পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Wednesday, September 25, 2019

পাবলো রুইজ পিকাসো (প্রেমিক চিত্র শিল্পী)


পাবলো রুইজ পিকাসো

একটি স্পেনীয় নাম। তার প্রথম পারিবারিক নাম হল Ruiz এবং দ্বিতীয় নাম Picasso বাবার নাম হোসে রুইজ ব্লাসকো। মায়ের নাম মারিয়া পিকাসো লোপেজ। মায়ের নামের অংশ থেকেই তার বিশ্বপরিচিত নামটি এসেছে।

১৮৮১ সালের ২৫ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। দক্ষিণ স্পেনের ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী বন্দর-শহর মালাগায়। বাবা ছিলেন প্রাদেশিক চারু কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের চিত্রাঙ্কনের শিক্ষক এবং স্থানীয় জাদুঘরের কিউরেটর। বিখ্যাত আন্দালুসিয়ার মধ্যে মালাগা ছিল চারুকলার জন্য বিখ্যাত কেন্দ্র। তাই ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক ছিল পিকাসোর।






তার বাবার নাম ডন জোসে রুইজি ব্লাস্কো এবং মায়ের নাম মারিয়া পিকাসো লোপেজ। পিকাসোর শিল্পী হওয়ার পেছনে তার বাবার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। কারণ পিকাসোর বাবাও একজন চিত্রকর ছিলেন। অল্প বয়স থেকেই অঙ্কনের প্রতি পিকাসোর এক ধরনের ঝোঁক ছিল। আর ফিগার ড্রইং এবং তৈলচিত্রের আনুষ্ঠানিক হাতেখড়ি তার বাবার কাছেই। তার বাবার ছবিতে তার অঙ্কনের গল্পটি ছিল এরকম- বাবা একদিন দেখলেন, তার অসমাপ্ত কবুতরের চিত্রটি পিকাসো এত নিখুঁতভাবে আঁকছে যে, তার মনে হলো না এটি একটি ১৩ বছরের ছেলে আঁকতে পারে। তার বাবার মনে হলো পিকাসো তাকে অতিক্রম করে গেছে।


                পিকাসোর বাবা নিজ হাতে ছেলেকে ছবি আঁকা শেখান। নিজের স্টুডিওতে নিয়ে কেমন করে ইজেলে ছবি টানাতে হয়, কেমন করে প্যালেটে  রঙ মেশাতে হয়, কোন রঙের সঙ্গে কোন রঙ মেশালে কোন রঙ হয় তা শেখান। কেমন করে প্যালেট থেকে অবশিষ্ট  রঙ ধুয়ে ফেলতে হয় এসব শিখতে শিখতে স্টুডিওর পরিবেশ ভালো লেগে যায় পিকাসোর। বাবাও ছেলেকে স্টুডিওতে পেয়ে আনন্দিত।

বাবা হোজে পাঁচ বছর পরেই কোরুনা থেকে বার্সেলোনারলা লোঞ্জা আর্ট স্কুলেচারুকলার শিক্ষক হিসেবে চাকরি নিয়ে চলে যান। সময়ই ঘটে পিকাসোর জীবনে প্রথম মানসিক আঘাতের ঘটনা। ছোট বোন কঞ্চিতা মাত্র সাত বছর বয়সে মারা যায়।


                ১৮৯০ সালের পূর্বে বাবার অধীনে পিকাসোর প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তার সে সময়কার অগ্রগতি ফুটে উঠে বার্সেলোনায় মুইজিও পিকাসোতে সংগৃহীত চিক্রকর্মগুলোতে। জাদুঘরটি যে কোন প্রধান শিল্পীর প্রারম্ভিক কাজের সংগ্রহের জন্য প্রখ্যাত।
২০১৫ সালের ১১ই মে স্পেনের কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর আঁকা 'উইমেন অব আলজিয়ার্স' ছবিটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি শিল্পিকর্মে পরিণত হয়েছিল নিলামে চিত্রকর্মটি রেকর্ড ১৭ কোটি ৯৩ লাখ ৬৫ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছিল বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৪০ কোটি টাকা
১৯৫৪-৫৫ সালের দিকে এটি এঁকেছিলেন তিনি এটিতে A থেকে O পর্যন্ত ইংরেজি বর্ণমালার ব্যবহার ছিল নিলামে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হাওয়া শিল্পকর্মের তালিকায় ছিল ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী ফ্রান্সিস বেকন ২০১৩ সালে নভেম্বরে এটি ১৪ কোটি ২৪ লাখ ডলারে বিক্রি হয়


পাবলো রুইজ  পিকাসো

 এর উল্লেখ্য যোগ্য কিছু ছবি ::



পিকাসো দ্য ওল্ড গিটারিস্ট (The Old Guitarist) ছবিটি আঁকেন ১৯০১১৯০৪ সালের মধ্যে ছবিটি তিনি আঁকেন দারিদ্র্যের সঙ্গে তার সংগ্রামের এবং তার বন্ধু কাসাগেমাস এর আত্মহত্যার উপর ভিত্তি করে।
ছবিতে দেখা যায় একজন বাঁকানো এবং অন্ধ ব্যক্তি একটি বড় গিটার ধরে রেখেছে। বিষাদময় এবং দুঃখজনক থিম ফুটিয়ে তুলতে তিনি নীল রঙের যথার্থ ব্যবহার করেছেন।



পাবলো পিকাসোর সবচেয়ে সেরা চিত্রকর্ম গের্নিকাতে তিনি একটি ক্রন্দনরত নারীর চিত্র আঁকেন যে তার মৃত শিশুকে ধরে রেখেছে। আর এরপর তিনি চরিত্রের উপর ভিত্তি করে বেশ কিছু ছবি আঁকেন। যার চরম পরিণতি দেখা যায় এই দ্য উইপিং ওম্যান (ক্রন্দনরত নারী



ছবির মডেল হচ্ছেন ফ্রেঞ্চ ফটোগ্রাফার এবং চিত্রশিল্পী ডোরা মার, যিনি এককালে পাবলো পিকাসোর স্ত্রী ছিলেন পাবলো পিকাসোর জীবনে ডোরা মার ছিলেন অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।



লেস ডেমোঁয়সেলেস ডিএভিগনন (দ্য ইয়ং লেডিস অব এভিগনন – Les Demoiselles d’Avignon) ছবিতে দেখা যায় জন নগ্ন নারী পতিতাকে। যারা মুখোমুখি হয়ে আছে। পাবলো ছবিটি এঁকেছেন ১৯০৭ সালে, কৌণিক এবং অসংযুক্ত দেহের গঠনে। প্রতিটি চরিত্রই একটি বিক্ষোভ এবং বিরোধপূর্ণ পদ্ধতিতে চিত্রিত করা হয়, তবে কেউই প্রচলিত নারীবাদী নয়।



জিবনে তার প্রেমের ঘনঘটা:::

১৯১২ সালে তার জীবনসঙ্গিনী ফার্ন্দান্দো অলিভিয়ের চিত্রশিল্পী উবালদো ওপ্পির সঙ্গে চলে যায়। এতে পিকাসো দারুণ হতাশায় পড়ে যান। হতাশা কাটানোর জন্য তিনি ব্যস্ত থাকেন। তার জীবনে নতুন এক সঙ্গী জুটে। তিনি হলেনমার্সেল হামবোর্ট ওরফে ইভা। এর কিছুদিন পর ১৯১৩ সালে পিকাসোর পিতা রুইজ ব্লাসকো মারা যান।
পিকাসো তখন পূর্ব ইউরোপের শিল্প-সাহিত্য সমৃদ্ধ দেশ রাশিয়া সম্পর্কে জানার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এর মধ্যে শিল্পীর নতুন সঙ্গিনী ইভা যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক অবস্থায় চলে গেছেন। পিকাসো তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে পিকাসো তাকে হাসপাতাল নিয়ে ভর্তি করান। নিজে সময় দিয়ে সেবা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা বিফল হয়। ইভা মারা যায় ১৯১৫ সালে।


তার পর আবার  পিকাসোর জীবনে নতুন প্রেম আসে। রুশ ব্যালেরিনা ওলগা কখলোভার সঙ্গে পরিচয় প্রেম গড়ে ওঠে। ওলগা রাশিয়ার জারের এক কর্নেলের মেয়ে। কয়েক বছর ধরেই পিকাসো রাশিয়া সম্পর্কে আগ্রহী। সময় ওলগার সঙ্গে পরিচয় হওয়াতে রুশ অভিজাততন্ত্রের কাছে চলে যান। তার মাধ্যমে রুশ সমাজ সম্পর্কে জানতে পারেন।

এর মধ্যে ১৯১৮ সালে ওলগা কখলোভাকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯২১ সালেই পিকাসোর পুত্র পাওলো (পল)-এর জন্ম হয়। সন্তানের পিতা হয়ে পিকাসো মা শিশুকে নিয়ে ছবি আঁকেন। সেসব ছবি বিখ্যাত হয়ে আছে। কখলোভা নানা কারণে পিকাসোর সঙ্গে দাম্পত্যজীবন চালিয়ে যেতে সুবিধা বোধ করলেন না। কারণ পিকাসো ১৭ বছর বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। তখন পিকাসোর বয়স ৪৫ বছর।


                কিছুদিনের মধ্যেই পিকাসো ফ্রাঁসোয়া জিলো নামে আরেক তরুণীর প্রেমে মত্ত হন। তখন পিকাসোর বয়স ৬৩ বছর। ফ্রাঁসোয়া জিলো এবং পিকাসোর দুটি সন্তান হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই পিকাসো তার থেকে ৪৩ বছরের ছোট আরেক নারীর প্রতি আকৃষ্ট হন।





মৃত্যু কাহিনী::: 

                ১৯৭৩ সালের এপ্রিল ফ্রান্সের মৌগিন্সে ৯১ বছর বয়সে মারা যান পাবলো পিকাসো। মৃত্যুর আগে তিনি ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন। শেষের দিকে ফুসফুসে পানি জমে গিয়েছিল। মৃত্যুর ধ্বংসাত্মক থাবা থেকে বাঁচতে হলে অমরত্ব লাভের উপযোগী করে কাজ করতে হবে ধরনের ভাবনা তাকে সর্বদাই সজাগ রেখেছে। একমাত্র শ্রমই মানুষকে অমর করে রাখতে পারে এই চিন্তা থেকেই তিনি চিত্রকর্মকে বেছে নেন তার পেশা হিসেবে। কিংবদন্তি এই চিত্রশিল্পী মৃত্যুর পরেও বেঁচে আছেন তার সৃষ্ট শিল্পের কল্যাণে।

পরিশেষে পাবলো পিকাসোর একটি সেরা উক্তি দিয়ে লেখা শেষ করছি,
 আমরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব পরিকল্পনা নামের একটি গাড়িতে চড়ে, যে গাড়ির প্রতি আমাদের থাকতে হবে অগাধ বিশ্বাস এবং যার উপর ভিত্তি করে আমাদের নিরন্তর কাজ করে যেতে হবে। এর বাইরে সাফল্যের আর কোনো পথ নেই।


0 Comments:

Post a Comment