পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Friday, September 20, 2019

জর্জ বার্নাড শ (মজার মানুষ, মজার জীবনী)



মনিষীদের জীবনের গল্প এবার   আপনাদের জন্য জর্জ বার্নাড শ এর জিবনী নিয়ে এসেছে।



আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে  জর্জের বার্নাড এর জন্ম। ডাবলিন শহরে পরিবারের ছিল খুবই খ্যাতি আর সম্মান। ১৮৫৬ সালের ২৬ শে জুলাই জন্ম হয় বার্নাড এর। তারা ছিলেন দুই বোন  এক ভাই। বার্নাড এর বাবা ছিলেন জর্জ কার শ। মার নাম লুসিন্দা এলিজাবেথ। 





বাবা চিলেন হাসিখুশি প্রাণখোলা মানুষ। এক বন্ধুর সাথে ভাগে ময়দার কারবার ছিল তার। বন্ধুর প্রতারণায় কারবার নষ্ট হয়ে গেল। অনেক টাকা ক্ষতি হলো।  এর পর থেকেই শুরু হলো আর্থিক দুরবস্থা। এর মা ছিলেন এক অসাধারণ গুণবতী মহিলা এর জীবনে মায়ের ভুমিকা বিশাল তার বড় হয়ে উঠের পেছনে মায়ের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।


লুসিন্দা মানুষ হয়েছিলেন তার েএক বড়লোক পিসিমার কাছে। এই পিসিমা ছিলেন অত্যন্ত গোড়া প্রকৃতির খুব কড়া শাসনের মধ্যে মানুষ করতেন সুসিন্দাকে। ঘরের বাইরে যাওয়ার উপায় ছিল না। ঘরেই পড়াশুনা গান বাজনা শেখার ব্যবস্থা করা হলো। পিয়ানো শিখতেন লুসিন্দা। বন্দীদশার মধ্যে যখন হাপিয়ে উঠেছেন তখন িএকদিন দেখা হলো জর্জ কারের সাথে। লুসিন্দা তখন কুড়ি  বছরের তরুণী। জর্জ কর চল্লিশ বছরের যুবক। বিয়ে হয়ে গেল দুজনের দরিদ্র স্বমীর ঘরে এসে মানিয়ে নিলেন লুসিন্দা নিজে ছোটখাট অনুষ্ঠানে গান করতেন , পিয়ানো বাজাতেন।

মায়ের সম্বন্ধে বলেছেন, “আমার মা ছিলেন সুন্দরের প্রতিমূতি। অনেক নামকরা শিল্পীর গান শুনেছি। কিন্তু মায়ের গানের মতো এমন পবিত্র সৌন্দর্য কারো গানে খুজে পািইনি। তার গান শুনলে মনে হতো গীর্জার প্রার্থনা সংগীত। এক স্বর্গীয় সুষমা ফুটে উঠত তাতে। মা মানুষ হয়েছিলেন কড়া শাসনের মধ্যে। তাই তিনি আমাদের দিয়েছিলেন পূর্ণ স্বাধীনতা। আজ আমি যে পৃথিবী- বিখ্যাত বার্নাড হতে পেরেছি তার জন্যে সবচেয়ে বেশি   কৃতঙ্গ আমার মায়ের কাছে।


দশ বছর বয়েসে সানিকে(-  এর ছেলেবেলার নাম ছিল সানি) ভর্তি করে দেওয়া হলো ডাবলিনের কনেকসানাল স্কুলে। এর আগে বাড়িতেই পড়াশুনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। েএকজন শিক্ষয়িত্রীর কাছে পড়তেন সাহিত্য, ইতিহাস, আঙ্ক আর মায়ের কাছে শিখতেন পিয়ানো। তবে তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ছিল সংগীত। সংগীতের সুরের মধ্যে তিনি যেন নিজেকে খুজে পেতেন।

স্কুলে পড়াশুনা হল না -এর বাড়িতেই পড়াশুনা করতে আরম্ভ করলেন। ছোট বেলা থেকেই শেক্সপীয়রের নাটক পড়তেন দেখতেনস। তখন থেকেই তিনি মনে মনে কল্পনা করতেন একদিন তিনিও শেক্সপীয়রের মতো মস্ত বড় নাট্যকার হবেন।



- এর বয়স তখন পনেরো। হটাৎই তার বাবার ব্যাবসার নেমে  এলো মন্দা। এক জমির দালালীর অফিসে মাসে ১৮ শিলিং মাইনেতে চাকরি পেলেন। অফিসের কাজের ফাকে ফাকে চলত তার লেখালেখি।  অফিসের চার দেয়ালের মাঝে - এর খুবই কষ্ট হতে শুরু করল। ১৮৭৬ সালের  এপ্রিল মাসে তিনি এসে পৌছলেন লন্ডন শহরে তখন তার মা লন্ডনে তার এক দিদির কাছে ছিলেন। মায়ের কাছে েএসে উঠলেন শ। এসে জানালেন তার ইচ্ছা নাট্যকর হবার কথা। ছেলের ইচ্ছার কথা শুনে তাকে নিরুৎসাহিত করলেন না।

প্রায়  ফুট লম্বা পাতলা চেহারাপরনে আধময়লা প্যান্ট আর কোট মাথায় সস্তা দামের টুপ বাইশ তেইশ বছরের এক তরুণ হাতে একবান্ডিল কাগজ নিয়ে প্রকাশকের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়ান। অনেক পরিশ্রম করে একটা উপন্যাস লিখেছেন তার মনের ইচ্ছা যদি কেউ তার উপন্যাস প্রকাশ  রে এক   একদিন এক একজন প্রকাশকরে কাছে যান তার  আসার উদ্দেশ্যের কথা শুনেই অনেকে দরজা থেকেই তাকে ফিরিয়ে দেন।



অনেকে দু-দুচারটে কথা বলেন উৎসাহ দেন আরো লেখ। ছাপানোর জন্য এত ব্যস্ততা কিসের  কাউকে অনুরোধ করা যেন তার স্বভাববিরুদ্ধ একদিন একজন পড়বার জন্য রেখে দেয় তার উপন্যাস        আশা নিয়ে বাড়ি ফেরেন তরুণ দুদিন পরে যেতেই  পান্ডুলিপি ফিরিয়ে দেন প্রকাশক।

 ছাপা হলে একটাও বই বিক্রি হবে না আশায় ভেঙে পড়েন তরুণ তার ভাগ্যে লেখক হবার কোন আশা নেই ছয় বছরে পাচখানা উপন্যাস লিখেছেন কিন্তু একটা উপন্যাস ছাপাবার মতো প্রকাশক পাওয়া যাইনি পঞ্চাশজন প্রকাশক  তার লেখা ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে শেষে এমন অবস্থা হল লেখা পাঠাবার মত হাতে একটি পেনিও নেই।

দুঃখে হতাশায় তিনি ঠিক করলেন আর যাই করুন না কেন কোন দিন লেখক হবেন না। নিজের প্রতিঙ্গা রাখতে পারেননি তরুন কিছুদিন পরে আবার শুরু করলেন লেকা , তবে এবার আর 
উপন্যাস নয় নাটক আর  এই নাটকই তাকে এনে দিল বিশ্বজোড়া খ্যাতি শেক্সপীয়রের পরে যাকে বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ন্যাটকার।


বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানবতার পূজারী এই মহান মানুষটির নাম জর্জ বার্নাড শ।




৮০ বছর বয়সে -এর মা লুসিন্দা মারা গেলেন। লুসিন্দার মৃত্যু হয়েছিল ১৯১৩ সালে।



বিশ্বযুদ্ধের পরেই লিখলেন তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটকসেন্ট জোয়ান”- জোয়ান অব আর্কের জীবন অবলম্বন করেই তিনি লিখলেন িএই নাটক। এই নাটক তাকে শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ট মনীষী হিসেবে পৃথিবীর মানুষের কাছে সম্মান  এনে দিলেন।

জর্জ  বার্নাড শ এর জীবনের  মজার কিছু ঘটনা:: 

১ . তাকে নোবেল পুরস্কারের কথা ঘোষণা করা হলো। তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন। বললেন, এখন আমাকে এই পুরস্কার দেওয়া হলো- যে ডুবন্ত মানুষ তীরে এসে পৌছেছে তাকে লাইফ বেল্ট ফুড়ে দেওয়ার মতো। তিনি আরো বললেন , যারা এখনো সাহিত্যিক খ্যাতির তীরে এসে উঠতে পারেনি সেই নবীন উদীয়মান সুইডিস সাহিত্যিকদের জন্য টাকাটা ব্যায় করা হোক। 

 ২.. একবার তিনি  বাইরে থেকে বাড়িতে ফিরে দেখলেন এক চোর তার ঘর থেকে পাচশো পাউন্ড চুরি   করে নিয়ে গিয়েছে। গৃহের পরিচারিকা পুলিশে খবর দিতে বললে তিনি সকৌতুকে বললেন- “ এতদিন ধরে পুলিশ চোর ধরছে। তারপর আদালতে তাকে সাজা দিচ্ছে। তবুও -এর বাড়িতে চুরি হলো। এখন এই হারানো পাউন্ড উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের পেছনে পেছনে ঘুরতে আমার যে সময় নষ্ট হবে সেই সময়ের মধ্যে আমি পাচশো পাউন্ড লিখেই উদ্ধার করতে পারব। চোর অর্থ ভোগ করুক, আমি আমার কাজ করি।

৩..  একবার তিনি ও তার এক বন্ধু রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিল। বন্ধুটি একটু মোটা প্রকৃতির আর জর্জ  রোগা পাতলা। রোগা পাতলা শরীর হওয়ায়   বন্ধুটি তাকে নিয়ে মজা  করতে শুরু করল  “ তোমাকে দেখলে মনে হয় দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে।”

মৃদু হেসে জর্জ উত্তর করল, “হ্যা আর তোমাকে দেখে বোঝা যাই দুর্ভিক্ষের কারণ টা কি”



জর্জ বার্নাড শ এর মৃত্যু::: 
১৯৫০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বাগানে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হলেন। লন্ডনে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার করা হল কিন্তু আর সুস্থ হলেন না। ক্রমশই তার স্বাস্থ্যের অবনতি হলো। অবশেষে ২রা নভেম্বর ভোরের  আলো ফোটাবার সাথে সাথে বার্নাড এর জীবনের আলো নিভে গেল। তখন তার বয়স চুরানব্বই।


 তার মৃত্যুর পর তার সম্বন্ধে টমাস মান লিখেছেলেন , আজ যার মৃত্যু হলো এমন প্রতিভাবান চরিত্রবান মানুষ বহু শতাব্দী পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেননি। 

0 Comments:

Post a Comment