পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Friday, July 12, 2019

অরভিল রাইট ও উইলবার রাইট (রাইট ব্রাদার্স)

মনিষীদের জিবনীর এই পর্বে থাকছে  “রাইট ব্রাদার্স” (অরভিল রাইট এবং উইলবার রাইট)।।


অরভিল রাইট ও উইলবার রাইট। রাইট ব্রাদার্স এর কর্ণধার।  উইলবারের জন্ম ১৮৬৭ সালে আমেরিকার ইগুয়ানা প্রদেশে। অরভিলের জন্ম ১৮৭১ সালে। ছেলেবেলা থেকেই দুই ভাই  এর মধ্যে ছিল যেমন কল্পনা শক্তি তেমনি তীক্ষ্ন বুদ্ধি। পড়াশুনা শেষ করে দুই ভাই হাতে কলমে কাজ করবার জন্য ছোট কারখানা তৈরি করলেন, প্রথমে তারা কিচুদিন বাজারে প্রচলিত ছাপার যন্ত্র নিয়ে কাজ শুরু করলেন যাতে তার ব্যাবহার  আরো সহজ সরলও উন্নত করা যাই।
 এর পর বাইসাইকেলের উন্নতির জন্য সচেষ্ট হলেন। দুটি ক্ষেত্রেই তারা অনেককাংশে সফল হয়েছিলেন এবং তাদের প্রবর্তিত আধুনিক যন্ত্র ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। তবে যে উড়োজাহাজ আবিষ্কারের জন্য দুই ভাই এর খ্যাতি, তার চিন্তাভাবনা শুরু হয় ১৮৯৬ সাল থেকে। 
Wilbur-Wright-Orville-Wright-life-story


একজন জার্মান ইঞ্জিনিয়ার অটো লিলিয়েনথাল কয়েক বছর যাবৎ উড়ন্ত যান নিয়ে গবেষণা করছিলেন। লিলিয়েনথালের তৈরি যান আকাশে উড়লেও তাতে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতো।। ১৮৯৬ সালে লিলিয়েনথালের আকস্মিক মৃত্যুতে গবেষণার কজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাই।      লিলিয়েনথালের তৈরি উড়ন্ত যানের নক্সা ভালভাবে পরীক্ষা করে রাইট ভাইরা দেখলেন যেমন তা অসম্পূর্ণ  অন্যদিতে তেমনি নানা ভুলত্রুটিতে ভরা।


 অল্প কিছুদিন পর তারা বুঝতে পারলেন এই ভঅবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রকৃত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন আরো জ্ঞানের। শুরু করে দিলেন নিরলস অধ্যবসায়।
শুধু যে পূর্বসূরীদের প্রচেষ্টা তাদের সাফল্য বার্থতার েইতিবৃত্ত অধ্যায়ন করলেন তাই নয়। তারা বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন রচনা থেকৈ জানলেন  বাতাসের গতিবেগ নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মধ্যে তার চাপ, ভারসাম্য নির্ণয়ের পদ্ধতি। তাছাড়া কিভাবে িএতদিন বিভিন্ন উড়ন্ত যান নির্মাণ করা হত তার নির্মাণল কৌশল, আরো অসংখ্য বিষয়। 
এল গ্লাইডার বা ছোট ছোট খেলনার আকৃতির যন্ত্র। যা নানান প্রক্রিয়ায় বাতাসে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু তাতে তো  মানুষের উড়া সম্ভব হত না। দুই ভাই ছোট একটা কারখানা তৈরি করলেন।  দীর্ঘ এক বছরে প্রচেষ্টায় সেই কারখানায় তৈরি হলো এক বিশাল গ্লাইডার বা উড়ন্ত যান। এতদিন যে ধরনের গ্লাইডার তৈরি হত এই গ্লাইডার তার চেয়ে একেবারে স্বতন্ত্র।এই গ্লাইডার বাতাসে ভারসাম্য রেখে সহজেই উড়ে যেতে পারে। গ্লাইডার এর সাফল্যে অনু্প্রাণিত হয়ে রাইট ভাইয়েরা তৈরি করলেন দুই পাখাবিশিষ্ট ছোট বিমান। এই বিমানের সামনের ও পেছনের ভারসাম্য রক্ষার জন্য েএকটা  ছো যন্ত্র জুড়ে দেওয়া হলো। এর নাম এলিভেটর। এই এলিভেটরের সাহায্যেই পাইলট কোন বিমানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। 

সমস্ত নির্মান কাজ শেষ হওয়ার পর শহর থেকে দূরে েএক নির্জনে এই দুই পাখাওলা বিমানকে শুন্যে ভাসিয়ে দেওয়া হলো। বেশ কয়েকবার বিমানকে আকাশে ওড়াবার পর দুই ভাই বুঝেত পারলেন এখনো তাদের উদ্ভাবিত বিমানের কলাকৌশলের কিছু পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলেও তারা সাফল্যের দ্বার প্রান্তে এসে পৌছেছেন। 
Wilbur-Wright-Orville-Wright-life-story

আবারো শুরু করে দিলেন কাজ। এইবার লক্ষ্য কিভাবে  গ্লাইডারকে শক্তিচালিত করা যাই। বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিন নিয়ে পরীক্ষা করবার পর দেখো গেল একমাত্র পেট্র্যল চালিত ছোট ইঞ্জিনই বিমান চালনার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। এবং প্রতি তিন পাউন্ড ওজনের জন্য এক অশ্বশক্তি সম্পন্ন ইঞ্জিনের আবশ্যক।  বাজারে যে সমস্ত   ইঞ্জিন পাওয়া যািই তার প্রতিটিই গাড়ির ব্যাবহারের জন্য বিমানের জন্য না। তাই এবার দুই ভাই ইঞ্জিন তৈরির কাজে হাত দিলেন। কয়েক মাসের চেষ্টায় তৈরি হলো বিমানে ব্যাবহারের উপযুক্ত ইঞ্জিন। 

অবশেসে এল সেই দিন ১৭ই ডিসেম্বর ১৯০৩ সাল(রাইট ব্রাদার্স দিবস)  । উইলবার আর অরভিল তাদের তৈরি বিমান নিয়ে এলেন Kitty Hawk শহরের প্রান্তে। মানুষ বিমানে চেপে মহাশূণ্যে পাখির মত ভেসে বেড়াবে।  এই সংবাদ আগেই শহরময় প্রচারিত হয়েছিল। কিন্তু কেউই একথা বিশ্বাস করল না। উপরন্তু দিনটা ছিল কনকনে ঠান্ডার দিন।  দুই ভাই তাদের বিমানের সাথে ইঞ্জিন যুক্ত করলেন। যমস্ত যন্ত্রপাতি শেষবারের মতো পরীক্ষা করলেন। শেষ পর্যন্ত দুই ভাইই নিশ্চিত হলেন তাদের তৈরি প্রথম এরোপ্লেন ওড়াবার জন্য । যদিও সেই সময় এরোপ্লেন নাম দেওয়া হয়নি। নাম দেওয়া হয়েছে রাইট ফ্লাইয়ার। 



 ঘড়িতে দেখা গেল বারো সেকেন্ড বাতাসে ভেসেছিল রাইট ভাদের প্রথম এরোপ্লেন। মাত্র বারো সেকেন্ড।  কিন্তু উপস্থিত পাচজন এমনকি রাইট ভাইরাও সেদিন কল্পনা করতে পারেনি, ঐ স্বল্পক্ষণের বিমানযাত্রাই নতুন যুগের সূচনা করল, যে যুগ গতির যুগ, সময়েরসাথে পাল্লা দিয়ে ছোটার যুগ। নিরাপদে অবতরণ করে অরভিল বিমান থকে বেরিয়ে  এলেন। এইবার উইলবারের পালা ।   ভাইয়ের সাফল্যে উজ্জীতি হয়ে উইলবার আকাশে ভেসে রইলেন ঊনষাট সেকেন্ড। আর  আকাশে ওড়া  সম্ভব হয়নি । ঝড়ো বাসাতের বেগ বাড়ছিল।

সাফল্যের আনন্দে দুজনেই আত্নহারা । কয়েকদিন কেটে গেল । প্রাথমিক উত্তেজনার রেশটুকু স্তিমিত হয়ে আসতেই নতুন উদ্যমে আবার ঝাপিয়ে পড়লেন দুই ভাই। এইবার তৈরি হল আগের চেয়ে বড় আর শক্তিশালী বিমান। 
Wilbur-Wright-Orville-Wright-life-story

 দুই ভাই ঠিক করলেন তাদের  এই সাফ্যল্যের কথঅ সমস্ত মানুষকে জানাতে হবে। এতদিন যা ছিল শুধু তাদের আজ থেকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে। আমেরিকার প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্রকে আমন্ত্রণ জানালেন তাদের আকাশে ওড়ার দৃশ্যকে প্রত্যক্ষ করতে।  সকলে মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে দেখছিল রাটেই ভাইরা কেমন করে একে এক পাখির মতো স্বচ্ছন্দে আকাশ পথে বিমানে চড়ে উড়ে বেড়াচ্ছে। 

একদিন আমেরিকায় অরভিল রাইট সামরিক বাহিনীর এক অফিসারকে সাথে নিয়ে যখন বিমানে আকাশ পথে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, এসই সময় আকস্মিক ভাবে একটা প্রপেলার ভেঙে প্লেন মাটিতে আছাড় খেয়ে পড়ল। সৌভাগ্যক্রমে গুরুতর আহত অরভিলেন প্রাণ রক্ষা হলেও সঙ্গি অফিসার দুর্ঘটনাস্থলেই মারা যান। 

 অবশেষে ১৯১২ সালে উইলবার মারা যাই। অরভিল তারপরেও বহু বছর বেচে ছিলেন। আমৃত্যু তিনিও বিমানে উন্নয়ন ও উৎপাদনের কাজে জীবন উৎসর্গ করে গিয়েছেণ।  ১৯৪৮ সালে অরভিল মারা যাই।।

0 Comments:

Post a Comment