পারব না কে, না বলো। নিজেকে খুজে বের করো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি দের একজন-- জেফ বেজোস ভয়কে করতে হবে জয় হার না মানার গল্প  গুগল ও ফেজবুকের প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে বেস্ট মটিভেশনাল স্পিকার-  সন্দীপ মহেশ্বরী

Friday, September 27, 2019

শেখ সাদী (র:)




মনিষীদের জিবনের গল্পের এই পর্যায়ে থাকছে শেখ সাদী (র:)



শেখ সাদী (র:) এর জন্মসাল নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি রয়েছে। মাসের নির্ধারণ তো তার কোনো জীবনীকার করেছেন বলেও দেখা যায় নি। সবচেয়েপ্রসিদ্ধ মত হলো তিনি ১১৮৪ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।তবে তিনি ইরানের শিরাজ নগরে জন্মগ্রহণ করেছেন। কারণে তাকেশিরাজিবলা হয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে, এখন যাকে ইরান বলা হয়, ত্রয়োদশ শতকেও সে অঞ্চল পারস্য বা পারসিয়া নামে পরিচিত ছিলো।সাদির বাবার নাম সৈয়দ আবদুল্লাহ। মায়ের নাম মাইমুরা খাতুন।


ফার্সি সাহিত্যে একটি প্রবাদ আছে— ‘সাতজন কবির সাহিত্যকর্ম রেখে যদি বাকি সাহিত্য দুনিয়া থেকে মুছে ফেলা হয়, তবু ফার্সি সাহিত্য টিকে থাকবে। এই সাতজন কবির অন্যতম শেখ সাদি।





বাবার শিক্ষা:::

একবার ঈদের দিন লোকজনের ভিড়ে শেখ সাদি পিতার জামার প্রান্ত ধরে হাঁটছিলেন, যেনো পিতা থেকে বিচ্ছিন্ন্ হয়ে না যান। কিন্তু পথে খেলাধুলায় মত্ত ছেলেদের দেখে জামার প্রান্ত ছেড়ে তিনি তাদের দেখতে লেগে যান এবং যথারীতি হারিয়ে গিয়ে কাঁদতে থাকেন। পরে তার বাবা তাকে ফিরে পাওয়ার সময় রেগে গিয়ে বলেন— “গাধা, তোমাকে না বলেছিলাম কাপড় ছাড়বে না। ঘটনা কবির হৃদয়ে রেখাপাত করে এবং তিনি সারা জীবনের জন্যে বুঝতে পারেনবড়দেরপ্রান্তকখনো ছাড়তে নেই। তা হলেই পথাহারা হবার সম্ভাবনা থাকবে।

আরেকটি ঘটনা থেকে জানা যায়একবার তিনি বাবার সঙ্গে সারারাত মসজিদে ইবাদত করে কাটিয়ে দিলেন। সময় মসজিদে কয়েকজন দরবেশ ঘুমে ছিলো অচেতন। সকালে সাদি তার বাবাকে বললেন— “এই দরবেশদের একজনেরও তাওফিক হলো না জেগে দু-চার রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ার। এতোটা গাফেল যে, মনে হয়েছে, মরা লাশ পড়ে আছে।সাদি বলেন কথা শুনে বাবা আমাকে বেশ ধমকালেন। বললেনতুমি যদি শুয়ে থাকতে তবে সেটাই বরং এই পরচর্চা থেকে অনেক ভালো কাজ হতো।






পোষাকের গুন- শেখ সাদির গল্প......
ِ
শেখ শাদী (রঃ) সাধারনত খুবই সাদাসিদে জীবনযাপন করতেন। একবার এক দাওয়াতে তিনি ছেড়া নোংরা কাপড় চোপড় পড়ে চলে গেলেন। তাই মেজবান তাকে চিনতে না পেরে ফকির ভেবে অপেক্ষাকৃত কম অনুন্নত খাবার দিলেন। শেখ শাদী বিষয়টি বুঝতে পারলেন। তিনি কম অনুন্নত খাবার খেয়ে ফিরে এলেন এবং কিছুক্ষন পর আবার ভালো শাহেনশাহী কাপড় চোপড় পড়ে বাড়িতে গেলেন। এবার তার সামনে সকল উন্নত খাবার দাবার যথাযত সম্মান দেখানো হলো। তিনি খাবার খেতে বসে কিছু খেলেন এবং কিছু খাবার তার পরনে পরা জামার পকেটে ঢুকালেন

এই অবস্হা দেখে মেজবান প্রশ্ন করলেন, জনাব এটা কি করছেন ?
জবাবে শেখ শাদী () বললেন, একটু আগে আমি এসেছিলাম, আমার শরীরে ছিলো ছেড়া নোংরা কাপড়। তাই আপনি আমাকে যেভাবে সম্মান দেখালেন এখন আমার বেশভুসার কারনে আমাকে তার ছেয়ে অনেক বেশি সম্মান দেখিয়েছেন। তাই ভাবলাম এই সম্মান খাবার দাবার আমার প্রাপ্য নয়, ওগুলো সব বেশভুসার।

সেই মহান ব্যাক্তিকে একদিন একজন প্রশ্ন করলেন, জনাব আপনি এত আদব কিভাবে শিখলেন ?তিনি জবাব দিলেন, দুনিয়ার সকল বেয়াদবদের দেখে দেখে আমি আদব শিখেছি।কিভাবে ? আবার প্রশ্ন তিনি জবাব দিলেন, যখন বেয়াদবরা তাদের বেয়াদবি আচরন করে আর দুনিয়ার মানুষ সেটাকে ঘৃনা করে তখন বুঝে নেই এই আচরনটা আমার করা উচিৎ নয়। এভাবেই আমি বেয়াদবদের কাছ থেকে আদব শিখি।


১২২৬ সালে, লেখাপড়ার পাট চুকাতেই তাকে পথে নামতে হয়। শুরু হয় তার পর্যটক-জীবন। যদিও মাতৃভূমি শিরাজ মমতাময়ী মাকে চিরতরে ছেড়েযেহেতু কবি কাজী নজরুলের মতোই সাদির মায়ের আর কোনো খবর আমরা জানতে পারি নি এবং তিনি যখন বাগদাদে ফিরেছেন, ততদিনে মা বেঁচে না থাকারই কথাবাগদাদে আসার সময় থেকেই তার ভ্রমণ শুরু হয়েছে বলে ধরা যায়। সাদিকে পথে নামতে হয়েছে, কারণ চেঙ্গিস খাঁর পৌত্র হালাকু খাঁর তাতার বাহিনী বাগদাদ আক্রমণ করেছে এবং নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে মাত্র কয়েক দিনে মহানগরী পরিণত করেছে মহাশ্মশানে। আক্রান্ত হয়েছে খাওয়ারিজম নগর পারস্য। তাই সে পরিস্থিতিতে তার পক্ষে কোনোমতেই স্বদেশে ফেরা সম্ভব হয় নি।


এর পরে কোনো কারণে দামেস্কের লোকজনের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে তিনি আশ্রয় নেন ফিলিস্তিনের জঙ্গলে। অনেকে বলেছেনত্রিপোলিতে। সম্ভবত জঙ্গলটি খানিকটা লেবাননের ত্রিপোলির মধ্যে পড়েছে। হেনরি ম্যাসের মতে, এই এলাকা সালে খ্রিষ্টান ক্রুসেডাররা অবরোধ করে রেখেছিলো। দুর্ভাগ্যক্রমে তিনি ক্রুসেডারদের হাতে বন্দি হয়ে পড়েন।

অবরোধকারীরা বুলগেরিয়া হাঙ্গেরি থেকে ধরে আনা ইহুদি বন্দিদের সাথে কবিকে পরিখা খননের কাজে লাগিয়ে দেয়। হালবের শাসক ছিলেন সাদির বাবার এককালের বন্ধু। একদিন সৌভাগ্যক্রমে তিনি পরিখার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দেখে চিনতে পারেন এবং এই দুর্দশারা কারণ জানতে চান। সাদি তাকে বলেন হলো দিনবদলের কারিশমা। যে ব্যক্তি একদিন আপনজনদের থেকে বাঁচতে চাইতো, সে পরের ইচ্ছায় আক্রান্ত।

বাবার বন্ধু দশটি দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) মুক্তিপণ দিয়ে তাকে মুক্ত করে আনেন এবং একশত আশরাফি (স্বর্ণমুদ্রা) দেনমোহর ধার্য করে নিজ কন্যার সাথে বিয়ে দেন। মেয়েটি ছিলো অত্যন্ত কঠোর মেজাজের বাচাল বটে। সে সাদির জীবনের শান্তি হারাম করে দেয়। ফলে এই বিয়ে বেশিদিন টেকে নি। সে একদিন সাদিকে খোঁটা মেরে বললোতুমি তো সেই ব্যক্তিটিই, যাকে আমার বাবা দশটি রৌপ্যমুদ্রা কিনে এনেছেন। উত্তরে কবি বললেনহ্যাঁ, তিনি দশটি রৌপ্যমুদ্রায় কিনে একশস্বর্ণমুদ্রায় আবার বিক্রি করে দিয়েছেন।

কথিত আছে যে, ইয়েমেন ভ্রমণকালে তিনি আবার বিবাহ করেছিলেন।


সম্ভবত বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার পরে তিনি বেশ কষ্টে পতিত হন। সময় তাকে সিরিয়াতে আবার কখনো বাইতুল মাকদিসে মানুষকে পানি পান করানোর কাজ করতেও দেখা গেছে।

 শেখ সাদীর  বিখ্যাত উপদেশ :

> অজ্ঞের পক্ষে নীরবতাই হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম পন্থা। এটা সবাই জানলে কেউ অজ্ঞ হতো না।

> অকৃতজ্ঞ মানুষের চেয়ে কৃতজ্ঞ কুকুর শ্রেয়।

> আমি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই। তার পরেই ভয় পাই যে আল্লাহকে মোটেই ভয় পায় না।

> মানুষ এমনভাবে জীবনযাপন করে যেন কখনো মরতে হবে না, আবার এমনভাবে মরে যায় যেন কখনো বেঁচেই ছিল না।

> হিংস্র বাঘের ওপর দয়া করা নিরীহ হরিণের ওপর জুলুম করার নামান্তর।

> যে সৎ, নিন্দা তার কোনো অনিষ্ট করতে পারে না।

> প্রতাপশালী লোককে সবাই ভয় পায় কিন্তু শ্রদ্ধা করে না।

>দেয়ালের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় সতর্ক হয়ে কথা বল, কারণ তুমি জান না দেয়ালের পেছনে কে কান পেতে দাঁড়িয়ে আছে।

> মুখের কথা হচ্ছে থুথুর মতো, যা একবার মুখ থেকে ফেলে দিলে আর ভিতরে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই কথা বলার সময় খুব চিন্তা করে বলা উচিত।

> মন্দ লোকের সঙ্গে যার ওঠাবসা, সে কখনো কল্যাণের মুখ দেখবে না।

> দুই শত্রুর মধ্যে এমনভাবে কথাবার্তা বল, যেন তারা মিলে গেলেও তোমাকে লজ্জিত হতে না হয়।

> বাঘ না খেয়ে মরলেও কুকুরের মতো উচ্ছিষ্ট মুখে তুলে না।
 >পরকালে যাহা আবশ্যক তাহা যৌবনে সংগ্রহ করিও।


0 Comments:

Post a Comment