পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Thursday, May 9, 2019

আইসল্যান্ড (সুখি দেশ)


আইসল্যান্ড ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। এটি গ্রিনল্যান্ডের পূর্বে উত্তর মেরুরেখার ঠিক দক্ষিণে মধ্য আটলান্টিক পর্বতমালার উপর অবস্থিত।বিগত ৬০ মিলিয়ন বছর ধরে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের অবশেষ থেকে দ্বীপটি উৎপত্তি লাভ করে।ভূ-গঠনগত দিক থেকে আইসল্যান্ড অপেক্ষাকৃত নবীন।



 আইসল্যান্ড (আইসল্যান্ডীয় ভাষায়    যাকে বলা হয় “ঈস্লান্ত্‌”) । সরকারী নাম আইসল্যান্ড প্রজাতন্ত্রইউরোপ মহাদেশের একটি প্রজাতান্ত্রিক দ্বীপ রাষ্ট্র। এর রাজধানীর নাম রেইকিয়াভিক।   পার্শ্ববর্তী গ্রিনল্যান্ডকে উত্তর আমেরিকার অংশ ধরা হলেও আইসল্যান্ডকে ইউরোপের অন্তর্গত রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা হয়।


ভূ-গর্ভস্থ উষ্ণ পানির প্রস্রবণগুলি দেশটির ভবনগুলিকে সারা বছর ধরে উষ্ণ রাখে এবং কৃষিকাজে সহায়তা করে। ।দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রস্রবণগুলি থেকে নির্গত জলীয় বাষ্পের কারণে সেখানে অবস্থিত আইসল্যান্ডের রাজধানীর নাম দেয়া হয়েছে রেইকিয়াভিক, অর্থাৎ "ধোঁয়াটে উপসাগর"

আইসল্যান্ডের সমুদ্র উপকূল প্রায় সারা বছর ধরে জাহাজ ভেড়ার জন্য উন্মুক্ত থাকে। কেবল শীতকালে মেরুদেশীয় অঞ্চল থেকে আগত ভাসমান বরফের কারণে দেশের উত্তর পূর্বের বন্দরগুলি বন্ধ রাখতে হয়।
আইসল্যান্ডের রুক্ষ্ম পর্বতশ্রেণীগুলি হিমবাহে আবৃত। এদের মধ্যে ভাৎনা (Vatnajökull) হিমবাহটি ইউরোপের বৃহত্তম।



                ‘আইসল্যান্ড শব্দটি শোনামাত্রই মাথায় বরফে আচ্ছন্ন এক দৃশ্য ফুটে ওঠে। হয়তো যখন আপনি এই আর্টিকেলটির টাইটেল পড়ছেন তখনও সেরকম কিছুই মাথায় এসেছে। তবে বাস্তবে কিন্তু মোটেও তা নয়;বরং দেশটি নামে বরফে আবৃত ঠান্ডা কোনো জায়গা মনে হলেও দেশটি আসলে প্রাকৃতিক রুপে পরিপূর্ণ। কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনে ওয়ালপেপার হিসেবে যে নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশ্য আমরা দেখতে পাই, দেশটি যেন এরই এক বাস্তবিক রুপ ।


১. প্রায় ১০০০ বছর আগে খ্রিস্টীয় ৯ম শতকে ভাইকিং অভিযানকারীরা আইসল্যান্ডে বসতি স্থাপন করে। আইসল্যান্ডবাসী তাদের ভাইকিং ঐতিহ্য নিয়ে বেশ গর্ব করে।
২. আইসল্যান্ডের রিকজাভিক বিশ্বের সার্বভৌম রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তরপশ্চিম-তম শহর।

৩. আইসল্যান্ডের পানি এতটাই বিশুদ্ধ যে কোনো প্রকার বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া ছাড়াই পানি প্রত্যেক ঘরে ঘরে সরবরাহ করা হয়।
৪. অনেকেরই ধারণা, আইসল্যান্ড এর আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা যেমনটি এর নাম শুনে মনে হয়। তবে বাস্তবে তা মোটেও সঠিক নয়। দেশটির আবহাওয়া মাঝারি ধরনের অর্থাৎ বেশি গরমও নয় আবার বেশি ঠান্ডাও নয়। ভৌগলিকভাবে অত্যন্ত উত্তরে সুমেরুর কাছে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের উষ্ণ উপসাগরীয় সমুদ্রস্রোতের কারণে এখানকার জলবায়ু তুলনামূলকভাবে মৃদু।

                 

৫. আইসল্যান্ডের আয়তন প্রায় ৩৯ হাজার বর্গ মাইল। যা প্রায় বাংলাদেশের আয়তনের এক-তৃতীয়াংশ সমান।
                ৬. আইসল্যান্ডে শিশুদের নিয়মিত ঘরের বাইরে ঘুমাতে দেয়া হয়। এর কারণ হলো ঘরের ভিতরের বায়ু সঞ্চালন অতটা ভালো নয় এবং ঘনবসতি বেশি হওয়ার শিশু জন্য পরিবেশ বেশ হুমকিস্বরুপ ।

                ৭. আইসল্যান্ডীয়দের বংশনাম বাবার শেষ নামে দিয়ে হয় না, নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। যেমন – ধরি, জন ইনারসসন নামের একজন ব্যক্তির ছেলে ওলফুর । পিতার নাম অনুযায়ী ওলফুরের শেষ নাম ইনারসসন হওয়ার কথা কিন্তু তা হবে জনসসন। অর্থাৎ বাবার প্রথম নাম হবে ছেলের উপাধি। জনসসন মানে হলো  জন এর সন বা ছেলে। মেয়েদের ক্ষেত্রেও তাই।


                    ৮. তিমি মাছ প্রদর্শনীতে আইসল্যান্ড বিখ্যাত। এর থেকে সরকারি খাতে মোটা অংকের রাজস্বও যোগ হয়ে থাকে।



                     ৯. অন্য যেকোনো দেশের থেকে এখানে প্রতি জনের মাথাপিছু কোকা-কোলা ক্রয় বেশি। বলাই যায়, আইসল্যান্ডীয়রা কোকা-কোলা প্রেমিক।


১০. আইসল্যান্ডীয়রা হলো বই পোকা। এক জরিপে বলা হয়েছে, আইসল্যান্ডের ১০% মানুষ তাদের জীবনকালে একটি হলেও বই প্রকাশ করে। আইসল্যান্ডে পৃথিবীর সর্বোচ্চ বই এবং পত্রিকা প্রকাশনী রয়েছে।


১১. আইসল্যান্ডের পুলিশ তাদের সাথে অস্ত্র হিসেবে বন্দুক বহন করে না। এর কারণ সেখানে অপরাধ খুব কম হয় এবং বড় ধরনের কোনো অপরাধ প্রায় অস্তিত্বহীন।

            ১২. আইসল্যান্ড দেশটি এতটাই পরিষ্কার যে সেখানে কোনো মশা নেই। কেবল মশা নয়,  মানুষের সমস্যা সৃষ্টিকারী এমন পোকা-মাকড় এর সংখ্যা অনেক কম।
১৩. দেশেটির জাতীয় ক্রীড়া হলো হ্যান্ডবল।
১৪. আইসল্যান্ড পৃথিবীর ১৮ তম বৃহত্তম দ্বীপ এবং ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ।
১৫. দেশটি উত্তর আটলান্টিক এবং আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত। তাই এখানে শীতকালীন রাত এবং গ্রীষ্মের দিনগুলি দীর্ঘ হয়।
১৬. আইসল্যান্ডে কোন ধরণের রেলওয়ে সিস্টেম নেই, মজার ব্যাপার হলো, এখানে মানুষ থেকে ভেড়ার সংখ্যা দ্বিগুণ।

১৭. আইসল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার হলো ‘হট ডগ  রেস্টুরেন্ট,গ্যাস স্টেশন কিংবা রাস্তার পাশের স্টপ যেখানেই হোক না কেনো এটি সর্বত্র পাওয়া যায়, ‘Hákarl’ যার অর্থ হলো পচে যাওয়া হাঙ্গর। এটি আইসল্যান্ডের জাতীয় খাবার।
           

দ্য ইন্সটিটিউট ফর ইকোনোমিকস অ্যান্ড পিস' মূলত বিশ্বের শতকরা ৯৯.৭ হার মানুষের আবাসস্থল ১৬৩টি স্বাধীন দেশকে নিয়ে এই তালিকা তৈরি করে। তিনটি মানদণ্ডের অধীনে ২৩টি গুণগত ও সংখ্যাগত নির্দেশকের প্রেক্ষিতে এই তালিকা গঠিত হয়।
‘দ্য ইন্সটিটিউট ফর ইকোনোমিকস অ্যান্ড পিস' (আইইপি) -এর তত্ত্বাবধানে তৈরি ‘গ্লোবাল পিস ইনডেক্স' অনুসারে, বিগত ১০ বছর ধরে আইসল্যান্ড পৃথিবীর মধ্যে সবচাইতে শান্তির দেশ হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার করে আসছে। শুধু তা-ই নয়, আইসল্যান্ড তালিকায় থাকা শীর্ষ ৪টি দেশের তুলনায় কম সামরিক শক্তিসম্পন্ন দেশ। উল্লেখ্য, তালিকায় থাকা অন্য শীর্ষ দেশগুলো হলো নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল ও ডেনমার্ক।


দ্য ইন্সটিটিউট ফর ইকোনোমিকস অ্যান্ড পিস' মূলত বিশ্বের শতকরা ৯৯.৭ হার মানুষের আবাসস্থল ১৬৩টি স্বাধীন দেশকে নিয়ে এই তালিকা তৈরি করে। তিনটি মানদণ্ডের অধীনে ২৩টি গুণগত ও সংখ্যাগত নির্দেশকের প্রেক্ষিতে এই তালিকা গঠিত হয়।


0 Comments:

Post a Comment