পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Friday, July 5, 2019

আলেকজান্ডার ফ্রেমিং (চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম নাম)

আলেকজান্ডার ফ্রেমিং


এর জন্ম হয় ১৮৮১ সালের ৬ই আগস্ট স্কটল্যান্ডের অন্তর্গত লকফিল্ড বলে এক পাহাড়ি গ্রামে। বাবা ছিলেন চাষি। আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না দারিদ্রের মধ্যেই ছেলেবেলা কাটে ফ্রেমিংয়ের। যখন তার সাত বছর বয়স তখন বাবাকে হারান। অভাবের জন্য প্রাইমারী স্কুলের গন্ডিটুকুও শেষ করতে পারেননি। চৌদ্দ বছর বয়সে , তার ভাইরা সকলে  বাসা করল লন্ডন শহরে। তাদের দেখাশুনার ভার ছিল এক বোনের উপর। কিছু কাজের খোজে ঘুরাঘুরি করার পর ষোল বছর বয়সে এক জাহাজ কোম্পানিতে চাকরি পেলেন  ফ্লেমিং




অফিসে ফাইফরমাশ খাটার কাজ। কিছুদিন চাকরি করেই কেটে গেল। ফ্লেমিং এর নিঃসন্তান চাচা মারা গেলে তার সমস্ত সম্পত্তি পেয়ে যাই ফ্লেমিংয়ের ভাইরা।।  আলেকজান্ডার ফ্লেমিংয়ের বড় ভাই টমের পরামর্শ মত ফ্লেমিং জাহাজ কোম্পানির কাজ ছেড়ে দিয়েমেডিক্যাল স্কুলে ভর্তি হলেন। অন্য সকলের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও মেধার জোরে সকলকে পেছনে ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।

১৯০৮ সালে ডাক্তারি শেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন কারণ সেনাবাহিনিতে খেলাধুলো সুযোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া হাসপাতালে প্রতিদিন অসংখ্য সৈনিক িএসে ভর্তি হচ্ছিল। তাদের অনেকেরই ক্ষত ব্যাকটেরিয়ার দূষিত হয়ে উঠেছিল। ফ্লেমিং লক্ষ্য করলেন , যে সব অ্যান্টিসেপটিক ঔষধ চালু আছে তা কোনভাবেই কার্যকরী হচ্ছে না- ক্ষত বেড়েই চলেছে।

আলেকজান্ডার ফ্রেমিং  এর জীবনের সবচেয়ে প্রচলিত গল্প::


  এরপর ১৯১৮ সালে যুদ্ধ শেষ হল। দুমাস পর ইংল্যান্ডে ফিরে এলেন ফ্লেমিং। আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও জীবাণুগুলিকে ধ্বংস করবার মত কোন কিছুই খুজে পেলেন না তিনি।১৯২১ সাল একদিন ল্যাবরেটরিতে বসে কাজ করছিলেন ফ্লেমিং। কয়েকদিন ধরেই তার শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। সর্দি-কাশিতে ভুগছিলেন। তিনি তখন প্লেটে জীবার্ণ কালচার নিয়ে কাজ করছিলেন হটাৎ প্রচন্ড হাচিঁ  এলো। নিজেকে সামলাতে পারলেন না।প্লেটটা সরাবার   আগই নাক থেকে খানিকটা সর্দি এসে পড়ল প্লেটের উপর। পুরো জিনিসটা নষ্ট হয়ে গেলে প্লেটটা একপাশে সরিয়ে রেখে নতুন একটা প্লেট নিয়ে কাজ শুরু করলেন।কাজ শেষ হয়ে গেলে বাড়ি ফিরে গেলেন ফ্লেমিং। পরদিন ল্যাবরেটরিতে ঢুকেই নজর পড়ল প্লেটটার উপর। ভাবলেন প্লেটটা ধুয়ে কাজ শুরু করবেন। কিন্তু প্লেটটা তুলে ধরতেই চমকে উঠলেন।


গতকাল প্লেট ভর্তি ছিল জীবণু সেগুলো আর নেই। ভালো করে পরীক্ষা করতেই দেখলেন সব জীবাণু মারা গেছে। চমকে উঠলেন ফ্লেমিং। কিসের শক্তিতে নষ্ট হল এতগুলো জীবাণু।  ভাবতে ভাবতে মনে পড়ল গতকাল খানিকটা সর্দি পড়েছিল প্লেটের উপর। তবে কি সর্দির মধ্যে এমন কোন উপাদান আছে যা এই জীবাণূ গুলোকে মেরে ফেলেছে।  এরপরই পর পর কয়েকটা জীবাণু কালচার করা প্লেট টেনে নিয়ে তার উপর নাক ঝাড়লেন। দেখা গেল কিছু ক্ষনের মধ্যেই জীবাণুগুলো নষ্ট হতে আরম্ভ করেছে। দেখা গেল চোখের পানি, থুতুতেও জীবাণু ধ্বংস করবার ক্ষমতা আছে। জীবাণু ধ্বংসের এই উপাদানটির নাম দিলেন লাইসোজাইম।

 একজন পুলিশ কর্মচারী মুখে সামান্য আঘাত পেয়েছিল, তাতে যে ক্ষত সুষ্টি হয়েছিল তা দূষিত হয়ে রক্তের মধ্যে জীবাণু ছড়িয়ে পড়েছিল। ডাক্তাররা তার জীবনের সব আশা ত্যাগ করেছিল্ ১৯৪১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী প্রফেসর ফ্লোরি স্থির করলেন  এই মৃত্যুপথযাত্রী মানুষটির উপরেই পরীক্ষা করবেন পেনিসিলিন। তাকে তিন ঘন্টা অন্তর অন্তর চারবার করে পেনিসিলিন দেওয়া হলো্ ২৪ ঘন্টা পর দেখা গেল যার আরোগ্যলাবের কোন আশাই ছিল না। সে প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছে।


মানুষের কোলাহল খুব  বেশি একটা পছন্দ করতেন না ফ্লেমিং। মাঝে মাঝে স্ত্রী সারিনকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন সারিন শুধু যে তার স্ত্রী ছিলেন তাই না। ছিলেন তার যোগ্য সঙ্গিনী। ১৯৪৪ সালে ইংল্যান্ড রাজদরবারের তরফ থেকে তাকে নাই উপাধি দেওয়া হল।

তার প্রিয়তমা স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি প্রায় ভেঙেই পড়েছিলেন। তার জীবনের এই বেদনার্ত মুহুর্তে পাশে এসে দাড়ালেন গ্রীক তরুনী আমালিয়া তরুকা। ১৯৫৩ সালে দুজনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। কিন্তু এই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। দুই বছর পর ১৯৫৫ সালে ৭৩ বছর বয়ছে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ফ্লেমিং


0 Comments:

Post a Comment