোলনের জন্য মালয় অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। অবশেষে ১৯৫৭ সালের ৩১ আগস্ট টেংকু আব্দুর রহমান তখনকার মালয়ের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১৯৬৩ সালে ফেডারেশন অব মালয়েশিয়া গঠিত হয়।
           ১৯৭০ সালেও মালয়েশিয়ার বেশির নাগরিক দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করত ১৯৭১ সালে নতুন অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করে মালয়েশিয়া সেই পরিকল্পনা অনুসারে ১৯৯০ সালের মধ্যে মালয়েশিয়াতে দারিদ্র্যের হার বিস্ময়করভাবে কমে আসেযার জন্য পুরো বিশ্ব  একবাক্যে ১৯৮১ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত নেতৃত্বদানকারী মাহাথির মোহাম্মদকে একজন সফল রাষ্ট্র নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় আজও তাঁর দেওয়া ‘ভিশন ২০২০’ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে মালয়েশিয়া।


মালয় ভাষা মালয়েশিয়ার সরকারি ভাষা। এখানকার প্রায় অর্ধেক সংখ্যক লোক মালয় ভাষাতে কথা বলে। মালয়েশিয়াতে আরও প্রায় ১৩০টি ভাষা প্রচলিত এদের মধ্যে চীনা ভাষার বিভিন্ন উপভাষা, বুগিনীয় ভাষা, দায়াক ভাষা, জাভানীয় ভাষা এবং তামিল ভাষা উল্লেখযোগ্য। বাজার মালয় ভাষা বহুজাতিক বাজারের ভাষা হিসেবে প্রচলিত এবং সাবাহ প্রদেশে সার্বজনীন ভাষা বা লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা হিসেবে ব্যবহৃত। আনুষ্ঠানিক ভাষা বাহাসা মালয়েশিয়া। তবে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নিজ নিজ ভাষায়কথা বলে।

এশিয়ার খাদ্য স্বর্গ হিসেবে পরিচিত মালয়েশিয়া দেশটি। নানা বর্ণ, ধর্ম আর সংস্কৃতির মানুষের অবস্থানের ফলে এখানকার খাবারও বেশ বৈচিত্রময়। মালয়, চাইনীজ এবং ভারতীয় নানা ধরনের খাবার বিভিন্ন রোস্তোরাঁ এবং পথের পাশের স্টলে খুব কম দামে পাওয়া যায়। এছাড়া রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য এবং থাইল্যান্ডের খাবার।


মালয়েশিয়ার কিছু দর্শণীয় স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই:

     মালাক্কা সিটি  :

চতুর্দশ শতকের গোড়ায় জমজমাট বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল মেলাক্কা - তার মশলার খ্যাতি পৌঁছেছিল সুদূর ইউরোপেও। মালাক্কা সিটি যেন বসে আছে তার সমস্ত ঐতিহাসিক সৌন্দর্য নিয়ে

প্রাচীন ঐতিহ্য আর ঝকঝকে আধুনিকতা নিয়ে আজকের মালয়েশিয়া। পৃথিবীর উচ্চতম টাওয়ার, বৃহত্তম গুহা আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উচ্চতম পর্বতমালার দেশ। নীল সমুদ্র, রুপোলি বালুকাবেলা, সুউচ্চ পাহাড়, ট্রপিকাল রেনফরেস্ট, রহস্যময় গুহার সারি, প্রবালদ্বীপ, নদী আর হ্রদের মেলা নিয়ে বহু বৈচিত্রের রূপকথা। ফুল, অর্কিড, নানা বন্যপ্রাণী আর পাখির রাজ্য।

কুয়ালালামপুর::
কুয়ালালামপুর যখন  ব্রিটিশ রাজত্বেরই অধীন। তখন  একদল চিনা ভাগ্যান্বেষী ঘুরতে ঘুরতে হাজির হন এই অঞ্চলে। ব্রিটিশদের অনুমতি নিয়ে জঙ্গল কেটে বসতি স্থাপন করেন। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে গ্রাম থেকে শহর কুয়ালালামপুর। যদিও আজকের কর্মচঞ্চল, ঝকঝকে আধুনিক শহরের দিকে তাকালে একথা বিশ্বাস করাই শক্ত। আসলে বোধহয় মালয়েশিয়া দেশটার মধ্যেই একটা আপন করে নেওয়ার স্বভাব আছে। সেটা আরও বোঝা যায় কুয়ালালামপুর শহরটার বিচিত্র চরিত্রে। কুয়ালালামপুরের প্রাচীন মন্দিরটির  নাম হচ্ছে ”জে ইয়া মন্দির”। প্রধান আরাধ্যদেবতা জিয়ান শি ইয়ে। তবে ভগবান বুদ্ধও পূজিত হন এখানে। চিনা সংস্কৃতির নিদর্শন কোয়াং সিউ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন টেম্পল।



আরেক সৌন্দর্য সৃষ্টি হয় যেটা দেখলে সেটা হলো আরবি শৈলীর সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা চমকপ্রদ নিদর্শন দুধসাদা রঙের কুয়ালালামপুর রেলস্টেশনের বাড়িটি। মালয়েশিয়ার জাতীয় ফুলবুঙ্গা রায়া’ - আমাদের জবা। 

 লাঙ্কাউই :

মালয়েশিয়া গিয়ে অবশ্যই আপনাকে  লাঙ্কাউই যেতে হবে না হলে যে সম্পূর্ণ খরচই বৃর্থা  হয়ে যাবে কুয়ালালামপুর থেকে ৪১৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকত অঞ্চল আন্দামান সমুদ্রের ১০৪টি দ্বীপের সমষ্টি।  সমুদ্রের নিচ দিয়ে রাস্তার সাথে আরো অনেক কিছুর দেখতে পারবেন এখানে





 একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতার জন্য একটি নৌকা ভাড়া করে চলে যেতে পারেন ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের ভেতর। সেখানেও আছে বাদুরের গুহা, ঈগলের গুহা ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান।

মালয়েশিয়া যাবার জন্য আপনার যা করতে হবে:

ঢাকা থেকে মালয়েশিয়া যেতে টিকিট কাটতে হবে এয়ার এশিয়া, বাংলাদেশ বিমান, ইউ এস বাংলা, ইউনাইটেড এয়ার, রিজেন্ট এয়ার ওয়েজ, মালয়েশিয়ান এয়ার লাইন্সে। সময়ভেদে টিকেটের দামের কম-বেশি হয়। 

ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর পৌঁছতে সময় লাগবে সাড়ে তিন ঘণ্টা। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সময়ে পার্থক্য ঘণ্টা। তাই গভীর রাতে এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর ঝামেলা এড়াতে রাতের বিমানে রওনা দেওয়াই উত্তম।



0 Comments:

Post a Comment