পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Thursday, July 11, 2019

হিটলার (জেনে নিই সবকিছু)



হিটলারের জন্ম ১৮৮৯ সালের ২০  এপ্রিল অস্ট্রিয়া ব্যাভেরিয়ার মাঝামাঝি ব্রানউ নামে এক আধা গ্রাম আধা শহর। বাবা একটি সরকারি প্রাতিষ্টানে সামান্য চাকরি করত। যা আর করত তার তিন পত্নী আর তাদের ছেলেমেয়েদের দু বেলা খাবার সংকুলানই হত না। হিটলার ছিলেন তার বাবার তৃতীয় স্ত্রীর তৃতীয় সন্তান। ছয় বছর বয়সে স্থানীয় অবৈতনিক স্কুলে ভর্তি হলেন। ছেলেবেলা থেকেই হিটলার ছিলেন একগুয়ে, জেদী আর রগচটা। সামান্য ব্যাপারেই রেগে উঠতেন। অকারণে শিক্ষকদের সঙ্গে তর্ক করতেন।  পড়শুনাতেও মোটামুটি মেধাবী ছিলেন। কিন্তু পড়াশুনার চেয়ে তাকে বেশি আকৃ্ষ্ট করত ছবি আকা।



 সেই উদ্দ্যেশ্যে বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে স্কুলের পড়াশুনা ছেড়ে দিলেন হিটলার ।স্থানীয়  এক আর্ট স্কুলে ভর্তির চেষ্টা কর

স্থানীয় এক আর্ট স্কুলে ভর্তি  হবার চেষ্টা করলেন।কিন্তু ভর্তি পরিক্ষায় উর্ত্তী হতে পারলেন না। একটা বেসরকারী স্কুলে ভর্তি হলেন। কিন্তু কয়েক মাস পর অর্থের অভাবে স্কুল ছেড়ে  দিলেন। মা মারা গেলে সংসারের সব বন্ধুন ছিন্ন হয়ে গেল। ভাগ্য অন্বেষণে বেরিয়ে পড়লেন হিটলার। ভিয়েনাতে চলে  এলেন। ভিয়েনাতে এসে তিনি প্রথমে মজুরের কাজ করতেন। কখনো মাল বইতেন। এর পর রং বিক্রি করতে আরম্ভ করলেন।  ভিয়েনাতে থাকার সময়েই তার মনের মধ্যে প্রথম জেগে ওঠে ইহুদী বিদ্বেষ।  হিটলার কিছুতেই মানতে পারছিলেন না , জার্মান দেশে বসে ইহুদীরা জার্মানদের উপরে প্রভুত্ব করবে। ১৯১২ সালে তিনি ভিয়েনা ছেড়ে এলেন মিউনিখে। সেই দুঃখ- কষ্টে আর বেচে  থাকবার সয়গ্রামে আরো দুটো বছর কেটে গেল। ১৯১৪ সালে শুরু হলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। হিটলার সৈনিক হিসেবে যুদ্ধে যোগ দিলেন।  সাহসীকতার সাথে যুদ্ধও করলেন।

 সেই সময় প্রধান রাজনৈতিক দল ছিল লেবার পার্টি। তিনি সেই পার্টির সদস্য হলেন। অল্পদিনেই পাকাপাকি ভাবে পার্টিতে নিজের স্থান করে নিলেন হিটলার। এক বছরের মধ্যেই তিনি হলেন পার্টি প্রধান। দলেন নতুন নাম রাখা হলো ন্যাশন্যাশ ওয়ার্কার্স পার্টি। পরবর্তীকালে এই দলকেই বলা হতো ন্যাৎসী পার্টি।

 হিটলার চেয়েছিলেন মিউনিথে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব যেন না থাকে। এই সময় তার পরিকল্পিত এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বার্ত হলো। পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন। তাকে এক বছরের জন্য ল্যান্ডসবার্গের পুরনো দুর্গে বন্দী করে রাখা হলো।  জেল থেকে মুক্তি পাবার পর আবারো ঝাপিয়ে পড়েন রাজনিতীতে। জনপ্রিয়তা বড়তে থাকে হিটলারের। তবে ১৯৩৩ সালের নির্বাচনে  বিপুল ভোট পেলেও  জিততে পারলেন না। তিনি বুঝতে পারলেন ক্ষমতা অর্জন করতে গেলে অন্য পথ ধরে অগ্রসর হতে হবে। অন্য পন্থাটা ছিল বাকি দল গুলোর মধ্যে নিজের দলের লোক ঢুকিয়ে তাদের মাঝে দ্বন্দ বাধিয়ে দিলেন।

 ১৯৩৫ সালে নতুন আইন চালু করলেন হিটলার। তাতে দেশের নাগরিকেদের দুটি ভঅগে ভাগ করা হলো, জেণ্টিল আর জু। জেণ্টিল অর্থ্যাৎ জার্মান,  তারাই খাটি আর্য, জু হল ইহুদীরা। তারা শুধুমাত্র জার্মান দেশের বসবাসকারী এদেশের নাগরিক নয়। প্রয়োজনে তাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। দেশ জুড়ে জার্মানদের মধ্যে গড়ে তোলা হলো তীব্র ইহুদী বিদ্বেষী মনোভাব।



  অল্পকিছুদের মধ্যে নিজেকে দেশের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন। তার এই সাফল্যের মূলে ছিল জনগণকে উদ্দীপিত করবার ক্ষমাতা।  তিনি দেশের প্রান্তে  প্রান্তে ঘুরে ঘুরে জনগণের কাছে শুনতেন ভয়াবহ বেকারত্বের কথা, দারিদ্রের কথা, নানান  অভিযোগরে কথা। হিটলার তার সমস্ত ক্ষমতা নিয়োগ করলেন দেশের সামরিক শক্তি বুদ্ধিতে তার সহযোগী হলেন কয়েকজন সুদক্ষ সেনানায়ক   এবং প্রচারবিদ। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত প্রদেশে বিশাল সৈন্য সমাবেশ করলেন।

 এই সময় অস্ট্রিয়া ইতালি   ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ হলো জার্মানির সাথে ইতালির সর্বাধিনায়ক ছিলেন মুসোলিনী। একদিকে ইতালির ফ্যাসীবাদিী শক্তি অন্যদিতে ন্যাৎসী জার্মানী।

 ইউরোপ জুড়ে যখন যুদ্ধ চলছে , এশিয়ার জাপান জার্মানির পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিল। তারা ৭ই ডিসেম্বর ১৯৪২ সালে আমেরিকার পার্ল হারবার বন্দরের উপর বোমা বর্ষণ করে বিধ্বস্থ করে ফেলল।  এই ঘটনায় আমেরিকাও প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল। প্রথম দিকে র্জামান বাহিনী সর্বত্র জয়লাভ করলেও মিত্রশক্তি যখন সস্মিলিতভাবে যুদ্ধ আরম্ভ করল, হিটলারের বাহিনী পিছু হটতে আরম্ভ করল। এক বছরের মধ্যেই আফ্রিকা থেকে জার্মান বাহিনীকে বিতাড়িত করা হলো। ইতালিতে মুসোলিনীকে বন্দী করা হলো্ ফ্যাসিবিরোধী জনগন তাকে প্রকাশ্যে রাস্তায় হত্যা করল।



 যতই চারদিক থেকে পরাজয়ের সংবাদ আসতে থাকে , হিটলার উন্মত্তের মতো হয়ে ওঠেন। ১৯৪৫ সালেও ২৯ শে এপ্রিল হিটলারের  শেষ ভরসা তার স্টেইনের সৈন্যবাহিনী বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এই সময়  হিটলার তার বারো বছরের  সঙ্গিনী
ইভাকে বার্লিন ছেড়ে পালিয়ে যাবার প্রস্তাব করলেন। কিন্তু ইভা  তাকে ছেড়ে যেতে অস্বীকার করেন। দুজনে সেই দিনই বিয়ে করেন। বিয়ের পর হিটলার উপস্থিত সঙ্গীদের সাথে একসঙ্গে শ্যাম্পেন পান করলেন। তারপর  দুটি চিঠি লিখলেন। একটি চিঠিতে সব কিছুর জন্য ইহুদীদের অভিযু্ক্ত করলেন।  আর অন্যটিতে নিজের সব সম্পত্তি পার্টিকে দান করে গেলেন।


৩০শে এপ্রিল ১৯৪৫ চারদিক থেকে বার্লিন অবরোধ করে ফেলল লাল ফৌজ। হিটলার বুঝতে পারেন আর অপেক্ষা করা উচিত নয়। যে কোন মুহূর্তে লাল ফৌজ এসে তাকে বন্দি করতে পারে। তিনি তার ড্রাইভার আরো একজনকে বললেন, মৃত্যুর পর যেন তাদের এমনভাবে পোড়ানো হয়, দেহের কোন অংশ যেন অবশিষ্ট না থাকে। বিকেল সালে তিনটের সময়  তিনি তার ঘর থেকে বের হয়ে তার পার্শ্বচরদের সাথে করমর্দন করে নিজের ঘরে ঢুকলেন। তারপরিই গুলির শব্দ শোনা গেল। হিটলার নিজের  মুখের মধ্যে গুলি করে আত্মহত্যা করলেন। আর ইভা  আগেই বিষ খেয়েছেন। দুজন সৈন্য তাদের কম্বল দিয়ে মুড়ে  বাগানে নিয়ে এল। চারদিকে থেকে কামানের গোলা এসে পড়ছে সেই অবস্থাতেই মুতদেহের উপর পেট্রল ঢেকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলো।  শেষ হয়ে গেল হিটলারের  কাহীনি।



0 Comments:

Post a Comment