পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Friday, July 5, 2019

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট (জেনে নিই সব কিছু )


ইতালির   অন্তর্গত কর্সিয়া  দ্বীপের আজামিও নামে একটি ছোট শহরে বস করতেন এক আইনজীবি, নাম চার্লস। চতুর্থ সন্তানের জন্মের সময় একটু চিন্তিত। স্ত্রীর শরীরের অবস্থা খুব ভালো নই। কিন্তু কি করা সৃষ্টিকর্তা যে তার গর্ভ থেকে বীরের জন্মদিবেন। তাকে তো বাচতেই হবে শেষ পর্যন্ত। দাই এসে সুসংবাদ দিতেই চার্লস ছুটে গেল ঘরের ভেতর।  ঘরে বিছনার উপর ছেলে আর ছেলে মা  শুয়ে আছে। সারা বিছানায় যুদ্ধের ছবি আকাঁ। চার্লস হইত কল্পনাও করতে পারেনি এই ছেলে তার সারা বিশ্বের বীর নায়ক হবে। যুদ্ধই হবে তার শুরু আর যুদ্ধই হবে শেষ। এই সেই বীর নায়ক নেপোলিয়ন বোনাপার্ট জন্ম ১৫ই আগষ্ট ১৭৬৯ সালে।



নেপলিয়নের বাল্যকাল

 পুত্রদের প্রাথমিক শিক্ষার সব ভার বাবা চার্লস নিজেই চালাতেন।শিশু নেপোলিয়ন তার দাদাদের সাথে পড়াশুনার অবসরে দ্বীপের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াতেন। পাহাড় পর্বতের সাথে থাকতে থাকতে পাহাড়ের মতোই অটোল , অনড়।

নেপোলিয়নের মা ছিলেন উদার শান্ত প্রকৃতির মহিলা্ বাবা মার চারিত্রিক প্রভাবও নেপোলিয়নের জীবনকে অনেকাংশে প্রভাবিত করেছিল। নেপোলিয়নের বাল্যশিক্ষা গুড়ু হয় তার বাড়িতে পিতার কাছে। দশ বছর বয়সে একটা ফরাসী স্কুলে ভর্থি হলেন।নেপোলিয়ন ফরাসী নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করলেও ফরাসীদের প্রতি বন্ধু ভাবাপন্ন ছিলেন না। কারণ তার মনে হতো ফরাসীরা তাদের স্বধীনতা হরণ করেছে।

ছোট বেলা থেকেই সৈনিক হবার  ইচ্ছা ছিল তার। ভর্তিও হলেন সামরিক কলেজে। সামরিক শিক্ষায় নিজেকে গড়ে তুললেও েইতিহাস দর্শনের প্রতি তার ছিল গভীর আগ্রহ।  সে  ইতিহাসের যুদ্ধের বই পড়তে খুব ভালোবাসত। তবে তাকে সবচেয়ে বেশি  আকৃষ্ট করত বিভিন্ন দেশের ইতিহাস, সেই সব দেশের সম্রাট রাজাদের বীরত্ব সাহস কীর্তি 

নেপোলিয়নের যৌবন

তার যৌবনে একটি মাত্র উদ্দেশ্য ছিল কর্সিয়ার স্বাধীনতা অর্জন। তিনি বিশ্বাস করতেন িএকমাত্র সামরিক শক্তিতেই এই স্বধীনতা পাওয়া সম্ভব।  মাত্র একুশ বছর বয়সে তিনি ফরাসী সামরিক বাহিনিতে ক্যাপ্টেন হিসেবে ভর্তি হলেন।

১৭৯৩ সালে ইউরোপের শক্তি শালী বাহিনী  ইংরেজ নৌবাহিনী ফরাসী সামরিক বন্দর টুলো অবরোধ করল।   নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কখন ফরাসী বাহিনীর িএক ক্যাপ্টেন, ইংরেজ বাহিনীর অবরোধ মুক্ত করবার ভার পড়ল তার উপর। সসৈন্যে এগিয়ে গেলেন নেপোলিয়ন। দু পক্ষের  শুরু হলো তুমুল যুদ্ধ। ইংরেজ বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ফরাসীদের তুলনায় বেশি হওয়া সত্ত্বেও নেপোলিয়নের সুদ্ক্ষ রণনীতির সামনে তারা সর্ম্পূণভাবে পরাজিত হয়ে ফ্রান্স পরিত্যাগ করতে  বাধ্য হলো।  এই জয়ে নেপোলিয়নের খ্যাতি সুন্ম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল।

যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্য তাকে ফরাসী সামরিক বাহিনীর ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল হিসেবে ঘোষণা করা হলো।  এর কিছু দিন পরই তাকে একটা মিথ্যা মামলায়  গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবিযোগ উঠেছিল তিনি বিপ্লব বিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অনুসন্ধানে এই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে  মুক্তি দেওয়া হলো।

 ১৭৯৫ সালে নেপোলিয়ন কনভেনশন ডাইরেক্টরি নামে নতুন শাসনতন্ত্রের পরিচলনার দায়িত্ব গ্রহণ করল। ফ্রান্সের সর্বময় কর্তা হিসেবে আইনসংগত ভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নেপোলিয়ন ঘোষনা করলেন(১৭৯৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর), “ বিপ্লবের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে, এই বার বিপ্লবের সমাপ্তি ঘটল।

 ফ্রান্সের সাময়িক বিপর্যয়ের সুযোগ ইউরোপে গড়ে উঠল দ্বিতীয় শক্তি সঙ্ঘ। এই সঙ্ঘে যোগ দিয়েছিল। ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, রাশিয়া। তাদের একটি মাত্র উদ্দেশ্য ছিল ফ্রান্সে নব গঠিত শাসন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্টা করা।  ইউরোপের প্রতিটা দেশে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল। ফরাসী  বিপ্লবের দ্বরা যেভাবে সে দেশের মানুষ ক্ষমতা অর্জন করেছে, তার প্রতিক্রিয়া তাদের দেশেও পড়তে পারে। একদিকে যেমন এই আশঙ্কা ছিল অন্যদিকে নেপোলিয়নের রণকুশলতায় সকলেই ভীত সস্ত্রত হয়ে পড়েছিল।

নেপোলিয়ন বুঝলেন অন্যান্য দেশগুলো তার বিরুদ্ধে এক হয়েছে।  তাই তিনি ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পিটও অস্ট্রিয়ার  রাজার কাছে সন্ধির প্রস্তাব করলেন। কিন্তু নেপোলিয়নের সন্ধির প্রস্তাব দুই তরফেই অগ্রাহ্য করা হল।  নেপোলিয়ন বুঝে গেলেন যুদ্ধের সময় হয়েছে। মাত্র এক বছরের মধ্যে তিনি নিজের সৈন্যবাহিনীকে নতুন করে সুসংহত করে উতালি আক্রমন করলেন। অন্যদিতে তার সেনাপতি অস্ট্রিয়া আক্রমণ করল।   এই যুদ্ধের ফলে বিশাল অঞ্চল ফ্রান্সের অধিকার ভুক্ত হল। তারা ফ্রান্সের সঙ্গে সন্ধি করতে বাধ্য হলো। এই ভাবে দ্বিতীয় শক্তি সঙ্ঘের অবসান ঘটল।

নেপোলিয়ন নিজেকে সম্র্রাট বলে ঘোষণা করে প্রকৃত পক্ষে একনায়কতন্ত্রের শাসন প্রতিষ্ঠা করলেন। যে প্রজাতন্ত্রে জন্য ফরাসী বিপ্লব ঘটেচিল তার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ব্যার্থ হলো। এই  ক্ষমতা দখথল প্রসঙ্গে নেপোলিয়ন বলেছিলেন, “ফ্রান্সের রাজমুটুক মাটিতে পড়েচিল, আমি সেই মুকুট তরবারি দিয়ে মাথায় তুলে নিয়েছি।


নেপোলিয়নের বাস্ত বুদ্ধিবোধ এত প্রকর ছিল, তিনি গণভোটের আয়োজন করলেন, যাতে সর্বসমক্ষে প্রমাণিত হয়ে যাই তিনি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়েই সম্রাট পড়ে অভিষিক্ত  হয়েছেন। তখন ফ্রান্সের ফ্রান্সের জনগণের কাছে নোলিয়ন এক অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন সকলের ধারণা ছিল তিনিই ফ্রান্সের রক্ষাকর্তা। তাই নির্বাচনে সমগ্র জনগণের জনসমর্থন লাভ করে হয়ে উঠলেন ফ্রান্সের একচ্ছত্র অধিপতি।

 এই সব কিছুর পর এবার তিনি দেশের উন্নতির দিকে নজর দিলেন। তিনি দেশকে ৮৩টি প্রদেশে ভাগ করে প্রতিুট  প্রদেশ দেখাশুনার জন্যে িএকজন করে শাসক নির্বাচিত করলেন। সেই শাসকের উপর তার  প্রদেশের  সম্পূর্ণ দায়িত্ব আরোগ করা হলো। নতুন বিচারক নিয়োগ করলেন। যাতে কোন দূর্নীতি বাজ লোক বিচারক হতে না পারে সে জন্য তিনি নিজেই বিচারক নির্বাচনের ভার নিলেন। দেশে ব্যাংক  ব্যাবস্থার উন্নতি করা হলো। তৈরি  করা হলোব্যাংক অব ফ্রান্সনামে জাতীয় ব্যাংক। তিনি কর ব্যবস্থাকে সুবিনস্ত করণেন।এতদিন সরকারের তরফে কর আরোপ করা হত। লোকেরা কর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জমা দিত না। কিন্তু তিনি জনগণের উপর কোন বাধ্যবাধকতা চাপালেন না। তিনি জনগণকে বোঝাতে শুরু করলেন। ফলে জনগণ স্বেচ্চায় কর দিতে শুরু করল। ফলে অল্পদিনের মধ্যেই ভেঙে পড়া অর্থনীতি সজীব হয়ে উঠল।

 এই সকল কাজের মধ্যে নেপোলিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এবং বিখ্যাত কাজ হলো নতুন আইন বিধি যা নেপোলিয়ন কোড (Code Nepoleon) নামে পরিচিত।

মৃত্যু কাহীনি

 এর মাঝে ১৮০৫ সালে ইংরেজ নৌবাহিনি ফরাসী নৌবহরকে পরাজিত করল। নৌযুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরিজিত হয়ে নেপোলিয়ন তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক  অবরোধ শুরু করলেন। তিনি ইয়রেজদের বলতেনদোকানদারের জাত  ইউরোপের কোন বন্দরে যাতে ইংল্যান্ডের কোন পণ্য প্রবেশ করতে না পারে তা জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন। এর ফলে শুধু ইংল্যান্ড নয়, অন্য দেশের উপর অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ল। ফলে ইউরোপের প্রতিটি দেশই নেপোলিয়নের উপর ক্রদ্ধ হয়ে উঠল।

রাশিয়ার সঙ্গে ফ্রান্সের মৈত্রী সম্পর্ক ছিল। কিন্তু নেপোলিয়নের আচার আচরণ মেনে নিতে পারলেন না রাশিয়ার জার। তিনি নিজের দেশের সমস্ত বন্দর ইংল্যান্ডের জন্য উন্মুক্ত  করে দিলেন এবং তাদের সাথে ব্যাবসা শুরু করলেন।রাশিয়ার এই আচরণে ক্রদ্ধ নেপোলিয়ন তার বাহীনি নিয়ে  রাশিয়ার উদ্দ্যেশে রওনা হলো। রাশিয়ার জার জানতেন নেপোলিয়নের সেনাবাহীনির সামনে দাড়ানো তার পক্ষ্যে সম্ভব না। তাই তারা রাশিয়াকে  নেপোলিয়নের জন্য ছেড়ে দিলেন। কিন্তু  যুদ্ধে জেতার কিছু দিন পরই শীত কাল চলে আসে। রাশিয়া ভয়াবহ ঠান্ডা সহ্য করার মতো ক্ষমতা ছিল না ফরাসী সৈন্যদের। তারা ফিরে চলল ফ্রান্সের দিকে। প্রচন্ড শীতে নেপোলিয়নের অনেক সৈন্য মারা গেল। অল্প কিছু সৈন্য নিয়ে  সে ফিরে  এলা ফ্রান্সে।

 এই সময়  তার দুর্বলতা টের পেয়ে অন্যান্য দেশ গুলো ফ্রান্স আক্রমন করতে শুরু করল। বারংবার  আক্রমনের সামনা করতে না পেরে ১৮১৪ সালের ১১ই  এপ্রিল সিংহাসন ত্যাগ করলেন। তাকে এলবা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হল।  সিংহাসনে বসলেন ফ্রান্সের বুরবো পরিবারের অষ্টাদশ লুই। ফরাসী জনগন কিছুতেই অষ্টাদশ লুই কে মেনে নিতে পারছিল না।    অবশেষে ১৮২১ সালের ৫ই মে  মাত্র বায়ান্ন বছর বয়সে ক্যানসার রোগে তার মৃত্যু হলো।  ভাগ্যে নির্মম পরিহাসে ইউরোপের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর খাচার পোষা  পাখির মত বন্দি জীবনে প্রাণত্যাগ করলেও তিনি ইউরোপের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পুরুষ

0 Comments:

Post a Comment