পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Friday, May 3, 2019

ফ্রান্স(জেনে নিই কিছু অজানা তথ্য)



ফ্রান্স পশ্চিমা বিশ্বের প্রাচীনতম রাষ্ট্রগুলির একটি। এর ইতিহাস সমৃদ্ধ বিচিত্র। দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গুহায় পাওয়া ছবিগুলি প্রায় ১৫,০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের বলে অনুমান করা হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতক থেকে কেল্টীয় অন্যান্য গোত্রের লোকেরা ফ্রান্সে প্রবেশ করতে এখানে বসবাস করতে শুরু করে। 


প্রাচীনকালে ফ্রান্স অঞ্চলটি কেল্টীয় গল (Gaul) নামে পরিচিত ছিল। আয়তনের দিক থেকে ফ্রান্স ইউরোপের তৃতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র; রাশিয়া ইউক্রেনের পরেই এর স্থান। আর জনসংখ্যার দিক থেকে এটি ইউরোপের চতুর্থ বৃহত্তম রাষ্ট্র। মূল ভূখণ্ডের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ফ্রান্সের দশটি উপনিবেশ আছে, যেগুলি বেশির ভাগই প্রাক্তন ফরাসি সাম্রাজ্য থেকে পাওয়া।  ফ্রান্সের রাজারা তাদের মন্ত্রীরা ধীরে ধীরে একটি কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্র বড় আকারের সামরিক বাহিনী গড়ে তোলেন। 



১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং এর পর বহু দশক ধরে ফ্রান্স রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হয়। সত্ত্বেও নাপোলেয়োঁ বোনাপার্তের (Napoleon Bonaparte) শাসনামলে ফ্রান্স একটি সংহত প্রশাসনিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করে।


জেনে নিই অজানা কিছু তথ্য:

১. দেশটির সরকারি ভাষা ফরাসি, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস, ফ্রান্স মোটামুটি ষড়ভুজাকৃতির, ফরাসি রয়্যালটির রং সাদা।

২. মুদ্রা ইউরো। ফরাসি মুদ্রা ফ্রাঙ্ক এর পরিবর্তে ইউরোকে আইনগত ভাবেই চালু করা হয়েছে।

৩. ইউরোপের মধ্যে তৃতীয় বৃহতম দেশ হচ্ছে ফ্রান্স। এর আয়তন লাখ ৫০ হাজার বর্গ কিলোমিটার।


৪. ফ্রান্সের মূল ভূখন্ডকে ২১টি অঞ্চল বা প্রদেশে বিভক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কর্সিকা দ্বীপ এবং চারটি সামুদ্রিক অঞ্চল নিয়েই মূল ফ্রান্স।

৫. দেশটির সাথে বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ইটালি, স্পেনের, আন্ডরা মনাকো আর্ন্তজাতিক সীমানা রয়েছে। অপর প্রান্তে রয়েছে ইংল্যান্ড। সমুদ্র উপকুলীয় জলভাগ ইংল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবহার করে।

৬. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রায় পুরোটাই ফ্রান্সের মাটিতে সংঘটিত হয় এবং এর ফলে দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

৭. ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্স তার ধূলিস্যাৎ অর্থনীতিকে আবার গড়ে তোলে এবং বিশ্বের একটি প্রধান শিল্পরাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়। যুদ্ধের পরে ফ্রান্স নিউক্লীয় অস্ত্রের ক্ষমতা অর্জন করে, এবং শিল্পকলা বিজ্ঞানের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে।
৮. বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো জাতি-রাষ্ট্রের মধ্যে একটি হল ফ্রান্স। মধ্যযুগে ডিউক রাজপুত্রদের রাজ্যগুলি একত্র হয়ে একটিমাত্র শাসকের অধীনে এসে ফ্রান্স গঠিত হয়। বর্তমানে ফ্রান্স এর পঞ্চম প্রজাতন্ত্র পর্যায়ে রয়েছে।

৯. দেশটির সঙ্গে অন্যান্য দেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই দেশের পাসপোর্টে ১২৫টি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়, যা পাসপোর্ট শক্তি সূচকে ৩য় স্থানে রয়েছে।


১০. ফ্রান্সের মোট দেশজ উৎপাদনের মূল্য ২৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। ফলে ফ্রান্স ইউরোপের তৃতীয় বৃহত্তম ও বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি ।

১১. ফ্রান্সের ভূপ্রকৃতি বিচিত্র। দেশটির উত্তরে উপকূলীয় নিম্নভূমি বিস্তৃত সমভূমি। দক্ষিণ-মধ্য ফ্রান্সে আছে পাহাড়ী উঁচুভূমি। আর পূর্বে আছে সবুজ উপত্যকা সুউচ্চ বরফাবৃত আল্পস পর্বতমালা।


১২. কেবল ১৭শ শতকে এসেই ফরাসি ভাষা একটি আদর্শ রূপ গ্রহণ করে। ১৯শ শতক পর্যন্তও ফ্রান্সের এক-চতুর্থাংশ লোক আদর্শ ফরাসি নয়, বরং অন্য কোন ভাষায় কথা বলত


0 Comments:

Post a Comment