পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Monday, May 6, 2019

গ্রিস (জানার আছে অনেক)



গ্রিসকে পাশ্চাত্য সভ্যতার জন্মভূমি বলে মনে করা হয়। গ্রিস দেশটির জন্ম আনুমানিক তিন হাজার বছর আগে। খ্রিস্টপূর্ব দু হাজার অব্দ থেকে মিনেয়ান প্রভুরা ভূমধ্যসাগরের এই অঞ্চলের বিভিন্ন দ্বীপে গড়ে তুলেছিলেন নিজেদের বিশাল সাম্রাজ্য। 


নানারকম সুবিধা থাকার কারণে এথেন্সই হয়ে ওঠে গ্রীস দেশের অন্যতম শহর। তাদের নির্বাচন পদ্ধতিতেও ছিল একটি অন্য রকম অবস্থা। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই রাজ্য পরিচালনা করতেন। নির্বাচনে যাঁরা অংশ নিতেন না, শাস্তি স্বরূপ তাদের মুখে লাল রং মাখিয়ে দেওয়া হতো। এথেন্সে খ্রিস্টপূর্ব ৪৪৫ থেকে ৪৩১ পর্যন্ত দুর্দান্ত দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেন পেরিক্লিস।


সেই যুগে পর পর অনেক জগদ্বিখ্যাত দার্শনিক চিন্তাবিদ জন্মেছিলেন গ্রিসে। সাহিত্যে আবির্ভাব হয় ইসকাইলাস, সফোক্লিস এবং ইউরিপিডিসের মতো আরো অনেক জ্ঞানী গুণী ব্যাক্তি। 

ভাস্কর্যে ফিডিয়স, ইতিহাসে থুকিডিডেস, হেরোডেটাস, দর্শনে পারমেনিডেস, জুনো এবং জগদ্বিখ্যাত সক্রেটিস আবির্ভূত হন সে যুগেই। সক্রেটিসের যোগ্য শিষ্য প্লেটো তাঁরই দর্শনের ভিতের ওপর গড়ে তোলেন আদর্শ রিপাবলিকের থিসিস। প্লেটোর লেখা বইরিপাবলিকএখনও সারা পৃথিবী জুড়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে পঠিত হয়।


ইউনেস্কো গ্রীসের পার্থেননকেওয়ার্লড হেরিটেজ সাইটহিসাবে ঘোষণা করেছে। এথেন্স শহরের মাঝখানে অ্যাক্রোপোলিস পাহাড়ের উপর অবস্থিত এই পার্থেনন আসলে একটি প্রাচীন মন্দির। মন্দিরের মাঝখানে ছিল হাতির দাঁত, মূল্যবান কাঠ এবং স্বর্ণ নির্মিত ১২ মিটার উঁচু এথেনা দেবীর মূর্তি। সে মূর্তিও এখন নেই। এথেনার নামেই এই শহরের নাম এথেন্স। এথেনা ছিলেন বিদ্যা, বুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিকতার দেবী, তবে প্রয়োজনে যুদ্ধও করতেন সমান দক্ষতায়।



ঠিক কবে আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গ্রিসের জন্ম হয়েছে তা নিয়ে বির্তক আছে। অনেক গ্রিক নাগরিক মনে করেন, ১৮২৭ সালের পহেলা মে ত্রোজানে অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় অধিবেশনের মাধ্যমে আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গ্রিস আত্মপ্রকাশ করে। তবে ১৮৩০ সালের ফেব্রুয়ারির আগে ইউরোপের কোনো বড় শক্তি সার্বভৌম দেশ হিসেবে গ্রিসকে স্বীকৃতি দেয়নি।

আবার কারও মতে ১৮২৩ সালের ৩০ নভেম্বর দেশটি প্রকৃত অর্থে জন্ম লাভ করেছিল। কারণ সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে অন্যরা স্বীকৃতি না দিলেও গ্রিকরা দিনই বিরাট এক ঋণ গ্রহণ করেছিল। ব্রিটিশ ব্যাঙ্কার সমিতি থেকে অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য সেই দিন গ্রিস ,০০,০০০ পাউন্ড ঋণ নেয়, যার বড় অংশ অস্ত্র কেনায় ব্যয় করা হয়। এর চার বছর বছর পর অদৃশ্য গ্রিস রাষ্ট ঘোষণা দেয়, দেউলিয়াত্বের কারণে গৃহীত ঋণের সুদ পরিশোধ তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।



 গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের প্রধান গ্র্যান্ড ডিউক নোটারাস বলেন, রোমান সম্রাটের মুকুট অপেক্ষা তিনি ওসমানি সুলতানের পাগড়ি দেখতে বেশি পছন্দ করেন। ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দের ২৫ মে সুলতান মুহাম্মদ ফাতেহ কনস্টান্টাইনের প্রতিরোধ ভেঙে ফেলে কনস্টান্টিনোপলে প্রবেশ করেন। যুদ্ধে গ্রিসের রাজা নিহত হন। কনস্টান্টিনোপলে ইসলামের পতাকা উড্ডীন হয়। এভাবে প্রায় ৬০০ বছর আগে হাদিসে রাসুল (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী সুসংবাদ প্রতিফলিত হয়। কনস্টান্টিনোপল দখলের পর মুহাম্মদ ফাতেহ গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের কর্তৃপক্ষকে একটি সনদ প্রদান করেন। খ্রিস্টানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি অবাধে প্রতিপালনের অধিকার স্বীকৃত হয়। সুলতান নির্দেশ দেন যেন কোনো গির্জা উপাসনায়গুলোর অসম্মান না করা হয় এবং পাদরি, মহিলা, শিশু অক্ষমদের যেন কোনো ধরনের কষ্ট না দেওয়া হয়।

ইসলাম পরাজয়ের ঘটনা:



সময়টি ছিল ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দ। ওডেসাতে চারজন গ্রিক বণিকহিটারিয়া ফিলকিনামে এক গুপ্ত কমিটি গঠন করে। ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে এর সদস্যসংখ্যা এসে দাঁড়ায় দুই লাখে। ইউরোপে ওসমানি খেলাফতের অবসান ঘটিয়ে প্রাচীন গ্রিক সাম্রাজ্যের মতো একটি নতুন গ্রিক সাম্রাজ্য গঠন ছিল এই সমিতির লক্ষ্য। ইতিহাসবিদ লেনপুল বলেন, ‘স্বাধীনতার উচ্চাদর্শ এই সব বিদ্রোহকে যতখানি না উদ্দীপিত করেছিল, তার চেয়ে বেশি করেছিল রাশিয়ার উস্কানি।

তৎকালীন ওসমানি খেলাফতের উত্তরসূরি দ্বিতীয় মিসরের মুহাম্মদ আলীর সৈন্যরা গ্রিক বিদ্রোহীদের প্রায় কোণঠাসা করে ফেলেছিল। সময় প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমি গ্রিসের প্রতি ইউরোপীয়দের মনে সহানুভূতি জেগে ওঠে। ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া, ফ্রান্স ইংল্যান্ডের মিলিত বাহিনী নাভারিনোর নৌযুদ্ধে ওসমানি নৌবাহিনীকে পরাজিত করে। ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে গ্রিসের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালিয়ে ওসমানি বাহিনী আবারও পরাজিত হয়। অবশেষে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ওসমানি খেলাফত গ্রিসের স্বাধীনতা মেনে নিতে বাধ্য হয়।

শিল্পবিল্পব::

অনেক দেশের শিল্প সংস্কৃতির উপর প্রাচীন গ্রিসের শিল্পের প্রভাব দেখা যায় সেই প্রাচীন সময় থেকে আজ পর্যন্ত, বিশেষত ভাস্কর্য এবং স্থাপত্য শিল্পে। পশ্চিমের রোমান সাম্রাজ্যের শিল্পের বেশির ভাগই গ্রিসের নমুনায় বা নমুনা থেকে নেয়া। পূর্বের মধ্য এশিয়া, গ্রিক এবং ভারতীয় সংস্কৃতি তৈরী করেছিল গ্রিকো-বুদ্ধিস্ট শিল্প যা জাপান পর্যন্ত যায়।
এগুলোর সূচনা হয়েছিল মহান আলেক্সান্ডারের বিজয়ের অভিযানের মধ্য দিয়ে। ইউরোপে রেঁনেসার যুগে ইউরোপিয় শিল্পীরা অনুপ্রাণিত হয়েছিল গ্রিকদের শিল্প দ্বারা। ঊনবিংশ শতাব্দির মধ্যে সনাতনি ঐতিহ্য যেগুলো পশ্চিমা বিশ্বে তৈরি হয় সেগুলো গ্রিসদের থেকে প্রাপ্ত।

গ্রিসের খাবার:


গ্রিসের খাবারের মধ্যে অন্যতম খাবার গুলো হলো: পেনিরলি পাইডি, গ্রিক সালাদ, ডোলমাডিস, গ্রিসের জলপাই ও জলপাই তেল, মিসসাকা, সোয়ুবলাকি, গ্রিক বার্গার, কুলুরি, জাইরো ইত্যাদি।

0 Comments:

Post a Comment