পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Friday, July 19, 2019

চার্লস ডারউইন *বিবর্তনবাদের জনক*

মনিষীদের জিবনের গল্পের এই পর্বে থাকছে বিখ্যাত মনিষী চার্লস ডারউইন। তাকে বিবর্তনবাদের জনক বলা হয়। 



ডারউইনের জন্ম হয় ১৮০৯ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি  ইংল্যান্ডের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। পিতা ছিলেন নামকরা চিকিৎসক। মাত্র আট বছর বয়সে মাকে হারালেন ডারউইন। সেই সময় থেকেই পিতা  আর বড় বোনদের স্নেহের ছায়ায় বড় হয়ে উঠতে লাগলেন। নয় বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হলেন। চিরাচরিত পাঠ্যসূচীর মধ্যে কোন আনন্দই পেতেন না। তিনি লিখেছেন, বাড়িতে তার ভঅেই একটা ছোট ল্যাবরোটরি গড়ে তুলেছিলেন। সেখানে তিনি রসায়নের নানান মজার খেলা খেলতেন। ষোল বছর বয়সে চার্লসকে ডাক্তারি পড়ার জন্য এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেওয়া হলো।

চার্লস ডারউনের জিবনী


যার মন প্রকৃতির রুপ রস গন্ধে পূর্ণ হয়ে আছে , মরা দেহের হাড় অস্থি মজ্জা তাকে কেমন করে আকর্ষন করবে। ঔষধের নাম মনে রাখতে পারতেন না। শরীরের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গের  বিবরণ পড়তে বিরক্তি বোধ করতেন। আর অপরেশনের কথা শুনলেই আতকে উঠতেন। চার্লসের পিতা বুঝতে পারলেন ছেলের পক্ষে  ডাক্তার হওয়া সম্ভব নয়। তাকে কেমব্রিজের ক্রাইস্ট কলেজে ভর্তি করা হলো। উদ্দেশ্য ধর্মযাজক করা। সেই সময় কেমব্রিজের উদ্ভিদ বিদ্যার অধ্যাপক ছিলেন হেনসলো। হেনসলোর সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকেই তার অনুরাগী হয়ে পড়লেন চালর্স। অল্পদিনের মধ্যেই গুরু শিষ্যের মধ্যে প্রগাঢ় বন্ধুত্ব গড়ে উঠল। কেমব্রিজ থেকে পাশ করে তিনি কিছুদিন ভূবিদ্যা নিয়ে পড়াশুনা করতে থাকেন।

অপ্রত্যাশিতভাবে চার্লস ডারউিইনের জীবনে এক অযাচিত সৌভঅগ্যের উদয় হলো। অধ্যাপক হেনসলোর কাছ  থেকে একখঅনি পত্র পেলেন ডারউইন। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বিগল (H.M.S. Beagle) নামে একটি জাহাজ দক্ষিণ আমেরিকা অভিযানে বার  হবে। এই অভিযানের প্রধান হলেন ক্যাপ্টেন ফিজরয়। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীবজন্তু, গাছপালা সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করা।  এবং বৈশিষ্ট্যকে পর্যবেক্ষণ করা।    এই ধরনের কাজে বিশেষজ্ঞ এবং অনুরাগী ব্যাক্তিরাই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

এই অভাবনীয় সৌভাগ্যের সুযোগকে কিছুতেই হাতছাড়া করতে চাইলেন না ডারউইন। ১৮৩১সালের ২৭শে ডিসেম্বরবিগলদক্ষিণ আমেরিকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করল।  ক্যাপ্টেন ফিজরয়ের নেতৃত্বে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে জাহাজ ভেসে চলল পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকৈ আরেক প্রান্তে। দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল ছাড়াও গালাপগোস দ্বীপপুঞ্জ, তাহিতি,  অস্ট্রেলিয়, নিউজিল্যান্ড, মালদ্বীপ, সেন্ট হেলেনা দ্বীপে জাহাজ ঘুরে বেড়ালো। এই সময়ের মধ্যে ডারউইন ৫৩৫ দিন কাটিয়েছিলেন সাগরে আর ১২০০ দিন ছিলেন মাটিতে। ডারউইন যা কিছু প্রত্যক্ষ করতেন তার নমুনার সাথে সুনিদির্ষ্ট বিবরণ, স্থান , সংগ্রহের তারিখ লিখে রাখতেন। কোন তত্ত্বে দিকে তার  নজর ছিল না। বাস্তব তথ্যের  প্রতিটি ছিল তার আর্কষণ ২৪ শে জুলাই ১৮৩৪ সাল। ডারউইন লিখেছেন  ইতিমধ্যে ৪৮০০ পাতার বিবরণ লিখেছি এর মধ্যে অর্ধেক ভুবিদ্যা, বাকি বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্তুর বিবরণ

 বিগলজাহাজে চড়ে দেশভ্রমণের সময় মাঝে মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর যখন ১৮৩৬ সালে  ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তন করলেন ডারউইন তখন তার শরীর স্বাস্থ্য ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু অদম্য মনোবল, বাড়ির সকলেন সেবায় অল্প দিনেই সুস্থ হয়ে উঠলেন।

এই সময় ডারউইন তার কাজিন এস্মা ওয়েজউডকে বিবাহ করেন। বিবাহের সূত্রে বেশ কিছু সম্পত্তি লাভ করেন ডারউইন এস্মার গর্ভের  ডারউইনের দশটি সন্তান জন্মায় শুধু মা হিসেবে নয়, স্ত্রী হিসাবেও এস্মা ছিলেন অসাধারণ। ডারউইনের পরবর্তী বই এক ধরনের সামুদ্রিক গুগলিদের নিয়ে। এই বইটি লিখতে ডারউইনের সময় লেগেছিল আট বছর। এই সময় তার মনোজগতে এক নতুন চিন্তার জন্ম হচ্ছিল। যদিও সুদীর্ঘ দিন পর্যন্ত তা ছিল অসংলগ্ন বিশৃঙ্খল। কিন্তু নিরলস পরিশ্রম, অধ্যাবসায় , বিশ্লেষণ, গবেষণার মধ্যে দিয়ে তারই মধ্যে থেকে সৃষ্টি হচ্ছিল েএক নতুন মতবাদ - বিবর্তনবাদ।

চার্লস ডারউনের জিবনী

ডারউইন প্রথমে তার বিবর্তনবাদের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করনে। ১৮৪২ সালে এরই বিস্তৃতি ঘটে ৩৫ পাতার একটা রচনার মধ্য দিয়ে দু বছর পর অপেক্ষাকৃত বিস্তারিত ভাবে প্রস্তুত করলেন বিবর্তনবাদের উপর ২৩০ পাতার পান্ডুলিপি এরপর শুরু হলো পান্ডুলিপি সংশোধনের কাজ তাতে নতুন তথ্য সংযোজন করা প্রতিটি তথ্যের বিচার- বিশ্লেষণ করা, তাকে আরো যুক্তিনিষ্ট করা। সুদীর্ঘ পনেরো বছর ধরে চলেছিল এই সংশোধন পর্ব। এইবার ডারউইন বই লেখার কাজে হাত দিলেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি গবেষণার কাজ যতখানি ভালবাসতেন, লেখালেখি করত ততখানিই বিরক্তি বোধ করতেন।

অবশেষে ২৪শে নভেম্বর ১৮৫৯ সালে ডারউইনের  বই প্রকাশিত হলো। বই এর নামThe Origin of species by means of Natural Selection or the preservation of Favoured Races in the struggle for life” (পরবর্তীতে এই বই শুধু Origin of Species নামে পরিচিত হয়।)

প্রকাশের সাথে সাথে ১২৫০ কপি বই বিক্রি হয়ে গেল। বিবর্তনবাদের নতুন তত্ত্ব বাইবেলের আদম ইভের কাহিনী, পৃথিবীর সৃষ্টির কাহিনীতে বৈজ্ঞানিক তথ্যের বিশ্লেষনে সম্পূণূ মিথ্যা প্রমাণিত করলেন।  এই বইতে তিনি লিখেছেন, আমাদের এই পৃথিবীতে প্রতিমুহূর্তে নতুন প্রাণের জন্ম হচ্ছে। জীবের সংখ্যা ক্রমাগত্ি বেড়ে চলেছে। কিন্তু খাদ্যের পরিমাণ সীমাবদ্ধ। সেই কারণে নিয়ত জীবন মৃত্যুর মদ্যে চলেছে অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বিরামহীন প্রতিযোগীতা। যারা পরিবেশের সাথে নিজেদের সামঞ্জস্য বিধান করতে পেরেছে তারাই নিজেদের অস্তিত্ব বজায়  রাখতে পেরেছে। কিন্তু যারা পারেনি তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। েএই ধারাকেই বলা হয়েছে যোগ্যতমের জয় “Survival of the Fittest”

The origin of teh species প্রকাশিত হওয়ার পর ডারউইন তার বিবর্তনবাদ তত্ত্বকে আরো উন্ন্তভাবে প্রকাশ করবার জন্য ১৮৬৮ সালে প্রকাশ করলেন "Variation of Animals and Plant under Domestication"  ।১৮৭১ সালে  প্রকাশিত হলো ডারউনের আর একখানি বিখ্যাত রচনা  “The Descent of Man” 

মূল ক্রমবিবর্তনের চিত্রই তিনি একেছেন তার The Descent of man  গ্রন্থে। ডারউইন বিবর্তনবাদের প্রসঙ্গে অনেকের ধারণা মানুষের উৎপত্তি বাদর থেকে। কিন্তু ডারউইন কখনো এই ধরণের কথা বলেননি। তার অভিমত ছিল মানুষ  এবং বাদর উভয়েই কোন  এই প্রাগঐতিহাসিক জীব থেকে বিবর্তিত হয়েছে। বাদররা কোনভাবেই  আমাদের পূর্বপুরুষ নয়, তার চেয়ে দূর সম্পর্কের আত্মীয় বলা যেতে পারে। ডারউনের মতে মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ট জীব কারণ সমস্ত জীব জগতের মধ্যে সে সকলের চেয়ে বেশি যোগ্যতম। প্রকৃতপক্ষে মানুষ কোন স্বর্গচ্যুত দেবদূত নয়, সে বর্বরতার স্তর থেকে উন্নত জীব    এগিয়ে চলার তার লক্ষ্য। তিনি যখন শেষ বারে মত লন্ডনে   এসেছিলেন তখন তার বয়স ৭৩ বছর। 
চার্লস ডারউনের জিবনী

এক বন্ধুর বাড়ির দরজার সামনে এসেই  অসুস্থ হয়ে পড়লেন বন্ধু বাড়িতে ছিলেন না। বন্ধুর বাড়ির চাকর ছুটে আসতেই ডারউইন বললেন, তুমি ব্যস্ত হয়ো না , আমি একটা গাড়ি ডেকে বাড়ি চলে যেতে পারব। কাজের লোককে কোনভাবে বিব্রত না করে ধীরে ধীরে নিজের বাড়িতে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেন আর বিছানা থেকৈ উঠনে পারেননি  িতিনি।  ডারউইন সবুঝতে পারছিলেন তার দিন শেষ হয়ে আসছে।  তিন মাস অসুস্থ থাকার পর ১৯শে এপ্রিল ১৮৮২ সালে পৃথিবী থেকৈ চিরবিদায় নিলেন চার্লস রবার্ট ডারউইন। তার মৃত্যুতে দেশ জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এলা। শত্রুরা উল্লাসিত হয়ে উঠল, “তার মতো    ঈশ্বর-বিদ্বেষী পাপীর স্থান হবে নরকে।  ”

0 Comments:

Post a Comment