পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Sunday, July 7, 2019

মহান বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস (মজার কিছু গল্প)

মহান মনীষিদের জিবনের গল্পের এই পর্বে মহান বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের সর্ম্পকে জানব:

 এই মহান বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের জন্ম আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ২৮৭ সালে ইতালিতে। সিসিলি দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত সাইরাকিউস দ্বীপে। পিতা ফেইদিয়াস ছিলেন একজন জ্যোতির্বিদ।

 কৈশোর যৌবনে তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় গিয়ে পড়াশুনা করেছেন। সেই সময় আলেকজান্দ্রিয়া ছিল জ্ঞান- বিজ্ঞান চর্চার পীঠস্থান। ছাত্র অবস্থাতেই আর্কিমিডিস তার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তারও সুমধুর ব্যক্তিত্বের জন্য সর্বজন পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার গুরু ছিলেন ক্যানন। ক্যানন ছিলেন জ্যামিতির জনক মহান ইউক্লিডের ছাত্র।




বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের জীবনের মজার কিছু গল্প:: 


ইউক্লিড, ক্যানন যেখানে তাদের বিষয় সমাপ্ত করেছিলেন আর্কিমিডিস সেখান থেকেই তার কাজ আরম্ভ করেন। তিনি কারো অধীনে কাজ করা পছন্দ করতেন না। কিন্তু যেহেতু তিনি ছিলেন সাইরাকিউসের প্রজা। তার সম্রাটের আদেশেই তিনি প্রায় ৪০টি আবিষ্কার করেন।  আর্কিমিডিসের  েএকটি আবিষ্কার হচ্ছে পুল লিভার। একবার কোন একটি জাহাজ চরাই এমনভাবে আটকে গিয়েছিল যে তাকে আর কোনভাবেই পানিতে ভাসানো সম্ভব হচ্ছিল না।  আর্কিমিডিস ভালভাবে সব কিছু পর্যবেক্ষন করলেন। তার মনে হলো একমাত্র যদি এই জাহাজটিকে উচু করে তোলা যাই তবেই জাহাজটিকে পানিতে ভাসানো সম্ভব। আর্কিমিডিসের কথা শুনে সকলে হেসেই উড়িয়ে দিল।।

 অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই উদ্ভাবন করলেন লিভার আর পুলি। জাহাজ ঘাটে একটা উটু জায়গায় লিভার খাটাবার ব্যবস্থা করলেন। তার মধ্যে বিরাট একটা দড়ি বেধে দিলেন। দড়ির একটা প্রান্ত জাহাজের সঙ্গে আষ্টে-পিষ্টে করে বাধা হলো। এই অদ্ভুদ ব্যাপার দেখতে সম্রাট হিয়েরো নিজেই এলেন জাহাজ ঘাটায়। নগর ভেঙে যেখানে যত মানুষ ছিল সকলে জড় হয়েছে আর্কিমিডিসের কথায় সম্যাট তার সমস্ত শব্তি দিয়ে দাড়িটা ধরে টান দিলেন। সাথে সাথে অবাক কান্ড নড়ে উঠল জাহাজটা। চারদিকে চিৎকার উঠল। এবার সম্রাটের সাথে দড়িতে হাত লাগালেন আরো অনেকে। সকলে মিলে টান দিতেই সত্যি সত্যি জাহাস শুন্যে উঠতে আরম্ভ করল। সম্রাট আনন্দে বুকে জড়িয়ে ধরলেন আর্কিমিডিসকে।

এই আবিষ্কারের ফলে বড় বড় পাথর, ভারী জিনিস, কুয়া থেকে জল তোলার কাজ সহজ হল। একবার আর্কিমিডিস গর্ব করে বলেছিলেন, আমি যদি পৃথিবীর বাইরে দাড়াবার একটু জায়গা পেতাম তবে আমি আমার এই লিভার পুলির সাহায্যে  পৃথিবীটাকেই নাড়িয়ে দিতাম।




সাইরাকিউসের সম্রাট হিয়েরো এক স্বণীকারকে দিয়ে একটি সোনার মুকুট তৈরি করেছিলেন। মুকুটটি হাতে পাওয়ার পর সম্রাটের মনে হল  এর মধ্যে খাদ মিশানো আছে। কিন্তু স্বর্ণকার খাদের কথা অস্বিকাল করল। কিন্তু সম্রাটের মনের সন্দেহ দূর হল না। তিনি প্রকৃত সত্য নিরুপনের ভার দিলেন রাজদরবারের বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের উপর। মহা ভাবনায় পড়ে গেলেন আর্কিমিডিস। সম্রাটের আদেশে মুকুটের কোন ক্ষতি করা যাবে না। আর্কিমিডিস ভেবে পান না মুকুট না ভেঙে কেমন করে তার খাদ নির্ণয় করবেন। কয়েকদিন কেটে গেল । ক্রমশই অস্থির হয়ে ওঠেন  আর্কিমিডিস। একদিন দুপুরবেলায় মুকুটের কথা ভাবতে ভাবতে সমস্ত পোশাক খুলে চৌবাচ্চায় স্নান করতে নেমেছেন। পানিতে শরীর ডুবতেই আর্কিমিডিস লক্ষ্য করলেন কিছুটা পানি চৌবাচ্চা থেকে উপছে পড়ল।  মুহুর্তে তার মাথায় এক নতুন চিন্তার উন্মেষ হল। এক লাভে চৌবাচ্চা থকে উঠে পড়লেন। তিনি ভুলে গেলেন তার শরীরে কোন পোশাক নেই। সমস্যা সমাধানের আনন্দে নগ্ন অবস্থাতেই ছুটে গেলেন রাজ দরবারে।

  মুকুটের সমান ওজনের সোনা নিলেন। একপাত্র পানিতে মুকুটটি ডোবালেন। দেখা গেল খানিকটা পানি উপচে পড়ল। এইবার মুকুটটি নিয়ে পানিতে ডোবালেন উভয় ক্ষেত্রেই কিছু পানি উপচে পড়ল যে পরিমাণ পানি উপচে পড়ল তা ওজন করে দেখা গেল আগের উপছে পড়া পানি থেকে তার ওজন আলাদা আর্কিমিডিস বললেন, “ মুকুটে খাদ মেশানো আছে । কারণ যদি মুকুট সম্পূর্ণ সোনার হত তবে দু্টি ক্ষেত্রই উপচে পড় পানির ্ওজন সমান হত”।

 বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের মৃত্যু:::

 রোমানদের হাতে ক্ষমতা যাবার পর একদিন একটা সৈনিক  এসে তাকে বলল, “তুমি আমার সঙ্গে চল,আমাদের সেনাপতি তোমার খোজ করছেন।   বৃদ্ধ আর্কিমিডিস বলে উঠলেন, আমি এখন ব্যস্ত আছি। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোথাও যেতে পারব না।

 এই ধরণের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিল না রোমান সৈন্যটি। তাকে যে আদেশ দেওয়া হয়েছে তাকে তা পালন করতেই হবে। আর্কিমিডিসের হাত ধরতেই এক টানে ছাড়িয়ে নিলেন আর্কিমিডিস।আমার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোথাও যেতে পারব না

 আর সহ্য করতে পারল না সৈনিক। পরাজিত দেশের এক নাগরিকের এতদূর স্পর্ধা, তার হুকুম অগ্রাহ্য করে! একটানে কোমরের তলোয়ার বার করে ছিন্ন করল মহা বিজ্ঞানীর দেহ। রক্তের ধারায় শেষ হয়ে গেল তার অসমাপ্ত কাজ।

আর্কিমিডিসকে হত্যা করা হয়েছিল সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব ২১২ সালে। বিজ্ঞানীর ছিন্ন মাথা দেখে গভীর ভাবে দুঃখিত হয়েছিলেন  সময়ের রোমান রাজা মার্কিউলাস। তিনি মর্যাদার সাথে আর্কিমিডিসের দেহ সমাহিত করেন।


0 Comments:

Post a Comment