পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Wednesday, May 8, 2019

সৌদি আবর


৭ম শতাব্দীতে মুহাম্মদ (.) এখানে ইসলামের প্রচার করেন এবং এটি খিলাফতের প্রথম কেন্দ্র।২১,৫০,০০০ বর্গ কিমি আয়তনের এদেশটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় আরব দেশ এবং আলজেরিয়ার পরে আরব বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। সৌদি আরব, সরকারিভাবে সৌদি আরব সম্রাজ্য  মধ্যপ্রাচ্যের একটি সার্বভৌম আরব রাষ্ট্র।




সৌদি আরব মূলত চারটি সতন্ত্র অঞ্চল হেজাজ, নজদ, আল হাসা পুর্বাঞ্চলীয় আরব এবং আসির দক্ষিণাঞ্চলীয় আরব নিয়ে গঠিত। আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ ১৯৩২ সালে সৌদি আরব সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯০২ সালের শুরুতে রিয়াদ তার পুর্বপুরুষের রাজ্য দখলসহ ধারাবাহিক যুদ্ধের মাধ্যমে চারটি অঞ্চলকে একত্রিত করে একটি রাষ্ট্রে পরিণত করেন।

             ইসলামের দুই পবিত্র মসজিদ মসজিদুল হারাম মসজিদে নববীর কারণে সৌদি আরবকে দুই পবিত্র মসজিদের দেশ বলা হয়। দেশটিতে ,৮৭,০০০০০ জন বাস করে যার মধ্যে দুই কোটি সৌদিয়ান আর ৮৭,০০,০০০ জন বিদেশী। পৃথিবীর অন্যতম প্রধান সর্বোচ্চ তেল উৎপাদন রপ্তানিকারক এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম হাইড্রোকার্বন মজুদকারি দেশ।


 সৌদি নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত। আরবের নাগরিকেরা বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন।


৭ম শতক থেকে মক্কা মদিনা শহরগুলো মুসলিম বিশ্বের জন্য সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক তাত্পর্যপূর্ণ অঞ্চল। মক্কা হজ্জ পালনকারীদের একটি গন্তব্যস্থল। সামর্থবান প্রত্যেক বিশ্বাসীর জন্য জীবনে একবার হলেও এখানে আসা বাধ্যতামূলক।তবুও এই অঞ্চলটি পূর্বে আপেক্ষিক অদৃশ্য এবং বিচ্ছিন্ন ছিল

ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় এই অঞ্চলের অধিকাংশ স্থান একজন স্থানীয় শাষকের দ্বারা কোন রকমে পরিচালিত হতো। আল সৌদ (সৌদি রাজকীয় পরিবার) কেন্দ্রীয় আরবের নজদের ছোটখাট স্থানীয় শাসক হিসেবে আবির্ভূত হয়। পরবর্তী ১৫০ বছর ধরে আল সউদ অঞ্চল পার্শবর্তী অঞ্চলে বিস্তৃত হয়। যাইহোক, ১৯০২ থেকে ১৯২৭ সালের মধ্যে আল সউদ নেতা আব্দুল আজিজ বিজয় অর্জনের একটি সিরিজ পরিচালনা করেন যা ১৯৩০ সালে সৌদি আরব রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

সৌদি আরব নাম কিভাবে এলো:



১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে বাদশাহ আবদুল আজিজ তাঁর অধিকৃত গোটা অঞ্চল নিয়ে তাঁরই বংশের নামকরণে সৌদের আরব তথা সৌদি আরব নামকরণ করেন। সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে বাদশাহ ঘোষণা দিয়ে রাজতন্ত্রের সূচনা করেন। একসময় সৌদি আরবসহ জজিরাতুল আরব তথা আরব উপদ্বীপের বিশাল অঞ্চল শত শত বছর ইস্তাম্বুলস্থ তুর্কি সুলতানদের অধীনে ছিল। 

অন্যদিকে বর্তমান সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল নজদ দীর্ঘ দিন সৌদ বংশের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তুর্কিরা তাদের হটিয়ে দিলে তারা কাতার, বাহরাইন হয়ে কুয়েতে আশ্রয় নেয়। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে বাদশাহ আবদুল আজিজ কিছু সহযোদ্ধা নিয়ে কুয়েত থেকে এসে রিয়াদ দখল করে। তুর্কি বাহিনীর সঙ্গে প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে প্রায় ১০ বছর সময় যায়। অতঃপর বাদশাহ আবদুল আজিজ বিশাল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলে। 

ঘনিষ্ঠ মিত্র ব্রিটিশের কাছ থেকে যুদ্ধাস্ত্র পেয়ে জজিরাতুল আরবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠে। ফলে যুবক সাহসী পুত্র বাদশাহ ফয়সালের সহযোগিতা নিয়ে ছোট বড় অঞ্চল দখল করতে থাকে। পরে অধিকৃত অঞ্চল সুসংগঠিত করে ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে এসে সৌদি আরব নামকরণ রাজতন্ত্র প্রবর্তন করেন।



সৌদি আরব হলো কোনো ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর একমাত্র মুসলিম দেশ। অন্য কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কোনো ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রিয়াদের নিকটস্থ দিরিয়া নামের একটি কৃষিবসতির প্রধান ছিলেন মুহাম্মদ বিন সৌদ। এই উচ্চাভিলাষী মরুযোদ্ধা ১৭৪৪ সালে আরবের বিখ্যাত ধর্মীয় নেতা মুহাম্মদ বিন ওয়াহাব [ওয়াহাবী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা]-এর সাথে মৈত্রী চুক্তি করেদিরিয়া আমিরাতগঠন করেন। 

তুরস্কের উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে শিরক-বিদাত পালনের অভিযোগে এই দুজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ শুরু করেন। ওইদিরিয়া আমিরাত”- বিশ্বের প্রথম সৌদি রাজ্য/আমিরাত। মুহাম্মদ বিন সৌদ তার পুত্র আবদুল আজিজের সাথে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের মেয়ের বিয়ে দেন। এভাবেই সৌদ পরিবার ওয়াহাবী মতবাদের মিলনযাত্রা শুরু হয়। ১৭৬৫ সালে মুহাম্মদ বিন সৌদ-এর মৃত্যু হলে তার ছেলে আবদুল আজিজ দিরিয়ায় ক্ষমতাসীন হয়।



ইরাক-মক্কা-মদিনায় সৌদিদের এই ধ্বংসযজ্ঞে তত্কালীন তুর্কি খলিফাগণ ভীষণ রুষ্ট হন। ১৮০৮ সালে খলিফা ২য় মাহমুদ ক্ষমতাসীন হয়ে সৌদিদের দমনে শক্তিশালী সেনাদল পাঠান। ব্রিটিশ বাবারা এবার আর সৌদিদের বাঁচাতে পারেনি। ১৮১৮ সালে সৌদের ছেলে, তত্কালীন সৌদি শাসক আবদুল্লাহ বিন সৌদ তুর্কিদের কাছে আত্মসমর্পণ করে।


সৌদি আরবের খাবার:
সৌদি আরবে প্রায় সব দেশের খাবারই পাওয়া যায়। ভাত, মাছ, মাংস, সবজি, ডাল প্রভৃতি দেশি খাবার খেয়েছি। সৌদি খাবারও সস্তাই মনে হয়েছে। কয়েকটি খাবারের কথা বলছি:



তামিয়া: এটি মিক্সড স্যান্ডউইচের মতো। অর্ধেক খবুজের ভেতর ডিমের ফালি, শসা, টমেটো, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, পেঁয়াজু, সস মেয়োনেজ দিয়ে পরিবেশন করা হয়। তামিয়ার মধ্যে রকমফের আছে। যেমন: ডিম তামিয়া, তামিয়া মোশাক্কেল। দুই রিয়ালের তামিয়া মোশাক্কেল সকাল-বিকেলের নাশতা হিসেবে ভালো। হজ মিশনের কাছে মিসফালাহ কেদুয়া গ্রিন পার্কের কাছে একটি ছোট দোকান চালান কেরালার কবির। আমাকে দেখলে বেশ খাতির করেন। ১০ বছর ধরে তাঁর দোকানে তামিয়া খাই।

  
খেপসা বা খেবসা: খুব জনপ্রিয় খাবার। কারও বাসায় দাওয়াত থাকলে খেবসা থাকবেই। মূলত ইয়েমেনি খাবার। তবে আরব দেশগুলোতে সবাই এটা পছন্দ করে। খেবসা হচ্ছে বাসমতি চাল বিশেষভাবে তৈরি মাংসের মিশ্রণ। মুরগি, গরু বা ভেড়ার মাংস, এমনকি মাছ দিয়েও খেবসা তৈরি করা হয়। হালকা মসলায় কম তেলে রান্না করা বিরিয়ানির মতো। আমাদের সঙ্গী এক ভদ্রলোক জানালেন, খেপসার সঙ্গে মুরগি থাকলে বলা হয় খেপসা দুজাজ আর ভেড়া/দুম্বা থাকলে খেপসা লাহাম।

গাওয়া: গরম পানিতে বিভিন্ন ধরনের মসলা দিয়ে তৈরি বহুল প্রচলিত একটি পানীয়। কাপে করে চায়ের মতো পান করতে হয় গরম গরম। গাওয়া খেলে নাকি শরীর চাঙা হয়, কর্মস্পৃহা বাড়ে, খুসখুসে কাশি সেরে যায়। কোনো চিনি দেওয়া নেই। অনেকে খেজুর দিয়ে খান।


আল-ফাহাম: বড় থালায় বিশেষ ধরনের রান্না করা লাল-ভাতের মাঝখানে কয়লায় পোড়ানো মুরগি। সৌদিরা বিশাল থালার চারপাশ ঘিরে মজা করে পাঁচ-ছয়টি আল-ফাহাম খায়।

খবুজ: একধরনের রুটি। দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের তন্দুর রুটির মতোই। মাত্র এক রিয়ালে (এক রিয়ালে প্রায় ২১ টাকা) ছয়টি খবুজ পাওয়া যায়। ডাল অথবা মুরগির মাংসের সঙ্গে খেতে দারুণ লাগে।


0 Comments:

Post a Comment