পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Friday, May 3, 2019

জার্মানি(অজানা কিছু তথ্য)



জার্মানি মধ্য ইউরোপের একটি বড় রাষ্ট্র। জার্মানির ইতিহাস জটিল এবং এর সংস্কৃতি সমৃদ্ধ, তবে ১৮৭১ সালের আগে এটি কোন একক রাষ্ট্র ছিল না। ১৮১৫ থেকে ১৮৬৭ পর্যন্ত জার্মানি একটি কনফেডারেসি এবং ১৮০৬ সালের আগে এটি অনেকগুলি স্বতন্ত্র আলাদা রাজ্যের সমষ্টি ছিল।


এটি দক্ষিণে আল্পস পর্বতমালা থেকে উত্তর ইউরোপীয় সমভূমি হয়ে উত্তর সাগর বাল্টিক সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। সামুদ্রিক জলসীমার অন্তর্গত এলাকা গণনায় ধরে জার্মানির আয়তন ,৫৭,০২১ বর্গকিলোমিটার এবং আয়তনের দিক থেকে দেশটি ইউরোপের ৭ম বৃহত্তম রাষ্ট্র। আল্পস পর্বতমালাতে অবস্থিত ,৯৬২ মিটার উঁচু ৎসুগষ্পিৎসে জার্মানির সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। জার্মানির মধ্যভাগে আছে অরণ্যাবৃত উচ্চভূমি এবং উত্তরে আছে নিম্ন সমতলভূমি।

আয়তনের দিক থেকে জার্মানি ইউরোপের ৭ম বৃহত্তম রাষ্ট্র। উত্তর উত্তর সাগর বাল্টিক সাগরের উপকূলীয় নিম্নভূমি থেকে মধ্যভাগের ঢেউ খেলানো পাহাড় নদী উপত্যকা এবং তারও দক্ষিণে ঘন অরণ্যাবৃত পর্বত বরফাবৃত আল্পস পর্বতমালা দেশটির ভূ-প্রকৃতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে। দেশটির মধ্য দিয়ে ইউরোপের অনেকগুলি প্রধান প্রধান নদী বয়ে গেছে


জার্মানিতে নগরায়নের হার অত্যন্ত উঁচু। বার্লিন দেশের রাজধানী বৃহত্তম শহর জার্মানি বিশ্বের একটি প্রধান শিল্পোন্নত দেশ। এটির অর্থনীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের পরে বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম। জার্মানি লোহা, ইস্পাত, যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম এবং মোটরগাড়ি রপ্তানি করে। জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি।


            ১৮৭১ সালে অটো ফন বিসমার্কের অধীনে একত্রিত হবার পর জার্মানিতে দ্রুত শিল্পায়ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মানি ইউরোপে আধিপত্য স্থাপনের চেষ্টা চালালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ১৯১৮ সালে যুদ্ধে জার্মানির পরাজয় ঘটলে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এর উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়ার ফলে নাৎসি পার্টির আবির্ভাব ঘটে। নাৎসি পার্টি ১৯৩০-এর দশকে আডলফ হিটলারের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে। ১৯৩৯ সালে জার্মানির আগ্রাসনের ফলে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বযুদ্ধ হয়।

এই নিয়ে একটা চমৎকার সত্যা গল্প রয়েছে আর তা হলো :

ম্যাক্স আইসেনকে ১৫ বছর বয়সে পরিবারের সবার সঙ্গে ধৃত হয়ে নাৎসি বাহিনী কর্তৃক অধিকৃত হাঙ্গেরি থেকে বন্দীবোঝাই ট্রেনযোগে পোল্যান্ডের আউৎসুইৎতজ বন্দিশিবিরে আসতে হয়েছিল। ট্রেন থেকে নামার পরই বন্দী বাছাইপর্বে তাঁর বাবা আর চাচাকে আলাদা করা হয়েছিল। যাওয়ার সময় তাঁর বাবা ম্যাক্সকে বলেছিলেন, ‘তুই বেঁচে থাকলে বিশ্ববাসীকে নাৎসি বাহিনী কর্তৃক আমাদের অসহনীয় বন্দিজীবনের কথা জানাবি,’ এরপর অসহায় বাবা পুরোনো এক বন্দীকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমার পরিবারের সঙ্গে আবার কখন মিলনের সুযোগ ঘটবে?’ সেই বন্দী তখন নরকপুরীসম বন্দীদের হত্যার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস চেম্বারের লম্বা চিমনির ধোঁয়ার দিকে হাত তুলে বলেছিলেন, ‘ওই চিমনির ধোঁয়ার মাঝে তোমার পরিবারের মিলন ঘটবে।



আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় অন্যতম সফল দল তিনটির মধ্যে জার্মানি একটি। এখন পর্যন্ত দলটি চারবার ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা জয় করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্থিতিশীল ঠান্ডা মাথার দল হিসেবে ধরা হয়। চারবার করে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি দলটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লীগের তিনবার বিশ্বকাপ ফুটবলে চারবার রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সেই সাথে তাঁরা চারবার বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলো। ১৯৭৬ সালে পূর্ব জার্মানি অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয় করে। ফুটবল ইতিহাসে জার্মানি- একমাত্র দেশ যারা পুরুষ নারী উভয় ফুটবল বিশ্বকাপে শিরোপা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে।




ইউরোপের কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় পরিবহনখাতের গুরুত্বের দিক দিয়েও জার্মানি কেন্দ্রে অবস্থিত। জার্মানীর বহুমুখী আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা এরই পরিচয় বহন করে। বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম মোটরওয়ে জার্মানিতে অবস্থিত যা স্থানীয়ভাবে অটোবান নামে পরিচিত। উচ্চগতিসম্পন্ন রেলের একটি বহুকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক জার্মানি তৈরি করেছে।
 আন্তনগর এক্সপ্রেস হচ্ছে জার্মানীর সর্বাধিক অগ্রসর সার্ভিস যা নগর অতিক্রম করে প্রতিবেশি রাষ্ট্রসমূহের সাথেও যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
রেলের সর্বোচ্চগতি ঘন্টায় ১৬০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ৩০ মিনিট, এক ঘন্টা বা ঘন্টা ব্যবধানে সার্ভিস পাওয়া যায়।



                      জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। সারা পৃথিবীতে জার্মানি ১৫তম জনবহুল দেশ। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২২৯. জন অধিবাসী বাস করে। জার্মান ভাষা জার্মানির সরকারি ভাষা। এছাড়া অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে আরও অনেকগুলি ভাষা প্রচলিত। এদের মধ্যে আরবি, গ্রিক, ইতালীয়, কুর্দি এবং তুর্কি ভাষা উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও এখানে অনির্দিষ্ট সংখ্যক রোমানি ভাষাভাষী বাস করে।



            জার্মানি অঞ্চলকে দুটি বাস্তুঅঞ্চলে ভাগ করা যেতে পারে, ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান পার্বত্য মিশ্র বনভুমি অঞ্চল এবং উত্তরপূর্ব আটলান্টিক মহীসোপান অঞ্চল। জার্মানীতে চাষাবাদযোগ্য কৃষিজমির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ, স্থায়ী চারণভুমি ১৫ শতাংশ এবং বনভূমির পরিমাণ ৩১ শতাংশ। যায়। উত্তরসাগর এবং নদীগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যায়। হরিণ, বন্য শুয়োর, শিয়াল, ব্যাজার, খরগোশ এবং ভোঁদড় পাওয়া যায়।


            জার্মানিতে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ বায়ুকল এবং সৌর শক্তি সংগ্রাহক রয়েছে। জার্মানি পরিবেশ সচেতন জাতি হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত। বেশির ভাগ জার্মানরাই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ব্যাপারে সচেতন।

0 Comments:

Post a Comment