পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Wednesday, July 10, 2019

স্বামী বিবেকানন্দ (আদর্শ জিবনচরিত্র সাথে মজার কিছু ঘটনা)



মনিষীদের জিবনের গল্পের  এই পর্বে মহান মনিষী হাজার হাজার মানুষের আদর্শ স্বামী বিবেকানন্দ।




স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম ও ছেলেবেলা::

বিশ্বনাথ  দত্তের কন্যাসন্তান থাকলেও কোন পুত্র ছিল না। স্ত্রী ভুবনেশ্বরী দেবী শিবের কাছে নিত্য প্রার্থনা করতেন। অবশেষে ১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারী জন্ম হলো তার প্রথম পুত্রের । ডাক নাম বিলো, ভালো নাম শ্রীনরেন্দ্রনাথ দত্ত। যদিও তিনি বিশ্বের মানুষের কাছে পরিচিত স্বামী বিবেকানন্দ নামে। চেলেবেলায় নরেন্দ্রনাথ ছিলেন যেমন চঞ্চল তেমনি সাহসী। সকল বিষয়ে ছিল তার অদম্য কৌতুহল।  বাড়িতে শুরু মহাশয়ের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হলেন মেট্রোপলিটান ইনস্টিটিউশনে। তিনি সর্ব বিষয়ে ছিলেন ক্লাসের সেরা ছাত্র। কৈশোরেই তার মধ্যে দয়া মায়া, মমতা, পরোপকার, সাহসিকতা, ন্যায়বিচার প্রভৃতি নানা গুণের প্রকাশ ঘটেছিল।

 নরেন্দনাথ ছিলেন সুঠাম স্বাস্থের অধিকারী। ছেলেবেলা থেকেই নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন, কুস্তি বক্সিং দুটিতেই ছিল তার সমান দখল। নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন।



swami vivekananda


কর্মক্ষেত্রে সবল নিরোগ দেহের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই তিনি চির রুগ্ন বাঙালীর উদ্দেম্যে বলেছিলেন, গীতা পাঠ করার চেয়ে ফুটবল খেলা বেশি উপকারী।তিনি ছিলেন কবি দার্শনিক উদার হৃদয়ের মানুষ। তার সান্নি্ধে এসে দেশ বিদেশের দর্শনশাস্ত্রের প্রতি আকৃষ্টট হলেন। নরেন্দ্রেনাথের সহপাঠি ছিলেন ডঃ ব্রজেন্দ্রনাথ শীল।

দর্শনশাস্ত্রে এতখানি বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন যে অধ্যক্ষ উইলিয়ম হেস্টি তার সম্বন্ধে  বলেছিলেন, “দর্শনশাস্ত্রে নরেন্দ্রনাথের অসাধারণ দখল, আমার মনে হয় জার্মানী ও   ইংল্যান্ডের কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই তার মত মেধাবী ছাত্র নেই।”

যতই দিন যায় সত্যকে জানার জন্যে ব্যাকুলতা বতই বাড়তে থাকে। পরিচিত অপরিচিত জ্ঞানী মূর্খ সাধুসন্ত যাদেরই সাথে সাক্ষাৎ হয় তিনি জিজ্ঞাসা করেন  ইশ্বর আছেন কি নেই? যদি ঈশ্বর থেকৈ থঅকেন তবে তার স্বরুপ কি? কারোর কাছে থেকেই মনের মতোন উত্তর পান না। ক্রমশই মনের জিজ্ঞাসা  বেড়ে চলে। বার বার মনে হয় েএমন কেউ কি নেই যিনি তার এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।

১৮৮০ সালে ঠাকুর রামকুষ্ণ সিমলাপল্লীতে সুরেন্দ্রনাথ মিত্রের বাড়িতে এসেছিলেন। সেখানেই প্রথম রামকৃষ্ণের সাথে পরিচয় হল নরেন্দ্রনাথের ।  নরেন্দ্রনাথের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে ঠাকুর তাকে দক্ষিণেশ্বরে যাবার জন্য  আমন্ত্রণ জানান। প্রথম পরিচয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ নরেন্দ্রওনাথের মনে  কোন রেখাপাত করতে পারেননি। এফ এ পরিক্ষার পর বিশ্বনাথ দত্ত পুত্রের বিবাহের জন্য ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন। কিন্তু  বিবাহ করে সংসার জিবনে  আবদ্ধ হবার কোন ইচ্ছাই ছিল না নরেন্দনাথের।



স্বামী বিবেকানন্দের কিছু অমর বাণী::

১. মনে করিও না, তোমরা দরিদ্র। অর্থই বল নহে ; সাধুতাই-পবিত্রতাই বল। আপনাতে বিশ্বাস রাখো। প্রবল বিশ্বাসই বড় কাজের জনক।

২. শক্তি ও সাহসিকতাই ধর্ম। দুর্বলতা ও কাপুরুষতাই পাপ। অপরকে ভালোবাসাই ধর্ম, অপরকে ঘৃণা করাই পাপ।

৩. হে বীরহৃদয় যুবকগণ ,তোমরা বিশ্বাস কর যে ,তোমরা বড় বড় কাজ করবার জন্য জন্মেছ। ওঠ, জাগো, আর ঘুমিও না; সকল অভাব, সকল দুঃখ ঘুচাবার শক্তি তোমাদের ভিতরেই আছে। এ কথা বিশ্বাস করো, তা হলেই ঐ শক্তি জেগে উঠবে।

৪. অসংযত ও উচ্ছৃঙ্খল মন আামাদের নিয়ত নিম্ন থেকে নিম্নতর স্তরে নিয়ে যাবে এবং চরমে আমাদের বিধ্বস্ত করবে, ধ্বংস করবে। আর সংযত ও সুনিয়ন্ত্রিত মন আমাদের রক্ষা করবে, মুক্তিদান করবে।
swami vivekananda

৫. সাফল্য লাভ করিতে হইলে প্রবল অধ্যবসায়, প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি থাকা চাই। অধ্যবসায়শীল সাধক বলেন,' আমি গণ্ডূষে সমুদ্র পান করিব। আমার ইচ্ছামাত্র পর্বত চূর্ণ হইয়া যাইবে।' এইরূপ তেজ, এইরূপ সংকল্প আশ্রয় করিয়া খুব দৃঢ়ভাবে সাধন কর। নিশ্চয়ই লক্ষে উপনীত হইবে।

৬. নিজেদের বিপদ থেকে টেনে তোলো! তোমার উদ্ধার-সাধন তোমাকেই করতে হবে।...ভীত হয়ো না। বারবার বিফল হয়েছো বলো নিরাশ হয়ো না। কাল সীমাহীন, অগ্রসর হতে থাকো, বারবার তোমার শক্তি প্রকাশ করতে থাকো, আলোক আসবেই।

৭. মানুষকে সর্বদা তাহার দুর্বলতার বিষয় ভাবিতে বলা তাহার দুর্বলতার প্রতীকার নয়- তাহার শক্তির কথা স্মরণ করাইয়া দেওয়াই প্রতিকারের উপায়। তাহার মধ্যে যে শক্তি পূর্ব হইতে বিরাজিত ,তাহার বিষয় স্মরণ করাইয়া দাও।

৮. যারা লক্ষ লক্ষ দরিদ্র ও নিষ্পেষিত নরনারীর বুকের রক্ত দিয়ে আয় করা টাকায় শিক্ষিত হয়ে এবং বিলাসিতায় আকণ্ঠ ডুবে থেকেও তাদের কথা একটিবার চিন্তা করার অবসর পায় না-তাদের আমি 'বিশ্বাসঘাতক' বলি।




স্বামী বিবেকানন্দের জীবনের  মজার ঘটনা::

ইউনিভার্সিটি কলেজ , লন্ডনে আইন পড়ার সময়
পিটার্স নামে এক প্রফেসার স্বামী বিবেকানন্দকে একদম
সহ্য করতে পারত না।
সে শুধু চেষ্টা করত কিভাবে
বিবেকানন্দকে জব্দ করা যায়।
.
একদিন দুজনে একই
টেবিলে খেতে বসল।
.
পিটার্স : একটা শুয়োর আর একটা পাখি কখনওই একসঙ্গে
বসে খায় না।
বিবেকানন্দ : ঠিক আছে। আমি উড়ে চলে যাচ্ছি।
বলে অন্য টেবিলে বসল।
.
পরদিন ক্লাসে পিটার্স : তুমি রাস্তায় চলতে গিয়ে দুটো ব্যাগ পেলে।
একটা ব্যাগে ভর্তি জ্ঞান আর একটা ব্যাগে ভর্তি স্টার্লিং(টাকা)।
তুমি কোনটা নেবে?
.
বিবেকানন্দ : অবশ্যই স্টার্লিং ভর্তি ব্যাগ।
পিটার্স : আমি তোমার জায়গায় হলে জ্ঞানের ব্যাগটাই নিতাম।
বিবেকানন্দ : এটা ত স্বাভাবিক। যার যেটার অভাব সে ত সেটাই নেবে।
.
এভাবে পিটার্সের রাগ আরও বেড়ে গেল।
.
এবার সে বিবেকানন্দের পরীক্ষার খাতার শেষ পাতায় লিখল “idiot” এবং খাতাটা বিবেকানন্দকে দিল।
.
বিবেকানন্দ খাতাটা দেখে কিছুক্ষন পর পিটার্সের কাছে
গিয়ে বিনম্রভাবে বলল : “মি. পিটার্স, তুমি আমার উত্তরপত্রে
গ্রেড দাও নি শুধু সই করেছ” !


স্বামী বিবেকানন্দের জীবনের  আর একটা  মজার ঘটনা::

 একদিন বিবেকানন্দ পাবলিক বাসে ভ্রমণ করছেন। বেশ সাদাসিদে পোশাকে সাধারণ বেশে। বাসে কিছু মেয়েরা তাকে দেখে ভাবল   এর সাথে একটু মজা করা যাক।  তারা বিবেকানন্দের কাছে এসে বলল তোমার কাছে যা কিছু আছে সব কিছু আমাদের দিয়ে দাও । না হলে  আমরা বলব তুমি আমাদের সাথে খারাপ কাজ করতে চেষ্টা করেছ। স্বামী বিবেকানন্দ হাতের ইশারাতে বললেন তিনি বলতে ও শুনতে পারেন না। তবে লেখা পড়তে পারেন। 

তার পর মেয়েরা তাদের কথা গুলো একটা কাগজে লিখে তার হাতে দিতেই বিবেকানন্দ কথা বলল , “ এবার আমার কাছেও প্রমাণ আছে যে তোমরা আমার কাছ থেকে সব কিছু নিয়ে নিতে চেয়েছ” 


( স্বামী বিবেকানন্দ  ৪ জুলাই, ১৯০২ সালে মৃত্যু বরণ করেন।)


0 Comments:

Post a Comment