পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Saturday, September 21, 2019

রাণী এলিজাবেথ (রহস্যময়ী নারী)



রাণি এলিজাবেথ



 জন্মগ্রহণ করেন ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দে  কিন্ত ‍  তার পিতা অষ্টম হেনরী তাকে খুশি মনে মেনে নিতে পারেন নি কেননা তিনি চেয়েছিলেন যে কোন পুরুষ বংশধর এসে বহন করুক ঐতিহ্যশালী এই টিউডর বংশের ধারা ১৬০৩ সালের ২৪ শে মার্চ এসেক্স এর মৃত্যুর ঠিক দুই বছর পরেই ইংল্যান্ডে রাণী প্রথম এলিজাবেথের জীবনদ্বীপ চিরতরে নিভে গেল। 






ইংল্যান্ডের রাণী প্রথম এলিজাবেথ তার প্রথম আইন সভার অভিবেশনে সে স্মরণীয় উক্তিটি করেছিলেন, সম্ভবত সেটাই ছিল তার জীবনের আন্তরিকতার চোয়ায় রাঙানো প্রতম শেষ বক্তব্য। তিনি বলেছিলেন, “আমার প্রজাদের শুভেচ্ছ ভালবাসা ভিন্ন আমার কাছে পৃথিবীর কোন কিছুই মূল্যবান নয়।

যদিও টিউডরদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছিল অসংখ্য মানুষকে, আর সেই রক্তস্নাত পিচ্ছিল পথ ধরেই তিনি আরোহণ করেছেন সিংহাসনে, তবুও কিন্তু তিনি তাদের ভালবাসা অর্জনে সমর্হ হয়েছিলেন   পৃথিবীর সবচেয়ে কাঙ্খিতা মহিলা এই এলিজাবেথ প্রেমাসক্তিতে ছিলেন উদ্দাম, বল্গহারা , নির্মম, নিষ্ঠুর। একটুকরো নিখাদ ভালবাসার জন্য তিনি পারতেন না এমন কোন কাজই পৃথিবীতে ছিল না।


এলিজাবেথ এর বিরুদ্ধে বরাবরই একটা অভিযোগ ছিল যে তিনি ছিলেন এক মোহিনী নারী। আপাতবিরোধীভাবে এটা যেমন সঠিক , তেমনি বেঠিকও্ শোনা গেছে তার বৃত্তের ধারে কাছে যে যুবকই  এসেছে, পাগলের মতো ঝাপিয়ে পড়ে তিনি তার যৌবনরস পান করেছেন। 



অন্যদিকে আপামর জনসাধারণের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন উৎসাহ প্রেরণার এক জ্বলন্ত প্রতিমূর্তি- যাকে আদর্শ করে অসংখ্য সাহসী, মেধাবী, এমনকি বিবেক-বুদ্ধিহীন মানুষও বেরিয়ে পড়েছিল স্থলে , জলে রণাঙ্গণে কিছু একটা দেখাবার নেশায়।

এলিজাবেথ ভালো করেই জানতেন ইংল্যান্ডে পূর্ণর্ধমান্তরিত করার জন্য স্পেন থেকে যে বিশেষ সম্প্রদায়ের ধর্ম প্রচারকদের পাঠানো হয়েছিল, তাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল তার দেশে বিদ্রোহের বীজবপন করা।  অতএত এলিজাবেথ ক্যাথালিকদের অযথা হয়রান এবং তাদের উপর নির্যাতন করতে শুরু করে দিলেন।


টিলাবেরী তে এক সমাবেশে তার সৈন্যবাহীনির উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমার প্রিয় এবং বিশ্বস্ত দেশবাসীর প্রতি একতিল সন্দেহ বা অবিশ্বস নিয়ে আমি বেচে থাকতে চাই না। আমি জানি আমি একজন নারী। তাই শরীরগত কারণে আমি ক্ষীণ দুর্বল হতে পারি, কিন্তু হৃদয়টা আমার রাজার মতো। এটা ভাবতে আমার রীতিমত দুঃখ ঘেন্না হয় যে পারমা অথবা স্পেন কিংবা ইউরোপের কোন যুবরাজ আমার রাজ্যের সীমান্তে এসে নিঃশ্বস ফেলে যাচ্ছে।

তার বক্তব্যের সমর্থনে সৈন্যদের মধ্যে যে হর্ষধ্বনি উঠল তা মিলিয়ে যাবার আগেই হঠাৎ এক দূত ডেক থেকে ছুটতে ছুটতে তার কাছে এসে উপস্থি হলো এবং জানালো যে তার বিশ্বাস ব্যর্থ হয়নি। কারণ, ইশ্বরের সহায়তায় ইংরেজরা স্পেনীয় আরমাডাদের হটিয়ে দিয়েছে।  তাই তার সোনালী রাজত্বের গৌরবময় দিন হিসেবে গণ্য করা হয় ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দের এই ১৭ই নভেম্বরকে।



জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে সম্পূর্ন একাকী এবং ভগ্নমনা অবস্থা তিনি পেতে চাইলেন একটু প্রেমের পরশ ।কিন্তু সেখানে তিনি প্রত্যাখ্যত হলেন। কারণ, সুদর্শন, তরুণ স্বেচ্ছাচারী এইট এসেক্স  তাকে অন্য ভাবে দেখতে চেয়েছিলেন। যদিও এসেক্স জানতেন এর ফল একদিন ভালো হবে না তার জন্য। তার সন্দেহ সত্যি হলো ১৬০১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী সেই এসেক্সকে ফাসিকাঠে প্রাণ দিতে হলো। তার সাথে সাথে মৃত্যু ঘটল এলিজাবেথের হৃদয়ের।


 ১৬০৩ সালের ২৪ শে মার্চ এসেক্স এর মৃত্যুর ঠিক দুই বছর পরেই ইংল্যান্ডে রাণী প্রথম এলিজাবেথের জীবনদ্বীপ চিরতরে নিভে গেল।

0 Comments:

Post a Comment