পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Tuesday, July 16, 2019

হো চি মিন (ভিয়েতনামের বিল্পব)

মনিষীদের জিবনের গল্পের  এই পর্বে হো চি মিনের বিল্পবী জিবনের গল্প থাকছে।


১৮৯০ সালের ১৯শে মে উত্তর ভিয়েৎনামের নখেআন প্রদেশের এক গ্রামে হো চি মিনের জন্ম। তার পিতৃদত্ত নাম নগুয়েন থান থাট। বাবার নাম নগুয়েন মিন হুয়ে। তারা ছিলেন তিন ভাই বোন। হো ছিলেন সকলেন চেয়ে বড়। বাবা ছিলেন এক দারিদ্র চাষিী যখন চাষের কাজ থাকত না,অন্যের জমিতে খেতমজুরের কাজ করতেন। ছেলেবেলা থেকেই দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়ে উঠেছিল তিনি।শিশু বয়স থেকেই হো ছিলেন গ্রামের সমবয়সীদের চেয়ে আলাদা। শান্ত ধীর। অন্যেরা যখন খেলা করত, তিনি বাবাকে কাজে সাহায্য করতেন। সারা দিন নানান কাজকর্মে কেটে যেত। রাতের বেলা মায়ের কাছে শুয়ে গল্প শুনতেন। ছেলেবেলা থেকেই হো-কে সবচেয়ে বেশি আাকর্ষণ করত বীর মানুষদের গল্পগাথা।


হো চি মিন 

হোয়ের শৈশব মায়ের সান্নিধ্যই কেটেছিল। সেই সান্নিধ্য বেশিদিন ভোগ করনতে পারলেন না হো। হো তখন এগারো বছরের বালক। ছেলের বিমর্ষতা দেখে গ্রামের পাঠশালায় তাকে ভর্তি করে দিলেন নগুয়েন। অল্প দিনেই পড়াশুনায় আগ্রহ জন্মে গেল হোয়ের। পাঠশালার প্রাথমিক পাঠ শেষ করলেন।  হো ছিলেন পাঠশালার সেরা ছাত্র। ছেলের এই আগ্রহ দেখে নগুয়েন স্থির করলেন তাকে বড় স্কুলে ভর্তি করে দেবেন। গ্রামে বড় স্কুল ছিল না। হো ভর্তি হলেন হুয়ে শহরের হাই স্কুলে। এই প্রথম গ্রামের বাইরে এলেন হো। তার চেনাজানা পরিবেশ নয় অন্য জগৎ। এতদিন ছিলেন স্বাধীন। শহরে এসে হো প্রথম উপলব্ধি করলেন তারা পরাধীন। তাদের দেশ শাসন করছে বিদেশী ফরাসীরা। নিজেদের মাতৃভূমিত্রে নিজেদের কোন অধিকার নেই।

 এর পর অনেক ঘটনা ঘটল। ১৯৫৬ সালের ৮ই মে   জেনেভায় বসমল আন্তজার্তিক শান্তি সম্মেলন। পশ্চিমি দেশগুলি শান্তির শর্ত হিসেবে ভিয়েৎনামকে বিভক্ত করতে চাইল।যুদ্ধ ক্লান্ত ক্ষতবিক্ষত ভিয়েৎনামের মানুষের কথা চিন্তা করে এই প্রস্তাব মেনে নিলেন হো। যদিও তিনি অন্তর থেকে চাইছিলেন ভিয়েৎনাম এক অবিভক্ত থাকুক। উত্তরের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন হো চি মিন।  আর দক্ষিণের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন নো দিন জিয়েস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেনেডি তাকে এই আসনে বসিয়েছিলেন পুতুল সরকার হিসেবে দেশ শাসন করবার জন্য। স্থির হয়েছিল সেই বছরই দেশের দুই অংশে নির্বাচন হবে।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছিল এই নির্বাচন হলে হো হবেন সমগ্র ভিয়েৎনামের রাষ্ট্রপ্রধান। 

তাই  আমেরিকার প্ররোচনায় নির্বাচন করা সম্ভব হলো না। হো ছিল  ছিলেন অত্যাচারী শাসক। অল্পদিনেই তার শোষণ অত্যাচারে সমস্ত দক্ষিণের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ল। দাবি উঠল অখন্ড ভিয়েৎনামের তাদের সাহায্যে এগিয়ে এলো উত্তরের মানুষ। হো সমর্থন জানালেন দক্ষিণের মানুষের গণ েআন্দোলনকে।সে দিন সরকার বিপদ আসন্ন বুঝতে পেরে এবার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ল আমেরিকা।  অন্যদিকে এক ক্ষুদ্র সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশ ভিয়েৎনাম। সেই অজেয় শক্তির মুখোমুখি দাড়িয়েও সামান্যতম বিচলিত হয়নি ভিয়েৎনামের সাধারন মানুষ। কারণ তাহাদের সাথে ছিলেন তাদের প্রিয় নেতা হো চি মিন।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েৎনামের বুকে  যে পরিমাণ নাপাম বোমা ফেলেছিল পৃথিবীর ইতিহাসে তা বিরল। ভিয়েৎনামের মানুষ হোর নেতৃত্বে সেদিন প্রমাণ করেছিল কোন অস্ত্র দিয়েই  মানুষের অদম্য মনোবলকে ধ্বংস করা যাই না। হো দেশের মানুষকে ডাক দিয়ে বলেছিলেন তোমরা ইস্পাতের মত কঠিন, বজ্রের মত মহাতেজী হও।।

 ১৯৬৯ সালের ১০ই মে  অসুস্থ হয়ে পড়লেন হো। বুঝতে পারলেন তার মৃত্যু আসন্ন। তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে তার শেষ বার্তা রচনা করলেন।

যখন আমার জীবনের শেষ ক্ষণ  আসবে তখন আমার সমস্ত মন ভারাক্রান্ত হবে আরো দীর্ঘদিন তোমাদের সেবা করতে পারলাম না বলে। আমার মৃত্যুর পর কোন শোক অনুষ্ঠান করে যে জনগণের অর্থ আর সময়ের অর্থ আর সময়ের অপচয় না করা হয়।  সবশেষে আমি রেখে গেলাম পার্টির সকল সদস্য , সেনাবাহিনী আর প্রতিটি স্বদেশবাসীর জন্য আমার গভীর ভালবাসা।

 এর পরেই তার মৃত্যু হয়।  তার মৃত্যুতে ভিয়েৎনামের মানুষের সংগ্রাম শেষ হয়নি। তার স্বদেশ্রপ্রম আর আত্মিক শক্তির অনুপ্রেরণাতেই উজ্জীকিত হয়ে  একদিন তারা আমেরিকাকে বিতাড়ন করে নতুন স্বাধীনতা পতাকাকে উড্ডীন করেছিল।




0 Comments:

Post a Comment