পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Thursday, July 18, 2019

বিখ্যাত মনিষী গ্রিক দার্শনিক প্লেটো

মনিষীদের জিবনের গল্পের এই পর্বে বিখ্যাত মনিষী ও গ্রিক  দার্শনিক প্লেটো। মহান সক্রেটিসের প্রিয়তম শিষ্য। 




মহান দার্শনিক প্লেটো জন্মগ্রহণ করছেন খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭ এ। প্লেটো ছিলেন সেই সব সীমিত সংখ্যক মানুষদের একজন যারা ঈশ্বরের অকৃপণ করুনা নিয়ে জন্ম  গ্রহণ করেন। তার জন্ম হয়েছিল সম্ভ্রান্ত ধনী পরিবারে। অপরুপ ছিল তার দেহলাবণ্য , সুমিষ্ট কন্ঠস্বর, অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞানের প্রতি আকাঙ্ক্ষা, সক্রেটিসের মত গুরুর শিষ্যত্ব লাভ করা, সব কিচুতেই তিনি ছিলেন সৌভাগ্যবান। পিতা ফিলেন এথেন্সের বিশিষ্ট  ব্যাক্তি। কিন্তু   আভিজাত্যের কৌলিণ্য তাকে কোনদিন স্পর্শ করেনি। রাজনীতি রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে তিনি বরাবরই ছিলেন উদাসীন  



বাস্ত জীবনের জটিলতা, সমস্যার চেয়ে জ্ঞানের সীমাহীন জগৎ তার মনকে আরো বেশি আকৃষ্ট করত। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ছিলেন ভাবুক আর কল্পনাপ্রবণ। এক সময় এথেন্স সর্ববিষয়ে সমৃদ্ধ। প্লেটো যখন কিশোর সেই সময় সিসিলির সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এথেন্স। এই যুদ্ধেল পর থেকেই শুরু হল এথেন্সের বিপর্যয়। দেশে গণতন্ত্র ধ্বংষ করে প্রতিষ্টিত হলো স্বৈরচারী  শাসন সমাজের সর্বক্ষেত্রে দেখা দিল অবক্ষয় আর দুনীর্তি প্লেটো বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে শিক্ষা লাভ করেছে। তাদের কারোর কাছে শিখেছেন সংগীত, কারো কাছে শিল্প, কেউ শিখিয়েছে সাহিত্র আবার কারো কাছে পাঠ নিয়েছেন বিজ্ঞানের সক্রেটিসের প্রতি ছেলেবেলা থেকেই ছিল প্লেটোর গভীর শ্রদ্ধা। সক্রেটিসের জ্ঞান, তার শিক্ষাদানের পদ্ধতির প্রতি কিশোর বয়সেই আকর্ষণ অনুভব করেছিলেন। কুড়ি বছর রয়েছে তিনি সক্রেটিসের শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন। তরুণ প্লেটো অল্পদিনেই মধ্যেই হয়ে উঠলেন সক্রেটিসের সবচেয়ে প্রিয় শিষ্য। গুরুর বিপদের মুহুর্তেও প্লেটো ছিলেন তার নিত্য সঙ্গি  

বিচারের নামে মিথ্যা প্রহসন করে সক্রেটিসকে হত্যা করা হলো। সক্রেটিসের মৃত্যু হলো  কিন্তু তার প্রজ্ঞার আলো জ্বলে উঠল শিষ্য প্লেটোর মধ্যে। প্লেটো শুধু যে সক্রেটিসের প্রিয় শিষ্য ছিল তাই না, তিনি ছিলেন গুরুর জ্ঞানের ধারক-বাহক। গুরুর প্রতি িএত গভীর শ্রদ্ধা খুব কম শিষ্যের মধ্যেই দেখা যাই।  প্লেটো যা কিছু লিখেছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তার প্রধান নায়ক সক্রেটিস

এর ফলে উত্তর কালের মানুষদের কাছে একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সক্রেটিসকে কেন্দ্র করে প্লেটো তার সব সংলাপ তত্ত্ব প্রকাশ করেছেন। সবসময়েই প্লেটো নিজেকে  আড়ালে রেখেছেন- কখনোই নিজেকে প্রকাশ করেননি। সক্রেটিসের  জীবনের অন্তিম পর্যায়ের যে অসাধারণ বর্ণনা করেছেন প্লেটো  তার  সক্রেটিসের জীবনের শেষ দিনগ্রন্থে, জগতে তার কোন তুলনো নেই।  গুরুর মৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিলেন প্লেটো। তার কয়েক বছরের মধ্যেই এথেন্স স্পার্টার হাতে সম্পূর্ণ হাতে বিধ্বস্ত হলো।  আর এথেন্সে থাকা নিরাপদ নয় মনে করে বেরিয়ে পড়লেন। তিনি যখন যে দেশেই গিয়েছেন সেখান জ্ঞানী গুণী- পন্ডিতদের সাথে নানান বিষয়ে আলোচনা করতেন।   েএতে একদিকে যেমন তার দৃষ্টি ভঙ্গির, জ্ঞানের প্রসার ঘটছিল, অন্যদিকে তেমন পন্ডিত দার্শনিক হিসেবে তার খ্যাতি সম্মান িএকটু একটু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছিল। দীর্ঘ দশ বছর ধরে প্রবাসে জীবন কাটিয়ে অবশেষে ফিরে এলেন এথেন্সে।


 ভ্রমর যেমন ফুলের সুবাসে চারদিকে থেকে ছুটে আসে  তেমন দলে দলে ছাত্ররা এসে ভিড় করল প্লেটোর কাছে। সেক্রটিস শিষ্যদের নিয়ে প্রকাশ্য স্থানে গিয়ে শিক্ষা দিতেন কিন্তু প্লেটো উন্মুক্ত কলাহলে শিক্ষাদানকে মেনে নিতে পারতেন না। নগরের উপকন্ঠে প্লেটোর একটা বাগানবাড়ি ছিল, সেখানেই তিনি শিক্সা কেন্দ্র খুললেন, তিনি তার নাম দিলেন একাডেমি।

তিনি বিশ্বাস করতেন রাষ্ট্র ক্ষমতায় কোন স্বৈরচারীর স্থান নেই। রাষ্ট্রের অস্তিত্ব শুধু জীবন ধারণের জন্য নয়। যতদিন মানুষ জীবিত থাকবে ততদিনই সে শ্রেষ্ঠ জীবন যাপন করবে।  তার রাষ্ট্রব্যবস্থায় উচ্চ নিচের ভেদ থাকবে না। থাকবে পারষ্পরিক সৌহার্দ প্রীতির সম্পর্ক।  দি লস গ্রন্থে তিনি বলেচেন, নগরবাসীরা সকলে পরস্পরকে জানকে বুঝবে। এর চেয়ে ভালো ব্যাবস্থা রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আর কিছুই হতে পারে না।


 দার্শনিক প্লেটোর  মৃত্যু কথা:::


 একদিন তার এক বন্ধুর ছেলের বিয়েতে নিমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন। সেখানকার কলকোলাহলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। বিশ্রাম নেবার জন্য পাশের ঘরে গেলেন কিন্তু আনন্দ উল্লাসের শব্দ ক্রমশই বেড়ে চলছিল। উপস্থিত সকলেই ভুলে গিয়েছিল বৃদ্ধ দার্শনিকের কথা। এক সময় বিবাহ শেষ হলো। নব দম্পত্তি আর্শীবাদ গ্রহণের জন্য প্লেটোর কক্ষে প্রবেশ করল। প্লেটো তখন গভীর ঘুমে অচেতন। পৃথীবির কোন মানুষের ডাকেই সে ঘুম ভাঙবে না। প্লেটো মৃত্যু বরণ করেছিল খ্রিষ্ট্রপূর্ব ৩৪ এ।

  

0 Comments:

Post a Comment