পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Monday, May 6, 2019

ডেনমার্ক (জেনে নিই মজার কিছু তথ্য)


২০১৬ সালে ডেনমার্ককে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছিল জাতিসংঘ। ২০১৭ সালে ডেনমার্ক ছিল দ্বিতীয় স্থানে। প্রায় প্রতিবছরই প্রথম পাঁচটি সুখী দেশের মধ্যে দেখা যায় ডেনমার্কের নাম। কিভাবে আরামে, ধীরে ধীরে প্রত্যেকটি মূহুর্ত উপভোগ করতে হয় তাই যেন বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দেয় এদেশের মানুষ



ডেনমার্ক উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। ডেনীয় ভাষায় এর সরকারি নাম ভাইকিংয়েরা ,১০০ বছর আগে ডেনীয় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। এটি ইউরোপেরসবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজত্বগুলির একটি। ডেনমার্কের বর্তমান জাতীয় পতাকা Dannebrog ১২১৯ সাল থেকে প্রচলিত। কোপেনহেগেন ডেনমার্কের রাজধানী বৃহত্তম শহর। ডেনমার্কের ৬০০ বছরের রাজধানী কোপেনহাগেনের বৃহত্তর অংশ জেলান্ডের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত।

এছাড়াও স্কটল্যান্ডেরউত্তর-পশ্চিমে ১৮টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফারো দ্বীপপুঞ্জ এবং তারও অনেক উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীন। রাজনৈতিকভাবে ফারো দ্বীপপুঞ্জ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ হলেও প্রতিরক্ষা বৈদেশিক সম্পর্কের ব্যাপারগুলি বাদে এরা স্বশাসিত।


        বিগত শতাব্দীগুলিতে ডেনমার্কের রাজারা সমগ্র নরওয়ে সুইডেন কিংবা এদের কিয়দংশ শাসন করেছেন। তারা দ্বীপরাষ্ট্র আইসল্যান্ডও শাসন করেছেন। ভৌগলিকভাবে ডেনমার্ক উত্তরের স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলির সাথে মহাদেশীয় ইউরোপের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।



উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক। সংখ্যার দিক দিয়ে ডেনমার্কে মুসলমানরা সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু। দুই লাখ মুসলমান বাস করে দেশটিতে। গত এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী দেশটির মোট জনসংখ্যা ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার, যার অধিকাংশ খ্রিস্টান।

এক  সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধুমাত্র গত ১৬ বছরে ডেনমার্কে মুসলিমের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। প্রকৃত পরিসংখ্যান জানা না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, ডেনমার্কে মোট জনসংখ্যার প্রায় .৫৯ শতাংশ এবং সুইডেনে প্রায় .০৫ শতাংশ মুসলমান।

এত আরাম আয়েশের দেশ কেন??

            যে কোন ড্যানিশ লোককে জিজ্ঞেস করে দেখুনহুগে’   মানে কি। তারা আপনাকে নানানভাবে এর উত্তর দেবে, যার সবই মোটামুটি আরাম-আয়েশ, সুখানুভূতি আর আনন্দের অভিজ্ঞতার বর্ননা দেবে। হোক সে এক কাপ চা খাওয়ার আনন্দ, কিংবা একটি মোম জ্বালানোর ছোট্ট উচ্ছাস, হুগে হলো এমন এক শব্দ যেটার আক্ষরিক অনুবাদ সম্ভব নয়। শব্দটি সাংস্কৃতিক মূল্যবোধগুলির মধ্যে থাকা সূক্ষ পার্থক্যকে আরো প্রশস্ত করে তুলে ধরে।


ড্যানিশ সংগীতজ্ঞ ওহ ল্যান্ড কফিতে চুমুক দিতে দিতে কথা বলছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডেনমার্কে বসবাসের পার্থক্য নিয়ে। তাঁর ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগের ব্যাপারগুলো কেমন যেন আয়োজন করে করা এবং তা সময়ের হাতে বাধা। যেমন ফুটবল খেলা দেখতে যাওয়া, কিংবা কিছু উদযাপন করতে নামীদামী রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া। কিন্তু আসলে হুগে বলতে আমি যা মনে করি তা হলো, সময়ের সীমাবদ্ধতার কথা না ভেবেই কোনো কিছু করা, আনন্দময় সময় কাটানো। যেরকম মানুষের সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগে, তাদের সাথে কোন কিছুর চিন্তা মাথায় না রেখে সময় কাটাতে পারাটাই আনন্দ

হুগে পেতে আপনাকে প্রতিটা মূহুর্ত উপভোগ করতে হবে। আর সেক্ষেত্রে বাধা হয়ে উঠতে পারে আপনার দখলে থাকা সব প্রযুক্তিপন্য। ফোনের স্ক্রীনের আলোর ঝলকানী ছেড়ে আপনার উচিৎ হবে অ্যানালগ বিনোদনে বেশি মনোনিবেশ করা। যেমন ধরুন বই পড়া, লেখা, বোর্ড গেম খেলা, কারু শিল্পে মেতে ওঠা, রান্না কিংবা শুধুমাত্র গল্পে গল্পে সময় কাটিয়ে দেওয়া।

ডেনমার্ক নিয়মিতভিত্তিতে বিশ্বের সুখী রাষ্ট্রের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছে। সুখের রহস্য জানতে তাদের সংস্কৃতির দিকে আগ্রহী হচ্ছে অনেক প্রতিবেশী দেশগুলো।

ঠান্ডার মধ্যে হাতের মাঝে গরম ধোয়া ওঠা এক মগ কফির তুলনা হয়না। ডেনমার্কের মানুষ তাদের কফি ভালোবাসে। বিভিন্ন ধরনের ক্যাফে তে রয়েছে হরেক রকম ব্যবস্থা। কম্বল মুড়ি দিয়ে শহরের কোলাহল ছেড়ে বহুতল ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে, কিংবা বই দিয়ে ভর্তি কোন কক্ষে কিংবা আগুন জ্বালা এক সুন্দর লিভিং রুমে, যেভাবে আপনার আনন্দ লাগে আপনি সেভাবেই আপনার কফি উপভোগ করতে পারবেন।

মোটকথা, ড্যানিশরা আরামপ্রিয় জাতি। তাদের জীবনযাপনে কিছুদিন অভ্যস্ত হয়েই দেখুন। তারা প্রতিটা পদে পদে আরামের সন্ধান করছে, এবং উপভোগ করছে তাদের প্রতিটা মূহুর্ত। এই জাতি সুখী হবেনা, তো কারা হবে?


     ডেনমার্কের আইকন বলে পরিচিত কোপেনহেগেনের মৎসকণ্যা দ্যা লিটল মারমেইড বাল্টিক সি বা শান্ত সাগরের পাড়ে লাংয়ে লিনিয়া দেখা মিলবে এই মৎসকণ্যার ভাস্কর্যর। বিশ্বখ্যাত ডেনিস লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান আন্ডারসনেরপরী কাহিনীগল্প অবলম্বনে নির্মিত হয় এই ভাস্কর্য। ১৯১৩ সালে ভাস্কর আডভার্ট এরিকসন তৈরি করেন ব্রোঞ্জের তৈরি এই মূর্তিটি। ডেনমার্কের জাতীয় পাখি সোয়ানের যেমন ঘিরে থাকে মৎসকণ্যাকে, তেমনি দেশ-বিদেশের পর্যটকের্র ভীড় মৎসকণ্যাকে ঘিরে।


রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯৬৪ সালে ঢেকে দেয়া হয় মৎসকণ্যার মুখ। ১৯৮৪ সালে আঘাত হানা হয় মৎসকণ্যার হাতে আর ১৯৯০ সালে ছিন্ন করা হয় মৎসকণ্যার মাথা। যদিও সেই মাথা প্রতিস্থাপনের পর আবারো লাংয়ে লিনিয়ায় ফিরেয়ে আনা হয় মৎসকণ্যা দ্যা লিটল মারমেইডকে। এরপর ২০১৩ সালে মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে মাসের জন্য ভাড়া নিয়েছিলো চীন সরকার। সে দেশের নাগরিকদের মৎসকণ্যার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই উদ্যোগ নিয়েছিলো চীন সরকার। এদিকে ডেনিসদের পক্ষ হতে বলা হয় তাদের গর্বের আরেক নামদ্যা লিটল মারমেইডবা মৎসকণ্যা।
        

ছোট দেশ হলেও খাবার-দাবারের বৈচিত্র্যের নিরিখে ডেনমার্ক কম যায় না৷ বিদেশের নানা খাবারও নতুন রূপে দেখা যায় সেখানকার খাদ্য উৎসবে

মিউজিয়ামের বাগানে ব্রেকফাস্ট৷ ডেনমার্কের দক্ষিণে চাষীদেরঘরে তৈরি বিখ্যাত কেক'- রয়েছে৷ আগে ক্রিম আর মাখন নিয়ে কোনো কার্পণ্য করা হতো না৷ মাঠেঘাটে কাজ করলেই তো বাড়তি মেদ ঝরে যেত৷ স্যোন্ডারবর্গ শহরকে ঘিরে কেক-মিষ্টির খ্যাতি ডেনমার্কের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে৷ আরও ক্যালরি চাইলেও সমস্যা নেই৷ চেখে দেখতে পারেন গরুর দুধের স্মোকড চিজ বা অন্যান্য খাবার৷ গোটা স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ৫০টিরও বেশি রেস্তোরাঁর প্রতিনিধিরা এখানে তাঁদের স্পেশাল খাবারদাবার তুলে ধরছেন৷

সম্প্রতি কোপেনহেগেন শহরে ১০ দিন ধরে ১৫টি অনুষ্ঠান চলেছিল৷ গতবারের মূলমন্ত্র ছিলসোশ্যাল ফুড'কোপেনহেগেন কুকিং' উদ্যোগের প্রধান লনি হানসেন বলেন, ‘‘সোশ্যাল ফুড-এর ধারণার অনেকগুলি স্তর আছে৷ এর মধ্যে একটি হলো টেবিলে বসে অন্যান্য মানুষের সঙ্গে আলাপ-পরিচয়৷ আরেকটি হলো সামাজিক সচেতনতা৷ আজকাল খাদ্যের অপচয় নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে৷''


  এই ছিল সংক্ষিপ্ত ভাবে ডেনমার্ক সম্পর্কে কিছু আলোচনা।                                                                                              তথ্যসূত্র::ইন্টারনেট

0 Comments:

Post a Comment