পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Tuesday, June 25, 2019

অদৃশ্য ভালবাসা :: পর্ব -৩


অসাধারণ ভালবাসা গল্প

মেয়েটি তার গল্প বলা শুরু করল।কোন এক গ্রামে বাস করত একজন দরবেশ বাবা। তার কাজই ছিল শুধু মাত্র মানুষের কাছ থেকে মিথ্যা বলে টাকা পয়সা হাতানো।সেই গ্রামের এক খুব সুন্দর মেয়ে ভালবাসল সেই গ্রামেরই আর এক ছেলেকে।দিনে দিনে মেয়েটি ছেলেটিকে খুব বেশিই ভালবাসতে শুরু করল। আর একদিন সুযোগ দেখে ছেলেটিকে তার মনের কথা বলে দিল।কিন্তু ছেলেটি বরাবরই মেয়েটিকে উপেক্ষা করে চলত।ছেলেটির মা বাবা কেউ বেচে ছিল না।



অদৃশ্য ভালবাসা
আর খুবই সহজ সরল ছিল সেই ছেলেটি।তবুও সেই মেয়েটি তাকে পাগলের মতো ভালবাসত। একদিন মেয়েটির কিছু বান্ধবি মিলে মেয়েটিকে বলল এই দরবেশ বাবার কথা। তারা বলল যে এখন একমাত্র এই দরবেশ বাবাই পারে মেয়েটির ছেলেটির মিলন ঘটাতে। মেয়েটি তাদের কথা শুনে আগে পিছে না ভেবে সেই দরবেশ বাবার কাছে চলে গেল আর সকল কিছু তাকে খুলে বলল। মেয়েটি দরবেশ বাবাকে জানাল যে সে ছেলেটিকে ছাড়া বাচতে পারবে না। আর সে ছেলেটির জন্য সকল কিছু করতে পারে।

মেয়েটি একটুও বুঝতে পারল না এই দরবেশ বাবার আসল রুপ। দরবেশ বাবা মেয়েটিকে বিভিন্ন রকম তাবিজ দিতে থাকে আর একদিন সে বলে গভীর রাতে তার কাছ থেকে একটা তাবিজ নিয়ে গিয়ে যদি মেয়েটি ছেলেটির বাড়িতে রাখতে পারে তবে তার ইচ্ছা পূরণ হবে। মেয়েটি বাড়ি থেকে লুকিয়ে সেই দিন মাঝ রাতে ঘর ছাড়ে আর তার পর দরবেশ বাবা তার সাকরেদরা মেয়েটিকে-- ( টুকু বলেই সে থেমে গেল)

(তার পর আবার বলতে শুরু করল)সকাল বেলা নদীর তীরে পাওয়া গেল মেয়েটিকে তখনও বেচে আছে।মেয়েটির ঙ্গান ফিরতেই ধরে নিয়ে যাওয়া হলো বিচার শালিসে। সব ব্যবস্থায় আগে থেকে করা রয়েছে। 

আর সব চেয়ে অবাক করা বিষয়টা হলো এই সব কিছুর দায় দেওয়া হয়েছে মেয়েটির সেই প্রিয় মানুষটির উপর। তাকে ধরে বেধে রাখা হয়েছে।সবাই বলতে লাগল এই রকম ছেলে মেয়েকে আর গ্রামে রাখা যাবে না। 

মেয়েটির মা বাবাও তাদের বিপক্ষে চলে গেল।সবাই মিলে তাদের গ্রাম থেকে বের করে দিল।দুজনে হাটতে হাটতে গ্রামের শেষ প্রান্তে বড় নদীর কিনারে চলে এলো। এমন সময় তারা তাদের পেছনের দিকে কিছু মানুষ আসার শব্দ পেল। পেছন ফিরে তাকাতেই দেখতে পেল সেই দরবেশ আর তার সাকরেদরা লাঠি সোটা নিয়ে তাদের দিকেই আসছে।

তারা এসেই ছেলেটিকে মারতে শুরু করল। মেয়েটি তখন নিজের সবটুকু দিয়ে আগলে রাখল ছেলেটিকে। তবুও তার মাথায় একটা লাঠির আঘাত এসে লাগল। এই অবস্থা দেখে মেয়েটি দিশেহারা হয়ে পড়ে ছেলেটিকে নিয়ে নদীতে ঝাপ দিল

আর কোন রকমে সাতরে নদী পার হলো।নদী পার হবার পর প্রথম বারের মতো ছেলেটি মেয়েটির সাথে নিজের থেকে কথা বললআমাকে বাচাতে গিয়ে তোমার অনেক লেগেছে তাই না।(মেয়েটি কাদছে)চোখের পানি মুছে দিয়ে তুমি কেদ না তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও তোমার ভালবাসা আমি বুঝতে পারি নি।দেখ সব ঠিক হয়ে যাবে আমরা নতুন করে ঘর বাধব।

মেয়েটি আর ছেলেটি এই সব কথা বলতে বলতে কাছের একটা বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিল। বাড়িটা ছিল একেবারে জনশুণ্য ।ক্ষুধায় দুজনেই কাতর থাকার জন্য মেয়েটি পাশের বাড়িতে কিছু খাবার আনতে গেল।মেয়েটিকে বাড়ির লোকরা খুব সহানুভুতি দেখালো এবং তাদের ঘরে নিয়ে গিয়ে খাবার দিল।

কিন্তু মেয়েটি যখন খাবার নিয়ে ফিরে আসছিল তখন দূর থেকেই দেখতে পেল তাদের আশ্রয় নেওয়া বাড়িতে আগুন লেগেছে।হাতের খাবার ফেলে দিয়ে ছুটে চলে গেল বাড়িটির সামনে। আর দেখল সেই দরবেশের সাকরেদরা তার প্রিয় মানুষটা সহ সব কিছুতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বাইরে আনন্দ করছে।মেয়েটির চোখের সামনেই তার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।আর মেয়েটিকে ধরে নিয়ে গিয়ে হাত পা বেধে ফেলে দিল কূপের মধ্যে।কূপ হলো মেয়েটির নতুন ঘর।সেখানেই থেকে গেল মেয়েটির ভালবাসা।

এটুকু বলেই সে আমার দিকে তাকালো। দেখলাম তার চোখের কোণায় জল জমে আছে। মৃদু হেসে বলল-কেমন লাগল আমার গল্পটি।অসাধারণ মনে হচ্ছিল সব কিছু যেন আমার চোখের সামনেই ঘটছে।আপনি খুব সুন্দর গল্প বলতে পারেন দেখছি।কিন্তু আপনি তো বলেছিলেন আপনি শাহেদের বন্ধু তবে শাহেদের সাথে কেন দেখা করছেন না।

সেটা সকালে আপনার বন্ধুর কাছ থেকেই জেনে নেবেন্ বলেই নিলা আমার পাশ থেকে উঠে হাটতে শুরু করল। আমি শুধু তার দিকে চেয়ে ছিলাম অপলক দৃষ্টিতে। কেন যেন মনে হচ্ছিল একটা রহস্য চলে যাচ্ছে আমার সামনে দিয়ে।
কিছু সময় পরই রাতের অন্ধকার তাকে ঘিরে ফেলে আমার দৃষ্টির বাইরে নিয়ে চলে গেল।

কাল সকালে শাহেদের কাছ থেকেই সব কিছু জানা যাবে বলে আমিও ঘুমাতে চলে গেলাম।

0 Comments:

Post a Comment