পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Monday, August 19, 2019

রক্তপিপাশু কন্যা (পর্ব -- ১)


ভুতের গল্প প্রেমীদের জন্য মনীষীদের জীবনের গল্প এবার ভুতের গল্প নিয়ে হাজির। ভয়ঙ্কর সব ভুতের  গল্প  গুলো আশা করছি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে ।

রক্ত পিপাশু কন্যা


গর্ভধারণের পর থেকেই মেয়েটা কেমন জানি শুকিয়ে যেতে থাকে। স্বামী বিষয়টা লক্ষ্য করে বলে , “তুমি কি একেবারের খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছ ?? তুমি  এভাবে শুকিয়ে গেলে আমার বাবুটা সুস্থ থাকবে কি করে। তুমি একটু নিজের দিকে খেয়াল দাও। আর আজকের পর থেকে বাড়ির কোন কাজই তুমি করবে না।  মেয়েটা সুধু মাথা নেড়ে জানাল ঠিক  আছে। তবুও দিন দিন তার শরীর ভেঙে পড়তে আরম্ভ করল।



আমাবশ্যার রাত হটাৎ প্রশব বেদনা শুরু হয় বাড়ির সবাই ধরাধরি করে হাসপাতালে ভর্তি করে মেয়েটাকে। রাতের শেষ ভাগে ডাক্তার মেয়ে হবার সুসংবাদ জানাই আর বলে মা মেয়ে দুজনেই সুস্থ আছে।  বাচ্চা মেয়েকে কোলে নিয়ে  স্বামী স্ত্রী ঠিক করে মেয়ের নাম হবে দামিনী। এর কিছু পরেই। দামিনীর মা হটাৎই অসুস্থ হতে সুরু করে।  এক পর্যায়ে ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা দেয়।  দামিনীর বাবা এতে খুবই রেগে যাই। এবং ডাক্তারদের নামে থানায় ডাইরি করে রাখে।


পুলিশ বিষয়টা নিয়ে গবেষণা করে জানতে পারে মৃত্যুর কারণ হলো শরীরে রক্তের স্বল্পতা। স্বাভাবিক মৃত্য বলে পুলিশ কেস বন্ধ করে দেয়।
দিনে দিনে দামিনী বড় হতে থাকে। দামিনীর বাবা দামিনীকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন দামিনী রোজ স্কুলে যাই। তবে অন্যন্যা সকল ছেলেমেয়েদের চেয়ে  একটু বেশি জেদী প্রকৃতির হয় দামিনী। বাবাও মেয়ের সব ইচ্ছা পূরণ করেন।


ছোট মেয়ে পাখি পুষতে খুব ভালো বাসে।  বাবাও তাকে পাখি কিনে দিলেন।  কিছু দিন পর পরই মেয়ে বাবাকে বলে পাখিটা মারা গিয়েছে নতুন পাখি েএনে দাও। এভাবে কয়েকটা পাখির মারা যাবার পর বাবার মনে চিন্তার উদ্রেগ হয়।  


নতুন পাখি কিনে দেবার পর এক রাতে বাবা দামিনীর ঘরের জানালার কাছে  চুপি চুপি বসে রইলেন। মাঝ রাতের কিছু পর তিনি বুঝলেন অন্ধকার ঘরে কিছু একটা হেটে বেড়াচ্ছে।  সারা গায়ে কাটা দিয়ে উঠল দামিনীর বাবার। এত রাতে কে তার মেয়ের ঘরে। দামিনী হলে তো আগে ঘরের লাইটটা জ্বালিয়ে নিত।  সারা ঘর অন্ধকার হটাৎই সেই অন্ধকারের মাঝে তিনি এক জোড়া উজ্জল চোখ দেখতে পান। চোখ জোড়া যেন তার দিকেই চেয়ে আছে। দামিনীর বাবা ভয় পেয়ে একটু সরে দাড়ালেন। এর পর তিনি দেখলেন চোখ জোড়া আস্তে আস্তে পাখির খাচার দিকে যাচ্ছে। পাখিটা সাথে সাথেই ঝটপট ঝটপট করতে শুরু করল।


বাবা বুঝলেন পাখিটা সেই চোখ জোড়ার মুখের মধ্যে চলে গেল। তার  পর চোখ জোড়া ওয়াশ রুমে প্রবেশ করল। এই সব দেখে তার স্থির থাকতে পারলেন না।  তিনি দ্রুত ঘরের মাঝে প্রবেশ করে  ঘরের লাইট জ্বেলে দিলেন। সাথে সাথে  তার চোখ দুটো যেন পাথর হলে গেল।
দামিনী তো খাটের উপর নেই। তাহলে দামিনী কোথায়। একটু পরই ওয়াশরুমের দরজা খুলে গেল। ওয়াশরুমের ভেতর থেকে স্বাভাবিক হয়ে বের হয়ে এলো দামিনী। বাবা কিছুই বুঝলেন না। তবে কিছু একটা সন্দেহ করলেন।


 অনেক দিন পর পর্যন্ত বাবা আর দামিনীকে পাখি কিনে দেয় নি।  বাবা লক্ষ্য করলেন দিনে দিনে দামিনী আরো বেশি উগ্রো হচ্ছে যাচ্ছে। খাওয়া দাওয়াই মন নেই। পড়াশুনাই মন নেই। বাবার সাথে ভালো করে কথাও বলছে না।


দামিনীর বাবা  মেয়েকে না জানিয়ে  ডাক্তার দেখানো বাহানা করে নিয়ে গেল তার এক বন্ধুর  কাছে   যে কিনা  পেশায় ডাক্তার হলেও এই সব ভুত প্রেত নিয়েই বেশি গবেষণা করে। ডাক্তার দামিনীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখলেন দামিনীর শরীরে রক্তের পরিমাণ খুবই কম। বাবা সব ঘটনা আগেই ডাক্তারকে খুলে বলেছিল। তাই ডাক্তার এবার নিজে থেকেই পরীক্ষা করতে চাইলেন। দামিনীতে তিনি এক রাতে তার কাছেই রেখে দিলেন। আর দামিনীর ঘরের ভেতর ছেড়ে দিলেন তার বাড়ির পোষা বেড়ালকে।


সকালবেলা ডাক্তার দামিনীকে তার চেম্বারে নিয়ে গেলেন। সেখানে দামিনীকে বসিয়ে রেখে সোজা চলে   এলেন দামিনীর রুমে যেখানে সে ঘুমিয়ে ছিল। এসেই বিড়ালটাকে খুজতে লাগলেন। কোথায় নেই। সারা বাড়িতে খুজতে লাগলেন কোথাও তিনি বেড়ালটাকে খুজে পেলেন না। ফিরে গেলেন চেম্বারে আবার দামিনীর শরীরে রক্ত পরিক্ষা করলেন। আশ্চর্য আগের থেকে দামিনীর শরীরে রক্তের পরিমাণ বেশি। তাছাড়া রক্ত চলাচলের গতিও আগের চেয়ে বেশি।

ডাক্তার  :: তোমার হাতে ওটা কিসের আচড় দামিনী।
দামিনী:: কই আঙ্কেল কোথায় ??   এটা আর বলবেন না। কাল রাতে জানালাই কেটে গেছে।

ডাক্তার স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন ওগুলো বেড়ালের আচড়ের দাগ।

0 Comments:

Post a Comment