পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Thursday, July 25, 2019

লটকের জোক্স (পর্ব-- 6)






বাংলাই ফানি জোক্স এবার লটকের জোক্সের ৬ষ্ঠ পর্ব নিয়ে এসেছে।। জোক্স, জিবনী, ফানি কথা, ভালবাসার গল্প সব কিছুই থাকছে আপনাদের জন্য।।


লটকের আর বন্ধুর মাঝে কথা হচ্ছে::

 বন্ধু:: কিরে লটকে  এই রাত্তির বেলা লম্প ধরাই কি খুজতেছিস?
লটকে: আর বলিস না, সন্ধ্যা থেকেই তো কারেন নেই। এখন  একটা সিগারেট খাওয়ার বিরাট নেশা লেগেছে। তা কখন থেকে দিয়াশালাই টা খুজজি তা খুজেই পাচ্ছি না।
লটকে:: তা তুই লম্পর আগুন নিয়ে কি সর্গে যাবি।।


Sunday, July 21, 2019

অ্যারিস্টটল (মহান গুরুর মহান শিষ্য)

মনিষীদের জিবনের গল্পের  এই পর্বে থাকছে বিখ্যাত মনিষী অ্যারিস্টটল।


৩৮৪ খ্রীষ্ট পূর্বে থ্রেসের অন্তর্গত স্তাজেইরা শহরে অ্যারিস্টটল জন্মগ্রহণ করেন। তা পিতা  ছিলেন চিকিৎসক  নাম নিকোমাকাস। শৈশবে গৃহেই পড়াশুনা করেন অ্যারিস্টটল। ।বিশ্ববিজয়ী বীর সম্রাট আলেকজান্ডার দুঃখ করে বলেছিলেন জয় করবার জন্য পৃথিবীর আর কোন দেশই বাকি রইল না। তার শিক্ষক মহাপন্ডিত অ্যারিস্টটল সম্বন্ধেও একই কথা প্রযোজ্য। জ্ঞানের এমন কোন দিক নেই তিনি যার পথপ্রদর্শূক নন। তার  “Politics” গ্রন্থ আধুনিক রাষ্ট্রনীতির সূচনা করেছে। আধুনিক জীবনবিজ্ঞানের তিনিই জনক বহু দার্শনিক তত্ত্বের প্রবক্তা। তার চন্তিা জ্ঞান মনীষা প্রায় দুই হাজার বছর ধরে মানব সভ্যতাকে বিকশিত করেছিল  
মনিষীদের জিবনের গল্প

Friday, July 19, 2019

চার্লস ডারউইন *বিবর্তনবাদের জনক*

মনিষীদের জিবনের গল্পের এই পর্বে থাকছে বিখ্যাত মনিষী চার্লস ডারউইন। তাকে বিবর্তনবাদের জনক বলা হয়। 



ডারউইনের জন্ম হয় ১৮০৯ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি  ইংল্যান্ডের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। পিতা ছিলেন নামকরা চিকিৎসক। মাত্র আট বছর বয়সে মাকে হারালেন ডারউইন। সেই সময় থেকেই পিতা  আর বড় বোনদের স্নেহের ছায়ায় বড় হয়ে উঠতে লাগলেন। নয় বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হলেন। চিরাচরিত পাঠ্যসূচীর মধ্যে কোন আনন্দই পেতেন না। তিনি লিখেছেন, বাড়িতে তার ভঅেই একটা ছোট ল্যাবরোটরি গড়ে তুলেছিলেন। সেখানে তিনি রসায়নের নানান মজার খেলা খেলতেন। ষোল বছর বয়সে চার্লসকে ডাক্তারি পড়ার জন্য এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেওয়া হলো।

চার্লস ডারউনের জিবনী

Thursday, July 18, 2019

বিখ্যাত মনিষী গ্রিক দার্শনিক প্লেটো

মনিষীদের জিবনের গল্পের এই পর্বে বিখ্যাত মনিষী ও গ্রিক  দার্শনিক প্লেটো। মহান সক্রেটিসের প্রিয়তম শিষ্য। 




মহান দার্শনিক প্লেটো জন্মগ্রহণ করছেন খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭ এ। প্লেটো ছিলেন সেই সব সীমিত সংখ্যক মানুষদের একজন যারা ঈশ্বরের অকৃপণ করুনা নিয়ে জন্ম  গ্রহণ করেন। তার জন্ম হয়েছিল সম্ভ্রান্ত ধনী পরিবারে। অপরুপ ছিল তার দেহলাবণ্য , সুমিষ্ট কন্ঠস্বর, অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞানের প্রতি আকাঙ্ক্ষা, সক্রেটিসের মত গুরুর শিষ্যত্ব লাভ করা, সব কিচুতেই তিনি ছিলেন সৌভাগ্যবান। পিতা ফিলেন এথেন্সের বিশিষ্ট  ব্যাক্তি। কিন্তু   আভিজাত্যের কৌলিণ্য তাকে কোনদিন স্পর্শ করেনি। রাজনীতি রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে তিনি বরাবরই ছিলেন উদাসীন  

Tuesday, July 16, 2019

হো চি মিন (ভিয়েতনামের বিল্পব)

মনিষীদের জিবনের গল্পের  এই পর্বে হো চি মিনের বিল্পবী জিবনের গল্প থাকছে।


১৮৯০ সালের ১৯শে মে উত্তর ভিয়েৎনামের নখেআন প্রদেশের এক গ্রামে হো চি মিনের জন্ম। তার পিতৃদত্ত নাম নগুয়েন থান থাট। বাবার নাম নগুয়েন মিন হুয়ে। তারা ছিলেন তিন ভাই বোন। হো ছিলেন সকলেন চেয়ে বড়। বাবা ছিলেন এক দারিদ্র চাষিী যখন চাষের কাজ থাকত না,অন্যের জমিতে খেতমজুরের কাজ করতেন। ছেলেবেলা থেকেই দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়ে উঠেছিল তিনি।শিশু বয়স থেকেই হো ছিলেন গ্রামের সমবয়সীদের চেয়ে আলাদা। শান্ত ধীর। অন্যেরা যখন খেলা করত, তিনি বাবাকে কাজে সাহায্য করতেন। সারা দিন নানান কাজকর্মে কেটে যেত। রাতের বেলা মায়ের কাছে শুয়ে গল্প শুনতেন। ছেলেবেলা থেকেই হো-কে সবচেয়ে বেশি আাকর্ষণ করত বীর মানুষদের গল্পগাথা।

Monday, July 15, 2019

মেরী কুরি (দুই বার নোবেল জয়ী)




মনিষীদের জীবনের গল্পের এই পর্বে থাকছে মেরী কুরি। 


১৮৬৭ সালের ৭ই নভেম্বর ওয়রশতে মেরীর জন্ম। বাবা ক্লোদোভস্কা ছিলেন কৃষক পরিবারের সন্তান। কিন্তু নিজের চেষ্টায় তিনি উচ্চ শিক্ষা লাভ কের ওয়ারশ হাইস্কুলে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক হন। মেরীর মা ছিলেন একটি মেয়েদের স্কুলের প্রধন শিক্ষিকা। এচাড়া খুব ভালো পিয়ানো বাজাতেন। চার বোনের মধ্যে মরীই ছিলেন সর্ব কনিষ্ঠ। অকস্মাৎ তার পরিবারের উপর নেমে এলো দুর্যোগ যক্ষ্মা রোগে অসুস্থ  হয়ে পড়লেন মা। বিছানা থেকে  উঠতে পারতেন না।
মেরী কুরি জীবনের গল্প

Saturday, July 13, 2019

টেলিফোন আবিষ্কারের ইতিহাস (আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল)



মনিষীদের জীবনের গল্পের এই পর্বে থাকছে আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল টেলিফোন আবিষ্কারক



টেলিফোনের আবিষ্কারক আলেকজান্ডার গ্রাহামবেলের নাম বিজ্ঞান জগতে এক   উজ্জ্বল জ্যোতি । টেলিফোনের প্রথম ধ্বনি ও প্রথম কথা ছিল, “Mr. Watgon, come here plase, I want you." এই কথা গুলো বলেছিলেন টেলিফোনের আবিষ্কারক আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল। আজতো সর্বত্র গ্রাহামবেল রয়েছে। পৃথিবীর সব যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছে এই গ্রাহামবেলই। টেলিফোনের মাধ্যমেই মানুষ এক দেশ তেকে আর এক দেশে কথা বলছে।
alexander graham bell


Friday, July 12, 2019

অরভিল রাইট ও উইলবার রাইট (রাইট ব্রাদার্স)

মনিষীদের জিবনীর এই পর্বে থাকছে  “রাইট ব্রাদার্স” (অরভিল রাইট এবং উইলবার রাইট)।।


অরভিল রাইট ও উইলবার রাইট। রাইট ব্রাদার্স এর কর্ণধার।  উইলবারের জন্ম ১৮৬৭ সালে আমেরিকার ইগুয়ানা প্রদেশে। অরভিলের জন্ম ১৮৭১ সালে। ছেলেবেলা থেকেই দুই ভাই  এর মধ্যে ছিল যেমন কল্পনা শক্তি তেমনি তীক্ষ্ন বুদ্ধি। পড়াশুনা শেষ করে দুই ভাই হাতে কলমে কাজ করবার জন্য ছোট কারখানা তৈরি করলেন, প্রথমে তারা কিচুদিন বাজারে প্রচলিত ছাপার যন্ত্র নিয়ে কাজ শুরু করলেন যাতে তার ব্যাবহার  আরো সহজ সরলও উন্নত করা যাই।
 এর পর বাইসাইকেলের উন্নতির জন্য সচেষ্ট হলেন। দুটি ক্ষেত্রেই তারা অনেককাংশে সফল হয়েছিলেন এবং তাদের প্রবর্তিত আধুনিক যন্ত্র ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। তবে যে উড়োজাহাজ আবিষ্কারের জন্য দুই ভাই এর খ্যাতি, তার চিন্তাভাবনা শুরু হয় ১৮৯৬ সাল থেকে। 
Wilbur-Wright-Orville-Wright-life-story

Thursday, July 11, 2019

হিটলার (জেনে নিই সবকিছু)



হিটলারের জন্ম ১৮৮৯ সালের ২০  এপ্রিল অস্ট্রিয়া ব্যাভেরিয়ার মাঝামাঝি ব্রানউ নামে এক আধা গ্রাম আধা শহর। বাবা একটি সরকারি প্রাতিষ্টানে সামান্য চাকরি করত। যা আর করত তার তিন পত্নী আর তাদের ছেলেমেয়েদের দু বেলা খাবার সংকুলানই হত না। হিটলার ছিলেন তার বাবার তৃতীয় স্ত্রীর তৃতীয় সন্তান। ছয় বছর বয়সে স্থানীয় অবৈতনিক স্কুলে ভর্তি হলেন। ছেলেবেলা থেকেই হিটলার ছিলেন একগুয়ে, জেদী আর রগচটা। সামান্য ব্যাপারেই রেগে উঠতেন। অকারণে শিক্ষকদের সঙ্গে তর্ক করতেন।  পড়শুনাতেও মোটামুটি মেধাবী ছিলেন। কিন্তু পড়াশুনার চেয়ে তাকে বেশি আকৃ্ষ্ট করত ছবি আকা।


Wednesday, July 10, 2019

স্বামী বিবেকানন্দ (আদর্শ জিবনচরিত্র সাথে মজার কিছু ঘটনা)



মনিষীদের জিবনের গল্পের  এই পর্বে মহান মনিষী হাজার হাজার মানুষের আদর্শ স্বামী বিবেকানন্দ।




স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম ও ছেলেবেলা::

বিশ্বনাথ  দত্তের কন্যাসন্তান থাকলেও কোন পুত্র ছিল না। স্ত্রী ভুবনেশ্বরী দেবী শিবের কাছে নিত্য প্রার্থনা করতেন। অবশেষে ১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারী জন্ম হলো তার প্রথম পুত্রের । ডাক নাম বিলো, ভালো নাম শ্রীনরেন্দ্রনাথ দত্ত। যদিও তিনি বিশ্বের মানুষের কাছে পরিচিত স্বামী বিবেকানন্দ নামে। চেলেবেলায় নরেন্দ্রনাথ ছিলেন যেমন চঞ্চল তেমনি সাহসী। সকল বিষয়ে ছিল তার অদম্য কৌতুহল।  বাড়িতে শুরু মহাশয়ের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হলেন মেট্রোপলিটান ইনস্টিটিউশনে। তিনি সর্ব বিষয়ে ছিলেন ক্লাসের সেরা ছাত্র। কৈশোরেই তার মধ্যে দয়া মায়া, মমতা, পরোপকার, সাহসিকতা, ন্যায়বিচার প্রভৃতি নানা গুণের প্রকাশ ঘটেছিল।

 নরেন্দনাথ ছিলেন সুঠাম স্বাস্থের অধিকারী। ছেলেবেলা থেকেই নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন, কুস্তি বক্সিং দুটিতেই ছিল তার সমান দখল। নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন।



swami vivekananda

সক্রেটিসের জিবনের গল্প (জেনে নিই সব কিছু)


মনিষীদের জিবনীর  এই পর্বে   বিখ্যাত ব্যাক্তিত্ব সক্রেটিস।

দিন শেষ হয়ে আসছিল। দুজন মানুষ তার চেয়েও দ্রুত এগিয়ে চলছিলেন। ঐ  আধার নামার আগেই তাদের পৌছতে হবে ডেলফিতে। একজনের নাম চেরোফোন। মধ্যবয়সী গ্রীক। দুজনে এসে থামলেন ডেলফির বিরাট মন্দির প্রাঙ্গণে । সিড়ি বেয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই মন্দিরের পূজারী  এগিয়ে এল। চেরোফোন তার দিকে চেয়ে বললেন,  আমরা দেবতার  কাছে একটা বিষয় জানবার জন্য এসেছি। পূজারী বলল আপনারা প্রভূ অ্যাপেলের মূর্তির সামনে গিয়ে নিজেদের পরিচয় দিন আর বলুন আপনার কি জানতে চান?

কুৎসিত চেহারার মানুষিটি প্রথমে এগিয়ে এসে বললেন, আমি সক্রেটিস, প্রভু আমি কিছুই জানিনা। এবার চেরোফোন নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, হে সর্বশক্তিমান দেবতা, আপনি বলুন, গ্রীসের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী কে?

চেরোফেনের কথা শেষ হতেই চারিদিক কাপিয়ে আকাশ থেকে এক দৈববাণী ভেসে আসল।
(পড়তে থাকুন পেয়ে যাবেন কি এসেছিল দৈব বাণীতে)


 সক্রেটিস খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬৯ তে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পিতা সফরেনিকাশ ছিলেন স্থপতি। পাথরের নানান মূর্তি গড়তেন। মা ফেনআরেট ছিলেন ধাত্রী। পিতা মাতা দুজনেই দুই পেশায় নিযুক্ত থাকলেও সংসারে অভাব লেগেই থাকত। তাই ছেলেবেলায় পড়াশুনার পরিবর্তে পাথর কাটার কাজ নিতে হলো। কিন্তু অদম্য জ্ঞানস্পৃহা সক্রেটিসের । সক্রেটিস দেখতে মোটেও সুদর্শন ছিলেননা। টাকবিশিষ্ট মাথা, চ্যাপ্টা অবনত নাক, ছোট ছোট চোখ, স্ফীত উদর এবং অস্বাভাবিক গতিভঙ্গির সমন্বয়ে গঠিত ছিল তার সামগ্রিক চেহারা। দেহের শ্রী তেমন না থাকলেও তার রসবোধ ছিল প্রখর। রঙ্গ করে প্রায়শই বলতেন: "নাসারন্ধ্রটি বড় হওয়ায় ঘ্রাণ নেয়ার বিশেষ সুবিধা হয়েছে; নাকটি বেশী চ্যাপ্টা হওয়াতে দৃষ্টি কোথাও বাঁধা পায়না।"যখন যেখানে যেটুকু জানার সুযোগ পান সেইটুকু জ্ঞান সঞ্চয় করেন। এমনি করেই বেশ কয়েক বছর কেট যাই। একদিন ঘটনা চক্রে পরিচয় হলো এক ধনী ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি সক্রেটিসের ভদ্রতা ও মধুর আচরণে মুগ্ধ হয়ে তার পড়াশুনার দায়িত্ব নেন।

 এই সময় গ্রীস দেশ ছোট ছোট রাজ্যে  বিভক্ত ছিল। ফলে নিজেদের মধ্যে মারামারি, যুদ্ধবিগ্রহ,ক্ষমতার দ্বন্দ লেগেই থাকত। দেশের প্রতিটি তরুণ, যুবক, সক্ষম পুরুষদের যুদ্ধে যেতে হত। । সক্রেটিসকেও  এথেন্সের সৈন্যবাহিনীর সাথে  যুদ্ধে যেতে হয়েছিল।

 যুদ্ধ বিগ্রহকে খুব বেশি একটা পছন্দ করতে পারলেন না তিনি। ফিরে  এলেন এথেন্সে। এথেন্স তখন জ্ঞান অর্জনের জন্য সবচেয়ে উত্তম জায়গা। এই পরিবেশে নিজেকে জ্ঞানের জগৎ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারলেন না সক্রেটিস। তিনি ঠিক করলেন জ্ঞানের চর্চায়, বিশ্ব প্রকৃতির জানবার সাধনায় নিজেকে উৎসর্গ করনে।

সক্রেটিসের জ্ঞানার্জন ::

প্রতিদিন ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে সামান্য প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়তেন। খালি পা,  গায়ে একটা মোটা কাপড় জড়ানো থাকত। কোনদিন গিয়ে বসতেন নগরের কোন দোকানে , মন্দিরের চাতালে কিম্বা বন্দু বাড়িতে। নগরের যেখানেই লোকজনের ভিড় সেখানেই খুজে পাওয়া যেত সক্রেটিসকে। প্রাণ খুলে লোকজনের সঙ্গে গল্প করছেন। আড্ডা দিচ্ছেন, মাঝে মাঝে প্রশ্ন করতেন , নিজে েএমন ভাব দেখাতেন যেন কিছুই জানেন না। বোঝেন না। লোকের জাছ থেকে জানবার জন্যে প্রশ্ন করছেন। আসেল  তর্ক করা ছিল সে যুগের এক শ্রেণীর  লোকদের ব্যবসা।  এদের বলা হতো সোফিস্ট।



 যারা নিজেদের পান্ডিত্যের অহঙ্কার করত, বীরত্বের বড়াই করত, তিনি সরাসরি তাদের জিজ্ঞেস করতেন, বীরত্ব বলতে তারা কি বোঝে? পান্ডিত্যের স্বরূপ কি। তারা যখন কোন কিছু উত্তর দিত, তিনি আবার প্রশ্ন করতেন। প্রশ্নের পর প্রশ্ন সাজিয়ে বুঝিয়ে দিতেন তাদের ধারণা কত ভ্রান্ত।  এই কারণে শত্রুও অনেক সৃষ্টি হয়ে গেল সক্রেটিস এর।

নিজের আদর্শ সত্যের প্রতি তার ছিল অবিচল আস্থা। সেই সাথে ছিল অর্থ সম্পদের প্রতি চরম  উদাসীনতা। একবার তার বন্ধু  এ্যালসিবিয়াদেশ তাকে বাসস্থান তৈরি করবার জন্য বিরাট একখন্ড জমি দিতে চাইলেন। সক্রেটিস বন্ধুর দান ফিরিয়ে দিয়ে কৌতুকে বললেন, আমার প্রয়োজন একটি জুতার আর  তুমি দিচ্ছ একটি বিরাট চামড়া এ নিয়ে  আমি  কি করব।

সক্রেটিসের সাংসারিক জিবন:: 

 সক্রেটিস এর স্ত্রী  জ্যানথিপি ছিলেন ভয়ঙ্কর রাগী মহিলা। সাংসারিক ব্যাপারে তিনি সক্রেটিসের উদাসীনাত তিনি মেনে নিতে পারতেন না। একদিন সক্রটিস গভীর একাগ্রতার সাথে একখানি বই পড়ছিলেন। প্রচন্ড বিরক্তিতে জ্যানথিপি গালিগালাজ শুরু করে দিলেন। কিছুক্ষণ সক্রেটিস স্ত্রীর বাক্যবাণে কর্ণপাত করলেন না। কিনউত শেষ পর্যন্ত  আর ধৈর্য রক্ষা করতে না পেরে  বাইরে গিয়ে আবার বইটি পড়তে আরম্ভ করলেন। জ্যানথিপি আর সহ্য করতে না পেরে এক বালতি পানি  এনে মাথায় ঢেলে দিলেন।  সক্রেটিস মৃদু হেসে বললেন, আমি আগেই জানতাম এত মেঘগর্জন হচ্ছে তখন শেষ পর্যন্ত এক পশলা বৃষ্টি হবেই।


সক্রেটিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এল মেলেতুল, লাইকন, আনীতুস নামে এথেন্সের তিনজন সম্ভ্রান্ত নাগরিক। এই অভিযোগের বিচার করবার জন্য আলোচনার সভাপতিত্তে ৫০১ জনের জনের বিচারকমন্ডলী গঠিত হলো। এই বিচারকমন্ডলীর সামনে সক্রেটিস এক দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

সক্রেটিসের বক্তব্য :: 

 “হে এথেন্সের অধিবাসী গণ, আমার অভিযোগকারীদের বক্তৃতা শুনে আপনাদের কেমন লেগেছে জানি না, তবে আমি তাদের বক্তৃতায় চামকে আত্মবিস্মৃত হয়েছিলাম, যদিও তাদের কথাই সত্য ভাষণের চিহ্নমাত্র নেই্।  এর উত্তরে  আমি আমার বক্তব্য পেশ করছি। আমি অভিযোগকারীদের মত মার্জিত ভাষার ব্যাবহার জানি না। আমাকে শুধু ন্যায় বিচারের স্বার্থে সত্য প্রকাশ করতে দেওয়া হোক।

কেন আমি আমার দেশবাসীর বিরাগভাজন হলাম? অনেক দিন আগে ডেলফির মন্দিরে দৈববানী শুনলাম তখনেই আমার মনে হলো এর অর্থ কি। আমি তো জ্ঞানী নই তবে দেবী কেন  আমাকে দেবীর কাছে নিয়ে গিয়ে বলল, এই দেখো আমার চেয়ে জ্ঞানী মানুষ।

 আমি জ্ঞানী মানুষ মানুষ খুজতে আরম্ভ করলাম। প্রথমে আমি গেলাম কবিদের কাছে।  তাদের সাথে কথা বলে বুঝলাম তারা প্রকৃতই অজ্ঞ। তারা ঈশ্বরদত্ত শক্তি ও প্রেরণা থেকেই সব কিছু সৃষ্টি করেন। জ্ঞান থেকে নয়।  শেষ পর্যন্ত গেলাম শিল্পী, কারিগরিদের কাছে। তারা এমন অনেক বিষয় জানেন যা আমি জানি না। কিন্তু তারাও কবিদের মত সব ব্যাপারেই নিজেদের চরম জ্ঞানী বলে মনে করত আর এই ভ্রান্তিই তাদের প্রকুত জ্ঞানকে ঢেকে রেখেছিল।  িএই অনুসন্ধানের জন্র আমার অনেক শত্রু সৃষ্টি হলো। লোকে আমার নামে অপবাদ দিল, আমিই নাকি একমাত্র জ্ঞানী কিন্তু ততদিনে আমি দৈববাণীর অর্থ উপলব্ধি করতে পেরেছি।"


সক্রেটিসের মৃত্যু : 

 প্লেটোর ফিডো গ্রন্থের শেষে সক্রেটিসের মৃত্যুর পর্বের বর্ণনা উদ্ধৃত আছে। কারাগার থেকে পালানোর উদ্দেশ্যে সক্রেটিস ক্রিটোর অনুরোধ ফিরিয়ে দেন। হিমলক বিষ পানের পর সক্রেটিসকে হাটতে আদেশ করা হয় যতক্ষণ না তার পদযুগল ভারী মনে হয়। শুয়ে পরার পর যে লোকটি সক্রেটিসের হাতে বিষ তুলে দিয়েছিল সে তার পায়ে পাতায় চিমটি কাটে। সক্রেটিস সে চিমটি অনুভব করতে পারেননি। তার দেহ বেয়ে অবশতা নেমে আসে। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। মৃত্যুর পূর্বে তার বলা শেষ বাক্য ছিল: "ক্রিটো, অ্যাসক্লেপিয়াস আমাদের কাছে একটি মোরগ পায়, তার ঋণ পরিশোধ করতে ভুলো না যেন।" অ্যাসক্লেপিয়াস হচ্ছে গ্রিকদের আরোগ্য লাভের দেবতা। সক্রেটিসের শেষ কথা থেকে বোঝা যায়, তিনি বুঝাতে চেয়েছিলেন মৃত্যু হল আরোগ্য এবং দেহ থেকে আত্মার মুক্তি।

তার মৃত্যুর পরেই এথেন্সের মানুষ ক্ষোভে দুৎখে ভেটে পড়ল । চারদিতে ধিক্কার ধ্বনি উঠল। বিচারকদের দল সর্বত্র একঘরে হয়ে পড়ল। অনেকে অনুশোচনায় আত্মহত্যা করলেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে মেনেতুসকে পিটিয়ে মারা হল, অন্যদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হল। দেশের লোকেরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিরাট মূর্তি প্রতিষ্ঠা করল।  মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার নশ্বর দেহের শেষ হলেও চিন্তার শেষ হয়নি। তার শিষ্য প্লেটো, প্লোটোর শিষ্য অ্যারিষ্টটলের মধ্যে দিয়ে সেই চিন্তা রএক নতুন জগৎ সৃষ্টি হল যা মানুষকে উন্নিত করেছে আজকের পৃথিবীতে।




Monday, July 8, 2019

মুসলিম বিজ্ঞানী ও মনিষী (আল বাত্তানী)



মনিষীদের জিবনীর  গল্পের  এই পর্বে রয়েছে আল বাত্তানী। 

আল বাত্তানীর জন্ম তারিখ সঠিক ভাবে জানা যাইনি। যতদূর জানা যায় আল বাত্তানী  ৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মেসোপটেমিয়ার অন্তর্গত ‘বাত্তান ’ নামক স্থানে জন্ম গ্রহণ করে। পিতার নাম জাবীর ইবনে সানান। প্রাথমিক শিক্ষা তিনি পিতার কাছ থেকেই লাভ করেন।


 

Sunday, July 7, 2019

মহান বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস (মজার কিছু গল্প)

মহান মনীষিদের জিবনের গল্পের এই পর্বে মহান বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের সর্ম্পকে জানব:

 এই মহান বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের জন্ম আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ২৮৭ সালে ইতালিতে। সিসিলি দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত সাইরাকিউস দ্বীপে। পিতা ফেইদিয়াস ছিলেন একজন জ্যোতির্বিদ।

 কৈশোর যৌবনে তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় গিয়ে পড়াশুনা করেছেন। সেই সময় আলেকজান্দ্রিয়া ছিল জ্ঞান- বিজ্ঞান চর্চার পীঠস্থান। ছাত্র অবস্থাতেই আর্কিমিডিস তার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তারও সুমধুর ব্যক্তিত্বের জন্য সর্বজন পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার গুরু ছিলেন ক্যানন। ক্যানন ছিলেন জ্যামিতির জনক মহান ইউক্লিডের ছাত্র।


Saturday, July 6, 2019

চার্লি চ্যাপলিন (জেনে নিই অজানা কিছু তথ্য)

মনিষীদের জিবনের গল্পের  এই পর্বে বিখ্যাত চার্লি চ্যাপলিন।



আজ এক অসাধ্য সাধনকারী ব্যাক্তির জিবনী নিয়ে লিখতে চলেছি। যিনি মানুষের আনন্দের ক্ষুধা মিটিয়ে  জিবনটাই আনন্দে আনন্দের ভরিয়ে দিতেন। তিনি ছিলেন হাসির রাজা স্যার চার্লি চ্যাপলিন। যার নাম শুনলেই বিশ্বজুড়ে সবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি হাস্যকৌতুকপূর্ণ মুখের ছবি।যাকে দেখামাত্রই শিশু-কিশোর-যুবক-বৃদ্ধ সবাই এমনিতেই হাসিতে আপ্লুত হয়ে ওঠত। 
“charlie


জাবির ইবনে হাইয়ান (মুসলিম মনিষী)

জাবির ইবনে হাইয়ান মুসলিম মনিষীদের মাঝে অন্যতম।


  
জাবির   ইবনে হাইয়ান এর পূর্ণনাম হলো আবু আবদুল্লাহ জাবির ইবনে হাইয়ান। তিনি আবু মুসা জাবির ইবনে হাইয়ান নামেও পরিচিত। কেউ কেউ তাকেআল হাররানীএবংআস সুফিনামেও অভিহিত করেন। ইউরোপীয় পন্ডিতগণ তার নামকে বিকৃত করেজিবারলিপিবদ্ধ  করেছে । তিনি কবে জন্মগ্রহণ করেন তা সঠিক ভাবে নির্ণয় করা যায় না। যতদূর জানা যাই তিনি ৭২২ খ্রিস্ট্রাব্দের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন। যতদূর জানা যাই তুস নগরে তার জন্ম হয়।




Friday, July 5, 2019

আলেকজান্ডার ফ্রেমিং (চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম নাম)

আলেকজান্ডার ফ্রেমিং


এর জন্ম হয় ১৮৮১ সালের ৬ই আগস্ট স্কটল্যান্ডের অন্তর্গত লকফিল্ড বলে এক পাহাড়ি গ্রামে। বাবা ছিলেন চাষি। আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না দারিদ্রের মধ্যেই ছেলেবেলা কাটে ফ্রেমিংয়ের। যখন তার সাত বছর বয়স তখন বাবাকে হারান। অভাবের জন্য প্রাইমারী স্কুলের গন্ডিটুকুও শেষ করতে পারেননি। চৌদ্দ বছর বয়সে , তার ভাইরা সকলে  বাসা করল লন্ডন শহরে। তাদের দেখাশুনার ভার ছিল এক বোনের উপর। কিছু কাজের খোজে ঘুরাঘুরি করার পর ষোল বছর বয়সে এক জাহাজ কোম্পানিতে চাকরি পেলেন  ফ্লেমিং