পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Monday, July 15, 2019

মেরী কুরি (দুই বার নোবেল জয়ী)




মনিষীদের জীবনের গল্পের এই পর্বে থাকছে মেরী কুরি। 


১৮৬৭ সালের ৭ই নভেম্বর ওয়রশতে মেরীর জন্ম। বাবা ক্লোদোভস্কা ছিলেন কৃষক পরিবারের সন্তান। কিন্তু নিজের চেষ্টায় তিনি উচ্চ শিক্ষা লাভ কের ওয়ারশ হাইস্কুলে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক হন। মেরীর মা ছিলেন একটি মেয়েদের স্কুলের প্রধন শিক্ষিকা। এচাড়া খুব ভালো পিয়ানো বাজাতেন। চার বোনের মধ্যে মরীই ছিলেন সর্ব কনিষ্ঠ। অকস্মাৎ তার পরিবারের উপর নেমে এলো দুর্যোগ যক্ষ্মা রোগে অসুস্থ  হয়ে পড়লেন মা। বিছানা থেকে  উঠতে পারতেন না।
মেরী কুরি জীবনের গল্প


ঈশ্বর বোধ হয় খুশি হলেন  মাকে তার শিশুদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে। মেরীর বয়স তখন মাদ্র দশ। পোল্যান্ড তথন  জার শাসিত রাশিয়ার অধিকারে। পোল্যান্ড জুড়ে মুরু হয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলন। গোপনে  এই আন্দোলনে সহায়তা করবার জন্য স্কুলের চাকরি হারাতে হল মেরীর বাবাকে। অনেক চেষ্টা করেও অন্য কোথাও চাকরি পেলেন না। প্রচন্ড দারিদ্র্যের মধ্যেও নিজেদের মনোবল হারাননি ক্লোদোভস্কা পরিবার। মেরী কিন্তু তার পড়াশুনায় ছিলেন অসম্ভব মনোযোগী। শুধু নিজের ক্লাস নয়, সমগ্র স্কুলের  তিনি ছিলেন সেরা ছাত্রী। স্কুলের শেষ পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য স্বর্ণপদক পেলেন। কিন্তু অত্যধিক পড়াশুনার চাপে শরীর ভেঙে গিয়েছিল মেরীর। বাবা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। মেরীকে পাঠিয়ে দেয়া হল গ্রামের বাড়িতে। দেখতে দেখতে কয়েক মাস কেটে গেল। দেহ মন সতেজ হয়ে ওঠে মেরীর আবার ওয়ারশ তে ফিরে এলেন। মেরীর ইচ্ছা ছিল ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা করবেন কিন্তু কর্তৃপক্ষ তার  অনুরোধ অবজ্ঞা করল। সেই সময় তার বোন প্যারিসের মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে। মেরীর িইচ্ছা সেও বোনের সঙ্গে গিয়ে পড়াশুনা করবে।

বড় বোন গেল প্যারিসে তখন একমাত্র প্যারিসেই মেয়েরা ডাক্তারি পড়তে পারত। বোনের পড়ার খরচ মেটাবার জন্য গভর্নেসের চাকরি নিলেন মেরী। অল্প কয়েক মাস যেতেই এক সমস্যা দেখা দিল মেরীর জীবনে। যেখানে ছিলেন সেটা একেবারেই পড়াশুনার জন্য অনুপোযুক্ত পরিবেশ। মেরী স্থীর করলেন কলেজের কাছেই একটা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকবেন। প্রথমে প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মেরীর ইচ্ছাকেই মেনে নিলেন তার বোন-দুলাভাই। শুরু হলো সাধনা আর সংগ্রাম। আরামের জীবন ত্যাগ করে নিজের খরচ চালাবার দায়িক্ত নিজের ঘাড়ে নিলেন। আয় বলতে নিজের সামাস্য সঞ্চয় আর বাবার পাঠানো যৎসামান্য অর্থ, সব মিলিয়ে মাসে ৪০  রুবল শিক্ষকেরা মেরীর কল্পনাশক্তি, উদ্যাম দক্ষতা দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে তাকে নতুন নতুন গবেষণায় উৎসাহিত করতেন।

েএই সময় একদিন পরিচয় হলো পিয়ের কুরীর সাথে। পিয়ের ছিলেন পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক। কোন নারী নয়, বিজ্ঞানই ছিল তার জীবনের আকর্ষণ। একদিন দুজনের দেখা হলো এক অধ্যাপকের বাড়িতে। তার দুজন বিজ্ঞান নিয়েই কথাবার্তা শুরু করেছিলেন এবং তাদের অজান্তেই পরস্পরের বন্ধু হয়ে যান। পিয়ের মেরীকে তার গবেষনাগরে যোগ দিতে বললেন। পিয়ের তখন চুম্বকত্ত্ব নিয়ে কাজ করছিলেন। মেরী তার সাথে কাজ শুরু করলেন ১৮৯৪ সালে। পরের বছর দুজনে বিবাহ সুত্রে আবদ্ধ হলেন।  সেই সময় পিয়ের স্কুল অব ফিজিক্সে মাত্র ৫০০ ফ্রাঙ্ক মাইনে পেতেন। এই অর্থেই দুজনের সংসার চলত। স্বামীর ল্যাবরোটারিতে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটত মেরীর। ফরাসী বৈজ্ঞানিক বেকেরেল একদিন বিরল ধাতু ইউরেনিয়ামের একটি অংশ লবণ দিয়ে পরীক্ষা করবার সময় লক্ষ্য করলেন লবণ থেকে এক প্রকার অদৃম্য রশ্মি বার হয় যা অস্বচ্ছ বস্তু ভেদ করে যেতে পারে।.
মেরী কুরি জীবনের গল্প

তিনি দেখেছিলেন এই অদৃশ্য রশ্মি একটা কালো কাগজে মোড়া  ফটোগ্রাফির প্লেটের উপরও বিক্রিয়া করে। কোন রশ্মির ভেদ ক্ষমতা সম্পর্কে সম্ভবত এটাই প্রথম আবিষ্কার। এই ব্যাপারটি কুরী দম্পতির গোচরে আনেন বেকেরেল। তারা অন্য গবেষণা ছেড়ে এই সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করলেন। তার স্থির করলেন িএই বিষয়টিকেই তারা উক্টরেট ডিগ্রী পাওয়া জন্য গবেষণার বিষয় হিসেবে স্থির করবেন। পিচব্লেন্ডের বাঝালো ধোয়ায় মেলী নিউমনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিন  মাস গবেষণাগার ছেড়ে বিশ্রাম নিলেন। ১৮৯৭ সাল মেরীর প্রথম সন্তান আইরিনের জন্ম হলো 

সন্তান জন্মের পর কিছুদিন গবেষনা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখতে বাধ্য হলেন মেরী   আইরিনের বয়স কয়েক মাস হতেই গবেষণার কাজে আবার স্বমীর সঙ্গী হলেন মেরী। ১৮৯৮  থেকে ১৯০২ এই ৪৫ মাস অমানুসিক পরিশ্রম করছেন স্বামী-স্ত্রী। দিন মজুরের মত খাটতেন মেরী   আটচালার নিচে তার স্বামী নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডুবে থাকেন। প্রথমে তারা ভেবেছিলেন পিটব্লেন্ডের মধ্যে শতকরা একভাগ অন্তত অদৃশ্য বস্তটি পাওয়া যাবে।  এখন  সে সব চিন্তা কোথায় হারিয়ে গেল। নতুন পদার্থের তেজস্ত্রিয়তা এত বেশি যে অশোধিত আকারের মধ্যে তার অতি সামান্য পরিমাণে উপস্থিতি সত্যি বিস্ময় জাগাত।

১৯শে  এপ্রিল ১৯০৪ সাল। সকাল থেকে টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছিল। পিয়ের কুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একটা অধিবেশনে যোগ দিয়ে সেখান থেকে এক প্রকাশকের কাছে যাচ্ছিলেন।  এমন সময় মৃত্যু বরণ করেন পিয়ের কুরী। এই অপ্রত্যাশিত আঘাতে সাময়িক ভেঙে পড়লেন মেরী। কিন্তু অল্পদিনেই ধীরে ধীরে নিজেকে মানসিক দিকে থেকে প্রস্তুন করে তুললেন নতুন িএই শক্তি জেগে উঠল তার মধ্যে মনে হলো স্বামীর অসম্পূর্ন কাজকে সমাপ্ত করতে হবে।  স্বামীর স্থালাভিষিক্ত হয়ে ১৫ই  নভেম্বর ১৯০৬ সালে তিনি পিয়েরের উত্তরাধিকারী হিসেবে বিজ্ঞান একাডেমিতে বক্তৃতা দিলেন তার অসাধারণ বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে গেলন সকলে।

 শুরু হলো মেরীর নতুন এক জীবন একদিকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, তারিই সাথে অধ্যাপনা করা বিশ্বাবিদ্যালয়ের কাজ সেরে দুটি মেয়ে আর বৃদ্ধ শ্বশুরের সেবা যত্ন করা, ১৯১০ সালে শ্বশুর মারা গেলেন ছেলের সমাধির পাশেই বাবাকে সমাধিস্ত করা হলো। এই  বছরেই তিনি রেডিয়াম ক্লোরাইডকে তড়িৎ বিশ্লেষন করে সম্পূর্ন বিশুদ্ধ রেডিয়াম নিষ্কাষন করলেন। েএই অসাধারণ উদ্ভাবনের জন্য ১৯১১ সালে নোবেল পুরস্কার কর্তৃপক্ষ তাকে রসায়নের জন্য নোবেল পুরস্কারে ভুষিত করল। পৃথিবীর ইইতহাসে তিনিই একমাত্র মহিলা যিনি দুবার এই পুরস্কার পেয়েছেন। বহু অর্থব্যয়ে তৈরি হলো কুরী ইনস্টিটিউট। এর পরিচালনার ভার দেওয়া হলো মেরী কুরীর উপর   এখানে রেডিয়াম বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য গবেষণার কাজ চলবে।
মেরী কুরি জীবনের গল্প

অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ক্রমশই মেরীর দেহ অক্ষম হয়ে পড়ছিল। কিন্তু তবুও কাজের বিশ্রাম ছিল না। দিন অতিক্রান্ত হচ্ছিল ক্রমশই মেরীর দেহ অক্ষম হয়ে পড়ছিল। কিন্তু তবুও কাজের বিশ্রাম ছিল না। দিন অতিক্রান্ত হচ্ছিল ক্রমশই চোখের দৃষ্টি ক্ষীন হয়ে আসছিল মেরীর।  এই সময় তার বড় মেয়ে আইরিন গবেষণার কাজ করেন।
(মেরীর মৃত্যুর  এক বছর পর আইরিন জোলিও তার স্বামী ফ্রেডারিক জোলিও কুরী রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান। )

একদিন গবেষণাগার থেকে ফিরে এসে মেরী বিছানায় শুয়ে পড়লেন , আপন মনেই তিনি বললেন আমি বড় ক্লান্ত। পরের দিন আর বিছানা ছেড়ে উঠতে পারলেন না। দেশের সেরা ডাক্তাররা তার চিকিৎসা করেও রোগ নির্ণয় করতে পারল না। প্রকৃত পক্ষে তা মৃত্যুর সময় পর্যন্ত রোগের কারণ জানা যাইনি। এটি ছিল রেডিয়ামের বিষ।  তারই আবিস্কৃত সন্তান সমস্ত জীবন ধরে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। ১৯৩৪ সালে ৪ঠা জুলাই এই মহিয়সী বিজ্ঞানসাধিকার জীবনদ্বীপ চিরদিনের জন্য নির্বাপিত হলো।




0 Comments:

Post a Comment