পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Sunday, July 21, 2019

অ্যারিস্টটল (মহান গুরুর মহান শিষ্য)

মনিষীদের জিবনের গল্পের  এই পর্বে থাকছে বিখ্যাত মনিষী অ্যারিস্টটল।


৩৮৪ খ্রীষ্ট পূর্বে থ্রেসের অন্তর্গত স্তাজেইরা শহরে অ্যারিস্টটল জন্মগ্রহণ করেন। তা পিতা  ছিলেন চিকিৎসক  নাম নিকোমাকাস। শৈশবে গৃহেই পড়াশুনা করেন অ্যারিস্টটল। ।বিশ্ববিজয়ী বীর সম্রাট আলেকজান্ডার দুঃখ করে বলেছিলেন জয় করবার জন্য পৃথিবীর আর কোন দেশই বাকি রইল না। তার শিক্ষক মহাপন্ডিত অ্যারিস্টটল সম্বন্ধেও একই কথা প্রযোজ্য। জ্ঞানের এমন কোন দিক নেই তিনি যার পথপ্রদর্শূক নন। তার  “Politics” গ্রন্থ আধুনিক রাষ্ট্রনীতির সূচনা করেছে। আধুনিক জীবনবিজ্ঞানের তিনিই জনক বহু দার্শনিক তত্ত্বের প্রবক্তা। তার চন্তিা জ্ঞান মনীষা প্রায় দুই হাজার বছর ধরে মানব সভ্যতাকে বিকশিত করেছিল  
মনিষীদের জিবনের গল্প

১৭ বছর বয়সে পিতা মাতাকে হারিয়ে গৃহত্যাগ করেন। ঘুরতে ঘুরতে তিনি  এথেন্সে এসে উপস্থিত হন। সেই সময় এথেন্স ছিল শিক্ষার কেন্দ্র। সক্রেটিসের শিষ্য প্লেটো গড়ে তুলেছেন নতুন এ্যাকাডেমি। সেখানে ভার্তি হলেন অ্যারিস্টটল। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নিজের যোগ্যতায় তিনি হয়ে উঠলেন এ্যাকাডেমির সেরা ছাত্র। প্লেটোও তার অসাধারণ  বুদ্ধিমাত্তায় মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। শিক্ষাদান ছাড়াও নানান বিষয় নিয়ে গবেষণার কাজ করতেন অ্যারিস্টটল তর্কবিদ্যা, অধিবিদ্যা , প্রকৃতিবিজ্ঞান , জীববিজ্ঞান , নীতিশাস্ত্র। অল্প দিনের মধ্যেই তার গভীর জ্ঞান, অসাধারণ পান্ডিত্যের কথা চতুদির্কে ছড়িয়ে পড়েছিল। ম্যাসিজনের রাজা ফিলিপেরও অজ্ঞাত ছিল না। পুত্র আলেকজান্ডারের  জন্ম সময়ের তার শিক্ষার ভার অর্পন করেন অ্যারিস্টটলের উপর। তখন অ্যারিস্টটল আটাশ বছরের যুবক।

  আলেকজান্ডার যখন তেরো বছরের কিশোর , রাজা ফিলিপের আমন্ত্রেণে  অ্যারিস্টটল এস তার শিক্ষার ভার গ্রহণ করলেন। শ্রেষ্ঠ গুরুর দিগ্বিজয়ী ছাত্র। বহুন প্রাচীন ঐতিহাসিকের ধারণা অ্যারিস্টটলের শিক্ষা উপদেশই আলেকজান্ডারের অদম্য মনোবল লৌহকঠিন দৃড় চরিত্র গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। প্রকৃতপক্ষে একজনের ছিল সমগ্র পৃথিবীকে জয় করে তার উপর প্রভুত্ব করবার প্রবল ইচ্ছা। অন্যজনের ছিল জ্ঞানের নতুন নতুন জগৎ আবিষ্কার করে মানুষের জন্য তাকে চালিত করার ইচ্ছা।


অ্যারিস্টটলের প্রতি রাজা ফিলিপেরও ছিল গভীর শ্রদ্ধা। শুধু পুত্রের শিক্ষক হিসাবে নয়, যথার্থ জ্ঞানী হিসেবেও তাকে সম্মান করতেন। অ্যারিস্টটলের জন্মস্থান স্তাজেইরা কিছু দুর্বৃত্তের হাতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেকানকার বহু মানুষ বন্দী জীবন যাপন করছিল। রাজা ফিলিপ অ্যারিস্টটলের ইচ্ছায় শত্রু সেনার হাত থেকে শুধু স্তাজেইরা উদ্ধার করেননি, ধ্বংসস্তুপের মধ্যে থেকে শহরকে নতুন করে গড়ে  তুলেছিলেন।


 অ্যারিস্টটল একদিকে ছিলেন মহাজ্ঞানী , অন্যদিকে সার্থক শিক্ষক। তাই গুরুর প্রতি আলেকজান্ডারের ছিল অসীম শ্রদ্ধ।  তিনি বলতেনপিতার কাছে পেয়েছি আমার এই জীবন আর গুরুর কাছে শিক্ষালাভ করেছি কিভাবে এই জীবনেক সার্থক করা যায় তার জ্ঞান।যখন অ্যারিস্টটল জীবন বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণার কাজ করছিলেন, আলেকজান্ডার তার সাহায্যের জন্য বহয মানুষকে নিযুক্ত করেছিলেন , যাদের কাছ ছিল বিভিন্ন ধরনের মাছ, পাখি, জীবজন্তুদের জীবন পর্যবেক্ষন করা, তার বিবরণ সংগ্রহ করে পাঠানো। দেশ বিদেশের যেখানেই কোন পুথি পান্ডুলিপির সন্ধান পাওয়া যেত, আলেকজান্ডার যে কোন মূল্যেই হোক সেই পুথি পান্ডুলিপি সংগ্রহ করে গুরুর হাতে তুলে দিতেন।


মনিষীদের জিবনের গল্প

যখন আলেকজান্ডার এশিয়া জয়ের নেশায় সৈন্যবাহিনী নিয়ে বার হলেন, অ্যারিস্টটল ফিরে গেলেন এথেন্সে। তাখন এথেন্স ছিল শিল্প সংস্কৃতি শিক্ষার  পীঠস্থান। এখানেই স্কুল স্থাপন করলেন অ্যারিস্টটল। তখন তার বয়স পঞ্চাশ বছল। স্কুলেন নাম রাখা হলো লাইসিয়াম। কারণ কাছেই ছিল গ্রীক দেবতা লাইসিয়ামের মন্দির। ৩২৩ খ্রীষ্টপূর্বে আলেকজান্ডারের আকস্মিক মৃত্যু হলো। 

এতদিন বীর ছাত্রের ছত্রছায়ায় যে জীবন যাপন করতেন তাতে বিপর্যয় নেমে এলা। কয়েকজন অনুগত ছাত্রের কাছ থেকে সংবাদ পেলেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে সক্রেটিস এর অন্তিম পরিণতির কথা অজানা ছিল না অ্যারিস্টটলের। তাই গোপনে এথেন্স ত্যাগ করে হউরিয়ো দ্বীপে গিয়ে আশ্রয় নিলেন। কিন্তু এই স্বেচ্ছানির্বাসের যন্ত্রণা বেশিদিন ভোগ করতে হয়নি অ্যারিস্টটলকে। ৩২২ খ্রীস্টপূর্বে তার মৃত্যু হয়।

0 Comments:

Post a Comment