পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Monday, September 23, 2019

মহাকবি ফেরদৌসী




মহাকবি ফেরদৌসী 



তিনি ৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ইরানের সমরকন্দের অন্তর্গত তুস নগরের ‘বাঝ’ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম মোহাম্মদ আবুল কাশেম।ফেরদৌসী ’ তার উপাধি গজনির সুলতান মাহমুদ তাকে  উপাধি দিয়েছিল। 

পৃথিবীর বুকে বিশ্ব বিখ্যাত যে জন কবির আগমন ঘটেছেমহাকবি ফেরদৌসী নাম তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন একাদশ শতাব্দির শ্রেষ্ঠ কবি। বর্তমান যুগে ঘরে ঘরে যেমন কবির জন্ম হচ্ছে একটি শব্দের সাথে আরেকটি শব্দের মিল দিতে পারলেই কবি হিসেবে পরিচিত হওয়া যায়, পরিচিত হতে না পারলেও জোর করে পরিচিত হবার চেষ্টা চালায়।



তখন যেমন তেমন লোক কবিতা লিখতেন না। কবির মন, কবির দেখান শক্তি, কবির চিন্তা, কবির দেখার বিষয়বস্তু সাধারণ লোক হতে অনেক ভিন্ন। সাধারণ মানুষ যা দেখে যা ভাবে সেগুলো কবির চোখে নতুন করে দেখা দেয় এবং বাস্তব জীবনের সতহ্য গুলো কবির হৃদয়ে গেগে ওঠে।


 তার সম্বন্ধে খুব বেশি জানা যাই নি তবে যতদূর জানা যাই তিনি ৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ইরানের সমরকন্দের অন্তর্গত তুস নগরেরবাঝনামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম মোহাম্মদ আবুল কাশেম।ফেরদৌসীতার উপাধি। গজনির সুলতান মাহমুদ তাকে উপাধি দিয়েছিল। সেই থেকে তিনি ফেরদৌসী নামে খ্যাতি লাভ করেছেন। তার পিতা মোহাম্মদ ইসহাক ইবনে শরফ শাহ তুস নগরের রাজকীয় উদ্যানের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। ফেরদৌসি ভালো লেখাপড়া শিখেছিলেন।  তার আর্থিক আবস্তাও ছিল মোটামুটি স্বচ্ছল। জানা যায় তিনি উত্তারাধিকার সুত্রে অনেক জায়গা জমি পেয়েছিলেন এবং সব জমি থেকে প্রতি বছর প্রচুর অর্থ আয় হতো। কম বয়সেই বিয়ে করেন।


রাজকীয় উদ্যানের পার্শ্ববর্তী ছোট্ট নদীর তীরে বসে কাব্য লিখতেন। সুখ শান্তিময় জীবনের দিনগুলো এখানেই তিনি কাটাতেন। কিন্তু সুখ তার জিবনে বেশি দিন স্থয়ী হলো না তার পরিবারের উপর তুসে শাষনকর্তার খারাপ দৃষ্টি পতিত হলো। তার একটি মাত্র কন্যা সন্তান ছিল। এই কন্যাকে সাথে নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়লেন অজানার উদ্দেশ্যে। তার জীবনের এই দুঃসময়ে সাক্ষাৎ পেলেন গজনীয় সুলতান মাহমুদের।


৯৯৭ খ্রিস্ট্রাব্দে সুলতান মাহমুদ গজনীয় সিংহাসন আরোহন করেন। তিনি মহাকবি মুহাম্মদ আবুল কাশেম ফেরদৌসী সুলতান মাহমুদের নিকট যথাযথ কদর পাবেন চিন্তা করে গজনীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গজনীর রাজ দরবারে প্রবেশ করা ছিল কঠিন ব্যাপার। তিনি দরবারের অন্যান্য কবিদের ষড়যন্ত্রের সম্মুখিন হন। অবশেষ সুলতান মাহমুদের উজির মোহেক বাহাদুরের সহযোগীতায় তিনি রাজদরবারে প্রবেশ করলেন। প্রথম পরিচয় হয় কয়েকটি কবিতা পাঠের মাধ্যমে। প্রথম সাক্ষাতেই সুলতান কবির আবৃত্তি করা কয়েকটি কবিতা শুনে অত্যন্ত মুগ্ধ হন েএবং বলে কবিকে সংবর্ধনা করলেন   হে ফেরদৌসী , তুমি সত্যিই আমার দরবারকে বেহেশতে পরিণত করে দিয়েছ

তার পর থেকে তিনি ফেরদৌসী হিসেবেই খ্যাতি লাভ করেন।  


আস্তে আস্তে ফেরদৌসীর সাথে মাহমুদের খুব গভীর সর্ম্পক  এবং রাজদরবারে কবির শ্রেষ্ঠ সম্মান দেখে রাজসভার অন্যান্য কবিরা ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠল এবং কবিকে রাজদরবার থেকে বের করার জন্য কবির বিরুদ্ধে গবীর ষড়যন্ত্র শুরু করল। অন্যদিকে সুলতানের প্রধানমন্ত্রী খাজা ময়মন্দীও কবির সাথে গোপনে শত্রুতা আরম্ভ করলো।   ইতিমধ্যে সুলতান মাহমুদ কবিকে  মহাকাব্য শাহনামারচনা করার অনুরোধ জানান এবং এর প্রতিটি শ্লোকের জন্য একটি করে স্বর্ণমুদ্রা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। যতদূর জানা যাই কবি সুদীর্ঘ ৩০ বছর পরিশ্রম করেশাহনামারচনা করেন। 

এর মধ্যে শেষের ২০ বছর কবি রাজসভাতে কাটান।শাহনামাপৃথিবীর মহাকাব্য সমূহের অন্যতম। ইহা ৭টি খন্ডে বিভক্ত এবং ৬০ হাজার শ্লোক রয়েছে। শাহনামা রচনা শেষে সুলতান রাজদরবারের কতিপয় ঈর্ষাপরায়ণ ষড়যন্ত্রকারীর কুমন্ত্রণা শুনে তার প্রতিশ্রুতি ৬০ হাজার স্বর্ণমুদ্রার পরিবর্তে ৬০ হাজার রৌপ্যমুদ্র মতান্তরে ৬০ হাজার দিরহাম প্রদান করেন।  এর ফলে কবি এই পুরো অর্থটা নিতে অস্বীকার করেন। পরে তা সব গরীব লোকদের মাঝে দান করে দিলেন। সুলতানের আমলাদের চালাকি আরো বেড়ে গেল তারা বিভিন্ন মিথ্যা বিষয় এনে দিতে লাগল সুলতানের কানে।

সুলতান ক্ষুদ্ধ হয়ে কবিকে হাতির পদতলে পিষ্ট করে হত্য করার আদেশ দেন  এবং পরক্ষণে আদেশতুলে নিয়ে কবিকে গজনী ত্যাগ করার নির্দ্শে দেন। পরবর্তীতে সুলতান নিজের ভুল বুঝতে পেরে  অর্থ পাঠালেন।। তখন আর কবি বেচে নেই।। ১০২০ খ্রিষ্টাব্দে মতান্তরে ১০১৪ খ্রিষ্টাব্দে কবি িএ অশান্তময় পৃথিবী থেকে চির বিদায় গ্রহণ করেন।

0 Comments:

Post a Comment