পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Saturday, July 6, 2019

জাবির ইবনে হাইয়ান (মুসলিম মনিষী)

জাবির ইবনে হাইয়ান মুসলিম মনিষীদের মাঝে অন্যতম।


  
জাবির   ইবনে হাইয়ান এর পূর্ণনাম হলো আবু আবদুল্লাহ জাবির ইবনে হাইয়ান। তিনি আবু মুসা জাবির ইবনে হাইয়ান নামেও পরিচিত। কেউ কেউ তাকেআল হাররানীএবংআস সুফিনামেও অভিহিত করেন। ইউরোপীয় পন্ডিতগণ তার নামকে বিকৃত করেজিবারলিপিবদ্ধ  করেছে । তিনি কবে জন্মগ্রহণ করেন তা সঠিক ভাবে নির্ণয় করা যায় না। যতদূর জানা যাই তিনি ৭২২ খ্রিস্ট্রাব্দের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন। যতদূর জানা যাই তুস নগরে তার জন্ম হয়।




তার পিতার নাম হচ্ছে হাইয়ান। দক্ষিণ  আরবে জাবির ইবনে হাইয়ান শিক্ষা লাভ করেন।শিক্ষা লাভের প্রতি ছিল তার পরম আগ্রহ। যে কোন বিষয়ের বই পেলেই তিনি তা পড়ে শেষ করে ফেলতেন  এবং এর উপর গবেষণা চালাতেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি  এখানেই গণিতের বিভিন্ন শাখায় বিশেষ পারদর্শী বলে খ্যাত হয়ে ওঠেন। শিক্ষা শেষ করে তিনি কফা নগরীতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন।  সেখানে তিনি প্রথমে চিকিৎসা ব্যবসা আরম্ভ করেন এবং সূত্রেই তৎকালীন বিখ্যাত পন্ডিত ইমাম জাফর সাদিকের অনুপ্রেরণায় তিনি রসায়নও চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণা শুরু করেন।

কারো কারো মতে জাবির খলিফা খালিদ বিন ইয়াজিদের নিকট রসায়ন বিদ্যা শিক্ষা লাভ করেছিলেন। কিন্তু এই কথার কোন সত্যতা খুজে পাওয়া যাইনা। কারণ জাবির ইবনে হাইয়ানের কার্যাবলীর সময় কাল ছিল খলিফা হারুণ আর রশীদের রাজত্বকালে। অথচ খলিফা খালিদ বিন ইয়াজিদ হারুণ আর রশীদের বহু পূর্বেই ইন্তেকাল করেন। যতদূর জানা যাই, জাবির ছিলেন ইমামা জাফর সাদিকেরই শিষ্য।

 একবার ইয়াহিয়া বিন খালিদ নামক জনৈক বারমাক মন্ত্রীর এক প্রিয় সুন্দরী দাসী মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।  তৎকালীন দেশের সুপ্রসিদ্ধ চিকিৎসকগণ তার চিকিৎসা করে ব্যার্থ হন। এই সময় মন্ত্রী প্রাসাদে চিকিৎসার জন্যে ডাক পড়ে জাবির ইবনে হাইয়ানের   জাবির মাত্র কয়েকদিনের চিকিৎসায় তাকে সুস্থ করে তোলেন। এতে ইয়াহিয়া বিন খালিদ খুব সন্তুষ্ট হন এবং জাবিরের সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মন্ত্রী ইয়াহিয়া এবং তার পুত্র জাবিরের নিকট রসায়ন বিজ্ঞান শিক্ষা শুরু করেন।

 তিনি সর্বদা হাতে কলমে কাজ করতেন। তিনি তার  কিতাবুত তাজেপুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন  বাসায়নিকের সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কাজ হলো হাতে কলমে পরীক্ষা চালানো। যে হাতে কলমে কিংবা পরীক্ষা মূলক কাজ করে না, আর পক্ষে সামান্যতম পারদর্শিতা লাভ করাও সম্ভবপর নয়

বাগদাদেই তিনি রসয়ন চিকিৎসা বিজ্ঞানে তার গবেষণা চালিয়ে ছিলেন। উল্লেখ্য যে জাবিরের মৃত্যুর ১০০ বছর পরে কুফায় অবস্থিত দামাস্কাস গেটের নিকট রাস্তা নতুন করে তৈরি করতে কতকগুলো ঘর ভেঙ্গে ফোর সময় একটি ঘরে ২০০ পাউন্ডের একটি সোপর থাল একটি খল পাওয়া যাই। ফিহরিস্তের মতে এটি ছিল জাবিরের বাসস্থান ল্যাবরেটরী।

 জাবির ইবনে হাইয়ানের অবদান মৌলিক। তিনি বস্তুজগতকে প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত করেন। প্রথম ভাগে স্পিরিট, দ্বিতীয় ভাগে ধাতু, এবং তৃতীয় ভাগে যৌগিক পদার্থ।  জাবির এমন সব বস্তু বিশ্ব সভ্যতার সামনে তুলে ধরেন, যেগুলো তাপ দিলে  বাষ্পায়িত হয়। তিনি দেখান কিছু মিশ্র যৌগিক পদার্থ সেগুলো অনায়াসে চূর্ণ করা যাই। নির্ভেজাল বস্তুল পর্যায়ে তিনি তুলে ধরেন সোনা, রুপা,  তামা , লোহা, দস্তা প্রভৃতি।  জাবির ইবনে হাইয়ানই সর্ব প্রথম নাইট্রিক এসিড আবিষ্কার করেন। সালফিউরিক  এসিড তারই আবিষ্কার।


 তিনিকিতাবুল  ইসতিতমাস নাইট্রিক এসিড প্রস্তুত করার ফর্মুলা বর্ণনা করেন। নাইট্রিক এসিডে স্বর্ণ গলানোর ফর্মূলা তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেন।  নাইট্রিক এসিড হাইড্রোক্লোরিক এসিডে স্বর্ণ গলানোর  পদার্থটির নাম যেএকোয়া রিজিয়া নামটিও তার প্রদত্ত।  জাবির ইবনে হাইয়ান স্বর্ণ পরশ পাথর তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি স্বর্ণ কিংবা পরশ পাথরের লোভী ছিলেন না।

 বিবিন্ন বিষয়ে তার প্রণীত গ্রন্থাবলীর মধ্যে রসায়ন ২৬৭টি, যুদ্ধাস্ত্রাদী ৩০০টি, চিকিৎসা ৫০০টি, দর্শনে ৩০০ দার্শনিক যুক্তি খন্ড ৫০০ টি উল্লেখযোগ্য। এসব গ্রন্থ সংখ্যায় অধিক হলেও পৃষ্ঠা সংখ্যায় ছিল কম।

 বিশ্ববিখ্যাত মনীষীর মৃত্যুর তারিখ নিয়েও মতভেদ রয়েছে। যতদূর জানা যায়, তিনি ৮০৩ খ্রিষ্টাব্দে নশ্বর পৃথিবি থেকে বিদায় প্রহণ করেন। তিনি পৃতিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন বটে কিন্তু বিজ্ঞানে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন তা চির স্বরণীয়। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই তার নাম জানে না।

0 Comments:

Post a Comment