পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Wednesday, May 15, 2019

এশিয়া মহাদেশ (জেনে নিই বিস্তারিত)


পূর্বে রোমানরা এশিয়া বলতে দুটি প্রদেশ বোঝাতো। প্রথমত এশিয়া মাইনর, দ্বিতীয়ত এশিয়া মেজর। এশিয়া শব্দটি ৪৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হেরোডোটাস তার বই হিস্ট্রোসে ব্যবহার করেছিলেন। যদিও তখন তিনি এই শব্দটি দিয়ে ইজিয়ান সাগরের পূর্বদিকের ভূখণ্ডকে বুঝিয়েছিলেন। এশিয়া শব্দটি প্রাচীন গ্রিক শব্দ ‘Aσία’ থেকে এসেছে। আর এই গ্রিক শব্দটির মূলে রয়েছে ফিনিশীয় শব্দ ‘asu’, যার অর্থ পূর্ব


এশিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ। এটি ভূপৃষ্ঠের .% স্থলভাগের ২৯.% অংশ জুড়ে অবস্থিত, বৃহত্তম তটরেখা ৬২,৮০০ কিলোমিটার এশিয়াতে বিশ্বের ৬০%-এরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। এশিয়াকে বৃহত্তর স্থলভাগ ইউরেশিয়ার পূর্ব অংশ হিসেবে ধরা হয়। এটি সুয়েজ খালের মাধ্যমে আফ্রিকা থেকে এবং উরাল পর্বতমালা, ককেশাস পর্বতমালা, কৃষ্ণ সাগর কাস্পিয়ান সাগরের মাধ্যমে ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন।

এশিয়া মোট ৪৭ টি দেশ নিয়ে গঠিত তার মধ্যে অন্যতম কিছু হলো:

) রাশিয়া ) মঙ্গোলিয়া ) চীন ) ইন্ডিয়া ) শ্রীলংকা ) মালদ্বীপ ) নেপাল ) ভুটান ) বাংলাদেশ ১০) মায়ানমার ১১) থাইল্যান্ড ১২) লাওস ১৩) ভিয়েতনাম ১৪) কাম্বোডিয়া ১৫) ইন্দোনেশিয়া ১৬) মালয়েশিয়া ১৭)তিমোর লেস্টে ১৮) ব্রুনেই ১৯) সিঙ্গাপুর ২০) তাইওয়ান ২১) ফিলিপিন্স ২২) জাপান ২৩) নর্থ কোরিয়া ২৪) সাউথ কোরিয়া ২৫) পাকিস্তান ২৬) আফগানিস্তান ২৭) তাজিকিস্তান ২৮) ক্যর্জ্ঞ্জস্তান ২৯) কাজাখস্তান ৩০) উজবেকিস্তান ৩১) তুর্কমেনিস্তান ৩২) জর্জিয়া ৩৩) আরমেনিয়া ৩৪) আজেরবাইজান ৩৫) ইরান ৩৬) ইরাক ৩৭) সিরিয়া ৩৮) লেবানন ৩৯) জর্দান ৪০) ইস্রায়েল ৪১) সৌদি এরাবিয়া ৪২) ইমেন ৪৩) ওমান
জাতিসংঘের সদস্য দেশ স্বাধীন দেশ ৪৪ টি



এটা পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর এবং উত্তরে উত্তর মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত।


লোহিত সাগর সুয়েজ খাল এশিয়া মহাদেশকে আফ্রিকা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং উত্তর-পূর্বে অবস্থিত সংকীর্ণ বেরিং প্রণালী একে উত্তর আমেরিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে। উল্লেখ্য, বেরিং প্রণালীর একদিকে অবস্থান করছে এশিয়া মহাদেশের অন্তর্গত রাশিয়ার উলেনা এবং অপর পাশে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্গত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা।


জলবায়ু:

এশিয়া সাধারণত ইউরেশিয়ার পাঁচ ভাগের চার ভাগ নিয়ে পূর্ব দিকে অবস্থিত। এটা সুয়েজ খাল ইউরাল পর্বতমালার পূর্বে, ককেশাস পর্বতমালা, কাস্পিয়ান সাগর কৃষ্ণ সাগরের দক্ষিণে অবস্থিত।এটা পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত, এবং উত্তরে উত্তর মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত। এশিয়া মহাদেশে ৪৮টি দেশ আছে, তাদের দুটি (রাশিয়া তুরস্ক) দেশের ইউরোপে অংশ আছে।


মহাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অংশ উষ্ণ। উত্তর গোলার্ধের মধ্যে সাইবেরিয়া অন্যতম শীতলতম অঞ্চল, এবং উত্তর আমেরিকা জন্য আর্কটিক বায়ুভরের একটি উৎস হিসাবে কাজ করে। ট্রপিকাল সাইক্লোনের জন্য পৃথিবীতে সবচেয়ে সক্রিয় জায়গা উত্তরপূর্বে ফিলিপাইন দক্ষিণ জাপান। উচ্চতার প্রভাবে এশিয়ার মধ্যভাগের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে সারাবছর ধরেই শীতল জলবায়ু দেখা যায় বিশাল আয়তনের জন্য মহাদেশের প্রায় একতৃতীয়াংশ সমুদ্র থেকে বহুদূরে অবস্থিত সেই কারণে মহাদেশের বিস্তীর্ণ মধ্যভাগে সমুদ্রের কোনও প্রভাব না থাকায় এখানে গ্রীষ্মকাল খুব উষ্ণ এবং শীতকাল খুবই ঠান্ডা অর্থাৎ, জলবায়ু চরমভাবাপন্ন

শীতকালে মধ্য উত্তর এশিয়ার তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নীচে নেমে যায় এশিয়ার দক্ষিণ অংশে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলে পশ্চিমাবায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চল বৃষ্টিহীন

এশিয়ার উত্তর ভাগে সুমেরু বৃত্ত সংলগ্ন এলাকায় প্রায় সারাবছরই শীতল আবহাওয়া বিরাজ করে এই অঞ্চলে বছরে প্রায় - মাস তুষারপাত হয় এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকাল শীতল এবং শীতকাল অতি তীব্র শীতল



চীনের ইয়ানজে নদী মহাদেশের দীর্ঘতম নদী। নেপাল চীনের মধ্যকার হিমালয় পর্বতমালা বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা পর্বতশ্রেণী।


এশিয়াতে বিভিন্ন ভাষার সমারহ। এথ্নোলগ অনুযায়ী, ৬০০- অধিক ভাষা ইন্দোনেশিয়ায়, ৮০০- অধিক ভাষা ভারতে প্রচলিত। এবং ১০০-এর বেশি ফিলিপাইনে প্রচলিত। চীন বিভিন্ন প্রদেশে অনেক ভাষা এবং উপভাষা রয়েছে।

বিশ্বের অনেক প্রধান ধর্মের উৎস এই  এশিয়া মহাদেশ।  
জেরুসালেমে টেম্পল মাউন্টটনে ডোম অব রক, জেরুসালেম ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্ট ধর্ম, ইসলাম ধর্মের জন্য একটি পবিত্র শহর।মক্কার কাবায় হজ্জের তীর্থযাত্রীরা চীনের লুশান কাউন্টি, হেনানে বসন্ত মন্দির বুদ্ধ, যা বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মূর্তি।
বিশ্বের অনেক প্রধান ধর্মের উত্স এশিয়ায়। এশীয় পুরাণ জটিল এবং বিচিত্র।

এশিয়ার রান্নাবাড়া::

এশীয় রন্ধনশৈলী হচ্ছে কিছু প্রধান আঞ্চলিক রন্ধনশৈলী পূর্ব এশীয় রন্ধনশৈলী, দক্ষিণ পূর্ব এশীয় রন্ধনশৈলী, দক্ষিণ এশিয়া রন্ধনশৈলী,মধ্য এশীয়, এবং মধ্যপ্রাচ্যীয় রন্ধনশৈলী নিয়ে গঠিত। রন্ধনশৈলী হচ্ছে রান্নার অভ্যাস এবং ঐতিহ্যের সম্মিলন যা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতির সাথে যুক্ত। বৃহত্তম এবং সর্বাধিক জনবহুল মহাদেশ এশিয়া হচ্ছে অনেক সংস্কৃতির বাসস্থান যাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের রন্ধনশৈলী আছে।


মহাদেশের পূর্ব দক্ষিণপূর্ব অঞ্চলের বহু সংস্কৃতির মধ্যে একই ধরণের উপাদানের ব্যবহার রয়েছে যেমন চাল, আদা, রসুন,, তিল বীজ, চিনি, শুকনো পেঁয়াজ, সয়া, এবং তোফু। ভাজা, সিদ্ধ ভাজা, কড়া ভাজা এই অঞ্চলের সাধারণ রান্নার পদ্ধতি।

বেশিরভাগ এশিয়ান রন্ধনশৈলীর মধ্যে চালের ব্যবহার সাধারণ। যদিও বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের চালের জনপ্রিয়তা রয়েছে। উপমহাদেশে বাসমতি চাল জনপ্রিয়, জুঁই চাল প্রায়ই দক্ষিণ-পূর্বের অঞ্চলে পাওয়া যায়। তবে চীনে লম্বা দানার চাল এবং জাপান কোরিয়ায় ছোট দানার চাল জনপ্রিয়।

এশিয়ার অন্যতম প্রণীসমূহ:

রয়েল বেঙ্গল টাইগার

ভয়ঙ্কর দাঁত ও নখের সাহায্যে আক্রমণ করে এশিয়ার বনে-জঙ্গলে যে প্রাণীটি বেশি মানুষ মেরে ফেলেছে সেটি হচ্ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘ। প্রাণীটি শিকারের শ্বাসনালী চেপে ধরে ও শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে। এদের শিকারের তালিকায় বন্য শূকর, হরিণ থেকে শুরু করে প্রায় এক টন ওজনের মহিষও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। মানুষকেও কাছে পেলে সহজে ছাড়ার পাত্র নয় এরা। তবে প্রাণীটি হাতির কাছে খুব একটা সুবিধা করতে পারে না।
মানব সভ্যতার ইতিহাসে প্রাণীর দ্বারা সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় এই বাঘের কাছেই। 

সাধারণত বনের আশপাশে গড়ে ওঠা জনপদের সাথে সংঘর্ষ করতে গিয়েই এমন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে প্রাণীটি। বিশ শতকে এদের দ্বারা শুধু ভারতেই ১৫-২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। খাদ্যের অভাব, বাসস্থান সংকট, অবৈধ শিকারের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবনের আশপাশের গ্রাম ও ব-দ্বীপ এলাকায় এরা এখনও মাঝে মাঝে মানুষকে মেরে ফেলছে। তবে বিভিন্ন কারণে প্রাণীটির সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাওয়ায় হত্যাকাণ্ডও কমে যাচ্ছে।

স্লথ বিয়ার

স্লথ বিয়ার বা ভালুক ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও বাংলাদেশের নিম্নভূমির বনাঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। তবে শিকার ও বাসস্থান ধ্বংসের কারণে বাংলাদেশে বর্তমানে নেই বললেই চলে। ভালুক প্রজাতির মধ্যে এই প্রাণীটি অনেক ব্যতিক্রম। এরা প্রধানত পিঁপড়া ও উইপোকা খায়। স্লথ বা অলস ভালুক বলা হলেও এরা মোটেও অলস নয়। খাবারের সন্ধানে সারাদিন এদিক-সেদিক ঘুরাঘুরি করে।

এই প্রাণীটি সাড়ে ৪ ফুট থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা এবং ওজন প্রায় ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এরা বাঘের সাথেও সমানতালে লড়াই করতে পারে। লম্বা নখর দিয়ে এরা মানুষসহ যেকোনো প্রাণীকে মারাত্মকভাবে জখম করতে পারে। ১৯৮০-৯৭ সাল পর্যন্ত ভারতের পান্না জাতীয় উদ্যানে ৮০ জন লোককে আক্রমন করে, যার মধ্যে তিনজন মারা গিয়েছিল।


হাতি

এশিয়ান হাতি ১০ ফুট উঁচু ও প্রায় ৮ টন ওজনের হয়ে থাকে। এরা মানুষের ভাল বন্ধু হতে পারে। আকারে অনেক বড় হলেও এরা সহজে মানুষের সাথে ক্ষমতা দেখাতে যায় না। তবে খুবই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে যখন মাস্ত (musth) নিঃসৃত হয় অথবা বাচ্চার বিপদ দেখে।

মাস্ত সাধারণত টেম্পোরাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে চোখ ও কানের মাঝামাঝি জমতে থাকে। এ সময় প্রজননের সাথে সম্পর্কিত হরমোনের কিছু পরিবর্তন ঘটে। টেম্পোরাল গ্রন্থি ফুলে ওঠে ও হাতি চোখে প্রচুর ব্যথা অনুভব করে। পুরুষ হাতির টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৬০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। সে সময় হাতি খুবই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এমনকি তখন মাহুতও কাছে যেতে পারে না। অপরদিকে বাচ্চার কোনো প্রকার বিপদ দেখলে স্ত্রী হাতিও প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।

0 Comments:

Post a Comment